ভালোবাসলে মনের খুশি, মন আর শরীর তো এক সুত্রে বাধা!  day dreaming  মেডিকাল এ পড়ে দুটোই অখুশি।  crying

Autorun দিয়ে কী আইকন চেঞ্জ হয়ে গেল!

ডা: রানা মোকাররম হোসেন
এমবিবিএস, সিসিডি, এমডি
সহযোগী অধ্যাপক, কিডনী রোগ বিভাগ
ডায়াবেটিস ও কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

http://my.jetscreenshot.com/2862/m_20110517-yqcj-31kb.jpg


আমাদের শরীরে দুটো কিডনি আছে যার সাধারণ কাজ হচ্ছে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ, পানি এবং এসিড বের করে দেয়া এবং এর মাধ্যমে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট (যেমন সোডিয়াম, ক্লোরাইড) এর পরিমাণ রক্তে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা। এ ছাড়াও পরিপাকের পর শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে রক্তে এর পরিমাণ সাধারণ মাত্রায় রাখা ও কিডনির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ । এছাড়াও ইরাইথ্রোপোয়েটিন নামক বিশেষ একটি হরমোন যা রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরীতে বিশেষ প্রয়োজনীয় কিডনি থেকে উৎপাদিত হয়।

ভিটামিন ডি শরীরে যে অবস্থায় ক্রিয়া করে তা রূপান্তরেও কিডনির বিশেষ ভূমিকা আছে।

সাধারণ অবস্থায় একটি সুস্থ কিডনির পক্ষে উপরোক্ত সব কাজই করা সম্ভব। কিন্তু কোন কারণে যদি দুটো কিডনিই বিকল হয়ে পড়ে তবে উপরোক্ত কাজগুলো করা শরীরের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব না হলে রোগী মৃত্যুবরণ করে। কিডনি বিকল মূলত দু’ধরনের হয়ে থাকে। যেমন, আকস্মিক কিডনি বিকল বা একিউট রেনাল ফেইলিউর এবং ধীর গতির কিডনি বিকল বা ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর ।

আকস্মিক কিডনি বিকল বা একিউট রেনাল ফেইলিউর

হঠাৎ কিডনি বিকল হওয়ার পেছনে কিছু কারণ আছে যেমন, ডায়রিয়ার কারণে অতিরিক্ত পানিশূন্যতা ঠিক সময়ে পুরণ না করা, বিশেষ কোন ওষুধ সেবন যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর, কোন কারণে কিছু সময়ের জন্য কিডনিতে রক্তপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি ইত্যাদি। এ সমস্ত কারণে কিডনি বিকল হলে তাকে আমরা আকস্মিক কিডনি বিকল বা একিউট রেনাল ফেইলিউর বলি। সঠিক সময়ে কয়েক সেশন ডায়ালইসিস দিলে কিডনি কয়েকদিন পর তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পায়।

ধীর গতির কিডনি বিকল বা ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর

ধীর গতির কিডনি বিকল হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে প্রধানতম কারণগুলি হচ্ছে ক্রনিক গ্লোমারুলোনেফ্রাইটিস (দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা কিডনি প্রদাহ), দীর্ঘ দিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ। এসব কারণে যখন দুটো কিডনি বিকল হয়ে যায় তখন রক্তশূন্যতা এবং ভিটামিন ডি এর অভাব পুরন ছাড়া উপরে উল্লেখিত কিডনির অন্যান্য স্বাভাবিক কাজগুলো, বিশেষ করে শরীরের অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বর্জ্যপদার্থ নির্গমন এবং ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার জন্য ডায়ালাইসিস নামের বিশেষ একটি পদ্ধতির শরনাপন্ন হতে হয়। ডায়ালাইসিস মূলত দুই রকমের হেমোডায়ালাইসিস এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।

হেমোডায়ালাইসিস :

হেমোডায়ালাইসিস এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বিশেষ মেশিনের সাহায্যে শরীরের অপরিশোধিত রক্ত শরীর থেকে বের করে এনে ডায়ালাইজার এর মধ্যে চালনা করা হয়। ডায়ালাইজার এমন একটি ছোট্ট যন্ত্রের মতো যা কৃত্রিম কিডনি রূপে কাজ করে এবং ছাকনির মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো দুরীভূত করে বিশুদ্ধ রক্ত শরীরে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়।

হেমোডায়ালাইসিস এর পুরো প্রক্রিয়া একসেশনে সাধারণত তিন থেকে চার ঘন্টা চালানো হয়। যে সমস্ত কারণে দুটো কিডনি বিকল হয়ে সারা জীবন ডায়ালাইসিস এর প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন চারঘন্টা করে ডায়ালাইসিস এর পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে।
হেমোডায়ালাইসিস দেওয়ার পূর্বে রোগীর শরীরে একটি ছোট্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাতের ধমনী এবং শিরার মধ্যে একটি সংযোগ করে দেয়া হয়, যাকে ফিস্টুলা বলে। পরে ঐ ফিস্টুলার মধ্যে নিডল প্রবেশ করিয়ে হেমোডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে সংযোগ প্রদান করা হয়। তবে অস্ত্রোপাচারের তিন থেকে চার সপ্তাহের আগে এই ফিস্টুলা দিয়ে হিমোডায়ালাইসিস করা সম্ভব হয় না। যদি রোগীর শিরা খুব সরু থাকে এবং সে কারণে ফিস্টুলা তৈরী করা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে ইদানিং কৃত্রিম একটি গ্রাফটের মাধ্যমে ধমনি এবং শিরার মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দেয়া হয়। ফিস্টুলার চাইতে গ্রাফটের সুবিধা হলো অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। ফিস্টুলা দিয়ে রোগীকে সারাজীবন হেমোডায়ালাইসিস করা সম্ভব যদি ফিস্টুলা কর্মক্ষম থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যখন রোগীকে হঠাৎ করে হেমোডায়ালাইসিস দেয়ার প্রয়োজন হয়, তখন ফিস্টুলা তৈরী করে নেয়ার অবকাশ থাকে না। সে ক্ষেত্রে ফিমোরাল এবং জুগুলার নামে শরীরের যে দুইটি শিরা আছে তার যে কোন একটি শিরায় বিশেষ এক ধরনের নল বা ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে হেমোডায়ালাইসিস দেয়া সম্ভব। তবে এ ধরনের ক্যাথেটার দিয়ে এক থেকে তিনসপ্তাহের বেশি হেমোডায়ালাইসিস করানো সম্ভব হয়না। এবং সে ক্ষেত্রে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস

