ঈমানের সাথে জীবদ্দশায় যিনি ক্ষনিকের জন্য হলেও রাসুলে মকবুল (সাঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন,স্বচক্ষে দেখেছেন তাকেঁ সাহাবী বলে। কবির কবিতায়,প্রাবন্ধিকের প্রবন্ধে বা কোনো গল্পকারের গল্পে সাহাবায়ে কেরামের রাসুলপ্রেমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা সম্ভব কিনা তা আমার জানা নেই। আমি এখানে যৎ সামান্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।

পবিত্র কোরআন-হাদিসে সাহাবায়ে কেরামের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। রাসুলে পাক (সাঃ) এর ভালবাসায় সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি আর সৃষ্টির ইতিহাসে খুজে পাওয়া যাবে না। সাহাবায়ে কেরামের কয়েক লক্ষ চোখ সার্বক্ষনিক রাসুলে খোদা (সাঃ) এর জীবনপানে চেয়ে থাকত। গৃহের অভ্যন্তরে প্রিয়নবীর কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতেন ও সংরক্ষন করতেন ১১/১৩ জন বিচক্ষন,বুদ্ধিমতি.প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী রমণী (উম্মহাতুল মুমিনীন)। করণীয়-বর্জনীয় কিছু জানার বা শোনার সাথে সাথেই সাহাবায়ে কেরাম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন কে কত আগে তা পালন করতে পারেন। মা সন্তানের মায়া ত্যাগ করেছেন, সন্তান মায়ের মমতাকে তুচ্ছ করেছেন,স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা,স্ত্রী-স্বামীর ভালবাসা জলান্জলি দিয়েছেন,ভাই-ভাইয়ের দরদ,বোন-বোনের মায়া সবই ত্যাগ করেছেন রাসুল (সাঃ) এর ভালবাসার কারনে। সহায় সম্পদ সবকিছুই উৎসর্গ করেছেন রাসুল (সাঃ) এর জন্য। বাপ-দাদার বসত বাড়ি,উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি, প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছু ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছেন মদিনার পথে। একটিবারের জন্য ফিরেও তাকাননি সেসবের দিকে। জীবনে কোনদিন আক্ষেপও করেননি। কেবল আক্ষেপ আর যন্ত্রনা তখনই দেখিয়েছেন যখন রাসুল (সাঃ) এর পছন্দ-অপছন্দ,আদেশ-নিষেধ পালনে গাফিলতি বা বিলম্ব হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করেছেন রাসুলে আকরাম (সাঃ) এর অপরুপ চেহারা মোবারক দর্শনে। রাসুলে আকরাম (সাঃ) মুখের থুথু মোবারক পিঠ,হাত পেতে গ্রহণ করেছেন,পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মেখে দিয়েছেন দেহ অবয়বে। শত অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন রাসুলে মকবুল (সাঃ) এর ভালবাসার জন্য । সুন্দরী,রুপসী,ষোড়শী,তম্বী-তরুনী,অপরুপা নববিবাহীতা স্ত্রীকে নিয়ে বাসর সাজিয়েছেন,ডাক দিয়েছেন প্রিয় নবী (সাঃ) জিহাদের। সেই অপরুপা স্ত্রীর দিকে একটিবারের জন্যও ফিরে তাকাননি। হাসিমুখে বিলিয়ে দিয়েছেন জীবন। রাসুলে মাকবুল (সাঃ) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের এমন নজিরবিহীন ভালবাসায় আরশের মালিক আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে নাযিল করেছেন অসংখ আয়াত। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-

لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” (সুরা আল-ফাতহ-১৮)

وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
“আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।”(সুরা-আত তওবা ০৮)

لِلْفُقَرَاء الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ

“এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।” (সুরা-হাশর ০৮)

الَّذِينَ آمَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللّهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ

যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম।(সুরা-আত তওবা ২০)

وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

“তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যাদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।” (সুরা আল-হাদিদ ১০) 

إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا الْحُسْنَى أُوْلَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ
“নিশ্চয় যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা দোযখ থেকে দূরে থাকবে।” (সুরা-আম্বিয়া ১০১)

مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
“মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।” (সুরা-আল-ফাতহ ২৯)

এ সমস্ত আয়াতে প্রিয়নবীর অনুসারী ও মুহিব্বিনের নিদর্শনসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এমনি আরও অসংখ্য আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ,আল্লাহ-রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসার বিবরণ দিয়েছেন।
প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। নিম্নে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হল।

“ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন; আমার সাহাবীদের তোমরা মন্দচারী বলোনা। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ন আল্লাহর রাস্তায় দান কর ,তবে আমার সাহাবীদের এক মুদ(এক সেরের মত) পরিমান বা তার অর্ধেক পরিমান দানের সওয়াব পাবে না।” (বুখারী-মুসলিম)

“ হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন (রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুলে মাকবুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট মানুষ আমার যুগের লোকজন অর্থ্যাৎ সাহাবায়ে কেরাম। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোকজন (তাবেয়ীগণ) অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোকজন (তাবে তাবেয়ীগণ) অতঃপর তোমরা তাদে;র পরে এমন সম্প্রদায়কে পাবে,যাদের কাছে স্বাক্ষ্য চাওয়া হবে না কিন্ত তারা স্বাক্ষ্য দিবে। খেয়ানত করবে-আমানতদার হবে না।” (বুখারী-মুসলিম)

হযরত জাবের (রা) হতে বর্ণিত,তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন,যে জীবদ্দশায় (ঈমানের সাথে) আমাকে দেখেছে (অর্থ্যাৎ সাহাবীগণ) তাকেঁ জাহানানমের আগুন স্পর্শ করবে না, যে জীবদ্দশায় (ঈমানের সাথে) এমন ব্যক্তিকে দেখেছে যে আমাকে জীবদ্দশায় দেখেছে (অর্থ্যাৎ তাবেয়ীগণ) তাকেঁও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।” (তিরমিযী শরীফ)

কুরাইশ দুত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ ছাকাফী মুসলমান হওয়ার পুর্বে হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে গোয়েন্দা হিসেবে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষনের জন্য মদিনায় আসেন। অতঃপর কুরাইশদের নিকট গিয়ে রাসুল (সাঃ) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালবাসার যে অনন্য ছবি একেছিলেন তা তার বর্ণনাতেই দেখুন,

“ হে আমার জাতি! আল্লাহর কসম,আমি তোমাদের দুত হিসেবে রোমের সম্রাট,ইরানের শাহানশাহ,আবিসিনিয়ার নাজ্জাশির দরবারে গিয়েছি। আল্লাহর কসম কোন রাজা-বাদশাহর প্রতি তার প্রজা বা সভাসদগণকে এমন ভক্তি-শ্রদ্ধা-সম্মান করতে দেখিনি,যেরুপ মুহাম্মাদের সাহাবীগণ মুহাম্মদের প্রতি করে। আল্লাহর কসম করে বলছি তাদেঁর অবস্থা হলো এই যে,যখন তিনি (রাসুল সাঃ) তাঁর মুখের থুথু ফেলেন তখন তাঁর থুথু কারো না কারো হাতেই পড়ে। অতঃপর সেই ঐ থুথু পরম ভক্তিতে মুখে শরীরে মেখে নেয় । যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন তারা কার আগে কে করবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি করতে থাকে। যখন তিনি ওজু করেন তখন তাঁর ওজুতে ব্যব্হত (অতিরিক্ত) পানিটুকু নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে আরম্ভ করে, আর যখন তিনি কথা বলেন তখন তারা চুপ করে থাকে। তাকে এতই সম্মান করে যে,তার প্রতি পুর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেও কেউ সাহস করে না।” (বুখারী শরীফ) সুবহান আল্লাহ!

