সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বরাকাতুহু। সহীহ শুদ্ধ করে কোরআন পাঠ বা শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলমান ভাইবোনের জন্য অতিশয় গুরুত্ব পুর্ণ। প্রিয় ভাই-বোনেরা আমরা অনেকেই বিভিন্ন প্রতিকুলতার জন্য শৈশবে কোরআন শিক্ষা করতে পারিনি, যা আজ আমাদের আফসোসের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বা শৈশবে কোরআন শিক্ষা করে থাকলেও তা সহিহ শুদ্ধরুপে শিক্ষা করা হয়নি। আজ সেই সব ভাই-বোনের জন্য নিয়ে এলাম সহীহ-সহজভাবে কোরআন শিক্ষার এক অমুল্য সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি পাবেন যেমন বাংলায় বর্ণনা সহ অডিও উচ্চারণ যা আপনাকে সহীহরুপে কোরআন শিক্ষা অনেকাংশে সহজ করে দিবে। অনুশীলনের জন্য আপনি যে শব্দটিতে ক্লিক করবেন ঠিক সেই শব্দটিরই অডিও শুনতে পারবেন। কোরআন অনুশীলন করার জন্য এর চেয়ে ভাল কোন সফটওয়্যার হবে কিনা তা আমার সন্দেহ আছে। যাহোক আর বক বক না করে কয়েকটি স্ক্রীণশট দেখে নেই।
০১।
http://i.imgur.com/cZDBS.jpg

০২।
http://i.imgur.com/Mka7f.jpg

০৩।
http://i.imgur.com/zCuU3.jpg

০৪।
http://i.imgur.com/VFZj1.jpg

০৫।
http://i.imgur.com/rbLE2.jpg

সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে এক্সট্রা্ক্ট বা আনজিপ করে নিন। তারপর নীচের ছবিতে দেখানো ফাইলটিতে ক্লিক করলেই সফটওয়্যাররটি রান হবে।

http://i.imgur.com/Cnkch.jpg

আগ্রহী ভাই-বোনেরা ডাউনলোড লিন্ক পেতে নীচের এখানে ক্লিক করুন।

(০ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

কুরবানীর ফজিলত
(ক) কুরবানীর পশুর শরীরে যত পশম থাকে, প্রত্যেকটা পশমের পরিবর্তে এক একটি নেকী পাওয়া যায়।
(খ) কুরবানীর দিনে কুরবানীই হলো সবচেয়ে বড় এবাদাত।
(গ)আয়শা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কোন আমল আল্লাহর কাছে নাই। ঐ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জবেহকৃত পশুর লোম, শিং, ক্ষুর,পশম সমূহ ইত্যাদি নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। কুরবানীর রক্ত জমিনে পতিত হবার পুর্বেই তা আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। অতএব, তোমরা কুরবানির দ্বারা নিজেদের নফস কে পবিত্র কর।
مَا عَمِلَ ابْنُ آدَمَ يَوْمَ النَّحْرِ عَمَلًا أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ هِرَاقَةِ دَمٍ وَإِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَظْلَافِهَا وَأَشْعَارِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا
ইবনে মাজাহ ২/১০৪৫, হাদিস ৩১২৬।

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের বিশেষ ফজিলত
জিলহজ্জ মাসের দশম তারিখে ঈদুল আদ্বহা অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে বিত্তবানেরা দরিদ্রদের পাশে এসে দাঁড়ায়, অসহায় দুস্থ লোকেরা এই দিনে বিত্তবানদের থেকে পায় বিশেষ সহনুভবতা, সব মিলে একে অপরের সুখ-দুখ, আনন্দ-ব্যদনা বুঝতে সক্ষম হয়, যার ফলে আল্লাহর কাছে এই মাসের ফজিলত অনেক বেশি। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসুল ইরশাদ করেছেন,
مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْهَا فِي هَذِهِ قَالُوا وَلَا الْجِهَادُ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ
জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল অন্য যে কোন দিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, জিহাদ ও নয় কি ? রাসুলুল্লাহ  বললেন জিহাদ ও নয়, তবে ঐ ব্যক্তি যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে আর ফিরে আসে নি। অর্থাৎ শহিদ হয়ে গেছে।
বোখারী, ১/৩২৯, হাদিস ৯২৬। ফতহুলবারী লিইবনে হাজার, ৩/৩৯০, হাদিস ৯১৬।

কাদের উপর কুরবানী দেয়া ওয়াজিব
১। ১০ই যিলহজ্জের ফজর থেকে ১২ই জিলহজ্জের সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থ্যাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে যার নিকট সদকায়ে ফিতর/ফিতরা
ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ অর্থ/সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী কতরা ওয়াজিব।
২। মুসাফিরের উপর (সফর রত অবস্থায় থাকলে) কুরবানী করা ওয়াজিব হয় না।
৩। কুরবানী ওয়াজিব না হলেও নফল কুরবানী করলে কুরবানীর চওয়াব পাওয়া যাবে।
৪। কুরবানী শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয়-সন্তানাদি, মাতা-পিতা ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয় না, তবে তাদের পক্ষ
থেকে করলে তা নফল কুরবানী হবে।
৫। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় সে কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করলে সেই পশু করুবানী করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়।
৬। কোন মকসুদের (উদ্দেশ্য) জন্য কুরবানীর মান্নত করলে সেই মকসুদ পূর্ণ হলে তার উপর (গরীব বা ধনী) কুরবানী করা
ওয়াজিব হয়ে যায়।
৭। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে কুরবানীর দিনগুলোতে কুরবানী না করলে কুরবানী দিনগুলো চলে যাওয়ার পর একটা বকরীর
(ছাগল) মুল্য সদকা করা ওয়াজিব।
কোন কোন পশু দ্বার কুরবানী করা জায়েজ
বকরী, পাঠা, খাসী, ভেড়া, দুম্বা, গাভী, ষাড়, বলদ, মহিষ, উট, এই কয় প্রকার গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ।

কুরবানীর পশুর বয়স প্রসঙ্গ
(ক) বকরী, পাঠা, খাসী, ভেড়া, ভেড়ী, দুম্বা কম পক্ষে পূর্ণ এক বৎসর বয়সের হতে হবে। বয়স যদি কিছু কমও হয় কিন্ত এরুপ মোটা তাজা যে, এক বৎসর বয়সীদের মধ্যে ছেড়ে দিলেও তাদের চেয়ে ছোট মনে হয় না, তাহলে তার দ্বারা কুরবানী জায়েজ আছে তবে অন্তত ছয় মাস বয়স হতেই হবে। তবে বকরী কোন অবস্থা এক বৎসরের কম হলে চলবে না।
(খ) গরু ও মহিষের বয়স কম পক্ষে দুই বৎসর হতে হবে।
(গ) উট এর বয়স কম পক্ষে পাঁচ বৎসর হতে হবে।

কুরবানীর পশুর স্বাস্থ্যগত প্রসঙ্গ

(ক) কুরবানীর পশু ভাল এবং হৃষ্টপুষ্ট হওয়াই উত্তম।
(খ) যে প্রাণী লেংড়া অর্থ্যাৎ যা তিন পায়ে চলতে পারে-এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা রাখতে পারলেও ভর করতে পারে না এরুপ পশু দ্বারা কুরবানী দুরস্ত হবে না।
(গ) যে পশুর একটিও দাঁত নেই তার দ্বারা কুরবানী দুরস্ত নয়।
(ঘ) যে পশুর কান জন্ম হতে নেই তা দ্বারা কুরবানী দুরস্ত নয়, তবে কান ছোট হলে অসুবিধা আছে।
(ঙ) যে পশুর শিং মুল থেকে ভেঙ্গে যায় তা দ্বারা কুরবানী দুরস্ত নয়। তবে শিং উঠেইনি বা কিছু পরিমাণ ভেঙ্গে গিয়েছে এরপু পশু দ্বারা কুরবানী জায়েজ আছে।
(চ) যে পশুর উভয় চোখ অন্ধ বা একটি চোখের দৃষ্টি শক্তি এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশী নষ্ট তা দ্বারা কুরবানী জায়েজ নেই।
(ছ) যে পশুর একটি কান বা লেজের এক তৃতীয়াংশ কিংবা তার চেয়ে বেশী কেটে গিয়েছে তা দ্বারা কুরবানী দুরস্ত নয়।
(জ) অতিশয় কৃশকায় ও দুর্বল পশু যার এতটুকু শক্তি নেই যে, জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারে তা দ্বারা কুরবানী দুরস্ত নয়।
(ঝ) ভাল পশু ক্রয় করার পর এমন দোষ ত্রুটি দেখা দিয়েছে যার কারণে কুরবানী দুরস্ত হয় না-এরপু হলে সেটিই কুরবানী দেয়া দুরস্ত হবে।
(ঞ) গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েজ। যদি পেটের বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সে বাচ্চাও জবাই করে দিতে হবে। তবে প্রসবের নিকটবর্তী হলে সেরুপ পশু কুরবানী দেয়া মাকরুহ।
(ট) বন্ধ্যা পশু কুরবানী করা জায়েজ আছে।
শরীকের মাসায়েল
০১। বকরী, পাঠা, খাসী, ভেড়া, ভেড়ী, দুম্বায় এক জনের বেশী শরীক হয়ে কুরবানী করা যায় না। এগুলো একটা একজনের নামেই কুরবানী হতে হবে।
০২। একটা গরু, মহিষ, উটে সর্ব্বোচ্চ সাতজন শরীক হতে পারে, তবে সাতজনই হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই, সেক্ষেত্রে সাত/ছয়/পাঁচজন কুরবানী দিতে পারে। তবে কারো অংশ সাত ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম হলে তা হবে না।
০৩। মৃত্যের নামেও কুরবানী হতে পারে।
০৪। রাসুলে কারীম (সাঃ), তাঁর বিবিগণ ও বুযুর্গদের নামেও কুরবানী হতে পারে।
০৫। যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে না বরং মাংস খাওয়া বা লোক দেখানো ইত্যাদি নিয়তে কুরবানী করে, তাকে অংশীদার বানিয়ে কোন পশু কুরবানী করলে সকল অংশীদারের কুরবানী-ই নষ্ট হয়ে যায়। তাই শরীক নির্বাচনের সময় খুবই সতর্ক থাকা দরকার।
০৬। কুরবানীর পশু ক্রয় করার সময় শরীক রাখার এরাদা ছিল না, পরে শরীক গ্রহণ করতে চাইলে ক্রেতা গরীব হলে তা পারবে না অন্যথায় পারবে।
০৭। যার সমস্ত উপার্জন বা অধিকাংশ উপার্জন হারাম, তাকে শরীক করে কুরবানী করলে অন্যান্য সকল শরীকের কুরবানী অশুদ্ধ হয়ে যাবে।
সুত্র