হেমোডায়ালাইসস ছাড়া পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস নামক আরেকটি বিশেষ পদ্ধতিতে কৃত্রিম ভাবে কিডনির কাজ করানো সম্ভব। যার মধ্যে উন্নতবিশ্বে যে পদ্ধতিটি এখন অনুসরণ করা হচ্ছে তার নাম কন্টিনিউয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (সিএপিডি)। এ পদ্ধতিতে একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটের মধ্যে একটি ছোট ছিদ্রের সাহায্যে একটি ক্যথেটার প্রবেশ করানো হয় এবং বাইরে একটি ব্যাগের সাহায্যে ডায়ালাইসিস ফ্লুইড পেরিটোনিয়াল ফ্লুইড নামক পেটের পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে চার থেকে ছয় ঘন্টা রেখে দেয়া হয়। পেরিটোনিয়াল মেমব্রেন নামক একটি ছাকনির সাহায্যে উপরোক্ত ডায়ালাইসিস ফ্লুইড এবং পেরিটোনিয়ার ফ্লুইড এর মধ্যে আদান প্রদানের মাধ্যমে শরীরের রক্ত পরিশোধিত হয় এবং চার থেকে ছয় ঘন্টা পর ডায়ালাইসিস ফ্লুইড বের করে আনা হয় এবং নতুন করে আরেক ব্যাগ ফ্লুইড প্রবেশ করানো হয়। এ পদ্ধতির একটি বিশেষ সুবিধা হলো এখানে এ পদ্ধতিতে রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরায় কোন সমস্যা হয় না। তবে এ পদ্ধতিতে যে ডায়ালাইসিস ফ্লুইড ব্যবহার করা হয় তা আমাদের দেশে উৎপাদিত না হওয়ায় এ পদ্ধতি বেশ ব্যায় বহুল।

আমাদের মতো গরীব দেশে অন্য এক ধরনের পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস দেয়া হয় যে পদ্ধতিতে পেটের মধ্যে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে টানা চব্বিশ থেকে বাহাত্তর ঘন্টা পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস ফ্লুইড প্রবেশ করিয়ে আধঘন্টা থেকে একঘন্টা রেখে পুনরায় বের করে আবার নতুন ডায়ালাইসিস ফ্লুইড দেয়া হয় । টানা বাহাত্তর ঘন্টা পর ক্যাথেটার খুলে এ কার্যক্রম বন্ধ হয় । এ পদ্ধতিতে সাময়িক ভাবে রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতি কার্যকর নয়।

কিডনি বিকল হলে কিডনির স্বাভাবিক কাজকর্ম হেমোডায়ালাইসিস অথবা পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে পরিচালিত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্ব্বাবধানে এ চিকিৎসা নিয়মিত ভাবে নিলে রোগীর স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হয়। ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের মতো গরীব দেশে বিশেষ করে যারা নিু বা মধ্য আয়ের লোক তাদের পক্ষে এ চিকিৎসার সুযোগ নেয়ার ক্ষমতা থাকে না অথবা শুরু করলে ও বেশীদিন চালিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতাল গুলোতে হেমোডায়ালাইসিসের সুযোগ বৃদ্ধি করা, সরকারি অনুদান বাড়ানো এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে এ ধরনের সেবা মূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করে তাদেরকেও এ সেবায় সম্পৃক্ত করতে পারলে হয়তো এদেশের হাজার হাজার কিডনি বিকল রোগীর জীবনে আশার আলো জাগানো সম্ভব হবে।

ডা: রানা মোকাররম হোসেন
এমবিবিএস, সিসিডি, এমডি
শাহবাগ, ঢাকা -১০০০
চেম্বার : কমফোর্ট টাওয়ার
১৬৭/বি, গ্রীন রোড, ধানমন্ডি
ঢাকা - ১২০৫
রোগী দেখার সময়: সন্ধা ৭টা থেকে রাত ৮টা
শুক্রবার, শনিবার ও সরকারী ছুটির দিন বন্ধ
চেম্বার ফোন: ৮১২৪৯৯০, ৮১২৭৩৯৪, এক্স. ২৯৩
চেম্বার মোবা: ০১৭৩১-৯৫৬০৩৩, ০১৫৫২-৪৬৮৩৭৭ (কমফোর্ট)
অফিস: সি ব্লক কক্ষ- ৩৩৩
(পিজি হাসপাতাল)
ফোন: সরাসরি ৮৬২৬৫৮৯, ৯৬৬১০৫২-৬৫ এক্স. ৪৩২০
মোবা: ০১৭১১-৩৭৭৪৭৮, ০১৫৫২-৩৪৫৯৭৫

সংগৃহীত

লেখক : ডা. এআরএম সাইফুদ্দিন একরাম
http://my.jetscreenshot.com/2862/m_20110507-as9e-4kb.jpg
এফসিপিএস (মেডিসিন), এফএসিপি, পিএইচডি, এফআরসিপি (এডিন)
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয় প্রধান,
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী।