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত উমরের ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) মদিনা হতে হজ্জের সফরে রওয়ানা করলে মক্কায় যাওয়ার সময় রাসুলে মাকবুল (সাঃ) যেসব স্থানে বিশ্রাম নিতেন তিনিও তথায় বিশ্রাম নিতেন,যেসব স্থানে নামাজ পড়তেন তিনিও সেসব স্থানে নামাজ পড়তেন, যে গাছের নিচে বসে আরাম করতেন তিনিও সে গাছের নিচে বসে আরাম করতেন, প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেখানে অবতরন করতেন তিনিও সেখানে অবতরন করতেন,তার প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক প্রয়োজন না থাকলেও তিনি অবতরন করে আবার চলতেন। কারো প্রতি ভালবসার এমন দৃষ্টান্ত কেউ কোনদিন দেখাতে পারবে কি ?

তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণে সামান্য গড়িমসির জন্য হযরত কা’ব বিন মালেক (রা) সহ আরো তিনজন সাহাবীকে প্রিয়নবী অবরোধ দিলেন (ক) তাদের সাথে কেউ কথা বলবে না । (খ) সালাম দিবে না,তাদের সালামেন জবাব দিবে না। (গ) তাদের ডাকে সাড়া দিবে না। (ঘ) তাদের স্ত্রীদেরকে বলা হলো তাদের বিছানায় যাবে না। (ঙ) অন্যদের জন্য প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা স্ত্রীদের জন্যও বলবৎ করা হলো। স্ত্রীরা স্বামীর দিকে একবারের জন্য ফিরে তাকালেন না । দুইজন অসুস্থ হওয়ায় স্বামীদের সেবা করার অনুমতি চাওয়া হলো রহমরে নবী কেবল অত্যাবশ্যকীয় সেবাদানের অনুমতি দিলেন। কা’ব বলেন,প্রতিদিন নামাজের *****ে এমন স্থানে দাড়াতাম যেন প্রিয়নবীর মুখখানা দেখা যায়। অপলক নয়নে শুধু চেয়েই থাকতাম-কা’ব বলে কখন ডাক দেন! মুখের দিকে তাকাতাম আমার দিকে তাকিয়ে হাসেন কিনা ? চাহনীর দোলখেলায় ফাকে ফাকে দেখতাম আড়চোখে এমনভাবে আমার দিকে তাকান,আমি যেন বুঝতে না পারি যে তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন। নবী প্রেমের কি অপুর্ব খেলা ! এভাবে ৪০ দিন অতিবাহিত হলো । মদিনার প্রভাবশালী নেতা কা’ব বিন মালিক । তাই অবরোধের সংবাদ বিদ্যুৎবেগে আশপামের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়ল। মুসলমানদের সাথে কাফিরদের তখন তুমুল যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে। অমুসলিম রাষ্ট্রের শক্তিধর অধিপতিগণ মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করার প্রস্তাবসহ কা’ব বিন মালিকের কাছে দুত পাঠাল। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে তাদের দেশে চলে আসার আমন্ত্রনও জানানো হলো। কা’ব বলেন’৪০ দিনের অবরোধে যত না কষ্ট পেয়েছি তারচেয়েও অনেক বেশী কষ্ট এ জন্য পেয়েছি যে আমার কাছে এমন প্রস্তাব আসল কিভাবে? নিশ্চয় কাফেররা আমার আচরণ লক্ষ্য করেছে যে আচরণে আমি রাসুলের অবরোধে সন্তুষ্ট নই বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
যাইহোক,এভাবে ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাদের তওবা কবুল করার ঘোষনা দেন এবং প্রিয়নবী (সাঃ) অবরোধ প্রত্যাহার করেন। (বিস্তারিত বুখারী শরীফ,কিতাবুল মাগাযী)

এমনি আরও অসংখ্য হাদিস আছে সাহাবী কেরামের শানে । সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও রাসুলে কারীম (সাঃ) এর প্রতি তাদের ভালবাসার যৎ সামান্য বর্ণনা এখানে উল্লেখ করলাম। কাউকে ভালবাসা,সম্মান দেখানোর এমন দৃষ্টান্ত কি কেউ দেখাতে পারবে কোনদিন ?

আমার এ লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা মিলাদ বা ঈদে মিলাদুননবী উদযাপন করেন, যারা মিলাদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখান তারা কি বলতে পারবেন কোন সাহাবীয়ে কেরাম কোনদিন মিলাদ নামক অনুষ্ঠানটি করেছেন ?


পুর্বে এখানে প্রকাশিত

৫২

(৫ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

বিদআতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে এমন নব আবিস্কার যার পূর্বে কোন প্রকার দৃষ্টান্ত নেই । এ কথার প্রমানে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার বানীঃ
“بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ
” বাকারা ১১৭ অর্থঃ তিনি (আল্লাহ) আকাশ মন্ডলী পৃথিবীর স্রষ্টা । অর্থাৎ আল্লাহ আসমান ও জমিনের পূর্ব কোন দৃষ্টান্ত ব্যতিরেকেই সৃষ্টি করেছেন । এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, বিদআত হচ্ছে নব আবিস্কৃত জিনিস ।
শরীয়তের পরিভাষায় ’বিদআত’ হচ্ছে দ্বীনে বা শরীয়তে এমন নতুন জিনিস তৈরী করা যা পূর্বে ছিল না । সে আবিস্কারই সুন্নতের বিপরীত আর সেটা হল বিদআত । অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে বিদআত হচ্ছে এমন কাজ (বা আমল) যার প্রতি শরীয়ত সমর্থিত কোন দলিল বা প্রমান নেই ।
আল্লাহ, তায়ালা আমাদের যে জীবন বিধান দিয়েছে,সেটাই ইসলাম বা দ্বীন । এ দ্বীন ইসলাম আল্লাহর রাসুল (সাঃ) প্রচার করে গিয়েছেন, তার মধ্যে কোন খালি নেই যে তাতে একটু বাড়ানো বা সংযোগ করা যাবে অথবা আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমন কোন আয়ত গোপন করে গেছেন, যা প্রচার করা হয়নি । এ রকম যদি কেউ ধারনা করে অথবা কেউ যদি বলে দ্বীন অপূর্ন তা হলে সে মুসলমান থাকবে না ।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
” আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ন করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সমূহ পূর্ন করে দিলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে দিলাম (আল মায়েদাত) ।
এ আয়াত হতে বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সাঃ) এর মাধ্যমে দ্বীন পুরা করেছেন । সুতরাং যদি কেউ মনে করে রাসুল (সাঃ) দ্বীনের মধ্যে কিছু কিছু গোপন করে গেছেন পরবর্তী কোন আলেম, কোন পীর বা বুজুর্গ তা প্রকাশ করে দ্বীনের পরিপূর্নতা আনলেন এ রকম ভাবলে সে মুসলমান থাকবে না । নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেনঃ
“যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয় তা পরিতাজ্য (বোখারী মুসলিম) । অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে এমন আমল করবে যা আমাদের দ্বীনের মধ্যে নেই তা পরিতাজ্য (মুসলিম) ।
রাসুল (সাঃ) এর হাদীস থেকে আমরা বুঝলাম শরীয়তের যে বিষয়ে রাসুল (সাঃ) এর কোন নির্দেশ নেই, সাহাবাদের কোন আমল নেই বা সাহাবাদের যুগে ছিল না, তাবেঈনদের যুগেও ছিল না, তা যদি নতুন করে আমাদের মাঝে আসে শরীয়তে বা দ্বীনে তা হলে তা পরিতাজ্য এবং যদি কেউ তা গ্রহন করে তাহলে তা হবে বিদআত ।
বিদআত দুই প্রকারঃ
প্রথমতঃ দুনিয়ার বিষয় নব আবিস্কার । যেমন মাইক, ঘড়ি, ফ্যানের হাওয়া, ট্রাক্টারের চাষ, জামা স্ত্রি করা, খাটে ঘুমানো নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক আবিস্কার ও উদ্ভাবন ইত্যাদি এ সমস্ত জায়েয এগুলো গ্রহন করা বৈধ । কারণ দুনিয়ার বিষয় নব আবিস্কারের মূলনীতি হল জায়েয । এগুলো বিদআত নয় , কারণ এগুলি দ্বীন বা শরীয়ত নয় । মনে রাখতে হবে দুনিয়ার বিষয় অদি কেউ কোন কিছু আবিস্কার করে তা বিদআত নয় । সুতরাং আল্লাহর রাসুলের যুগে ফ্যানের হাওয়া,রেডিও,টেপরেকর্ড ছিল না এসব প্রশ‘ন চলবে না।

