PunBB bbcode test

১।ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী,আজ । ১৮৯৯ সালের এইদিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন, এক দেশের কবিকে নাগরিকত্ব দিয়ে ভিন্ন দেশের জাতীয় কবি বানানো হয়েছে। সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশেই এটা সম্ভব।

২।তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কবি নজরুলকে যখন নাগরিকত্ব দেয়া হয়, তখন কবি বাকশক্তিরহিত ও বোধশক্তিহীন। কবির সম্মতি ছাড়াই বিদেশী কবিকে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব দিয়ে তাকে জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়।

৩। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অপর কবি রবীন্দ্রনাথকে কেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়নি কেন? ইনি হিন্দু ব্রাহ্মধর্মবাদী কবি বলে? অথচ রবীন্দ্রনাথ ছিলেন জমিদার ও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি। অন্যদিকে নজরুল ছিলেন সামান্য হোটেল কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর নিম্নপদস্থ হাবিলদার।

৪। আর আমাদের এই জাতীয় কবিই কিনা বাংলাভাষার সাথে আরবী-উর্দু-ফার্সী শব্দ মিশিয়ে বংলাভাষার সতীত্ব নষ্ট করেছেন অন্যকথায় বংলাভাষার মুসলমানীকরণ(circumcision) করেছিলেন।

৫। তাছাড়া কবির সম্মতি ছাড়াই কবিকে তার জন্মভূমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উঠিয়ে এনে বাংলাদেশে সমাধিস্থ করা হয়। মানুষের একটি স্বাভাবিক আকাংখা জন্মভূমির মাটিতে সমাধিস্থ হওয়া। এক্ষেত্রে সেটিও মানা হয়নি। আমি তো মনে করি কবর থেকে তার দেহাবশেষ উঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় সমাধিস্থ করা হোক। তাহলে তার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।

৬। সেক্ষেত্রে কবির বাকশক্তিরহিত ও বোধশক্তিহীনতাকে স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজে লাগানো হয়েছে।

বইটির ডাউনলোড  লিঙ্ক:  http://bangla-pdf-books.blogspot.com/20 … fiqul.html

PunBB bbcode test
কবি শফিকুল  ইসলাম

উদভ্রান্ত যুগের শুদ্ধতম কবি শফিকুল ইসলাম। তারুণ্য ও দ্রোহের প্রতীক । তার কাব্যচর্চ্চার বিষয়বস্তু প্রেম ও দ্রোহ। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি অনেক গান ও রচনা করেছেন। তার দেশাত্ববোধক ও সমাজ-সচেতন গানে বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।

শফিকুল ইসলামের জন্ম ১০ই ফেব্রুয়ারী, সিলেট জেলা শহরের শেখঘাটস্থ খুলিয়াপাড়ায়। তার পিতার নাম মনতাজ আলী। তিনি পেশায় একজন কাষ্টমস অফিসার ছিলেন। তার মাতার নাম শামসুন নাহার।

শফিকুল ইসলাম সিলেট জেলার এইডেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও মদন মোহন মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে এম,এ ইন ইসলামিক ষ্টাডিজ ডিগ্রী অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শিক্ষাজীবনে অনন্য কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন।

কর্মজীবনে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা  কবি শফিকুল ইসলাম চাকরীসূত্রে বিসিএস(প্রশাসন) ক্যাডারের একজন সদস্য। তার কর্মজীবনের শুরু কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে সহকারী কমিশনার হিসেবে।তিনি ঢাকার প্রাক্তন মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক এডিসি। এছাড়া ও তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন  কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরে উপপরিচালক ছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব, অর্থমন্ত্রণালয়ের ইআরডিতে উপসচিব পদে ও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। তিনি সরকারী কাজে  যে সব দেশ ভ্রমণ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বৃটেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনও সিঙ্গাপুর।

লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে স্কুল ম্যাগাজিনে লেখালেখির প্রচেষ্টা থেকে। থেকে। সেটি ছিল ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ। তখন কবি ক্লাস সেভেনে পড়েন। কাব্যচর্চা দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৮০সালে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদের উন্মুক্ত চত্বরে কবিতা পাঠের মাধ্যমে প্রথম জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ।মদন মোহন কলেজে পড়াকালিন তার সম্পাদনায় ‘স্পন্দন’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের হয়। আর সেই ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বের হয়।সেটি ছিল একটি কবিতা। এরপর কলেজ ম্যাগাজিনে তার লেখা কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। চাকরীসূত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মকালীন সময়ে তার কবিতা ও গান বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।পরবর্তীতে স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়।