http://my.jetscreenshot.com/2862/m_20110517-nbwm-14kb.jpg

মেদ ভুঁড়ি, কি করি?
মাঝে মাঝে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখা যায়, 'মেদ ভুঁড়ি, কি করি?' এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে মেদ ভুঁড়িওয়ালা লোকজন কি করছেন তা সঠিক জানা না গেলেও সম্প্রতি মেদ ভুঁড়ি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডে বেশ মজার এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হচ্ছে, মাছ বয়সী আমেরিকানদের ভুঁড়িতে ইংরেজদের চেয়ে বেশি মেদ-চর্বি জমা হয়েছে। বলা বাহুল্য, ইংরেজদের চেয়ে মার্কিনীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি এবং এর কারণ হিসেবে মার্কিনিদের ভুঁড়িতে অতিরিক্ত মেদ-চর্বি জমা হওয়াকেই গবেষকরা দায়ী করেছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং র‌্যান্ড করপোরেশনের গবেষকরা ২০০৬ সালে প্রায় সমতুল্য মাঝ বয়সী মার্কিন নাগরিক এবং ইংরেজদের ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডায়াবেটিসের হার দ্বিগুণ। মার্কিনীরা ইংরেজদের তুলনায় বরাবরই স্থূলকায়; কিন্তু ডায়াবেটিসের হার কেন এত বেশি তার সঠিক ব্যাখ্যা মিলছিল না। এখন গবেষকরা বলছেন, মার্কিনিদের, বিশেষত মহিলাদের ভুঁড়িতে অতিরিক্ত মেদ জমার হওয়ার কারণেই এ বিপত্তি হয়েছে। গড়পড়তা একজন মার্কিন রমণীর কোমরের মাপ সমবয়সী ইংরেজ মহিলাদের চেয়ে কমপক্ষে ৫ সেন্টিমিটার বেশি। আর মার্কিন পুরুষদের কোমর ইংরেজদের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি। এমনকি যেসব মার্কিনির ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নয়, তাদের কোমরের মাপও ইংরেজদের তুলনায় বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডের ৫২ থেকে ৮৫ বছর বয়সের নাগরিকদের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। ডায়াবেটিসের অন্যান্য যেসব ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে এ দু'দেশের নাগরিকের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। এমনকি প্রতি চারজন স্বাভাবিক ওজনবিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকের অন্তত একজনের ভুঁড়িতে সঞ্চিত মেদের পরিমাণ এত বেশি যে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে। ইংরেজদের ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশ। এতদিন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য বিএমআই (Body mass index)কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে, যার কোমরের মাপ যত বড় এবং ভুঁড়িতে সঞ্চিত চর্বির পরিমাণ যতবেশি, তার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি তত বেশি? কিন্তু সবার মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইংরেজদের চেয়ে মার্কিনিদের ভুঁড়িতে কেন অতিরিক্ত মেদ জমলো? এর ব্যাখ্যা এখনো মিলছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভাস এবং ব্যায়ামের বিশেষ ভূমিকা থাকতে পারে। বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খেলে এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করলে পেটে চর্বি জমে। গবেষকদের ধারণা, পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এ কারণে অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজ বিঘি্নত হয়। ইনসুলিন সঠিক মাত্রায় নিঃসরিত হলে এবং যথাযথ কাজ করতে পারলে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু পেটে বেশি চর্বি থাকলে এ কাজটি ঠিকমতো সম্পন্ন হয় না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থকে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে চর্বি গলে শক্তি উৎপন্ন হয়। ফলে গ্লুকোজের মাত্রা আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পায়। অতএব এ গবেষণার ফলাফলের প্রধান বার্তা হচ্ছে_ মেদ ভুঁড়ি কমাতে হবে। অর্থাৎ সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, কম ক্যালরি গ্রহণ, প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করতে হবে।

২০৫

(৬ replies, posted in সমস্যা ও সমাধান)

গেছে উইনডোজ!

ডা. এআরএম সাইফুদ্দীন একরাম
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয় প্রধান
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
http://i1132.photobucket.com/albums/m566/sawontheboss4/DrSaifuddinEkram.png


http://img814.imageshack.us/img814/7702/20110510153654057425900.jpg


অন্যান্য আবেগের মতো রাগ একটি স্বাভাবিক মানবিক আবেগ। অবশ্য পৌরাণিক কাহিনিগুলোয় দেবতাদের ক্রোধান্বিত হতে দেখা যায়। গ্রিক দেবতাদের মধ্যে অ্যারিস রাগ বা ক্রোধের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। অ্যারিস কখন কীভাবে কার ওপর রেগে যান, এই ভয়ে তাঁর জন্য কোনো উপাসনালয় তৈরি হয়নি। হিন্দুদের দুর্বাশা মুনিও রাগের জন্য যথেষ্ট পরিচিত।
আমাদের আজকের প্রশ্ন, মানুষ কেন রাগে? অবশ্য এককথায় এর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। ক্রোধান্বিত হওয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ কারণ রয়েছে। আনন্দ-বেদনা-হতাশার মতো নিত্যনৈমিত্তিক আবেগের কথা যদি বলি, তাহলে ক্রোধ বা রাগও তেমন একটি আবেগ। কোনো ঘটনায় আমরা যেমন খুশি কিংবা মনঃক্ষুণ্ন হই, তেমনি কোনো কোনো ঘটনায় রাগান্বিত হই।
একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত রাগ মেনে নেওয়া গেলেও, মাত্রাবিহীন রাগারাগি কারও কাম্য নয়। অতিরিক্ত ক্রোধ স্বাস্থ্যহানিকর। এখন কীভাবে বুঝব, রাগের মাত্রা সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন কিংবা তা অস্বাস্থ্যকর?
এ প্রশ্নের উত্তর সহজ। ক্রোধের কারণে বন্ধু-বান্ধব যদি আপনাকে এড়িয়ে চলে, চাকরিবাকরি বিপন্ন হয় কিংবা আশপাশের মানুষ যদি আপনাকে রাগী হিসেবে ভয় পেতে শুরু করে, তাহলে বুঝতে হবে, আপনার ক্রোধের আগুন বশে আনা দরকার। কারণ, অতি ক্রোধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
রাগারাগি করা কি শুধুই স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া? নাকি এর পেছনে বংশগত কোনো কারণ রয়েছে? বিজ্ঞানীরা এখনো ক্রোধের জন্য দায়ী কোনো জিন শনাক্ত কিংবা চিহ্নিত করেননি। তবে অনেকের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ প্রচণ্ড রাগে ফেটে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটিকে অনেকে ‘অকস্মাৎ ক্রোধ বিস্ফোরণ’ নামে উল্লেখ করে থাকেন। এ ধরনের প্রচণ্ড রাগের প্রকাশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আশপাশের মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন; এমনকি অন্যদের ওপর শারীরিক আক্রমণও করতে পারেন। এটিকে রোগ হিসেবে গণ্য করলেও এর কোনো কারণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজন রেগে যান; অথচ অপরজন কেন ক্রোধান্বিত হন না? অন্যান্য সাধারণ অনুভূতির মতো এখানে একই ঘটনা ঘটে। একটি ঘটনা কার মনে কী রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, সেটাই রেগে যাওয়া কিংবা না যাওয়ার নিয়ামক। ক্রোধান্বিত ব্যক্তি কি অন্যদের জন্য বিপজ্জনক? কিংবা এটা কি পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট করে? অবশ্যই ক্রোধান্বিত ব্যক্তি অপরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন এবং ক্রোধান্বিত ব্যক্তির সঙ্গে অন্যদের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
আজকাল যত নারী কিংবা শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমরা দেখতে পাই, এর অধিকাংশের মূলেই রয়েছে ক্রোধ কিংবা রাগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ক্রোধ কিংবা আক্রোশ পুরুষের। অবশ্য কখনো কখনো মহিলাদের চণ্ডমূর্তি দেখা যায়। সব সময় ক্রোধে ফুঁসতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে অন্যদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কারণ রাগী ব্যক্তির সামনে কেউ মুখ খোলে না, কিংবা যুক্তিতর্কে লিপ্ত হতে চায় না। এটা পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। রাগ ও ক্রোধ মাত্রাভেদে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। অল্প অল্প রাগারাগিতে হয়তো কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত রেগে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
যাঁদের হূদ্যন্ত্র দুর্বল, তাঁদের হার্ট অ্যাটাক কিংবা অনেক সময় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়ে পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক হয়ে যায়। এর ফলে মৃত্যুর ঘটাও বিচিত্র নয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রেগে গেলে কীভাবে আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি? এর কোনো সহজ সমাধান নেই। আপনাকে রাগের মাথায় উত্তেজনাবশত কিছু না করে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। রাগের যথার্থ কারণ আছে কি না তা ভাবতে হবে এবং বিষয়টির ঠিক-বেঠিক দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। ক্রোধান্বিত মস্তিষ্কে এত কিছু ভাবা যায় না। অতএব সমাধান হচ্ছে—সময় নেওয়া। মনে রাখতে হবে, আজকে আপনি রাগ করছেন, আগামীকাল আপনার রাগ থাকবে না। কিন্তু রাগের মাথায় যে মানসিক কিংবা শারীরিক আঘাত অপরকে করা হয়, সেটি কিন্তু তার পক্ষে ভুলে যাওয়া কঠিন। এ জন্য রাগের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করার পরিবর্তে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরিবিলি কোথাও ঘটনার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই সর্বোত্তম।
যদি এমন করা সম্ভব না হয়, তাহলে রাগের প্রতিক্রিয়া কোনো ভঙ্গুর বস্তুর ওপরে প্রক্ষেপ করা যায়। যেমন—রাগ কমানোর জন্য অনেককে দেয়ালে মুষ্টাঘাত করতে দেখা যায়, কেউ কেউ থালা-বাসন কিংবা ফুলদানি ভাঙেন। কিন্তু এমন প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় আশপাশের মানুষের জন্য ভীতি সৃষ্টি করে। এ জন্য বলা হয়, রেগে গেলে খেলতে চলে যান, দৌড়াতে পারেন কিংবা টিভি দেখতে পারেন। এ ধরনের ক্রিয়া-কলাপের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে রাগ কমানো যায়।
মনে রাখতে হবে, আমাদের রেগে যাওয়া স্বাভাবিক আবেগ। রাগার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু রাগের বশে কাউকে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। অনেক সময় না রাগার জন্য হরেক রকম কসরত করেও আমরা ক্রোধ সংবরণ করতে পারি না। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে আমরা রেগে যেতে বাধ্য হই এবং হতাশ হয়ে পড়ি। এ রকম পরিস্থিতিতে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আত্মবিশ্লেষণ। রাগের কারণে হতাশা এলে ক্রোধ আরও বেড়ে যায়।
অতএব হতাশা গ্রাস করার আগেই রাগের কারণ বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেকের রেগে যাওয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয়, বলা যায় রেগে যাওয়া একটি নেশা হয়ে যায়। রাগলে তাদের মস্তিষ্কে স্বস্তিদায়ক অ্যান্ডোর্ফিন নিঃসরিত হয়। এ জন্য তারা রেগে যাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারেন না। কিন্তু আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, রাগের মাথায় কিছু করলে তার ফল কখনোই ভালো হয় না। অতএব রাগের আগুন বশে রাখুন।