দ্বিতীয়তঃ দ্বীন ইসলামের মধ্যে নব আবিস্কার আর এ প্রকার নব আবিস্কার হারাম বা অবৈধ । কারণ দ্বীন ইসলামের মূলনীতি হল দলিল ভিত্তিক । যা কুরআন ও সুন্নার প্রমানের প্রতি নির্ভরশীল । যেমন নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয় তা পরিতাজ্য (বোখারী এবং মুসলিম) ।
বিদআত বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

(১) বিদআতে মুকরাফ্ফেরাঃ কাফির পরিনতকারী বিদআত, যে বিদআত করলে মানুষ কাফের হয়ে যায় । যেমন মৃত অথবা অনুপস্থিতদের আহবান করা এবং তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা অর্থাৎ এরূপ বলা যে ’হে আমার অমুক নেতা/পীর আমাকে সাহায্য কর’ অথবা দরগাহ্ বা মাজারে গিয়ে সন্তান চাওয়া, সাহায্য চাওয়া, কবর বা দরগাহে মানত করা ইত্যাদি ।

(২) বিদআতে গায়রে মুকাফ্ফেরাঃ অবৈধ বা হারামকৃত বিদআত অর্থাৎ যে বিদআত করলে মানুষ কাফর হয় না, গুনাহ্ হয় তাকে বিদআতে গায়রে মুকাফফেরা বলে । যেমনঃ মৃতদের মাধ্যমে বানিয়ে উছিলা গ্রহন করা, কবরের উপর সৌধ নির্মান করা, ঈদে মিলাদুন্নবী অর্থাৎ নবী দিবস পালন করা (এ রকম স্মরন সাহাবী ও তাবেয়ী তাবেতাবেযীদের যুগে ছিল না) অথবা এমন পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করা যা শরীয়তের বিধান বর্হিভূত নিয়ম । যেমনঃ বিনাদলিলে নতুন নামায উদ্ভাবন করা যার আদৌ কোন শরীয়তে দলিল প্রমান নেই ।

(৩) মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিদয়াতঃ যেমন জুমআর নামাযের পর যোহরের নামায আদায় করা, আযানের পর উচ্চস্বরে দরুদ ও সালাম পাঠ করা ।

(৪) নিয়তের উপর বিদআতঃ যেমন এক ব্যক্তি যায়েদ মিয়া সকালে বড় একটা বট গেছের নিচে এ পাশ ও পাশ দৌড়াচ্ছে, ২য় ব্যক্তি করিম মিয়া ঠিক একই কাজ করছে, তৃতীয় ব্যক্তি রফিক মিয়া ও চতূর্থ ব্যক্তি খালেদ মিয়া ঠিক একই কাজ করছে । এখন আপনি ১ম ব্যক্তি যায়েদ মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন যে, ভাই আপনি সকাল বেলায় বট গাছের নিচে এপাশ ওপাশ দৌড়াচ্ছেন কেন ? সে জবাব দিল রাতে আমার একটা জিনিস পড়ে গিয়েছিল তা খোঁজ করছি, তাতে আপনি বললেন বেশ ভাল । ২য় ব্যক্তি জবাব দিল যে আমি একটু ব্যায়াম করছি, আপনি বললেন বেশ ভাল । ৩য় ব্যক্তি জবাব দিল এটা করলে ছওয়াব হয়, তখন আপনি বললেন তুমি তা বিদআত করছ । ৪র্থ ব্যক্তি জবাব দিল এমনটি করলে একটি ভাল সন্তান হবে, আপনি বললেন, তুমি তা শিরক করছ । রাসুল (সাঃ) বলেনঃ
’দয়াময় (আল্লাহ) আরশে সমাসীন’ (সুরাঃ ত্বাহা-৫)
আল্লাহ তায়ালা আরশে কিভাবে সমাসীন তার কোন সীমাবদ্ধতা ও ধরন বর্ণনা করা ছাড়া বিশ্বাস রাখতে হবে । এ সম্পর্কে আমাদের কোন জ্ঞান নেই । অর্থাৎ তাঁর জন্যে যে ভাবে উপযুক্ত সে ভাবে সমাসীন । কিভাবে আছেন এর কোন দৃষ্টান্ত বা ধারনা করা হারাম । এখানে আরোহন অর্থ কোন কিছু উর্ধে অবস্থান করা । তা কিভাবে কেমন করে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না । আমরা শুধু সেই অর্থই গ্রহন করিব যেমন তাবেয়ীনদের (রহ) কর্তৃক তাঁর সমারুঢ় হওয়ার ব্যাখ্যা সহীহ বুখারীতে বর্ণিত এবং তা এই যে, তিনি সারা সৃষ্টির উর্ধে আরশের উপর সমারুঢ় । যেমন তাঁর মহিমা ও মহত্বের উপযুক্ত এবং তা কারো সদৃশ নয় । যেমন আল্লাহ বলেনঃ
’’তাঁর সদৃশ্য কোন কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা (সুরা শুরা১১) ।আল্লাহ সবখানে আছেনঃ তার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর দৃষ্টি, আল্লাহর শক্তি, সাহায্য সব জায়গায় আছে, যারা বলে আল্লাহ ক্বলবে বা সবখানে আছেন, তারা কথায় এবং বিশ্বাষে বিদআত করছেন । আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন, অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও জ্ঞান অনুসারে আমাদের সাথে আছেন । আল্লাহ বলেনঃ ’’তোমরা ভয় করো না, নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি । আমি তোমাদের কথা শুনতেছি ও দেখতেছি (সুরা ত্বাহা ৪৬ ।