ছা্ত্রজীবনে ১৯৮১সালে তৎকালীন ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত সাহিত্য প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশ পরিষদ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত হন। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেখক দিবস উদযাপন পরিষদ কর্তৃক লেখক সম্মাননা পদক ২০০৮প্রাপ্ত হন। সম্প্রতি তার জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ এই অনন্য কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নজরুল স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য বিভিন্ন পদকে ভূষিত হন।

আপাতদৃষ্টিতে তাকে অনেকে প্রেম ও বিরহের কবি হিসেবে আখ্যায়িত করলে ও তিনি যে একজন সমাজ-সচেতন কবি তা তার দহন কালের কাব্য ও প্রত্যয়ী যাত্রা কাব্যগ্রন্থ পাঠে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ও বৈষম্য যে তাকে সংক্ষুব্ধ করেছে, অনায়াসে তা উপলব্ধি করা যায়।
কবি শফিকুল ইসলামের হাতে প্রকৃতির সকল বৈচিত্র সমাহৃত হইয়া কবির হাতে নূতন রূপে রূপায়িত হইয়া উঠিয়াছে। তুণাঙ্কুর, ধুলিকণা, শিশিরকণাটি পর্যন্ত নব নব শ্রী ও সম্পদ লাভ করিয়াছে। কবি পাঠকের মনেও সৃজনী-মাধুরীর প্রত্যাশা করিয়া তাঁহার সৃষ্টিকে ব্যঞ্জনাময়ী করিয়াছেন- ছবির আদ্‌রা আঁকিয়া কবি পাঠককে দিয়াছেন তাহার নিজের মনের রং দিয়া ভরিবার জন্য। কবি কবিতাকে নব নব রূপ দান করিয়াছেন। তিনি নিজের সৃষ্টিকে নিজেই অতিক্রম করিয়া নূতন রূপসৃষ্টি করিয়াছেন। কবি নব নব ছন্দ আবিস্কার করিয়াছেন। তাঁহার বাগ-বৈভবে ও প্রকাশ ভঙ্গিমায় কবি মানসের যে একটি অভিনব রূপ তিনি প্রকাশ করিয়াছেন তাহা বিস্ময়কর।
তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ ঃ একুশে বইমেলায় বিভিন্ন সময়ে তার কাব্যগ্রস্থ প্রকাশিত হয়।এই ঘর এই লোকালয়(২০০০) প্রকাশিত হয় প্রবর্তন প্রকাশন থেকে । একটি আকাশ ও অনেক বৃষ্টি(২০০৪) প্রকাশিত হয় আমীর প্রকাশন থেকে।  তবু ও বৃষ্টি আসুক(২০০৭) ও শ্রাবণ দিনের কাব্য (২০১০) প্রকাশিত হয় আগামী প্রকাশনী থেকে । দহন কালের কাব্য(২০১১) ও প্রত্যয়ী যাত্রা(২০১২) প্রকাশিত হয় মিজান পাবলিশার্স থেকে। গীতি সংকলন ঃ মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর(২০০৮) প্রকাশিত হয় আগামী প্রকাশনী থেকে। এছাড়া রয়েছে আড়াই হাজারের অধিক গান নিয়ে ‘শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ গীতিকবিতা’ নামের পাচ খণ্ড বিশিষ্ট গ্র্ন্থ। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন লেখক, সাহিত্যিক. অধ্যাপক, আমলা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক তার রচিত সাহিত্যকর্মের উপর আলোচনা ও গবেষণা করেছেন।