ডা. এআরএম সাইফুদ্দীন একরাম
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয় প্রধান
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
http://i1132.photobucket.com/albums/m566/sawontheboss4/DrSaifuddinEkram.png

সহস্রাব্দ লক্ষ্যের প্রধান অংশজুড়ে রয়েছে মায়েদের স্বাস্থ্য এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন। এতসব প্রচেষ্টা এবং প্রচার-প্রচারণার ভিড়ে বাবাদের স্বাস্থ্য বা পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি আমরা অবহেলা করছি কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যা কি? সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (Centers for disease control and prevention) পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যার একটি তালিকা করেছে।

হৃদরোগ
পুরুষের প্রধান শত্রু হৃদরোগ। অতএব সব পুরুষকে হৃদরোগ প্রতিরোধ করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য-
*ধূমপান পরিহার করতে হবে। হৃৎপিণ্ডের অন্যতম প্রধান শক্র ধূমপান। অতএব প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সব ধরনের ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে।
*স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ। শাক-সবজি, ফল-মূল, আকাড়া শস্য দানা, অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাদ্য ইত্যাদি বেশি খেতে হবে। কিন্তু সম্পৃক্ত চর্বি এবং লবণযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
*ক্রনিক রোগ পরিহার করতে হবে। যেমন উচ্চরক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস হলে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। *রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
*প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
*শরীরের ওজন সীমিত রাখতে হবে।
*মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
*মানসিক চাপ ও উদ্বেগমুক্ত হতে হবে। সব সময় দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ক্যান্সার
হৃদরোগের পরে পুরুষের দ্বিতীয় প্রধান শক্র ক্যান্সার। ফুসফুস, ত্বক, প্রোস্টেট, অন্ত্র ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যান্সারে বহু পুরুষের অকাল মৃত্যু হয়। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো বেশ কার্যকরী।
ধূমপান পরিহার। ধূমপান পরিহার করলে যেমন হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে, তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে। এমনকি পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকলেও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
*ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
*ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন কমাতে সাহায্য করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং একইভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়।
*প্রচুর শাক-সবজি এবং ফল-মূল খেতে হবে। শাক-সবজি এবং ফল-মূল ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী।
*সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা। অতিরিক্ত সৌরালোক ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
*মদ্যপান সীমিত করতে হবে। অতিরিক্ত মদ্যপান করলে অন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি, যকৃত ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতএব মদ্যপান পরিহার করলে অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়।
ক্যান্সার শনাক্তকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিছু কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার সুপ্তাবস্থায় বা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়। এজন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।


দুর্ঘটনা
মোটর যাবনবাহন দুর্ঘটনা পুরুষদের মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। অতএব পথে-ঘাটে চলাফেলার সময় সতর্ক থাকতে হবে। যানবাহন ব্যবহারের সময় মাথায় হেলমেট পরা এবং সিটবেল্ট বাঁধা গুরুত্বপূর্ণ। মদ্যপান কিংবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যানবাহন চালনা করা উচিত নয়।

ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধোক ব্যাধি
ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে অনেক পুরুষের স্বাস্থ্যহানি হয়ে থাকে। বিশেষত ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং পালমোনারি এমফাইসিমায় অনেক পুরুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে থাকে। এজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত-
ধূমপান পরিহার করতে হবে। ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রধান কারণ ধূমপান। ধূমপান পরিহার করলে এর থেকে মুক্ত থাকা সহজ হবে।
বায়ুদূষণ পরিহার করতে হবে।
শ্বাসনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। ঘন-ঘন শ্বাসনালীর সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।