(৫)বিদআতের হুকুমঃ দ্বীন ইসলামের মধ্যে প্রতিটি দিআতই হচ্ছে হারাম নিষিদ্ধ এবং গোমরাহী । কারণ রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই নিজেদেরকে দ্বীন ইসলামে নব আবিস্কৃত বিদআতী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখবে । কারণ প্রতিটি নব আবি¯কৃত বস্তুই হচ্ছে বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী ও পথ ভ্রষ্টতা (মুসলিম) ।
এই হাদিস থেকে জানা গেল যে, দ্বীন ইসলামের মধ্যে প্রতিটি নম আবিস্কৃত বস্তুই হচ্ছে বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হচ্ছে পথ ভ্রষ্টতা ও পরিতাজ্য । তবে বিদআতের ধরন ও ধারণ অনুযায়ী বৎবধান ও পার্থক্য আছে । কারণ কোন কোন বিদআত স্পষ্ট কুফুরী । যেমন কবরস্থ ব্যক্তির নিকট নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কবরের চার পার্শে তাওয়াফ করা এবং কবরের উদ্দেশ্যে নযর নিয়াম পেশ করা । কবরস্থ ব্যক্তির নিকটে প্রার্থনা আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়া । এ সমস্ত সবই কুফুরী । কোন কোন বিদআত শিরকের মাধ্যমে যেমন কবরের উপর সৌধ নির্মাণ করা । মৃতদের মাধ্যমে বানিয়ে উছিলা গ্রহণ করা ।
বর্তমান সময়ে কিছু বিদআতের নমুনা উল্লেখ করছি । যেমনঃ
(ক) রাসুল (সাঃ) এর জন্ম তারিখে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে জন্মবার্ষিকী পালন করা ।
(খ) আল্লাহর সুন্তষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদতে বিভিন্ন প্রকার নব নিয়ম ও পদ্ধতি আবিস্কার করা, যেমন শবে বরাতে নির্দিষ্ট করে বার রাকাত নামাজ পড়া এবং সেটাকে শবে বরাতের নামাজ বলা ।
(গ) প্রচলিত মিলাদের নামে রাসুল (সাঃ) এর প্রশংসায় সীমা লংঘন, অতিবঞ্জন ও বাড়াবাড়ি থাকে । যেমনঃ আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে রাসুল (সাঃ) এর কাছে দোয়া করা এবং তাঁর মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া হয় । অথচ রাসুল (সাঃ) তাঁর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করতে নিষেধ করেছেন । রাসুল (সাঃ) বলেনঃ
’’তোমরা আমাকে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না খৃষ্টানরা যেভাবে মরিয়ম পুত্র ঈসা কে প্রশংসার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল । নিশ্চয় আমি একজন বান্দা সুতরাং তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল বলেই আখ্যায়িত করবে (বোখারী ও মুসলিম) ।
মূল কথা হলো, রাসুলের প্রতি প্রকৃত ভালবাসা ও সন্মান দেখানোর উত্তম পন্থা হলো তাঁর আনুগত্য ও নির্দেশের অনুসরন করা এবং তাঁর সুন্নাতের প্রতিষ্ঠার চেষ্ঠা করা । প্রচলিত মিলাদ যা দাড়িয়ে বা বসে পড়ার ব্যাপারে গ্রামে গঞ্জে দলাদলি হচ্ছে । অথচ প্রচলিত মিলাদের কোন ভিত্তি শরীয়তে নেই । এটি রাসুল (সাঃ) মৃত্যুর ৬০০ বছর পর মিশরের বাদশা মুজাফফার আবিস্কার করেন ।
(ঘ) দরগা ও মাজারে ওরশ করা টাকা পয়সা দেয়া, পশু জবাই করা বিদআত ।
(ঙ) নামাযেজ পর সম্মিলিতভাবে যিকির বা দোয়া করা । কারণ নামাজের পর শরীয়ত সম্মত বিধান হলো প্রতিটি নামাযী ব্যক্তি একা একা যে সমস্ত মাসনুন যিকির আযকার আছে তা পাঠ করা এবং দোয়া করা ।
(চ) মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা, পরিশ্রমের বিনিময়ে কুরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করা এ বিশ্বাসে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য উপকার হবে । এ সমস্ত কর্মকান্ডই বিদআত । বিদআত থেকে বাচার একমাত্র পথ হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের (সাঃ) সুন্নাত কে মজবুত ভাবে আকড়ে ধরা । আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
’’নিশ্চয় এটি আমার সরল পথ । অতএব এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না । তা হলো সে সব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে (সুরা আনআম ১৫৩) ।
এ বিষয়ে রাসুল (সাঃ) স্পষ্ঠ করে বলেছেন, যা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি এভাবে বলেনঃ আমাদের উদ্দেশ্যে রাসুল (সাঃ) একটি রেখা টানলেন । তারপর বললেন এটা আল্লাহ পাকের সোজা ও সঠিক পথ । তারপর তার ডানে ও বামে আরো কিছু রেখা টানলেন, তারপর বললেন এগুলো অন্য পথ যাদের প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদেরকে তার দিকে ডাকছে । তারপর কোরআন থেকে পড়লেন, অবশ্যই এটা আমার সরল সঠিক পথ, তোমরা অবশাই এর অনুসরন করবে এবং অন্যান্য রাস্তা সমূহকে অনুসরন করবে না । তা হলে এ রাস্তা সমূহ তোমাদেরকে তার রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে । আল্লাহ তায়ালা এই ভাবে তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন । যাতে তোমরা মুত্তকী হতে পার (আহমদ) । রাসুল (সাঃ) বলেনঃ
যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব মেনে চলে, সে দুনিয়ায় পথ ভ্রষ্ট হবে না, এবং পরকালেও সে হতভাগ হবে না (মিশকাত)। রাসুল (সাঃ) আরো বলেনঃ আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষন তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারন করে থাকবে, ততক্ষন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ (মিশকাত) ।
আসুন যাবতীয় বিদআতী কর্মকান্ড পরিহার করে আল্লাহ কিতাব ও রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ আলোকে সঠিক আমল করে দুনিয়ায় ও আখেরাতের সাফল্য অর্জন করি । আমিন

৫৩

(৫ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

অচেনাকেউ wrote:

আল্লাহ -পাক আমাদেরকে  যাবতীয় বেদআৎ-কুপ্রথা থেকে হেফাজত করুন, আমিন।

আমিন ছুম্মা আমিন!!!