সকল স্রষ্টার সৃজনীপ্রতিভা যে ভাবে ক্রমবিকাশ লাভ করে কবি শফিকুল ইসলাম প্রতিভার বিকাশও সেই ভাবেই হইয়াছে। প্রথম যৌবনে অন্তর্গূঢ় প্রতিভার বিকাশ-বেদনা তাঁহাকে আকুল করিয়াছে– তখন কুঁড়ির ভিতর কেঁদেছে গন্ধ আকুল হয়ে, তখন ‘কস্তুরীমৃগসম’ কবি আপন গন্ধে পাগল হইয়া বনে বনে ফিরিয়াছেন। প্রথম জীবনের রচনায় এই আকুলতার বাণী, আশার বাণী, উৎকন্ঠা, উচ্চাকাঙ্খা, সংকল্প, ক্ষণিক নৈরাশ্যে আত্মসাধনা, মহাসাগরের ডাক, বাধা বিঘ্নের সহিত সংগ্রাম ইত্যাদির কথা আছে।
বাস্তবিক কবি শফিকুল ইসলামের সমস্ত রচনার মধ্যে এই সীমাকে উত্তীর্ণ হইয়া অগ্রসর হইয়া চলিবার একটি আগ্রহ ও ব্যগ্র তাগাদা স্পষ্টই অনুভব করা যায়। যাহা লব্ধ তাহাতে সন্তুষ্ট থাকিয়া তৃপ্তি নাই, অনায়ত্তকে আয়ত্ত করিতে হইবে, অজ্ঞাতকে জানিতে হইবে, অদৃষ্টকে দেখিতে হইবে- ইহাই কবি শফিকুল ইসলামের কথা।
সাধারণ কবিদের মত তিনি ভাববিলাসিতায় ভেসে যাননি। ভাবের গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকে অবলুপ্ত করে দেননি। প্রকৃত কবির মত তার কবিতায় কাব্যিক মেসেজ অনায়াসে উপলব্ধি করা যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে কি সে মেসেজ? তার কাব্যসৃষ্টিতে সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার নিগূঢ় দর্শন অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মত প্রবহমান। তার ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় কবি বলেছেনঃ-
“তারও আগে বৃষ্টি নামুক আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে,
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক-
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি…”
(কবিতাঃ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’)
পংক্তিগুলো পাঠ করে নিজের অজান্তে আমি চমকে উঠি। এতো মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে বিশ্ব মানবের অব্যক্ত আকাংখা যা কবির লেখনীতে প্রোজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এতো শুধু কবির কথা নয়, এতো একজন মহামানবের উদ্দীপ্ত আহ্বান। তার কবিতা পাঠে আমি অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন একজন মহামানবের পদধ্বনি শুনতে পাই। যিনি যুগ মানবের অন্তরের অপ্রকাশিত আকাংখা উপলব্ধি করতে পারেন অনায়াসে আপন অন্তরের দর্পণে। তাই তিনি বিশ্ব মানবের কবি। বিশ্বমানবতার কবি।
বর্তমানে www.grontho.com, sheiboi.com, www.chorui.com, bengaleboi.com এবং www.noboboi.com, www.eakash.com সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে এবং banglapdf.net, www.boighar.com, kazirhut.com, www.boilovers.comwww.boierdunia.in সহ বিভিন্ন ফোরাম থেকে তার রচিত বইসমূহ ডাউনলোড করা যায়।এছাড়া গুগোল প্লে-ষ্টোরে রয়েছে তার রচিত বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার, যা তাৎক্ষণিকভাবে ডাউলোড করে পাঠ করা যায়। ফেসবুক গ্রুপ এবং ইউটিউবেও রয়েছে তার রচিত কবিতা আবৃত্তি ও গানের অসংখ্য ভিডিও। বর্তমানে www.rokomari.com থেকে অনলাইনে(Help: 16297 অথবা 01519521971 ফোন নাম্বারে) সরাসরি তার সকল বই  সংগ্রহ করা যায়।
                                                                                                                                             -- লেখক : নিজাম ইসলাম

PunBB bbcode test
খুনী একবারই খুন করে
বারবার কষ্ট দেয়না,
তুমি এ হৃদয় খুন করেছ শতবার
তোমার নিষ্ঠুরতার নেই তুলনা।

আমার-ই রক্তে রাঙানো লাল শাড়ী পরে
বধু সেজে চলে গেছ অন্যের ঘরে,
প্রেমিক না হয়ে কেন তুমি খুনি হলেনা।

কেউ টের পায়নি তুমি যে কি করে
তিলে তিলে আমায় গেছ নিঃস্ব করে,
তোমার রূপের আড়ালে যে ছুরিটা লুকানো
কেউ দেখতে পায়না ।।