মস্তিষ্কের পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক
মস্তিষ্কের পক্ষাঘাত অনেক ঝুঁকি উপাদান আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেমন- বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, জাতি ইত্যাদি। কিন্তু কতগুলো উপাদান নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেমন :
ক্রনিক রোগসমূহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ইত্যাদি পক্ষাঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতএব এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা পক্ষাঘাত প্রতিরোধের জন্য জরুরি।
ধূমপান পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপান পক্ষাঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতএব ধূমপান পরিহার করে পক্ষাঘাতের সংখ্যা কমানো সম্ভব।
মদ্যপান পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে শরীরে গ্লুকোজের  পরিমাণ বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে হৃদরোগ, চোখের রেটিনার সমস্যা, স্নায়ুরোগ এবং আরও অনেক জটিলতা হয়। অতএব ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অধিকাংশ পুরুষ তাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারেন। এজন্য
নিয়মিত জীবনাচরণ মেনে চলতে হবে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।

আত্মহত্যা
পুরুষের স্বাস্থ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আত্মহত্যাপ্রবণতা। সাধারণত বিষন্নতা থেকে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা জাগে। কারও বিষন্নতার লক্ষণ-উপসর্গ দেখা গেলে অবশ্যই তার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে বিষন্নতাদূর করার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সবশেষে বলতে হয়, স্বাস্থ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা সহজ; কিন্তু প্রতিরোধের পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ নয়। তবে সবক্ষেত্রে পুরুষদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল সূত্রটি একই; আর তা হচ্ছে- স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করা, ধূমপান পরিহার করা, মদ্যপান না করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। এর সুফল আমরা যা কল্পনা করি, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি।

ক্রোম ছাড়া গতি নাই!

অর্ধেক কথা মাথার উপর দিয়ে গেল!

কারণ পরীক্ষা হয়েছিল ভারত - পাকিস্তান ক্রিকেট খেলার পরের দিন।

দিয়ে দিলাম ওখান থেকে!

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-snc6/227022_216559471707269_152709644758919_791542_7913921_n.jpg

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-snc6/228604_216560575040492_152709644758919_791544_4379516_n.jpg

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/228604_216560578373825_152709644758919_791545_1224009_n.jpg

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-snc6/228604_216560581707158_152709644758919_791546_2879324_n.jpg

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/228604_216560585040491_152709644758919_791547_1915143_n.jpg

অনেক ভাল লাগলো আপনাকে পেয়ে, আশা করি নিয়মিত হবেন।

অনেক ধন্যবাদ!

dr.shamim wrote:

ডাউনলোড শেষ।

প্লীজ পুরা সিরীজ না দেখে দেখবেন না! কিছুই বুঝতে পারবেন না!

উপল BD wrote:

Prison Break: The Final Break মুভিটা কারও কাছে আছে?

আমার কাছে আছে, নিয়ে যেও! তবে ১৯ তারিখ বেলা ১২:০০ শার্প!

Warid এ মনে হই যায় না।

ডা. এআরএম সাইফুদ্দীন একরাম
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয় প্রধান
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
http://i1132.photobucket.com/albums/m566/sawontheboss4/DrSaifuddinEkram.png