সুপ্রিয় ফোরামিক বন্ধুগণ আসসলামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সামনে রমজান সমাগত। আশা করি আমরা সবাই রমযানে রোজা রাখার জন্য এখন হতেই প্রস্ততি শুরু করেছি। সঠিক সময়ে নামাজ আদায় ও সেহরী, ইফতার করা একান্ত কর্তব্য। তাই আপনাদের সামনে নামজ ও রোযার স্থায়ী সময়সুচী তুলে ধরলাম। আশাকরি আপনাদের কাজে লাগবে।

http://i.imgur.com/3IdKI.jpg
http://i.imgur.com/tq7i9.jpg
http://i.imgur.com/AarAT.jpg
http://i.imgur.com/6eKQr.jpg
http://i.imgur.com/aUYSp.jpg
http://i.imgur.com/vA5H1.jpg
http://i.imgur.com/uG5M7.jpg
http://i.imgur.com/XOF0D.jpg
http://i.imgur.com/KdiIQ.jpg
http://i.imgur.com/vYeYA.jpg
http://i.imgur.com/IVqua.jpg
http://i.imgur.com/6GKQh.jpg

আগ্রহীগণ পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করার জন্য ।একান ক্লিক করুন

পাইরেসির কালিমামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে লিনাক্স ও ওপেন সোর্স ভিত্তিক সফটওয়্যারকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (এফওএসএস বাংলাদেশ) এর আয়োজনে ও সিলেটের মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির সহযোগীতায় লিনাক্স ও উন্মুক্ত সোর্স ভিত্তিক সফটওয়্যার ও সেবাসমূহ নিয়ে জনসচেতনতামূলক আয়োজন ''পেঙ্গুইন মেলা - ২০১১'' অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ই জুলাই ২০১১ইং, শুক্রবারে।

'পেঙ্গুইন মেলা - ২০১১'র সিলেট বিভাগীয় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে সিলেটের জিন্দাবাজারে (আলহামরা) অবস্থিত মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির সম্মেলন কক্ষে। উক্ত অনুষ্ঠানে পাইরেসি, ওপেনসোর্স ও লিনাক্স বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরো রয়েছে আগত দর্শকদের সাথে মতামত বিনিময় ও আলোচনার সুযোগ। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থল থেকে ওপেনসোর্সড থ্রি-ডি গেমসহ লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া'র সংকলিত ডিভিডি সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ইউএসবি মেমরি কার্ডেও লিনাক্সের সিডির সফটকপি সংগ্রহ করা যাবে। ২০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে অনুষ্ঠানের দিন উক্ত স্থানেই রেজিষ্ট্রেশন করার মাধ্যমে আগ্রহী যে কেউই এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
====

অনুষ্ঠানের শিরোনামঃ "পেঙ্গুইন মেলা - ২০১১" সিলেট বিভাগ

আয়োজকঃ ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ

সহযোগীতায়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয়, জিন্দাবাজার, সিলেট

তারিখ ও সময়ঃ ১৫ই জুলাই ২০১১, রোজ শুক্রবার। বিকাল ৩:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬:৩০ মিনিট

আয়োজন স্থলঃ মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষ, জিন্দাবাজার, সিলেট

অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সূচীঃ

লিনাক্স পরিচিতি, ইনস্টলেশন ও ব্যবহার
   (বিকাল ৩:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৫:০০ মিনিট)
    => লিনাক্স পরিচিতি                                            -- ৩০ মিনিট               
    => লিনাক্স মিন্ট পরিচিতি                                      -- ৩০ মিনিট
    => লিনাক্স মিন্ট ইন্সটল ও কনফিগার করা                -- ৩০ মিনিট
   
চা-বিরতি                                                              -- ৩০ মিনিট

সমস্যা সমাধান
   (বিকাল ৫:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬:৩০ মিনিট)
    => দর্শকের অংশগ্রহনে আলোচনা                            -- ৩০ মিনিট
    => প্রশ্নোত্তর ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান                     -- ৩০ মিনিট

===

দেখা হবে সিলেটে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। প্রিয় ভাইবোনগণ, আমরা অনেকেই “আসহাবে রাসুলের জীবন কথা” বইটির কথা জানি। এবং অনেকে পড়েছিও। বইটি মোট চার খন্ডে (৪২ মেগা) অনেকেই ব্যান্ডউইথ সীমাবদ্ধতার কারণে ডাউনলোড করতে পারেন না বিধায় শুধু মাত্র চার খলিফা- হযরত আবু বকর সিদ্দিক, হযরত উমর, হযরত উসমান ও হযরত আলী (রা) এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত নিয়ে খোলাফায়ে রাশেদীন নামে আমি এ সংকলণটি প্রকাশ করছি। আশাকরি আপনাদের কাজে লাগবে।
মুল রচয়িতাঃ মুহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ,আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

আগ্রহী বন্ধুগণ ডাউনলোডের জন্য নীচের বটনে ক্লিক করুন।

http://k002.kiwi6.com/hotlink/coh1dzb5a0/Char_Khalifa.jpg

সবাইকে ধন্যবাদ।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আসসালামু আলাইকুম, আজ আপনাদের সামনে যে ই-বুকটি নিয়ে এলাম তার রচয়িতা শাইখ আব্দুর রায্‌যাক ইবন আব্দুল মুহসিন আল-বদর,অনুবাদ করেছেন : আবদুর রাকীব (মাদানী) ও সম্পাদনায় ছিলেন : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। বইটিতে আয়াতুল কুরসি’র ফজিলত ও তাওহীদের প্রমাণ সমূহ বিবৃত হয়েছে। আশাকরি বইটি আপনাদের কাজে লাগবে।

বইটি সম্পর্কে ধারনা পাওয়ার জন্য বইটির ভূমিকাটি আপনাদের জন্য তুলে দিলাম।

সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ সুমহান এবং একচ্ছত্র উচ্চতার অধিকারী আল্লাহর জন্য যিনি, মহত্ব, মহিমা এবং অহংকারের মালিক। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। পূর্ণাঙ্গ বিশেষণসমূহে তিনি একক। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং রাসূল। তাঁর উপর এবং তাঁর সহচরবৃন্দ ও পরিবার পরিজনের প্রতি বর্ষিত হউক দরূদ-রহমত এবং শান্তি।

    অতপর: কুরআন মজীদের সর্বমহান আয়াত ‘আয়াতুল কুরসী’ এবং তাতে উল্লেখিত মহৎ, স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল দলীল প্রমাণসমূহের সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ও আলোচনা যা, মহত্ত্ব, বড়ত্ব এবং পূর্ণতার ব্যাপারে মহান আল্লাহর একত্বের প্রমাণ বহন করে এবং বর্ণনা করে যে, তিনি আল্লাহ পবিত্র। তিনি ছাড়া কোন প্রতিপালক নেই। নেই কোন সত্য উপাস্য। তাঁর নাম বরকত পূর্ণ। মহান তাঁর মহিমা। তিনি ছাড়া নেই কোন মা‘বুদ।

    আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী, তন্দ্রা ও ঘুম তাঁকে স্পর্শ করে না, আকাশসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তারই; এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনের ও পেছনের সবকিছুর ব্যাপারে তিনি অবগত। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি আছে এবং এসবের সংরক্ষণে তাঁকে বিব্রত হতে হয় না এবং তিনি সমুন্নত মহীয়ান।) [আল বাকারাহ/২৫৫]

ডাউনলোড করার জন্য নীচের ডাউনলোড বটনে ক্লিক করুন।

http://i.imgur.com/g04HO.jpg

রিয়াদুস সালেহীন একটি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ। গ্রন্থটির সংকলক প্রখ্যাত হাদীসবেত্তা ইমাম মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া আন-নববী (রহঃ) হিজরী সপ্তম শতকের একজন খ্যাতনামা মুহাদ্দিস। ইমাম নববীর আসল নাম ইয়াহইয়া ডাকনাম আবু যাকারিয়া এবং উপাধী মুহিউদ্দিন। তিনি ৬৩১ হিজরীর ৫ই মহররম সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অদুরবর্তী নাবওয়া নামক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অল্প বয়সেই গ্রামের মাদ্রাসা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে এরপর উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য দামেস্ক চলে আসেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি দামেস্কের রাওয়াহা নামক মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং এখানে ২ বছর অধ্যয়ন করেন।

http://i.imgur.com/e1rph.jpg

ইমাম নববী ছিলেন দুরদর্শী আলেম ও মননশীল লেখক। ৪৫ বছর বছরের সীমিত জীবন কালে তিনি অনেক মুল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থটি অন্যতম।
রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থটিতে হুজুরে পাক (সাঃ) এর ১৯০৩টি হাদিসের একটি বিশাল ও অতুলনীয় সংকলন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দিক-নির্দেশিকা হিসেবেই ইমাম নববী এই হাদীসগুলো নির্বাচন করেছেন। এতে মানুষের নৌতিক জীবন হতে শুরু করে ব্যবহারিক জীবনের সমস্ত উল্লেখযোগ্য দিকগুলো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিক থেকে সংকলনটি একজন মুসলমানকে যথার্থ ইসলামী জীবন গড়ার ব্যপারে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে। গ্রন্থটির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এই যে, এর অনুচ্ছেদগুলো বিভক্ত ও বিন্যস্ত করা হয়েছে মানব জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকে। অনুচ্ছেদগুলোর এই বিন্যাসে ইমাম নববী মানব চরিত্রের নানা বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রেখেছেন এবং তার সমস্যাবলীকে খুব সুন্দর ভাবে চিহ্ণিত করেছেন।
ই-বুকটি বাংলা অনুবাদ করেছেন হাফেয মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান।
পরিশেষে মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে আমার ফরিয়াদ বইটি পড়ে সেমতে আ’মল করার মাধ্যমে আমরা যেন মু’মিনদের কাতারে যেতে সেই তৌফিক আমাদের দান করেন।
আর তিনি যেন আমার মত নগন্য ব্যক্তির শেয়ারকরার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস কবুল করেন এবং একে আমার পরকালের নাজাতের উসিলা বানায়ে দেন। আমিন!

http://i.imgur.com/V6wk3.jpg

সুপ্রিয় ভিজিটর বন্ধুগণ ই-বুক শেয়ারের ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সাথে যে বইটি শেয়ার করলাম তার নামঃ আর রাহীকুল মাখতূম বইটির মুল রচয়িতাঃ সফীউররহমান আল-মুবারকপূরী, অনুবাদকঃ খাদিজা আখতার রেজায়ী।

http://i.imgur.com/v8q9H.jpg

আর রাহীকুল মাখতূমঃ একটি অনবদ্য সীরাত-গ্রন্থ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত পর্যালোচনায়, সীরাতের ঘটনামালার সুসংহত ও মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সত্যিই এক নজিরবিহীন রচনা। আল কুরআনুল কারীম, হাদীসে নববী ও বিশুদ্ধ আছার এবং ঐতিহাসিক বর্ণনার নির্যাস বের করে প্রাজ্ঞ লেখক তাঁর এ বইটি সুবিন্যস্ত করেছেন। সীরাত বিষয়ে লিখিত প্রাচীন গ্রন্থাদি থেকেও তিনি বহু মণিমাণিক্য উপস্থাপন করেছেন যা ত্রুটিরহিত সংক্ষিপ্ততায়, সুখপাঠ্য দীর্ঘ আলোচনায়, অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন।
সে হিসেবে, বইটি, বন্ধ্যাত্বের এই আধুনিক যুগে পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়েছে। বইটি নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড রক্ষা করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাত উপস্থাপন করেছে, যা পাঠকের সামনে উজ্জ্বল করে দেয় সীরাতুল মুস্তাকীমের নিশানাসমগ্র। দেখিয়ে দেয় সীরাতুন্নাবী পাঠের সঠিক পদ্ধতি।
এসব কারণে রাবেতায়ে আলামে ইসলামী কর্তৃক সীরাতুন্নবী গ্রন্থ-প্রতিযোগিতায় যুক্তিযুক্তভাবেই বইটি প্রথমস্থান অধিকার করে ১২৯৬ হি.সালে।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ আমরা যদি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই তাহলে রাসুল্লাহ (সাঃ) এ জীবন আদর্শকে আমাদের জীবনে প্রতিফিলত করতে হবে। তার আগে আমাদের জানতে হবে কি ছিল আমাদের প্রিয় নবীর জীবনাদর্শ ? রাসুলে কারিম (সাঃ) এর জীবন আদর্শ জানতে বইটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটা মুসলমান নর-নারীর বইটি পড়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। বইটি পড়ে যদি আপনারা বিন্দুমাত্র উপকৃত হন তাহলে আমার শ্রম স্বার্থক হবে বলে মনে করি।

ডাউনলোড লিন্কঃ

http://i.imgur.com/faVIj.jpg

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সুপ্রিয় বন্ধুগণ আসসালামু আলাইকুম,
শুরুতেই বেশুমার দরুদ ও সালাম মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি যাকে সৃষ্টি না করলে মহমহিম আল্লাহ তায়ালা এই তামাম জাহান সৃষ্টি করতেন না। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি রহমানুর রহিমের দরবারে যিনি তৌফিক দিয়েছেন আমাকে আজকের এ পোষ্ট লিখার । ইসলামিক ই-বুক শেয়ারের ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের খেদমতে হাজির করলাম। তাফসির গ্রন্থ “তাফসির ইবনে কাসির” মুল তাফসির করেছেন হাফেজ ইমামুদ্দিন ইবনু কাসীর (রহঃ) বাংলা অনুবাদ করেছেন ডঃ মুহাম্মদ মুজিবর রহমান।

http://img130.imageshack.us/img130/4215/images1bgy.jpg

তাফসির গ্রন্থটির ১৮টি খন্ড মোট ১০টি পর্বে এখান হতে ডাউনলোড করতে পারবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের বিধি-বিধান প্রায় একই রকম যা কিছু প্রার্থক্য আজ সে বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।

১। পুরুষঃ উভয় পায়ের মধ্যখানে ৪ আঙ্গুল (প্রয়োজনে আধা হাতের কম) ফাঁক রাখিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াবেন।

মহিলাঃ পা মিলাইয়া মধ্যখানে ফাঁক না রাখিয়া সোজা হইয়া দাড়াবেন।

২। পুরুষঃ তাকবীরে তাহরিমার* সময় উভয় হাতের তালু ক্বিবলাহর দিকে করিয়া হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক অবস্থায় ক্বিবলাহর দিকে ঝুকাইয়া কান বা চেহারা বরাবর উঠাইবেন, কনুই শরীর হইতে পৃথক রাখিবেন।

মহিলাঃ তাকবীরে তাহরীমার সময় সময় উভয় হাত শাড়ী বা চাদরের ভিতরে রাখিয়া হাতের আঙ্গুল মিলাইয়া হাতের তালু এবং আঙ্গুল ক্বিবলাহ মুখী করিয়া কাঁধ পর্যন্ত উঠাইবেন। কনুইসহ হাত শরীরের সঙ্গে পরিপুর্ণ মিশাইয়া রাখিবেন।

৩। পুরুষঃ তাকবীরে তাহরীমা বলিয়া ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ও কনিষ্ঠাঙ্গুলী দ্বারা বাম হাতের কব্জিকে শক্ত করে ধরিয়া বাকি তিনটি আঙ্গুল বাম হাতের বাহুর উপর সোজা রাখিয়া বাম হাতের আঙ্গুলগুলি একত্র করিয়া নাভীর নীচে হাত বাঁধিবেন।

মহিলাঃ তাকবীরে তাহরীমাহ বলিয়া বাম হাতের আঙ্গুল মিলিতবস্থায় বুকের উপর রাখিয়া ডান হাতেরু তালু মিলিতবস্থায় বাম হাতের উপর রাখিবেন।

৪। পুরুষঃ রুকু করিবার সময় এমনভাবে ঝুঁকিবেন, যেন মাথা, পিঠ এবং কোমর বরাবর হইয়া যায়।