৫৪

(৫ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

কোন বুযুর্গের দরগায় ধুমধামের সাথে মেলা বা ওরস করা,বাতি জ্বালান,মেয়েলোকের সেখানে যাওয়া,চাদর দেওয়া,কবর পাকা করা,কোন বুযুর্গেকে সন্তষ্ট করার জন্য তাঁর কবরকে অতিরিক্ত তা’যীম করা,কবর বা তা’যিয়া চুম্বন করা, কবরের মাটি শরীরে মাখা,তা’যীমের জন্য কবরের চারিদিকে তওয়াফ (ঘোরা) করা,কবর সেজদা করা,কবরের দিকে মুখ করিয়া নামায পড়া,মিঠাই ইত্যাদি দরগাহে মানা বা দেওয়া, তা’যিয়া নিশান ইত্যাদি রাখা, উহার উপর হালুয়া বাতাশা প্রভৃতি রাখা,উহাকে সালাম করা। কোন জিনিসকে অচ্ছ্যুৎ মনে করা। মহররম মাসে পান না খাওয়া, মেহেন্দি, মিসি না লাগান, (নিরামিষ খাওয়া) স্বামীর কাছে না যাওয়া, রঙিন কাপড় না পরা, বিবাহ না করা ।
কেহ মারা গেলে তিজা, চল্লিশা জরুরী মনে করিয়া করা (অর্থাৎ,৩ দিনের দিন বা ৪০ দিনের দিন মোল্লা মুন্সী বা যারা দাফন করিতে আসে,জরুরী মনে করিয়া তাদেরকে খাওয়ান বা বদনামীর ভয়ে ধুমধামের করিয়া যেয়াফত করা।) প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বিধবা বিবাহকে দূষণীয় মনে করা। বিবাহের সময়,খাৎনার সময়, বিসমিল্লাহর সবক্ব দেওয়ার সময়, কেহ মারা গেলে অসাধ্য সত্ত্বেও খান্দানী প্রথা সমূহ বজায় রাখা (সামাজিক প্রথাগুলি ঠিক রাখা)। বিশেষতঃ টাকা করয করিয়া নাচ, রং-তামাশা প্রভূতি করান। হিন্দুদের কোন পূজা বা তেহার হুলি, দেওয়ালী-ইত্যাদিতে যোগদান করা। “আসসালামু আলাইকুম” না বলিয়া তাহার পরিবর্তে আদাব (নমস্কার,প্রণিপাত ইত্যাদি) বলা বা কেবল হাত উঠাইয়া মাথা ঝুঁকানstar । দেওর, ভাশুর, মামাত ভাই,ফুফাত ভাই, চাচাত ভাই, ননদের ভাই স্বামী বা ধর্ম-বাপ প্রভূতির বা অন্য কোন না-মহরম আত্নীয়ের সহিত দেখা দেওয়া। গান-বাদ্যে বা নাচে সন্তষ্ট হইয়া বখশিশ দেওয়া। নিজের বংশের গৌরব করা বা কোন বুযুর্গের খান্দানের হওয়া বা বুযুর্গের কাছে শুধু মুরীদ হওয়াকেই নাজাদের জন্য যথেষ্ট মনে করা। কাহারও বংশের মধ্যে দোষ থাকিলে তাহা বাহির করিয়া নিন্দা করা। কোন জায়েয পেশাকে অপমানজনক মনে করা। (যেমন,মাছ বিক্রি করা, মজুরী করা, জুতা সেলাই করা ইত্যাদি) কাহারও অতিরিক্ত প্রশংসা করা। বিবাহ-শাদীতে বেহুদা খরচ করা এবং অন্যান্য যে-সব বেহুদা কাজ আছে তাহা করা।(যেমন পণ লওয়া,খরচ বাবদ লওয়া,ঘাট-সেলামী,আগবাড়ানী, আন্দর সেলামী,হাত ধোয়ানী,বরের মেহেন্দী লাগান,আতশবাজী ফুটান ইত্যাদি কাজে অনর্থক টাকা অপব্যয়। বরকে বাড়ীর ভিতর আনিয়া তাহার সামনে না-মহরমstar মেয়েলোকের আসা,এইরূপ পরপুরুষের সামনে মুখ দেখান বা অন্যান্য খেশ আত্নীদের আনিয়া বৌ দেখান আরও গর্হিত কর্ম। বেড়ার ফাঁক দিয়া উঁকি দিয়া দুলহাকে দেখা। বয়স্কা শালীদের সামনে আসা এবং হাসি-ঠট্টা করা,চৌথী খোলান, যে ঘরে বর ও কনে শয়ন করে আশেপাশে তাদের কথাবার্তা করা শোনা বা উঁকি দিয়া দেখা এবং যদি কোন কথা জানিতে পারে,তবে অন্যকে জানিয়া দেওয়া। লজ্জায নামায পর্যন্ত ছাড়িয়া দেওয়া। বড় মানুষী দেখাইবার জন্য মহর বেশী নির্ধারণ করা । শোকে-দুঃখে চীৎকার করিয়া ক্রদন করা বা বুক চাপড়াইয়া বিলাপ। মৃত ব্যক্তির ব্যবহ্নত কলসী ভাঙ্গিয়া ফেলা। যে-সব কাপড় মৃতের লাগে লাগিয়াছে সে-সব নাপাক না হইলেও ধোয়া জরুরী মনে করা। যে-গৃহে লোক মারা গিয়াছে সে-গৃহে বৎসর খানেক বা কিছু কম-বেশী দিন না যাওয়া বা কোন খুশীর কাজ ( যেমন,বিবাহ ইত্যাদি) না করা। নির্দিষ্ট তারিখে আবার শোককে তাজা করা। অতিরিক্ত সাজ-সজ্জা করা।
সাদাসিদা লেবাস-পোশাককে ঘৃণা করা। জীব-জন্তুর ছবি লাগান,সোনা রূপারপানদান,সুরমাদান,বাসন,পেয়ালা ব্যবহার করা।
শরীরে দেখা যায় এইরূপ পাতলা কাপড় পরিধান করা। বাজনাদার জেওর পরিধান করা। পুরুষদের সভায় মেয়েদের যাওয়া বিশেষতঃতাযিয়া ওরস বা মেলা দেখিতে যাওয়া। স্ত্রীলোকদের এরূপ পোশাক পরা যাহাতে পুরুষের মত দেখা যায় এবং পুরুষদের এমন পোশাক পরা যাহাতে স্ত্রীলোকের মত দেখা যায়। শরীরে গুদানী দেওয়া বিদেশে যাইবার সময় বা বিদেশ হইতে আসিয়া কোন না-মহরমের সঙ্গে মো’আনাকা করা। সন্তান জীবত থাকার জন্য তাহার নাক কান ছিদ্র্ করা। পুত্র সন্তানকে বালা,ঘুগরা ইত্যাদি জেওর পরান বা রেশমী কাপড় পরান। ছেলেপেলেকে ঘুম পাড়ানোর জন্য আফিং বা নিশাদার জিনিস খাওয়ান। রোগের জন্য বাঘের বা হারাম জন্তুর গোশত খাওয়ান।

এই রকম আরও অনেক বিষয় আছে,কোনটি শিরক ও কুফরমূলক,আর কোনটি বেদআত ও হারাম। চিন্তা করিলে বা কোন দ্বীনদার আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করিলে বেশী জানা যাইবে। নমুনা স্বরূপ এতটুকু বর্ণনা করিলাম।

*টিকা*
১। যে সমস্ত কুসংস্কার হিন্দুদের অনুকরণে মুসলামনদের মধ্যে ঢুকিয়া গিয়াছে এরকম অনেক কুসংস্কার মূর্কতাবশতঃ সমাজে ঢুকিয়াছে-যে দিন ধান বুনে সে দিন খৈ ভাজে না, যে হাঁড়িতে করিয়া তিল বুনে সে হাঁড়ি বাড়ীতে আনিলে মাটিতে রাখে না,কলা গাছ লাগাইবার সময় উপরের দিকে না তাকানো, নারিকেল সুপারি,পানগাছ লাগায় না ইত্যাদি।
২। শরীঅত মত যাহাদের সঙ্গে বিবাহ জায়েয তাহাদিগকে না-মহরম বলে।
ধোয়ানী, চিনি-মুখী প্রভূতি বেহুদা আদায় করাwinking সুন্নত তরীকা ছাড়িয়া এতদ্দেশে যে-সব প্রচলিত আছে তাহা পালন করা। নওশাকে শরীঅতের খেলাফ পোশাক পরান। বরের হাতে কাঙ্গন বাঁধা, মাথায় ছহরা বাঁধা।

পুর্বে এখানে প্রকাশিত

৫৫

(৪ replies, posted in ভিন্ন জগত)

আজ উপল ভাইয়ের জন্মদিন আমার পক্ষ হতে উপল ভাইয়ের জন্মদিনের উপহার।
http://www.chobimohol.com/image-5CB7_4C0B0772.gif

http://www.chobimohol.com/image-4280_4C0B0476.jpg

উপল BD wrote:

আমাদের মত দেশে সফ্টওয়ারগুলোর দাম কমাক তারপর দেখা যাবে,সবাইরে একরকম ভাবলে তো হবে না।

উপল ভাইয়ের কথায় শতভাগ সমর্থন রইল। একেকটি সফটওয়্যার এর যা দাম সেটা দিয়ে ভাল মানের কম্পিউটার কিনা যায়।

হুমায়ুন আহমেদ এর বই এক সময় অনেক পড়েছি,এখন আর সময় করে পড়া হয় না। হাতের নাগালে যেহেুত পাওয়া গেল আবার শুরু করব। ধন্যবাদ উপল ভাই।