http://www.jjdin.com/admin/news_images/81/image_81_11748.gif

'ক্যান্সার' শব্দটি শুনলে কার না ভয় হয়? কারণ ক্যান্সার ঘাতক ব্যাধি। একবার হলে আর রক্ষা নাই। আগে আমাদের দেশে কলেরা, বসন্ত, পোলিও, হাম, হুপিং কাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ খুব বেশি ছিল। এখন আমরা এসব সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ অনেকাংশে কমাতে পেরেছি। গুটি বসন্তকে তো পৃথিবী থেকেই ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছে; পোলিও রোগও বিদায়ের পথে। নানা রকম টীকা আবিষ্কারের ফলে অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধির হারও কমেছে। কিন্তু বেড়ে গেছে অসংক্রামক ব্যাধির পরিমাণ। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ আরো ক্যান্সার এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে তা দেখে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। এসব অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে ক্যান্সার একটি প্রধান স্থান দখল করে আছে। কিন্তু এ সম্পর্কে আমরা এখনো তেমন সচেতন নই। আরো সচেতন থাকলেও প্রতিরোধের তেমন কোনো উদ্যোগ বা জোগাড়-যন্তর নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৭ সালে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল ক্যান্সার। প্রথম স্থান দখল করে ছিল হৃদরোগ। ওই সময় ক্যান্সারে মৃত্যুর হার ২৩% ছিল। অর্থাৎ প্রায় প্রতি চারটি মৃত্যুর একটি ঘটেছে ক্যান্সারের জন্য। ২০১০ সালের এক হিসাবে দেখা গেছে বাংলাদেশে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ক্যান্সার। হৃদরোগ এবং সংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যু যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশে ক্যান্সারের জন্য প্রায় ১১% লোক মারা যায়। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি ১০টি মৃত্যুর মধ্যে অন্তত ১টি ঘটে ক্যান্সারের জন্য। হিসাবটিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যায় না।
দেশে দেশে ক্যান্সারের রকমফের দেখা যায়। আবার নারী-পুরুষভেদে ক্যান্সারের প্রকোপ বিভিন্ন হয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি লোক মারা যায়, তা হলো পুরুষদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, প্রোস্টেট এবং অন্ত্রের ক্যান্সার; আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, স্তন এবং অন্ত্রের ক্যান্সার। ক্যান্সারের কারণে যত মারা যায় তার অর্ধেকই মারা যায় এগুলোর জন্য।
বাংলাদেশে ক্যান্সারের কারণে তালিকায় পুরুষদের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি, ঠোঁট, গলা ও পাকস্থলীর ক্যান্সার; আর মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ, স্তন, ফুসফুস এবং খাদ্যনালির ক্যান্সার। খাদ্যাভাস, বিড়ি-সিগারেট, পান, তামাক, জর্দা, সাদাপাতা, গুল ইত্যাদি ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশে ঠোঁট, গলা ও খাদ্যনালির ক্যান্সার বেশি হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পাকস্থলীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এসব উপাদানের পাশাপাশি হেলিকোব্যাক্ট ও পাইলোরি নামে পরিচিত এক রকম ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
ক্যান্সারের প্রকোপ বিগত বছরগুলোতে বাড়লেও এ সম্পর্কে সচেতনতা তেমন বাড়েনি। কিন্তু সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে অনেক অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করার আজকাল অনেক পদ্ধতি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার জন্য প্রস্তাব পরীক্ষা করা হয়, ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার জন্যও তেমন পরীক্ষা রয়েছে। অবশ্য এ ধরনের পরীক্ষার খরচ কম হতে হবে, সহজে সম্পন্ন করতে পারতে হবে এবং স্বল্প সময়ে অনেক লোকের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রোগ শনাক্ত করার জন্য গ্রামে-গঞ্জে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ক্যাম্পে শত শত মানুষের প্রস্রাব পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে মূত্রে চিনি নির্গত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। আজকাল ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য এ রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বড় অংশ জুড়ে আছে ক্যান্সার স্ক্রিনিং। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা হলে রোগীর মৃত্যু রোধ করা যায় এবং চিকিৎসার ব্যয় সাশ্রয় করতে সাহায্য করে। ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য যেসব স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা হয় তাদের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে_
০ এ পরীক্ষার দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্যান্সার সুপ্তাবস্থায় কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা হয়।
০ পরীক্ষাটি উপযুক্ত এবং রোগীর কাছে গ্রহণযোগ্য।
০ শনাক্ত করার পর ক্যান্সারটির উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
০ শনাক্তকরণ পরীক্ষাটির খরচ কম হতে হবে।
ওপরের সব শর্ত পূরণ করে সব ধরনের ক্যান্সারের জন্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা সব দেশে চালানো সম্ভব হয় না। কারণ ক্যান্সারের প্রকোপ সব দেশে এক রকম নয়। আর শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ব্যয় সঙ্কুলান করাও সব দেশের পক্ষে সম্ভব হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ক্যান্সার শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুপারিশমালা দেয়। অন্যান্য মেডিকেল সোসাইটি এবং সরকারি সংস্থাগুলোরও সেখানে ভূমিকা রয়েছে। প্রতি বছর বসন্তকালে এ সম্পর্কিত একটি বিবরণী প্রকাশ করা হয় এবং বিভিন্ন সময় সুপারিশ নবায়ন কিংবা সংশোধন করা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া বেশ সক্রিয়। সাধারণত যে কোনো মহিলার বয়স ৪০ বছর অতিক্রম করলে প্রতি বছর তাকে ম্যামোগ্রাম করার সুপারিশ করা হয়। ম্যামোগ্রাম স্তনের এক ধরনের এক্সরে যার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়। যেসব মহিলার বয়স ২০ বছর অতিক্রম করেছে তাদের অন্তত প্রতি ৩ বছরে একবার স্তন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করানো উচিত। ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি বছরই এটা করতে হয়। আগে ২০ বছর বয়সের ঊধর্ে্ব হলে মহিলাদেরও স্তন নিজে হাত দিয়ে পর্যবেক্ষণ করার সুপারিশ করা হতো। ম্যামোগ্রাম আসার পর এটার ওপর আর তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। কিন্তু প্রতি মাসে একবার স্তন নিজ হাতে পরখ করে দেখাটাই সবচেয়ে এবং সুলভ স্ক্রিনিং পরীক্ষা। এটা করলে অনেক স্তন ক্যান্সার একেবারে অঙ্কুরেই শনাক্ত করা যায়। বাংলাদেশে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার মরাত্মক পর্যায়ে গিয়ে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়ানোর পরও দেখা যায় তারা নির্বিকার থাকেন এবং যখন এটা শনাক্ত করা হয়, তখন আর তেমন কিছুই করার সুযোগ থাকে না। যেসব মহিলার স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে তাদের শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যাপারে আরো নিবিড় যত্নশীল হতে হবে। বর্তমানে অনেকে ৫০ বছর বয়স হওয়ার পরে ম্যামোগ্রাম করার সুপারিশ করছেন। কারণ ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে তেমন বেশি স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে না। কিন্তু আমেরিকার বীমা কোম্পানিগুলো এখনো ৪ বছর বয়সের সীমারেখাই মেনে চলছে।
অন্ত্রের ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে মলে রক্ত আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায় না। মলে রক্ত পরীক্ষা পজিটিভ হলে কলোনোস্কপি করানোর প্রয়োজন হয়। এছাড়া ডাবল কনট্রাস্ট বেরিয়াম ইনিমা এবং বিশেষ ধরনের সিটিস্ক্যান করা যায়।
আজকাল অন্ত্রের ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য মলে ক্যান্সারের ডিএনএ টেস্ট করাকে বেশি উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের পরীক্ষা বেশ ব্যয়বহুল এবং এখনো সর্বত্র পাওয়া যায় না। অন্ত্রের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সবসময় সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্যান্সার সম্পর্কে চিকিৎসকের সন্দেহ এবং পরীক্ষা করানোর রোগীর আগ্রহ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং রোগীর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য প্যাপটেস্ট (চধঢ়ধহরপধষধড়ঁ ঃবংঃ) এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস দায়ী। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি যে কোনো মহিলার যৌনমিলন শুরুর তিন বছরের মাথায় প্যাপটেস্ট এবং ডিএনএ টেস্ট করানোর সুপারিশ করে থাকে। অন্যান্য সংস্থা বয়স ২১ হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর কিংবা প্রতি তিন বছরে ১ বার শনাক্তকারী পরীক্ষা করানোর সুপারিশ করে থাকে। জরায়ু গ্রীবায় অ্যাসিটিক অ্যাসিড কিংবা লুগলস্ আয়োডিন লাগিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা আরেকটি সহজ শনাক্তকারী পরীক্ষা। এটা 'ভায়া টেস্ট' নামে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর তেমন প্রচলন নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এটি বহুল ব্যয়হৃত এবং সুলভ পরীক্ষা।
জরায়ু গ্রীবা কিংবা যোনিরসে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের ডিএনএ পরীক্ষা করানো খুবই সহজ প্রক্রিয়া কিন্তু ব্যয়বহুল। এর নমুনা সংগ্রহের জন্য কোনো চিকিৎসকেরও প্রয়োজন হয় না। রোগী নিজেও এটা করাতে পারেন। আজকাল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের বিরুদ্ধে টীকা ও পাওয়া যায়। এ টীকা ব্যবহারের ফলে জরায়ু গ্রীবার ক্যান্সারের প্রকোপ অনেক কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য এ টীকা সর্বত্র পাওয়া যায় না এবং যথেষ্ট ব্যয়বহুল।
অন্যান্য ক্যান্সারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য স্ক্রিনিং করা হয়। পুরুষের মূত্রথলির গ্রীবায় প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড অবস্থিত। সাধারণত পুরুষদের বয়স ৫০ বছর অতিক্রান্ত করলে প্রাথমিক শনাক্তকরণ পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়। তবে প্রোস্টেটের ক্যান্সার পরীক্ষার সুপারিশ নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশে পুরুষদের ক্যান্সারের মৃত্যুর কারণের শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য বুকের এক্স-রে, সিটিস্ক্যান এবং থুথু পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু ব্যাপকভাবে জনসাধারণের মধ্যে স্ক্রিনিং করার জন্য পরীক্ষাগুলো উপযুক্ত নয়। এজন্য অধিকাংশ ফুসফুসের ক্যান্সার খুব বিলম্বে শনাক্ত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূলে হাতিয়ার ধূমপান পরিহার করা।
ফুসফুসের সবচেয়ে শত্রু তামাক। একমাত্র ধূমপানবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করে বাংলাদেশে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো সম্ভব। বাংলাদেশে খাদ্যনালি, মুখগহ্বর এবং পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রকোপও খুব বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এসব ক্যান্সারের জন্যও কোনো সহজ এবং সুলভ প্রাথমিক শনাক্তকারী পরীক্ষা নেই। ঠোঁট এবং মুখগহ্বরের ক্যান্সারের সঙ্গে তামাকের সম্পর্ক রয়েছে। অতএব এখানেও আমাদের তামাক সেবন প্রতিরোধের পর গুরুত্ব দিতে হবে।