মহিলাঃ এই পরিমাণ ঝুঁকিবেন যাহাতে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে, কোমর, পিঠ, মাথা বরাবর হওয়ার প্রয়োজন নেই।

৫। পুরুষঃ রুকুর সময় দুই হাতের আঙ্গুল হাঁটু শক্ত করিয়া ধরিবেন।

মহিলাঃ হাতের মিলাইয়া হাটু পর্যন্ত পৌঁছাইবেন।

৬। পুরুষঃ বাজু, কনুই, বাহু রুকু অবস্থায় পাজর, পেট, উরু হইতে পৃথক রাখিবেন।

মহিলাঃ বাজু বগলের সঙ্গে কনুই এবং হাত পেট ওবং উরুর সঙ্গে ভালভাবে চাপাইয়া রাখিবেন।

৭। পুরুষঃ সেজদাবস্থায় পেট উরু হতে, বাজু বগল হতে বাহু মাটি হতে পৃথক রাখিবেন।

মহিলাঃ পেট রানের সঙ্গে বাহু মাটি এবং হাটুর সঙ্গে মিশাইয়া রাখিবেন।

৮। পুরুষঃ সেজদার মধ্যে পায়ের আঙ্গুল ক্বিবলার দিকে মুড়াইয়া রাখিয়া তাহার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতা দুইটি খাড়া রাখিবেন।

মহিলাঃ উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া বাম পায়ের পাতার উপর দিয়া ডান পায়ের পাতা মাটিতে বিছাইয়া রাখিবেন।

৯। পুরুষঃ হাটু হতে ১ হাত পরিমাণ দূরত্বে উভয় হাতের তালু আঙ্গুল মিলিতবস্থায় মধ্যখানে সামান্য ফাঁক রাখিয়া মধ্যখানে নাক ও কপাল দ্বারা সেজদা করিবেন এবং কনুই মাটি ও পেট হতে দুরে রাখিবেন।

মহিলাঃ উভয় হাতের আঙ্গুল মিলিতবস্থায় হাতের কব্জি হাটুর সঙ্গে মিশাইয়া ও পেট উরুর সঙ্গে মিলাইয়া রাখিয়া এবং হাতের তালু ও বাহু মাটিতে শরীরের সঙ্গে মিশাইয়া খুব সংকুচিত হইয়া নাক ও কপাল দ্বারা দুই হাতের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় সেজদা করিবেন।

১০। পুরুষঃ বসার সময় ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি মুড়াইয়া রাখিয়া তার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতা খাড়া রাখিবেন এবং বাম পায়ের পাতা বিছাইয়া তার তালুর উপর বসিবেন।

মহিলাঃ উভয় পায়ের পাতা ডানদিকে বাহির করিয়া দিয়া নিতম্ব মাটিতে লাগাইয়া বসিবেন।

১১। পুরুষঃ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক অবস্থায় রাখিয়া তালু রানের উপর আঙ্গুলের মাথা হাটু পর্যন্ত রাখিবেন। বাহু রান হতে, কনুই পেট হতে পৃথক রাখিবেন।

মহিলাঃ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল মিলাইয়া তালু হাটুর সঙ্গে, বাহু রানের সঙ্গে, কনুই পেটের সঙ্গে, বাজু বগলের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবেন।

১২। পুরুষঃ মাগরিব, ইশা, ফজর, জুমআ, ঈদ, ফরজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ক্বিরাত এবং উঠা বসার তাকবির শব্দ করিয়া পড়িবেন।

মহিলাঃ সর্বাবস্থায় তাকবীর দুআ, ক্বিরাত সব কিছুই চুপে চুপে পড়িবেন।

১৩। পুরুষঃ শুধু নাভী হতেহাটু পর্যন্ত ঢাকিয়া নামাজ পড়িলেই চলিবে।

মহিলাঃ চেহারা এবং হাতের কব্জি ব্যতিত সমস্ত শরীর ঢাকিয়া নামাজ পড়িতে হইবে।

টীকাঃ নিয়ত করার পরে আল্লাহু আকবার বলে আমরা যখন নামাজ শুরু করি তাকেই তাকবীরে তাহরীমা বলা হয়।

হে মহা মহিম আমাদেরকে তুমি হেফাজত কর, তোমার পথে চলার তৌফিক দান কর, আমিন !

পুর্ব প্রকাশিত

laughing  laughing  laughing  laughing
বেশ মজা পেলাআআআআআআম ,শেয়ার করায় ধন্যবাদ।

সুপ্রিয় ভিজিটর বন্ধুগণ আসসলামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীনের নিমিত্ত। লাখো দরুদ ও সালাম হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি, যাঁর আগমনে এ দুনিয়া ধণ্য হলো এবং আমাদেরকে এক আল্লাহর বান্দার পরিচয়ে সম্মানিত করলো।

ইসলামি ই-বুক শেয়ারের ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সামনে নিয়ে এলাম সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহঃ) রচিত ও জনাব আবু সাঈদ মোহাম্মদ ওমর আলী অনুবাদিত ইসলামিক ইতিহাস গ্রন্থ “মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারাল”।

বইটি ও বইটির লেখক সম্পর্কে দুটি কথা।

http://img27.imageshack.us/img27/8566/63202688.jpg

ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আর এ বিধান দুনিয়াতে আগমনের মুহুর্ত হতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কায়েমী স্বার্থবাদী ও তাগুদী শক্তির বাঁধার সম্মুখীন হয়ে আসছে। আম্বিয়াই কিরাম (আঃ) এর মেহনত-মুজাহাদা ও কুরবানী, আসহাবুন নবী রিদওনুল্লাহি তা’আলা আলঅইহিম আজমাঈনের জিহাদী জযবা, পীর মাশায়েখ বুজুর্গ ও আলিমে দ্বীনের অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে ইসলামের মর্মবাণী আজ আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে। আর বিভিন্ন সময়ের এসব ঘটনা নিয়ে সীরাত মাগাযী ও ইতিহাস লিখে আমাদের চিন্তার খোরাক যুগিয়েছেন আলোকবর্তিকা হাতে পেয়ে।
কিন্ত আজ সারা বিশ্বব্যপী মুসলমানরা যেভাবে নির্যাতিত নিপিড়িত হচ্ছে সে সবের উপরও আলোচনা পর্যালোচনা হচ্ছে, কিন্ত কেউ এর সঠিক কারন উদঘাটনে সক্ষম হয়নি। কি কারনে এক-কালের অর্ধজাহানের শাসকদের এ অধঃপতন কিসের জন্য এ বিপর্য়য় আর এ বিপর্যয়ের কারনে গোটা মুসলিম জাহানসহ সারা দুনিয়ারই বা কি ক্ষতি হচ্ছে ? এসব বিষয় বলতে গেলে তেমন কেউ কলম ধরেননি। গত শতাব্দী হতে আজ পর্যন্ত যত লেখক-গবেষক ইতিহাসবিদ এসেছেন ও বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও সবার আগে যাঁর নাম এসে যায় তিনি হলেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলিমে দ্বীন মুফাক্বিরে ইসলাম আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী(রহঃ)। আর তাঁরই লেখা বিশ্বব্যপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইতিহাসের এক অনন্য গ্রন্থ “মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারাল” মুল বইটি আরবীতে রচিত যার নাম “মা-যা-খাসিরা’ল আলামু বিন ইনহিতাতিল মুসলিমীন” ইংরেজীতে অনূদিত হয়ে “Islam and the world” নামে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাতে বইটি অনুদিত হয়ে প্রকাশ পায়।

বইটিতে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার কয়েকটি আমি তুলে ধরছি।

০১। রাসুলে আকরাম (সাঃ) এর আবির্ভাবের পুর্বে।
০২। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী ও সমকালীন বিশ্ব।
০৩। এক নজরে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী
০৪। রোম সাম্রাজ্যে ধর্মীয় গৃহযুদ্ধ।
০৫। ইয়াহুদী জাতীগোষ্ঠি।
০৬। আগুন পূজা ও মানবজীবনে এর প্রভাব।
০৭। বৌদ্ধমতবাদ এবং এর পরিবর্তন ও বিকৃতি।
০৮। যৌন অরাজকতা।
০৯। ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা।
১০। মুহাম্মাদ (সাঃ) আরবজাহানের প্রাণ (রুহ)

এমনিতর আরও অনেক বিষয় নিয়ে বইটিতে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে যা এই ছোট্ট পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না।

বইটি সম্পর্কে যারা আগ্রহী তারা এখান হতে ডাউনলোড করুন। ধন্যবাদ সকলকে।

রিগ্যান wrote:

পোস্ট পড়ে খুবই ভাল লাগল +

ধন্যবাদ রিগ্যান ভাই।

সফটওয়্যারটি আসলেই কাজের আমি দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার করি। আমরাটা অবশ্য ফুল ভার্ষন কোন ক্র্যাক লাগে না।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!
ইসলামিক ই-বুক শেয়ারের ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের সামনে হাজির করলাম “আসহাবে রাসুলের জীবন কথা” বইটি লিখেছেন মুহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়।

http://img46.imageshack.us/img46/3586/ecovorcompanion.jpg

আলোচ্য বইটিতে যে সমস্ত বিষয় সমূহ আলোচিত হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত রুপঃ