৫৮

(৬ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

সাইফ দি বস ৭ wrote:

এত সুন্দর পোস্টের জন্য একটি সম্মাননা।

ধন্যবাদ সাইফ।

৫৯

(৬ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

কষ্ট করে মনোযোগ দিয়ে পড়ায় সবাইকে ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ উপল BD ভাই

১। হযরত ওসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন,তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কোরআন শিক্ষা করেছে এবং অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে। (বুখারী)
২। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন, কোরআনে পারদর্শী ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাগণের সমমর্যাদাভূক্ত। আর যে কষ্ট করে থেমে থেমে কোরআন পাঠ করে তার জন্য দ্বিগুন সওয়াব। ( বুখারী ও মুসলিম)
৩। হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন,নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা এ কোরআনের কারনে এক দলকে উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন করবেন আর অন্য দলকে অধঃপতিত করবেন। অর্থ্যাৎ এক দল কোরআনকে নিজেদের জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়ার কারনে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবে। আর অন্য দল কোরআনকে জীবন বিধান হিসেবে না মানার কারনে হবে লান্ছিত ও অধঃপতিত।(মুসলিম)
৪। হযরত আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি “তোমরা বেশী বেশী করে কোরআন পাঠ কর,কেননা কাল ক্বিয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে”। (মুসলিম)
৫। হযরত মা’আয জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করেছে এবং তদনুযায়ী আ’মল করেছে, ক্বিয়ামতের দিন তার পিতাকে এমন এক টুপি বা মুকুট পরিধান করানো হবে য্র আলো সুর্যের আলোর চেয়ে অধিক উত্তম হবে,যদি তা তোমাদের ঘরে হতো। এখন যে ব্যক্তি এ কোনআন মোতাবেক আ’মল করেছে তার সম্পর্কে তোমাদের কি ধারনা ?।
(মুয়াত্তা,আহমদ ও আবু দাউদ)
৬। হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি কোআন পাঠ করেছে,অতঃপর তা ভালভাবে রক্ষনাবেক্ষন করেছে ,তারপর কোরআন নির্দেশিত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জেনেছে তাকে আল্লাহ সোবাহানু তা’আলা বেহেশতে প্রবেশ করাবেন । আর তার বংশের এমন দশজন লোক –যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ,তাদের জন্য সুপারিশ কবুল করা হবে। ( আহমদ.তিৱমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারেমী)
৭। হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ( কোরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করেছে তার আ’মল নামায় ১০টি নেকী লিখা হবে।

প্রতিটা নর-নারীর অর্থ সহ কোরআন শিক্ষা করা ও সে মতে জীবন জীবিকা সবোর্পরি ইহকালের প্রতিটি বিষয় পরিচালনা করা অত্যন্ত আবশ্যক।

আল্লাহ সুবহানুতা’আলা আমাদের সবাইকে কোরআন অর্থসহ বুঝে পাঠ করার তৌফিক দান করুন আর সে মতে জীবন গড়ার তোফিক দান করুন। আমিন

৬২

(১৩ replies, posted in আত্মপরিচয়)

জিয়া ভাই, রামেক এর বাংলা ফোরামে স্বাগতম।

যাযাবর wrote:

কাক চালাকী দিয়ে পাপ ঢাকা যায়না
আগে নিজের কুকর্ম বন্ধ করা দরকার।

দারুন দারুন বলেছেন ভাই আপনাকে দন্যবাদ।  (y)   (y)   (y)

রিগ্যান wrote:

:তালি:

ধন্যবাদ স্যার

যাযাবর wrote:

খুব কাজের এবং পবিত্র একটা বিষয় শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ

আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।

৬৫

(৩ replies, posted in মোবাইল)

তথ্য মুলক পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ,অনেক কিছু জানতে পারলাম।

সচেতনামুলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ বস ।  (y)    :তালি:   
  :কোলাকুলি:
আবার এটার কি দরকার ছিল ?  big grin

অচেনাকেউ wrote:

হে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বেদআদ হতে হেফাজত করুন। আমিন,
ছুম্মা আমিন ।