সুত্র

শ্বাসনালীর নানা রকম রোগ হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাঁপানি ও দীর্ঘমেয়াদি অবরোধাÍক ফুসফুস রোগের COPD সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। লক্ষণ-উপসর্গের কথা দেখে-শুনে এ দুটি রোগকে অনেক সময় আলাদা করে চেনা মুশকিল। কিন্তু এ দুটি রোগের গতিপ্রকৃতি এবং পরিণতি এক রকম নয়।
দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ
দীর্ঘমেয়াদি অবরোধাÍক ফুসফুসের রোগের (Chronic Obstructive Pulmonary) মধ্যে রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালীর প্রদাহ (Chronic Bronchities) এবং ফুসফুসের অতি প্রসারণী (Pulmonary Emphysema)। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ফুসফুসের বায়ুপথ সরু হয়ে যাওয়া। এর ফলে ফুসফুসে বায়ু পুরোপুরি ঢুকতে পারে না। ফলে ফুসফুসের বায়ু খালি হয় না। আটকে পড়া বায়ুর জন্য ফুসফুস পরিপূর্ণ মনে হয় ও দম ভারী হয়ে আসে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। একবার ফুসফুসে বায়ু সরবরাহকারী নালীসমূহ সংকীর্ণ হয়ে গেলে, তা সহজে আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসে না। এর কারণ সংশ্লিষ্ট কোষসমূহে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত একটি সংবেদনশীল অবস্থা বিরাজ করতে থাকে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কী কারণে ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধাক ব্যাধি হয়ে থাকে? সাধারণত এ রোগের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে ধূমপান, ধোঁয়া, ধুলাবালি এবং ঘনঘন শ্বাসনালীর সংক্রমণ। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধূমপানের ভূমিকাই প্রধান। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ধূমপান করলে ফুসফুসের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্রমশ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধাÍক রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ প্রকাশ পেতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধূমপান ছেড়ে দিলে অনেকে এ রোগের কালোথাবা থেকে মুক্তি পেলেও পেতে পারেন; কিন্তু পরিণত অবস্থায় ধূমপান ছাড়লে আর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে না।
অনেকে শহরে ধুলাবালিপূর্ণ ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে বসবাস করাকেও এ রোগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন। এ ছাড়া রান্নাঘরের ধোঁয়ারও ভূমিকা থাকতে পারে। শ্বাসনালীতে ঘনঘন রোগজীবাণু সংক্রমণজনিত প্রদাহের ফলে এ রোগের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
দীর্ঘমেয়াদি অবরোধক ফুসফুসের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে কাশ ও অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
সাধারণত এ ধরনের রোগী বছরের তিন মাসের বেশি ক্রমাগত কাশিতে ভুগে থাকে এবং কাশির সঙ্গে প্রচুর শ্লেষ্মা নির্গত হয়। এ অবস্থা পরপর দুই বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি চলতে থাকে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। যাদের ফুসফুস অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যায় তাদের শ্বাসকষ্টই বেশি হয়।
সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে এর ফলে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়। শরীরের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ কম হওয়ার ফলে এদের রক্তে লাল কণিকার পরিমাণ বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে হৎপিণ্ডের ডান পাশে চাপ বেশি বেড়ে যাওয়ার ফলে হৎপিণ্ডের প্রসারণ এবং বিকলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার কারণে শ্বাসতন্ত্রের বিকলতা (Respiratory Failure) হতে পারে।
ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধাÍক রোগ অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর রোগ এবং একবার পরিণত অবস্থায় পৌঁছে গেলে এ রোগ আর নিরাময় হয় না। এ জন্য শুরু থেকেই এ রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সচেতন এবং সচেষ্ট থাকতে হবে।
এ রোগ প্রতিরোধের জন্য কতগুলো বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবেÑ
* ধূপপান অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
* পেশাগত কারণে আমরা যেসব ধোঁয়া-ধুলা বা বালুকণা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি, তার পরিমাণ কমাতে হবে। এ জন্য ঘরের ভেতরের ও বাইরের সব রকমের উত্তেজক ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান পরিহার করতে হবে।
* ঘরের বায়ু-ধোঁয়া, ধুলামুক্ত এবং পরিষ্কার রাখতে হবে। যে কোন রকম তীব্র গন্ধ, ভাপ, রং, কীটনাশক ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘরের চুলা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
* ঘনঘন শ্বাসনালী জীবাণু সংক্রমণজনিত প্রদাহ যেন হতে না পারে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
চিকিৎসা
যাদের অবরোধাÍক দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ হয়েছে তাদের অবশ্যই হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এ রোগে ফুসফুসের বায়ু চলাচলের পথ প্রসারিত করার জন্য উপশমকারী ওষুধ দেয়া হয়। এসব ওষুধ বায়ুনালীর সংকোচন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া জীবাণু সংক্রমণের লক্ষ্য প্রকাশ পেলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
টিকা গ্রহণের মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোনিয়ার প্রকোপ কমানো যায়। ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ব্যায়াম মানসিক চাপ ও উদ্বেগ প্রশমন, উপযুক্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে এসব রোগী যথেষ্ট উপকার পেতে পারেন।
ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধক রোগ নিরাময় হয় না। অ্যাজমা বা হাঁপানির চেয়েও এ রোগের ভোগান্তি বেশি এবং পরিণতি ভালো নয়।
অতএব শুরু থেকে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা উত্তম। আর প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি ধূমপান থেকে বিরত থাকা।

http://my.jetscreenshot.com/2862/m_20110507-as9e-4kb.jpg
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।

এই টপিক টা ফলো করে Alertpay তে একটা অ্যাকাউন্ট খুলুন। পরে Bux.to থেকে alertpay এর অ্যাড্রেস দিয়ে টাকা তুলুন।

অ্যানিমেশন দুটো দিয়েন, লাগবে!

dr.shamim wrote:

 ''FireStatus'' 

আজ চালিয়ে দেখবো ক্যামন!

maruf002 wrote:

Firefox 4 - এ নাকি speed কম???