PunBB bbcode test
কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় । তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।

কবি তারই অকৃত্রিম পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবুকে নিয়ে রচিত ‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠ সমকামী কবিতা !! বহুল আলোচিত কবিতা বলেই এর ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন থেকে কবিতাটি একইভাবে পাঠ করা হচ্ছে। বেশীরভাগ পাঠক কবিতাটি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা নিয়ে কবিতাটি পাঠ করছেন। যার ফলে কবিতাটি তার বহুমাত্র্র্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন নীচে তুলে ধরলামঃ-

বনলতা সেন কি নারী না পুরুষ কবিতটিতে তা স্পষ্ট নয়।”অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” এবং “পাখীর নীড়ের মত চোখ” নারী/পুরুষ যে কারো থাকতে পারে। বরং দীঘল কেশ,কাজল-টানা চোখ এর কথা উল্লেখ থাকলে বনলতা সেন যে আসলেই একজন নারী তা নিশ্চিত হওয়া যেত।

পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন রমণীয় পোষাক যেমন, শাড়ীর আচল, স্তন-আবরণী উড়না/উত্তরীয় এসবের বর্ণনা নাই। এছাড়া কোনরকম প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?

কবি কি সমকামী ছিলেন ? যতদূর জানা যায় কবির সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ভাল ছিল না, তাই কি গৃহত্যাগী বিবাগী কবি তার পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবু’কে অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন ?

 শুধু চুল,মুখ ও চোখের বর্ণনা নারী দেহের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট কিনা ? নারী দেহের আকর্ষণীয় প্রত্যঙ্গ যেমন, বিল্ব স্তন, পদ্মযোনী, গুরু নিতম্ব এসব বর্ণনার অনুপস্থিতি কি তার নারী-সৌন্দর্যের ঘাটতি কিংবা বনলতা সেন বাবু একজন পুরুষ একথার ইঙ্গিত দেয় না?

পাখীর নীড় বলতে আমরা দেখি, কুড়িয়ে আনা খড়কুটোর নিশ্চল নিষ্প্রাণ বিবর্ণ স্তূপ।কাজেই পাখীর নীড়ের মত চোখ বলতে চোখে-ছানিপড়া ভাবলেশহীন বৃদ্ধার চোখের কথাই মনে আসে।

 “অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” সার্বজনীন উপমা কিনা? [সোনালী চুল ইংরেজদের প্রিয় এবং সরল মুখশ্রী অনেকের পছন্দ]
 “অন্ধকার বিদিশার নিশা” দ্বারা নিষ্প্রদীপ বিদিশা নগরীকে বুঝায় না। কাজেই ঘন-কালো চুলের উপমা হিসেবে এটা সঠিক নয়।
 অন্ধকারে বনলতার সাথে সাক্ষাৎ করে বনলতার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অবলোকন করা সম্ভব কিনা?

 বনলতা সেনের প্রতি কবির প্রেম কি একতরফা?
বনলতা কি শুধুই সৌন্দর্যময়ী না প্রেমময়ী? বনলতা সেন চরিত্রে প্রেম ও সৌন্দর্যের অসম সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়।
 জীবনানন্দের প্রতি বনলতা সেনের প্রকৃতই প্রেম নাকি একজন চরম হতাশাগ্রস্থ পুরুষের প্রতি সহানুভূতি?
 কবি বনলতা সেনকে কেন অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন? [ ডঃ আকবর আলী, প্রাক্তন উপদেষ্টা,তত্ত্বাবধায়ক সরকার টিভি চ্যানেলে একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন]

 বনলতা কি বিবাহিতা না কুমারী? কবির সাথে এই সম্পর্ক কি পরকীয়া?
 কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন বনলতা সেন, এই শান্তি কি শুধুই মানসিক নাকি দৈহিক যৌন তৃপ্তি?
 নাটোরের বনলতা সেন কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন,তবে কবি আর কোথায় শান্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন?
 হাজার বছরের ক্লান্ত কবি মাত্র দুদন্ড শান্তি পাওয়ার কথা অতৃপ্তির সাথে অভিমান-ভরে জানিয়েছেন। কবির এই অপূর্ণ প্রাপ্তির বেদনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। কবিতাটিতে প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশাই প্রধান্য পেয়েছে।
 নাটোরের বনলতা সেন এর সাথে কবির কি নাটোরেই দেখা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও…
 কবি যে সময়ের নাটোরের বনলতা সেন এর কথা বলেছেন সে সময়ে নাটোরে সেন বংশীয়া সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমণী বসবাস করতেন বলে জানা যায় না।