কষ্ট করে লিখাগুলো পড়ায় আপনাকে ধন্যবাদ অ,কে ভাই।

কুরআন-হাদিসে বিদআতের ভয়াবহতা দেখে সাধারণের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে,আমল বিনাশী ভয়াবহ বিদআদ মুসলিম সমাজে কীভাবে চালু হলো । সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করে বিদআদ মুসলিম সমাজে চালু হওয়ার প্রধানত ৭টি কাযর্কারণ পাওয়া যায়। যা নিম্নরূপ
১। অজ্ঞতা : ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাই মুসলিম সমাজে বিদআত চালু হওয়ার অন্যতম কারণ। ঈমান-আমল হেফাযত করতে আবশ্যক পরিমাণ ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্যই ফরজ করা হয়েছে। দ্বীনের যথার্থ জ্ঞানের অনুপস্থিতি মুসলিম সমাজকে যেমন কলুষিত,পশ্চাৎপদ করেছে ঠিক তেমনি ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাই
বিদআত প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।
২। ইসলামী চেতনা, ঐতিহ্য ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্য : মুসলিম উম্মার মধ্যে গড়ে উঠা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিনষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্য ইসলাম বিরোধী শক্তির প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষ মদদে বিদআদ সৃষ্টি করে তা সমাজে চালু করা হয়। একতাই শক্তি- একতাই বল। ঐক্যবদ্ধ কোন জাতিকে কোন অবস্থ্বাতেই ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এ কথা
ঐহিহাসিকভাবে সত্য প্রমাণিত। মুসলিম সমাজে ইবাদতরূপে নতুন নতুন বিদআত সৃষ্টি করা হলে মূর্খ ও স্বার্থপর লোকেরা জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ পেয়ে ইসলামের মূল চেতনা হতে সরে আসবে,আর প্রকৃত দ্বীনদার ব্যক্তিরা কখনো বিদআত গ্রহন করবে না। ফলে তাদের উভয়ের মধ্যে শুরু হবে সংঘাত। অগ্রগতি দূরের কথা নিজেদের অস্তিত্ব
টিকিয়ে রাখার জন্যে একে অন্যের দমনে শুরু নিজেরাই উদ্যোগী হবে না বরং ভিন্নমত পোষনকারী গোষ্ঠকে নিমূর্ল করার জন্যে প্রয়োজনে অমুসলিমদের ডেকে আনবে। সৃষ্টি হবে বিভিন্ন দল-উপদলের। ফলে মুসলিম সমাজ কখনো
ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে শান্তির সমাজ কায়েমের সৌভাগ্য লাভ করতে পারবে না। এমনই একটি ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য স্বার্থবাদী,অনভিজ্ঞ কতিপয় নামধারী আলেম,
তথাকথিত পীর-মাশয়েখদের দূর হতে ব্যবহার করে ইসলাম বিরোধী শক্তি। আর এভাবে সমাজে প্রচলিত হতে থাকে অসংখ্য বিদআদী বিদআদ। যার বাস্তব নমুনা আমরা আজ গোটা মুসলিম বিশ্বে প্রত্যেক্ষ করছি।
৩। আলেম সমাজের কাজ-কর্ম : কোন আলেম হয়ত অসতর্কতার দরুন বা কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে শরীয়াত বিরোধী বা সুন্নাতের খেলাফ কোন কাজ করে ফেলেছেন। তিনি নিজেও জানেন যে, তার কাজ সুন্নাতের খেলাফ বা তার কাজের সমথর্নে ইসলামী শরীয়াতের গ্রহনযোগ্য কোন দলিল-প্রমাণ নেই। তিনি হয়তো অনিচ্ছাকৃত
ত্রুটির জন্য তাওবাও করেছেন। কিন্তু তার কাজ দেখে জাহিল বা অতিভক্ত লোকেরা মনে করতে শুরু বিরোধী কোন কাজ করতেই পারেনা। কারণ মস্ত বড় আলেম-বুজুর্গ শরীয়াত বিরোধী কোন করতেই পারেন না। ইসলামী আইনের উৎস সম্পর্কে জাহিল লোকেরা এভাবে এক ব্যক্তির কারণে গোটা সমাজেই বিদআতের প্রচলন করে ফেলে। সেজন্য
বিজ্ঞজনেরা বলেন- حسناڽ اللابرار سيءات للمقر بين
অর্থাৎ- “বুজর্গ ব্যক্তির ভাল কাজে ভক্তের জন্যে মন্দ হয়ে যায়”। বাধ্য হয়ে বুজর্গ ব্যক্তি যা করেছেন তা ছিল বুজর্গের জন্য হালাল। আর বুজর্গকে দেখে বিনা কারণেই যিনি বুজুর্গের অনুসরন করলেন,তিনি হলেন পাপী। সংশ্লিষ্ট বুজুর্গ হয়তো জানেন-ই না যে, তাকে নিয়ে এতো কিছু হয়েছে বা হচ্ছে। এ ধরনের কাজ সাধারণত ঐ বুজর্গের ওফাতের
পরই হয়ে থাকে। আবার এক শ্রেণীর আলেম সাধাণত জনগণের মধ্যে এমন একটি ধারণাও প্রচার করেন যে, বুজুর্গ ব্যক্তির ভুল ধরা বা বলাও পাপ(!) শরীয়াতের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘনের পরও বলা হয়- তিনি মাদারজাত অলি(মাতৃগর্ভ হতেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা), তার ব্যাপারে শরীয়াতের সব হুকুম প্রযোজ্য নহে(!) বিদআতের ব্যাপারে উদারনীতি গ্রহনকারীদের আচারণও বিদআত সম্প্রসারাণে কার্যকার ভূমিকা পালন করে। সর্বমহলে নিজ অবস্থানকে গ্রহনযোগ্য করার মানসিকতা উদারনীতি গ্রহনে প্রাণ সঞ্চার করে। আবার ২/১ বার বিদআতী কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ায় এখন ঐ কাজেকে কীভাবেই বা বিদআত বলা যায়? উদারপন্থী এসব সম্মাণিত উলামা হযরত যদি তাদের যবান মোবারক দিআতের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতেন,তবে কুসংস্কারের কড়াল গ্রাস হতে মুসলিম উম্মাহ রক্ষা পেয়ে প্রভূত উন্নতি সাধনে ব্রত হতো।
৪। নেতৃস্থানীয় জাহিল লোকদের কর্মতৎপরতা : দ্বীন সম্পর্কে জাহিল লোকেরা হয়ত কোন কাজ করতে আরম্ভ করল।
আলেম সমাজ তার প্রতিবাদ করলেন না,বাধাও দিলেন না। এ কাজ শরীয়াত বিরোধী,তোমরা মুসলামান হিসাবে এ কাজ কিছুতেই করতে পারো না ইত্যাদি কিছুই বললেন না। ফলে সাধাণত লোকদের মধ্যে এমন ধারণা বদ্ধমূল হতে থাকে যে, নিশ্চয়ই এ কাজ অবৈধ্য নয়। যদি অবৈধ হতো তবে উলামায়ে কেরাম বাধা দিতেন অমুক মজলিসে এমনি কাজ হয়েছে। ওখানে অমুক বড় বড় আলেম ছিলেন। কেই বাধা দেননি। অতএব এ কাজ শরীয়াত সম্মত। অবস্থা শেষ পযর্ন্ত এমন পর্যায়ে গিয়ে পোঁছে যে, একদিকে জনরোষের বয় অপর দিকে নিজেও দু’চার বার করে ফেলেছেন- এখন বাধা দিবেন কীভাবে? এমন কিছু সংখ্যক আলেম তাদের পক্ষে দলিল-যুক্তি আবিষ্কার করতে থাকেন। তখন আবার কিছু সংখ্যক আলেম বাধা দিয়েও আর সমাজের জোয়ার ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে যান। বিদআতীগণ নিজেদের পক্ষে কিছু কিছু আলেমও পেয়ে যাওয়ায় তারা শরীয়াত বিরোধী কাজটি ত্যাগ করার প্রয়োজনও আর বোধ করেন না। তাদের মনে এমন ধারণা বদ্ধমূল করা হয় যে, আলেমের কথায় কাজ করে যদি কোন গুনাহ হয়, তবে তার দায় ঐ আলেমেই বহন করবেন- যিনি তাকে বাতলিয়েছেন। সুতরাং তার কোন অস্থিরতার কারণই নেই। এভাবে সমাজ বিদআদ চালু হয়ে যায়।
৫।দীর্ঘদিন সুন্নাত বর্জনের কারণে: ইসলামী শরীয়াত অনুমোদিত, কুরআন-সুন্নাত সমর্থিত বা নির্দেশিত কোনো কাজ দীর্ঘদিন সমাজের দ্বিনদার পরহেজগার বুজুর্গ, আলেম উলামা,বুজুর্গ ব্যাক্তিগণ আমল করনেনি,বা বহুকাল ধরে তার প্রচারো করেননি, লোকেদর সামনে বহুকাল বলা হয়নি। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষের মনে ধারণা হয় যে,এ কাজ নিশ্চয়ই ভাল নয়। যদি ভালোই হতো তবে অবশ্যই তা পরহেজগার, দ্বিনদার, বুজুর্গানে দ্বীন,উলামায়ে কেরাম করতেন।ভাল কাজ হলে উলামা-মাশায়েখগণকি এতদিন বলতেন না ?এভাবে একটি শরীয়াত সম্মত কাজকে শেষ পর্যন্ত লোকদের শরীয়াত বীরোধী মনে করতে থাকে।সুন্নাতকেই হারাম,বিদাআত ইত্যাদি আখ্যায়িত করে ফেলে।আর করোণীয় কাজকে বর্জনীয় মনে করাও মস্ত বরো বিদআত। যেমন- ইসলামী রাজনীতি,সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রম দীঘদিন উলামায়ে কেরামের মাঝে অনুপস্থিত থাকায় সাধারণের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে ইসলামে রাজনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি করা হারাম (নাউযুবিল্লাহ)
৬। মনস্তাত্বিক কারণঃ কম কষ্টে বেশি লাভ পাওয়া মানুষের একটি সৃষ্টিগত অভ্যাস। মুসলমান স্বাভাবতই চিরন্তণ শান্তি ও সুখের ঠিকানা বেহেশত লাভ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।আর এ কারনেই অনেক কষ্ট সহ্য করে পরম সুখের আশায় এবাদত-বন্দেগী করে ধাকেন। তবে সহজ সাধ্য কাজের মাধ্যমে জান্নাত পাওয়া গেলে কষ্টসাধ্য কাজ করতে যাবে কেন?এমনি পরিস্থিতিতে বিদআতিগণ তাদের নব আবিস্কৃতি কাজ গুলোকে আকষর্ণীয় ভাবে বাজার জাত করার জন্য সামান্য কাজের জন্যই জান্নাতে বরাদ্দ দিয়ে দেয়।‌‌‌‌‌‌ বিদআত বিতরনের সময় কিছু ভ্রান্ত ভুয়া দলিল,চ্যালেঞ্জ,অনেকে বিদআত বলে বিভ্রান্ত করতে পারে ইত্যাদি বলে আগামাই ভক্তদের সতর্ক করা হয়।দ্বীন সম্মর্কে অজ্ঞ লোকেরা নিজেদের জন্য নিরাপদ ও সহজএসব কাজ গুলোকে লুফে নেয়। দুশমন শয়তান তো বনি আদমকে বিভ্রান্ত করতে তো সদা তৎপর রয়েছেই।শয়তানে প্রলোভন ও পরম শান্তি ভোগের প্রবল বাসনায় কতক লোক সহজ কাজ করে নিশচতি জান্নাতে যাচ্ছে ভেবে জান্নাতে যাওয়ার সপ্নে বিভোর হয়ে পরে,চোখের পর্দয় শুধু হুর গোলমাল ভাসতে থাকে,প্রাহিত ঝর্ণার কলতান,পাখপাখালির কুহুতান,ফুলে-ফলে শোভিত জান্নাতের অপরূপ শোভা মনকে করে তুলে উৎফুল্ল। এসব কাজ সত্যিকারভাবই নাজাত,জান্নাত দিতে পারবে কিনা? শরীয়াত অনুমোদিত কিনা? তা যাচাই করার ইলম অনেকের কাছে নেই। আবার যাচাই করতে গিয়ে পরম সুখের জান্নাত পাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গের আশংকা তো আছেই। সুতরাং যাচাই-বাছাই প্রয়োজন নেই। একীনে দরিয়া পার। এভাবেই মূলত বিদআত মুসলিম সমাজে বিস্তৃত লাভ করে।
৭। অন্ধভক্তি ও আনুগত্য : ইসলাম কখনো অন্ধ আনুগত্য সমর্থন করে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের দাবি করার পাশাপাশি দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। প্রশ্নবাণে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জর্জরিত করে ঈমান আনার ঘোষনা দিয়েছেন হযরত যিমাম ইবনে ছা’লাবা (বুখারী)। তবে ঈমান আনার পর কেবল কুরআন-সুন্নাহরই অন্ধভুক্তি ও আনুগত্য করা যায়। বজুর্গ,পীর-মাশায়েখ,অলি-আবদাল অন্ধ আনুগত্য পাওয়ার হকদার নন। সত্যিকারের কোন বজুর্গ ব্যক্তি এমনটি দাবিও করেন নি। তাদের আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ। কুরআন-সুন্নাহর অনুগামী আদেশ-উপদেশই পালনীয়। কিন্তু কিছু অজ্ঞ লোক ইসলামের এই শাশ্বত বিধানের অনুগত হওয়ার পরিবর্তে অন্ধ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। আমলের ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণের পরিবর্তে বজুর্গীর দোহাই দেন,অমুক বজুর্গ যদি ‘বিদআত’করতে পারেন- তবে আমিও করব,অমুক পীর যদি ‘বিদআত’ করে জাহান্নামী হন তবে আমিও জান্নাত চাই না ইত্যাদি চরম ধৃষ্টতাপূর্ন কথা বলে ফেলেন। যা মুসলিম সমাজে ‘বিদআতে’র প্রসারে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
বিদআতী কাজের ভিত্তি
এ কথা আমাদের জানা উচিত যে, বিদআতী কাজের ভিত্তি কি? বিভিন্ন বিদআতী কাজ সমাজে চারু হওয়ার পেছনে সাধারণ জনসাধারণ কেবল অনুসরণের দোষেরই দোষী। বিদআত সমাজে জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তেমন অবদান নেই। কিছু নামধারী আলেম, কতিপয় ভন্ড পীর সমাজে বিদআতের প্রবর্তন করে। এসব বিদআতগুলোকে
সমাজে চালু করার জন্য প্রথমত কোন কোন আলেমের অসাধারণ ও বিস্ময়কর বজুর্গ ও ফজিলত তুলে ধরা হয়। কোন না কোন ভাবে তার বংশ নিয়ে টেকানো হয় রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে। দেয়া হয় ‌‌‌‌‌’আওলাদে রাসূলের (!) খেতাব। আবার কেউ নিয়ে বংশ টেকান মোল্লা আলী ক্বারী (র) বা অন্য কোন প্রখ্যাত ইমামের সাথে। অতঃপর ঐ বুজুর্গের বুজুর্গীর দোহাই দিয়ে বিদআত বাজারজাতকরণে প্রয়াস চালায়। বলা হয় অমুক বড় বুজর্গ এ কাজ করেছেন,তিনি অনেক বড় আলিম,অলিয়ে কামেল ছিলেন সুতরাং এ কাজ জায়েজ হওয়ার এটাই বড় আলিম,অলিয়ে কামেল ছিলেন সুতরাং এ কাজ জায়েজ হওয়ার এটাই বড় দলিল (!)। কথিত বুজর্গের বাহারী টাইটলের আবর্তে অবুঝ শিশুর ন্যায় কিছু লোক ব্যাকুল হযে যায়।
হে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বেদআদ হতে হেফাজত করুন। আমিন