আমার কাছে তো বেশ ভালই মনে হচ্ছে,  আমি কিন্তু ৫১২ কেবিপিএস এর লাইন এ আছি।

dr.shamim wrote:

লিঙ্ক টা ঠিক করতে পারছি না।

ঠিক করে দিলাম।

http://my.jetscreenshot.com/2862/m_20110504-59g6-13kb.jpg

এটা বলতেছে কেন?

বছর কয়েক আগে ব্রাজিলের ২১ বছর বয়সী তরুণী মডেল আনা ক্যারোলিনা রেস্টনের মৃত্যু আলোড়ন তুলেছিল শোবিজ জগতে। কিডনি অকেজো হয়ে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মারা যায় সে। চমকে দেয়ার মতো তথ্যটা হচ্ছে—৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এ তরুণীর ওজন ছিল মাত্র ৪০ কেজি। প্রয়োজনাতিরিক্ত চিকন হওয়া সত্ত্বেও তার বদ্ধমূল ধারণা ছিল, সে স্থূলকায় এবং এজন্য লোকজনের কাছে অনাকর্ষণীয়। ওজন কমানোর জন্য সে খাওয়া-দাওয়া প্রায় করতই না। ক্রমাগত না খেয়ে থাকার জন্য তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে।

http://img90.imageshack.us/img90/4715/helthanorosiya.jpg

বিভিন্ন নামি মডেলিং এজেন্সির হয়ে বিশ্বের নানা দেশে ঘুরে বেড়ানো এই তরুণীটি ভুগছিল খাদ্যাভ্যাসের অস্বাভাবিকতাজনিত মানসিক রোগ ‘এনোরেক্সিয়া নারভোসা’তে। বাংলায় একে ‘স্বল্পাহারজনিত কৃশতা’ও বলা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এ রোগে ভুক্তভোগীর ৯০ শতাংশই নারী। যে কোনো বয়সেই এ রোগ দেখা দিতে পারে। তবে স্কুল-কলেজগামী অর্থাত্ বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের মধ্যেই এ রোগটি বেশি দেখা যায়। মডেল, নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী বা এসব পেশায় যেতে ইচ্ছুক অথবা অতিরিক্ত সৌন্দর্যসচেতন মেয়েদের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসের অস্বাভাবিক এ প্রবণতা বেশি। ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও গল্গ্যামারের এ যুগে বিশ্বব্যাপীই এ ধারণা প্রচলিত যে, মেয়েদের আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য অবশ্যই চিকন-আকৃতির শরীর হতে হবে। এর প্রভাবে পশ্চিমা বিশ্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে এ রোগ এখন ছড়িয়ে পড়ছে তৃতীয়-বিশ্ব বলে পরিচিত দেশগুলোয়ও। ভেঙে যাওয়া পরিবারের সন্তানদের মধ্যে এ রোগে ভোগার হার বেশি। ছোটবেলায় যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি।
এনোরেক্সিয়া নারভোসায় আক্রান্ত রোগীরা ন্যূনতম স্বাভাবিক ওজনও বজায় রাখে না। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ যে ওজন হওয়া উচিত, তার ৮৫ শতাংশেরও কম হয় এদের ওজন। অর্থাত্ বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যার ন্যূনতম ৬০ কেজি ওজন হওয়া উচিত, তার ওজন হয় ৫১ কেজিরও কম। রোগীরা স্বেচ্ছায় ওজন কমায়। ওজন কমানোর জন্য তারা শুধু যে কম খাবার গ্রহণ করে তা নয়, অনেকে খাওয়ার পরপর গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করে খাবার ফেলেও দেয়। অতিরিক্ত ব্যায়াম করা ছাড়াও অনেকে এমন সব ওষুধ খায়, যা অতিরিক্ত মলমূত্র তৈরি করে শরীর থেকে খাবার ও পানি বের করে দেয় অথবা খাদ্যগ্রহণে অরুচি সৃষ্টি করে।
নিজের দেহের আকৃতি ও ওজন সম্পর্কে এসব রোগীর প্রবল ভুল ধারণা তৈরি হয়। প্রয়োজনাতিরিক্ত চিকন হওয়ার পরও এরা নিজেদের মোটা বলেই মনে করে। সব সময় তারা ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীত থাকে। ওজন কমে যাওয়ার ফলে যে ভয়াবহ শারীরিক সমস্যা হতে পারে, তা তারা মানতে চায় না।
এনোরেক্সিয়া নারভোসার রোগীদের অনাহারজনিত নানা জটিলতা দেখা দেয়। শরীরের ভেতরকার রাসায়নিকের সাম্যাবস্থা বিনষ্ট হয়। ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, খাদ্যনালীর গণ্ডগোল, কোষ্ঠকাঠিন্য, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, খিঁচুনি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তচাপ কমে যায়। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। হাত-পা-মুখ পানি জমে ফুলে যায়। হাড়ের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এসব চলতে থাকলে রোগীর কিডনি অকেজো হয়ে যায়, হৃিপণ্ডের অসুখ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের আগে বা শুরুর দিকে এ রোগ হলে রোগীর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
রোগী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়। যৌন আগ্রহ কমে যায়। অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ে। এ রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যা-প্রবণতা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে।
এসব রোগী তাদের রোগের ব্যাপারটিকে মানতে চায় না বলে চিকিত্সা নিতেও খুব একটা আগ্রহী হয় না। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই হাসপাতালে ভর্তি করানো প্রয়োজন হতে পারে (তবে অবশ্যই তা মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় থেকে)। আর রোগী নিজ থেকেই চিকিত্সা নিতে উদ্বুদ্ধ হলে হাসপাতালে ভর্তি না করেও চিকিত্সা সম্ভব। এ রোগের চিকিত্সার প্রথম ধাপটি হচ্ছে রোগীকে সঠিক ওজনে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য খাবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। মুখে খাওয়ানো সম্ভব না হলে শিরাপথে স্যালাইন দেয়া হয়। অনাহারজনিত কোনো শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হলে তার চিকিত্সা করা হয়। চিকিত্সকের ওপর রোগীর আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর চিকিত্সার সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সাইকোথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগটি সম্পর্কে রোগীর পাশাপাশি রোগীর পরিবারকেও বিস্তারিত জানিয়ে সচেতন করা হয়। বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, এনোরেক্সিয়া নারভোসা রোগের চিকিত্সা সময়সাপেক্ষ। তাই এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে চিকিত্সকের পরামর্শ মতো চলতে হবে ধৈর্য ধরে।   

ডা. মুনতাসীর মারুফ
লেখক : সহকারী রেজিস্ট্রার
মানসিক রোগ বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সূত্র