(১) সাহাবা কারা ?
সাহাবা শব্দটি আরবী ভাষার “সুহবত” শব্দের একটি রুপ। একবচনে সাহেব ও সাহাবী এবং বহুবচনে সাহাবা ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর, একসাথে জীবনযাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় সাহাবা শব্দটি দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বুঝায় (অসমাপ্ত)

(২) সাহাবাদের মর্যাদা
সাহাবীদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার স্তর থাকতে পারে, কিন্ত পরবর্তী যুগের কোন মুসলমানই, তা তিনি যত বড় জ্ঞানী, গুনী ও সাধক হোন না কেন কেউই একজন সাধারন সাহাবীর মর্যাদাও লাভ করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা একমত।

এই সাহাবীরাই আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ও তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রথম মধ্যসুত্র। পরবর্তী উম্মত আল্লাহর কালাম পবিত্র কোরআন, কোরআনের ব্যাখ্যা, আল্লাহর রাসুলের পরিচয়, তাঁর শিক্ষা, আদর্শ, মোটকথা দ্বীনের সব কিছুই একমাত্র তাঁদেরই সুত্রে, তাঁদেরই মাধ্যমে জানতে পেরেছে। সুতরাং এই প্রথম সুত্র উপেক্ষা করলে, বাদ দিলে অথবা তাঁদের প্রতি অবিশ্বাষ সৃষ্টি হলে দ্বীনের মুল ভিত্তিই ধ্বসে পড়ে। কোরআন ও হাদীসের প্রতি অবিশ্বাষ দানা বেঁধে উঠে। (অসমাপ্ত)
(৩) সাহাবী চিনবার উপায়।
(৪) সাহাবীদের সংখ্যা।

প্রথম খন্ডে ৩০ জন সাহাবীর জীবনচরিত আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় খন্ডে ৬২ জন সাহাবীর জীবনচরিত আলোচনা করা হয়েছে।

তৃতীয় খন্ডে ২০ জন সাহাবীর জীবনচরিত আলোচনা করা হয়েছে।

চতুর্থ বা শেষ খন্ডে ৩৯ জন সাহাবীর জীবনচরিত আলোচনা করা হয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে লেখক খুব পারদর্শিতা ও প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করেছেন। বইটি প্রতিটি মুসলিমের পড়া ও সংগ্রহে রাখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

বই গুলো ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ !


সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। দরুদ ও সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি, যিনি সমগ্র বিশ্বমানবতার নবী, নবীকূলের শিরোমনি সৃষ্টিকুলের রহমত ও কল্যাণের প্রতীক। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর এবাদাত বন্দেগীর উদ্যেশ্যে। সেই এবাদত এর অন্যতম একটি হল নামাজ আদায় করা। তাই সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে সঠিক পদ্ধিতে আদায় করতে হবে। না হয় আমাদের এবাদত কবুল হবে না।আমাদের অনেক বন্ধু আছেন যারা নামাজের সঠিক পদ্ধতি জানেন না । আজ সে সব বন্ধুদের জন্য নিয়ে এলাম সহীহ নামাজ শিক্ষা। এ বইটিতে আপনি যা যা জানতে পারবেন তা নিম্ন রুপঃ

http://img687.imageshack.us/img687/795/bookua.jpg

০১। নামাজ সম্পর্কিত জরুরী কিছু আলোচনা (কোরআন ও হাদীসের আলোকে)।
০২। নামাজের ফযীলত।
০৩। তাহারাত (পবিত্রতা) ওজু ও গোসলের মাসআ’লা।
০৪। ফরয নামাজ
০৫। নামাজ যে ভাবে আদায় করবেন।
০৬। জামাতের সহিত নামাজ।
০৭। জুমআ’র নামাজ।
০৮। মুসাফিরের নামাজ।
০৯। মাসনূন যিকরসমূহ
১০। সুন্নত নামায

এ বইটি প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য অবশ্যই পাঠনীয়। বইটি যদি আপনাদের উপকারে লাগে তবেই আমার এ প্রচেষ্টা সফল হবে বলে আমি মনে করি।

আগ্রহীগণ এই লিন্ক হতে বইটি ডাউনলোড করতে পারবেন। সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা  ভাল থাকুন!

১৭

(২ replies, posted in ধর্মীয় আলোচনা)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

মহান রব্বুল আলামিনের দয়ায় আজ আপনাদের সামনে নিয়ে আসলাম, হাদীস গ্রন্থ সহিহ মুসলিম শরীফ, সহিহ সিত্তাহ গ্রন্থগুলোর অন্যতম এই মুসলিম শরীফ গ্রন্থটি। মহা গ্রন্থ পাক কোরআনকে বুঝতে হলে হাদিস গ্রন্থগুলো পড়া একান্তই আবশ্যক। বলা যায় পাক কোরআনের ব্যাখ্যাই হাদীস গ্রন্থ সমূহ। মুসলিম শরীফ গ্রন্থটির মুল রচয়িতা ইমাম মুসলিম (রহঃ) বাংলা অনুবাদ হযরত মাওলানা আফলাতুন কায়সার ও সম্পাদনা করেছেন মাওলানা মোঃ মুসা । ইমাম মুসলিম ৮৭৫ হিজরীর ২৫শে রজব ইন্তেকাল করেন। নায়সারাবুরের শহরতলী নাসারাবাদে ২৬শে রজব সোমবার তাঁকে দাফন করা হয়।
এখান হতে মোট ৭টি খন্ডে মুসলিমশরীফ গ্রন্থটি আপনারা ডাউনলোড করতে পারবেন।

sawontheboss4 wrote:

আচ্ছা এই ধনুকের ছিলার ব্যাপারটা বুঝলাম না !

আগেকার দিনে ধনুকে যে রশি ব্যবহার হত, খুব সম্ভবত চামড়ার তৈরী অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য সেটা গলায় ঝুলাত।

আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ-কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন এবং ইহা বৈধ ও জায়েজ মনে করেন। এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ে নির্ধারিত বিষয়ে গ্রহণ যোগ্য কোন দলিল নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও তার বানোয়াট উপকারীতা। এ সব বই পড়ে কেউ কেউ   বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিভিন্ন তদবির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয় ও তা গ্রহণ করে। তারা এ ধরণের চিকিৎসার মূল্যায়ন ও তার বৈধতা-অবৈধতা সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমি এই লিখাটির মাধ্যমে এ বিষয়টির তত্ত্ব ও স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তার হুকুম বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি।

০১. সাহাবি ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত :
একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ। {অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।} তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম ও ইবনে মাজাহ) হাদিসটি সহিহ।

০২. উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি:
‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।

০৩. উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন :
‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।

০৪. একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন :
তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।’ (ইউসুফ : ১০৬) তাফসিরে ইবনে কাসির। এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাহাবি হুজায়ফার মতে তাগা ব্যবহার করা শিরক।

০৫. বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, আবু বশির আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলেন। সে সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এ নিদের্শ দিয়ে পাঠালেন, ‘কোনও উটের গলায় ধনুকের ছিলা অথবা বেল্ট রাখবে না, সব কেটে ফেলবে।’

০৬.আবু ওয়াহহাব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দাও এবং লাগাম পরিয়ে দাও। তবে ধনুকের ছিলা ঝুলিয়ো না। সুনানে নাসায়ী।

০৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহর স্ত্রী জয়নব রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :
ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। আহমদ, হাকেম, ইবনে মাজাহ।

০৮. তাবেয়ি আব্দুল্লাহ বিন উকাইম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
যে ব্যক্তি কোন কিছু ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছেই সোপর্দ করা হবে।’ আহমদ, তিরমিজি। এ সব দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাবিজ ব্যবহার করা হারাম ও শিরক।

তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করা ছোট শিরক না বড় শিরক?
কেউ যদি তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, সামুক-ঝিনুক, গিড়া, হাঁড়, তাগা-তামা-লোহা বা অনুরূপ কোন ধাতব বস্তু গলায় বা শরীরের কোথায়ও ধারণ করে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে, ঐ গুলো বালা-মুসিবত দূর করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তবে তা বড় শিরক। আর যদি এ ধরনের ধারণা না হয়, তবে তা ছোট শিরক।
শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বলেছেন, বালা-মুসিবত দূর করার উদ্দেশ্যে গিড়া, তাগা পরিধান করা ছোট শিরক। অর্থাৎ যদি তা মাধ্যম বা উসিলা মনে করে ব্যবহার করা হয়।
শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ বলেছেন, শয়তানের নাম, হাড়, পূঁতি, পেরেক অথবা তিলিস্মা অর্থাৎ অর্থবিহীন বিদঘুটে  শব্দ বা অক্ষর প্রভৃতি বস্তু দিয়ে তাবিজ বানানো ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ফাতহুল মাজিদ গ্রন্থের টীকায় তিনি আরো বলেছেন : তাবিজ ব্যবহার করা জাহেলি যুগের আমল।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাবিজ-কবচ অনেক ধর্মের প্রতিকি চিহ্ন ছিল। যেমন হিন্দু পুরোহিতদের মাদুলী ধারণ করা, বিশেষ করে কালী শিবের পূজায়। উয়ারী সম্প্রদায়ের আকীদার অন্যতম প্রতিক ছিল বিভিন্ন ধরণের তাবিজ।
শায়খ হাফেজ হেকমি বলেন: ‌’কুরআন ও হাদিস ব্যতীত, ইহুদিদের তিলিসমাতি, মূর্তি পূজারী, নক্ষত্র পূজারী, ফেরেশতা পূজারী এবং জিনের খিদমত গ্রহণকারী বাতিল পন্থীদের তাবিজ ব্যবহার; অনুরূপভাবে পূঁতি, ধনুকের ছিলা, তাগা এবং লোহার ধাতব চুড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। কারণ, এগুলো সমস্যা সমাধানের বৈধ উপায় কিংবা বিজ্ঞান সম্মত ঔষধ নয়।
এ হল সেসব তাবিজ কবচের হুকুম যাতে কুরাআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া দরুদ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় না তার।

কুরআন-হাদিসের তাবিজ :
হ্যাঁ, যে সব তাবিজ-কবচে কুরআন হাদিস ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এক শ্রেণীর আলেম কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দুআ সমূহের তাবিজ ব্যবহার করা বৈধ মনে করেন। যেমন, সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা আবু জাফর আল-বাকের, ইমাম মালেক। এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ, ইবনে আব্দুল বার, বাইহাকি, কুরতুবি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়িম এবং ইবনে হাজারও রয়েছেন। তাদের দলিল, আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ {ইসরা:৮২}
এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। {সাদ:২৯}
সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমরের ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি নিজ ছোট বাচ্চা, যারা দোয়া মুখস্থ করতে অক্ষম, তাদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য গায়ে দোয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে দিতেন। দোয়াটি এই:
‘আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ) হাদিসটি হাসান।

পক্ষান্তরে অধিকাংশ সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে কুরআন ও হাদিসের তাবিজ ব্যবহার করাও নাজায়েজ। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, উকবা বিন আমের, ইবনে উকাইম, ইব্রাহিম নখয়ি, একটি বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদ, ইবনুল আরাবি, শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি, হাফেজ আল-হেকমি এবং মুহাম্মদ হামিদ আলফাকি। আর সমসাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন শায়খ আলবানি ও শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ।
তারা বলেন, উল্লেখিত আয়াত দ্বারা তাবিজের বৈধতা প্রমাণিত হয় না। উপরন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের দ্বারা চিকিৎসা করার স্বরূপ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, আর তা হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ ছাড়া কুরআনের আয়াত তাবিজ আকারে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন প্রমাণ নেই, এমনকি সাহাবাদের থেকেও।

তা ছাড়া ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমেরের বর্ণিত হাদিসের সূত্র (সনদ) হাদিস বিশারদদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। আর শুদ্ধ হলেও এটা তার একার আমল, যা অসংখ্য সাহাবির বিপরীত হওয়ার ফলে এবং এর স্বপক্ষে কোন দলিল না থাকার কারণে আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
আরেকটি কারণ, যেসব দলিলের মাধ্যমে তাবিজ নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, সেসব দলিলে পৃথক করে কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ বলা হয়নি। যদি বৈধ হত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা বলে দিতেন। যেমন তিনি শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুকের ব্যাপারটি অনুমতি দিয়েছেন। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ওটা শিরকের আওতাধীন না হলে তাতে কোন বাধা নেই।’ মুসলিম। পক্ষান্তরে তিনি তাবিজ সম্পর্কে এরূপ কিছু বলেননি। দ্বিতীয়ত. সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্র ইব্রাহিম নখয়ি বলেন, তারা অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সঙ্গী-সাথী ও শিষ্যগণ কুরআন বা কুরআনের বাইরের সব ধরণের তাবিজ অপছন্দ করতেন। যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, হারেস বিন সোয়ায়েদ, ওবায়দা সালমানি, মাসরুক, রাবি বিন খায়সাম এবং সোয়ায়েদ বিন গাফলাহ প্রমুখ তাবেয়িগণ।
(ফতহুল মজিদ) তৃতীয়ত. অবৈধ পন্থার পথ রুদ্ধ করার জন্য শরিয়ত অনেক বৈধ কাজও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সে হিসেবে নিষিদ্ধ তাবিজ থেকে উম্মতকে হিফাজত করার লক্ষ্যে বৈধ তাবিজও নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ এ পথ খোলা রাখলে বাতিল তাবিজপন্থীরা সাধারণ মানুষের মন আল্লাহর ওপর ভরসা থেকে বিমুখ করে, তাদের লিখিত তাবিজের প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলার সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, ঐ সব শয়তানদের প্ররোচনার কারণে কতক সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। আর তারা মানুষের আসক্তি দেখে তাদের সহায়-সম্পদ লুটে নেয়ার ফন্দি আটে। যেমন, তাদেরকে বলে, তোমাদের পরিবারে, ধন সম্পত্তিতে বা তোমার ওপর এরূপ বিপদ আসবে। অথবা বলে, তোমার পিছনে জিন লেগে আছে ইত্যাদি। এভাবে এমন কতগুলো শয়তানি কথা-বার্তা তুলে ধরে যা শুনে সে মনে করে, এ লোক ঠিকই বলছে। সে যথেষ্ট দয়াবান বলেই আমার উপকার করতে চায়। এভাবেই সরলমনা মূর্খ লোকেরা তাদের কথায় বিশ্বাস করে ও অতঃপর ভয়ে অস্থির হয়ে যায়, আর তার কাছে সমাধান তলব করে। তাই তাবিজ কুরআন-হাদিসের হলেও ব্যবহার করা, রুগির বালিশের নীচে রাখা বা দেয়ালে ঝোলানো নাজায়েজ বলাই অধিকতর শ্রেয়।

একটি সংশয় : অনেকে বলে থাকেন, তাবিজ, কবচ ইত্যাদি আমরা দোয়া-দরুদ ও প্রাকৃতিক ঔষধের ন্যায় ব্যবহার করি। যদি তার অনুমোদন থাকে তবে তাবিজ কবচ নিষিদ্ধ কেন? এর উত্তর হচ্ছে : অসুখ-বিসুখ ও বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি পাওয়ার পদ্ধতি দুইটি :

এক. যা সরাসরি কুরআনের আয়াত বা রাসূলের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। একে শরিয়তি উপায় বা চিকিৎসা বলা যেতে পারে। যেমন ঝাঁড় ফুক ইত্যাদি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে দেখিয়েছেন এবং যার বর্ণনা হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে। এ গুলো আল্লাহর ইচ্ছায় বান্দার মঙ্গল সাধন বা অমঙ্গল দূর করে।

দুই. প্রাকৃতিক চিকিৎসা অর্থাৎ বস্তু ও তার প্রভাবের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক, যা খুবই স্পষ্ট এমনকি মানুষ সেটা বাস্তবে অনুভব ও উপলব্ধি করতে পারে। যেমন: বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা ঔষধ। ইসলামি শরিয়ত এগুলো ব্যবহার করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছে। কারণ, এগুলো ব্যবহার করার অর্থই হচ্ছে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, যিনি এ সব জিনিসে নির্দিষ্ট গুণাবলি দান করেছেন এবং তিনি ইচ্ছা করলে যে কোন সময় এসব বস্তুর গুন ও ক্রিয়া বাতিল করে দিতে পারেন। যেমন তিনি বাতিল করেছিলেন ইব্রাহিমের আলাইহিস সালামের জন্য প্রজ্বলিত আগ্নির দাহন ক্রিয়া। কিন্তু তাবিজ ইত্যাদির মধ্যে আদৌ কোন ফলদায়ক প্রভাব নেই এবং তা কোন অমঙ্গল দূর করতে পারে না। এতে জড় বস্তুর কোন প্রভাবও নেই। তাছাড়া, মহান আল্লাহ এগুলোকে কোন শরয়ি মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেননি। মানুষও স্বাভাবিকভাবে এগুলোর কোন প্রভাব প্রতিক্রিয়া দেখে না, অনুভবও করতে পারে না। এ জন্য অনেকে বলেছেন, এগুলোর ওপর ভরসা করা, মুশরিকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তি ও মূর্তির ওপর ভরসা করার সমতুল্য; যারা শুনে না, দেখে না, কোন উপকারও করতে পারে না, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে। কিন্তু তারা মনে করে, এগুলো আল্লাহর কাছ থেকে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, অথবা অমঙ্গল প্রতিহত করবে।