পুর্বে এখানে প্রকাশিত

আজকাল আমরা আমাদের প্রায় কাজ কম্পিউটার তথা অনলাইনে করতে অভ্যাস্ত হয়ে উঠতেছি। দেখা যায় কেনাবেচা থেকে শুরু করে অনেক ধর্মীয় কাজ আমরা অনলাইনে করছি ইদানিং। আমরা অনলাইনে কোরান তেলাওয়াত করে থাকি। কিন্তু তাতে কোরান শরীফের বাহ্যিক যে সৌর্ন্দয্য তা দেখাতে পারি না। আজকে আপনাদেরকে এমন একটি সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো যেটা দেখতে হুবহু পবিত্র কোরান শরীফের মত। এই সাইটির নাম হলো কোরান ফ্লাশ

http://i49.tinypic.com/n6yxpw.jpg

এই সাইটের দুইটি ভার্সন আছে। একটি নতুন ভাসর্ন এবং একটি পুরানো ভার্সন। আমার কাছে নতুন ভার্সনটি ভাল লেগেছে পুরানো ভার্সন থেকে।

নতুন ভার্সন দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
পুরাতন ভাসর্ন দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আরো দারুন বিষয় হলো আপনি আরবী এবং ইংরেজি ভাষা সিলেক্ট করে এটি দেখতে পারবেন। আরো পুরানো ভার্সনে প্রতিটি সুরা বা পারা আলাদা আলাদা ভাবে সিলেক্ট করে নিতে পারবেন। কিন্তু নতুন ভার্সনে পেইজ নাম্বার ছাড়া সুরা বা পারা আলাদা আলাদা ভাবে সিলেক্ট করার কোন অপশন পেলাম না। আরো মজার বিষয় হচ্ছে আপনি কোরান শরীফটি কোন স্টাইলে দেখতে চান তাও নতুন ভার্সনে সিলেক্ট করা যায়। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে এই কামনা থাকলো।

পুর্বে এখানে প্রকাশিত

শেয়ার করায় ধন্যবাদ

দারুন শেয়ার ধন্যবাদ। :whistling:

৭৩

(৪ replies, posted in রসের হাঁড়ি)

:whistling:  :whistling:  :whistling:
চালিয়ে যান ধন্যবাদ।

৭৪

(২ replies, posted in মোবাইল)

ভাইজান এটা যেহেতু বাংলা ফোরাম পোষ্টগুলা বাংলা হওয়াই উচিৎ না হলে যে আমার মত নাদানেরা কিছুই বুঝতে পারবে না। :rotfl:

৭৫

(৬ replies, posted in আত্মপরিচয়)

রামেক এর বাংলা ফোরামে আপনাকে স্বাগতম।