সবার প্রতি অনুরোধ: এখনো যে সব আলেম-ওলামা তাবিজ-কবচ নিয়ে ব্যস্ত তাদের দরবারে আমার সবিনয় অনুরোধ, এর থেকে বিরত থাকুন। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগ, সাধারণ মানুষ খুব সহজেই টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছে যে, তাবিজ-কবচ বৈধ নয় বা ইসলামে এর কোন স্বীকৃতিও নেই। এমতাবস্থায় যারা তাবিজ-কবচ করেন বা বৈধ বলেন তাদের ব্যাপারে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হন। আল-হামদু লিল্লাহ, বর্তমান সময়ে আরবি শিক্ষিত ও সাধারণ শিক্ষিত অনেক ব্যক্তি, বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম তাবিজ-কবজের অসারতা বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। নিজে রিবত থাকছেন এবং অপরকে বিরত থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। যেহেতু এটা আকীদার বিষয়, তাই এখানে শিথিলতার কোন সুযোগ নেই। অতএব, এ থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।

পুর্বে এখানে প্রকাশিত

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারকাতুহু

সুপ্রিয় ভাই-বোনেরা আজ আপনার খেদমতে নিয়ে আসলাম কালামে পাক মহা গ্রন্থ “আল-কোরআন” এর তাফসির গ্রন্থ হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহঃ) এর “মারেফুল কোরআন” যার বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহিউদ্দিন খান। এখান হতে আপনারা “মারেফুল কোরআন”এর ৮টি ভলিয়্যুম মোট ২০টি খন্ডে ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনাদের কাজে লাগলেই আমার কষ্ট স্বার্থক হবে বলে মনে করি। ধন্যবাদ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ । কেমন আছেন আপনারা ? আশাকরি রহমানুর রহিমের দয়ায় সবাই ভাল আছেন । আজ আপনাদের জন্য ব্যতিক্রম একটা পোষ্ট নিয়ে হাজির হলাম। আশাকরি আপনাদের ভাল লাগবে।

আমরা মুসলমান, নামায আমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে সেই নামায যদি আমরা যথাযথ নিয়ম বা অঙ্গভঙ্গি'র সাথে আদায় না করি তাহলে কি সেই নামায আমাদের কোন কাজে লাগবে ? অবশ্যই লাগবে না। তো আসুন দেখে নেয়া যাক নামাযের সঠিক নিয়ম ও সুরা কালাম কিভাবে পাঠ করতে হবে।

আমি দুঃখিত অনেক চেষ্টা করেও ভিডিওটি এখানে প্লে করাতে পারলাম না । আগ্রহীগণ ভিডিওটি এখানে দেখতে পাবেন।

হে পরওয়ারদিগার,আমাদের সকলকে সঠিক নিয়মে নামায আদায় করার তৌফিক দান করুন । আমিন! ছুম্মা আমিন



যারা নামায পড়ার সঠিক নিয়ম ভিডিও টি ডাউনলোড করে অফলাইনে অনুশীলন করতে চান তারা এখানে ক্লিক করুন।

২২

(৪ replies, posted in আত্মপরিচয়)

ফোরামে স্বাগতম।

মহান আল্লাহ্ তায়ালা মানব জাতিকে হেদায়াত করার জন্য পবিত্র কোরআন নাযিল করেছেন। এতে একদিকে যেমন তিনি স্রষ্টার অস্তিত্ব ও একত্ব, সৃষ্টি ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন তেমনি ইবাদতের পদ্ধতি, মানুষের জন্য কল্যাণকর ও অকল্যাণকর বিষয়সমূহ, মানুষের ভুল-ভ্রান্তি, পাপ-অনুতাপ, পুরস্কার-প্রতিদান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কেও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন অথবা ভুল-ত্রুটি মার্জনা, অথবা বিপদাপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কীভাবে তাঁকে ডাকতে হবে সে সম্পর্কে কোরআনে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নবী-রাসূল (আঃ) ও মুমিন বান্দারা কীভাবে মহান আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করতেন, তাঁর কাছে কী কী বিষয় প্রার্থনা করতেন পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সেসব বর্ণিত হয়েছে। নিচে এসব আয়াতের মধ্য থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

নবী-রাসূলগণের দোয়া :

নবী-রাসূলগণ মহান আল্লাহ্‌র কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থনা করতেন। ধর্ম প্রচারে সাহায্য করার জন্য, কখনো কাফিরদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা কামনা করে, কখনো নিজের জন্য, কখনো পিতা-মাতা, কখনো আবার বংশধরদের জন্য নবী-রাসূলগণ প্রার্থনা করতেন। নিচে এমনই কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো।

১. নিজেদের বংশধারায় নবী প্রেরণের জন্য মহান আল্লাহ্‌র কাছে হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর দোয়া :

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ رَبَّنَا وَ اجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَ مِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَ أَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَ تُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ رَبَّنَا وَ ابْعَثْ فِيْهِمُ رَسُوْلاً مِنْهُمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَ يُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَ الْحِكْمَةَ وَ يُزَكِّيْهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

…‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হতে তোমার এক অনুগত উম্মত কর। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট এক রাসূল প্রেরণ কর যে তোমার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তেলাওয়াত করবে; তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’-(সূরা বাকারা : ১২৬)

২. পবিত্র মক্কা নগরী ও এর মুমীন অধিবাসীদের জন্য হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া :

رَبِّ اجْعَلْ هذَا بَلَداً آمِناً وَ ارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللهِ وَ الْيَوْمِ الْآخِرِ

ক. …‘হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর কর, আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান কর।’-(সূরা বাকারা : ১২৬)

رَبِّ اجْعَلْ هذَا الْبَلَدَ آمِناً وَ اجْنُبْنِيْ وَ بَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيْراً مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِيْ فَإِنَّهُ مِنِّيْ وَ مَنْ عَصَانِيْ فَإِنَّكَ غُفُوْرٌ رَحِيْمٌ رَبَّنَا إِنِّيْ أَسْكَنْتُ مِنَ ذُرِّيَّتِيْ بِوَادٍ غَيْرِ ذِيْ زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيْمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَ ارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُوْنَ

খ. …‘হে আমার প্রতিপালক! এ নগরীকে নিরাপদ কর এবং আমাকে ও আমার পুত্রদেরকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখ। ‘হে আমার প্রতিপালক! এ সব প্রতিমা তো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সেই আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকট, হে আমাদের প্রতিপালক! এজন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব, তুমি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলাদি দ্বারা তাদের রিযিকের ব্যবস্থা কর, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’-(সূরা ইবরাহীম : ৩৫-৩৮)

৩. নিজের জন্য এবং পিতামাতা ও মুমিনদের জন্য ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া

…رَبَّنَا اغْفِرْلِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَ لِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

…‘হে আমার প্রতিপালক! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’-(সূরা ইবরাহীম : ৪১)

হযরত ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের দোয়া

…رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَ إِلَيْكَ أَنَبْنَا وَ إِلَيْكَ الْمَصِيْرُ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَ اغْفِرْلَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

…‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমারই ওপর নির্ভর করেছি, তোমারই অভিমুখী হয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন তো তোমারই নিকট। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের পীড়নের পাত্র কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের ক্ষমা কর; তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’-(সূরা মুমতাহিনা : ৪-৫)

৪. সীমা লঙ্ঘন ও কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নবী-রাসূলগণের দোয়া :
সম্মানিত নবী-রাসূলগণ সীমা লঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ্‌র কাছে এভাবে দোয়া প্রার্থণা করতেন :

رَبَّنَا اغْفِرْلَنَا ذُنُوْبَنَا وَ إِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

…‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং আমাদের কাজে সীমা লঙ্ঘন তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখ এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।’-(সূরা আলে ইমরান : ১৪৭)

৫. হযরত নূহ (আ.)-এর দোয়া

رَبِّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَسْئَلَكَ مَا لَيْسَ لِيْ بِهِ عُلْمٌ وَ إِلَّا تَغْفِرْلِيْ وَ تَرْحَمْنِيْ أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

…‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে যাতে আপনাকে অনুরোধ না করি, এজন্য আমি আপনার শরণাপন্ন হচ্ছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমাকে দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’-(সূরা হূদ : ৪৭)

৬. হযরত মূসা (আ.)-এর দোয়া :
ধর্ম প্রচারের কাজ সহজ করে দেয়া ও সহোদর ভাই হযরত হারূন (আ.)-কে ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে সহযোগী করে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ্‌র কাছে মূসা (আ.) নিচের প্রার্থনাটি করেছিলেন :

…رَبِّ اشْرَحْ لِيْ صَدْرِيْ وَ يَسِّرْلِيْ أَمْرِيْ وَ احْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِيْ يَفْقَهُوْا قَوْلِيْ وَ اجْعَلْ لِيْ وَزِيْراً مِنْ أَهْلِيْ هَارُوْنَ أَخِيْ اشْدُدْ بِهِ أَزْرِيْ وَ أَشْرِكْهُ فِيْ أَمْرِيْ

…‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার জন্য আমার স্বজনদের মধ্য থেকে একজন সাহায্যকারী করে দাও আমার ভাই হারূনকে, তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাকে আমার কাজে অংশী কর।’-(সূরা তা-হা : ২৫-৩২)

৭. হযরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া :
মাছের পেটে থাকা অবস্থায় ইউনুস (আ.) এ দোয়া করেছিলেন :

…لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ

…‘তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৭)

মুমিন বান্দাদের দোয়া :
পবিত্র কোরআনে মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার পাশাপাশি তাদের দোয়া করার বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে। তাদের দোয়া হলো নিম্নরূপ :

…رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَ لَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَ اغْفِرْلَنَا وَ ارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

…‘হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তিদের ওপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের ওপর অর্পণ কর না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।’-(সূরা বাকারা : ২৮৬)

বোধশক্তিসম্পন্ন (জ্ঞানী) ব্যক্তিদের দোয়া :
পবিত্র কোরআনে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের দোয়া সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা বলে :

…رَبَّنَا فَاغْفِرْلَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَيِّآتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَ آتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ

১. …‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিও। হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা আমাদেরকে দাও এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় কর না। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম কর না।’-(সূরা আলে ইমরান : ১৯১-১৯৪)

…رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْلَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ أَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

২. …‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরা মুমিনূন : ১০৯)

…رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَاماً

৩. …‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি বিদূরিত কর, তার শাস্তি তো নিশ্চিত বিনাশ, নিশ্চয়ই তা অস্থায়ী ও স্থায়ী আবাস হিসাবে নিকৃষ্ট।’-(সূরা ফুরকান : ৬৩-৬৬)

হযরত মূসা (আ.)-এর সময় যাদুকরদের দোয়া :
মূসা (আ.)-এর মোকাবিলায় ফিরআউন যাদুকরদের নিয়ে আসে। যাদুকররা মূসা (আ.)-এর মুজেযার কাছে পরাজিত হয়ে ঈমান আনে। এতে ফিরআউন ক্ষিপ্ত হয়ে যাদুকরদের হত্যা করার নির্দেশ দেয়। এরপরও যাদুকররা ঈমান ত্যাগ করেনি, বরং মহান আল্লাহ্‌র কাছে তাদের প্রার্থনা ছিল :

…رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْراً وَ تَوَفَّنَا مُسْلِمِيْنَ

…‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর এবং মুসলমানরূপে আমাদেরকে মৃত্যু দাও।’-(সূরা আরাফ : ১২৬)

পুর্বে এখানে প্রকাশিত

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

বেশুমার সলাত ও সালাম আলাহ পাক এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন
নাবিয়্যিন, শাফীউল মুয্নিবীন, রহমাতুলি−ল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক (সাঃ) এর খিদমতে,
যিনি ইরশাদ করেন , “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যিনি কোরআন শরীফ এর তা ’লীম গ্রহন করেন এবং কুরআন শরীফ এর তা’লীম”দেন। (বুখারী শরীফ,মিশকাত শরীফ)

মুলতঃ কুরআন শরীফ মহান আল্লাহ পাক এর কালাম। মহান আল্লাহ পাক এর যেরূপ মর্যাদা-মর্তবা, তার কালাম কুরআন শরীফ এরও রয়েছে মর্যাদা, মাহাত্ম ও ফযীলত।
ছহীহ্ শুদ্ধভাবে তাজভীদ অনুযায়ী কুরআন শরীফ তিলাওয়াত বা পাঠ করার মধ্যে অশেষ ফজীলত ও বরকত রয়েছে,অপরদিকে কুরআন শরীফ এর একটি হরফও যদি অশুদ্ধ বা তাজভীদের খিলাফ বা বিপরীত পাঠ করা হয় তবে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ্ এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে কুফরী পর্যন্ত পৌছার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাজভীদের সাথে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার হুকুম স্বয়ং আল্লাহ পাক অনেক আয়াতেই করেছেন।
যেমন- মহান আল্লাহ পাক সূরা মুয্যাম্মিল-এর ৪ নং আয়াত শরীফে বলেন- “ কুরআন শরীফকে তারতীবের সহিত ও পৃথক পৃথকভাবে স্পষ্ট করে পাঠ করুন।”

আল্লাহ পাক সূরা ফুরক্বানের ৩২ নং আয়াত শরীফে র্ইশাদ করেন-
“আমি কুরআন শরীফ তারতীলের সহিত (থেমে থেমে) পাঠ করে শুনায়েছি ।”

সূরা ইউসুফের ৩ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক আরো বলেন- “নিশ্চয় আমি কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায়।”

এ প্রসংগে মহান আল্লাহ পাক সূরা বনী ইস্রাইল এর ১০৬ নং আয়াত শরীফে আরো বলেন- “আমি কুরআন শরীফকে যতি চিহ্নসহ পৃথক পৃথকভাবে তিলাওয়াত করার
উপযোগী করেছি যাতে আপনি একে লোকদের নিকট ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথভাবে নাযিল করেছি ।”

উপরিউক্ত আয়াতসমূহের সারমর্ম হলো-“পবিত্র কুরআন শরীফ তাজভীদের সাথে, ধীর-স্থিরভাবে থেমে
থেমে, যেভাবে আল্লাহ পাক নাযিল করেছেন, ঠিক সেভাবে অর্থাৎ আরবী ভাষার কায়দা অনুযায়ী সহীহ্- শুদ্ধ, সুন্দর ও স্পষ্ট করে পাঠ করা।”
এ প্রসংগে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- “হযরত হুযাইফা রাদ্বিআল্লাহ তাআ’লা আনহু হতে বণির্ত ,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক (সাঃ) বলেন,

” তোমরা আরবী লাহান ও আওয়াজে কুরআন শরীফ পাঠ কর ।”(মিশকাত শরীফ)

তাজভীদ অনুযায়ী তারতীলের সাথে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা ফরজ। তাই তাজভীদ শিক্ষা করা
প্রত্যেকের জন্যই ফরজ ও ওয়াজিব ।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- “এমন অনেককুরআন শরীফ পাঠকারী আছে যাদের উপর লা’নত বর্ষণ করে,

অর্থাৎ তাজভীদ অনুযায়ী সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত না করার কারণে তাদের উপর লা’নত বর্ষিত হয় ।

এছাড়াও অশুদ্ধ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত নামাজ বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণও বটে। অথচ নামাজ
বান্দার ইবাদাতসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। যে নামাজ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক কালামে পাকে ইরশাদ করেন-

অর্থঃ “ঐ সকল মু’মিনরাই সফলতা লাভ করেছে, যারা খুশু-খুযুর সাথে নামায আদায় করেছে ।”

আর এ প্রসংগে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক (সাঃ) বলেন,
“নামাজ দ্বীনের খুঁটি, যে ব্যক্তি নামাজ কায়িম করলো, সে ব্যক্তি দ্বীন ক্বায়িম রাখলো ।আর যে ব্যক্তি নামাজ তরক করলো সে ব্যক্তি দ্বীন ধ্বংস করলো ।”

সুতরাং এ নামাজকে যদি সহীহ্ শুদ্ধভাবে আদায় করতে হয়, তবে অবশ্যই শুদ্ধ করে ক্বিরআত পাঠ করতে হবে। অর্থাৎ তাজভীদ অনুযায়ী সহীহ্-শুদ্ধভাবে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে হবে। কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ফায়দা ও ফযিলত। যে যত বেশী কুরআন শরীফ
তিলাওয়াত করবে সে তত বেশী ফায়দা পাবে। মহান আল্লাহ পাক এর রেজামন্দী হাসিল করতে পারবে।

আমি আপনাদের সাথে আজ তেমনি একটি ই-বুক সহিহ কোরআন শিক্ষা শেয়ার করলাম। এটি অনুশিলন করে কেউ একজনও যদি সহিহ কোরআন পাঠ শিখতে পারেন তাহলেই আমার এ প্রচেষ্টা স্বার্থক হবে বলে মনে করি।

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

মহান রব্বুল আলামিনের দয়ায় আজ আপনাদের সামনে নিয়ে আসলাম, হাদীস গ্রন্থ বোখারী শরীফ, মুসলমান মাত্রই জানেন যে মহান আল্লাহ পাকের কালাম পাক “কোরআন” এর পরেই এর অবস্থান। মহা গ্রন্থ পাক কোরআনকে বুঝতে হলে বোখারী শরীফ পড়া একান্তই দরকার, বলা যায় পাক কোরআনের ব্যাখ্যাই হাদীস গ্রন্থ বোখারী শরীফ। এ গ্রন্থটির মুল রচয়িতা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বোখারী (রহঃ) বাংলা অনুবাদ হযরত মাওলানা শামসুল হক ও শায়খুল হাদীছ মাওলানা আজিজুল হক । এখান হতে মোট ১৩টি খন্ডে সম্পুর্ণ বোখারী শরীফটি আপনারা ডাউনলোড করতে পারবেন।