 “বনলতা সেন” কবিতা জুড়ে একজন পর্যটকের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে নাকি একজন প্রেমিকের উচ্ছাস প্রাধান্য পেয়েছে?
 কবি কি শুধুই ভ্রমণ-ক্লান্ত ছিলেন নাকি দেহে-মনে অতৃপ্ত ছিলেন?
 বনলতার সাথে কবির এই মিলন দুটি অসমবয়সী নর-নারীর মিলন কিনা,কারণ দীর্ঘ পথচলার শেষে কবি বনলতা সেনের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই কি অসমবয়সী কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েই বনলতা সেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন?
 কবি কি শেষ পর্যন্ত একজন প্রত্যাখাত পুরুষ ? জীবনানন্দ ছিলেন দাশ বংশীয় আর বনলতা ছিলেন সেন বংশীয়া- এ জন্যই কি বননলতা অসবর্ণ সম্পর্কে সম্মত হননি।

 কবিকে বনলতা সেনের তির্যক প্র্রশ্ন– এতদিন কোথায় ছিলেন’? বনলতা সেন কি কবিকে সন্দেহ করতেন? মনে হয় অন্ধকারে সাক্ষাৎ করতে আসায় বনলতা সেন কবির উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন।
 বনলতা সেন কবিকে খুব বেশী ভালবাসতেন বলে মনে হয় না। কারণ কবি এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে ও কেমন ছিলেন জানতে চাওয়া হয়নি। কাজেই দীর্ঘ অদর্শনের পর নায়ক-নায়িকার আবেগময় সাক্ষাৎ এখানে অনুপস্থিত।
 বনলতা সেন কি কবিকে অনাগ্রহের সাথে বরণ করেছিলেন ,না হয় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে সাদর অভ্যর্থনার বর্ণনা কবিতাটিতে অনুপস্থিত কেন?
 অন্ধকারে কবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও বনলতা কেন প্রদীপ জ্বালেননি ? অন্ধকারের সাক্ষাৎ পর্বটি প্রচলিত নৈতিকতা-বিরোধী কিনা?

 “ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল”–’রোদের রঙ’ এর জায়গায় ‘রোদের গন্ধ’ লেখার মত ভুল তথ্য কি একজন কবির কাছ থেকে আদৌ প্রত্যাশিত ? কবি কি বর্ণান্ধ ছিলেন?
 তাছাড়া কবির চিন্তাধারায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। হাজার বছর পথ হাটার কথা বলে পরক্ষণেই জলপথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরের বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হয় কবি চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
 মালয় সাগরের আদৌ কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব আছে কিনা? এখানে কবির ভৌগলিক জ্ঞানের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

 কবির ভৌগলিক বর্ণনা প্রাচীন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সীমিত — তাহলে এই বর্ণনা কিভাবে সকল দেশ কালের পুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে? এটি এশিয়াবাসী হতাশাগ্রস্থ পুরুষের নারীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
 বনলতা সেন কবিতায় সাগর,সবুজ ঘাসের দ্বীপ,হালভাঙা নাবিক,নদীর উল্লেখ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজে দীর্ঘদিন নারীসঙ্গবর্জিত নাবিকদের কথা মনে আসে। এটি স্থলভাগের পুরুষের স্বগতোক্তি কখনো নয়। সার্বজনীন পুরুষ এখানে অনুপস্থিত।
 কবি মাত্র্র হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেটেছেন– এ দ্বারা কবি হাজার বছরের পুরুষের কথাই বলেছেন,বক্তব্যটি সর্বকালের পুরুষকে ধারণ করেনি।
 কবিতাটিতে আদিম যুগের শিকারী ও শিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরুষ শিকারী তার নারী শিকারকে খুজে বেড়ায়। এখানে ও নারী পুরুষের অসম আচরণ পরিলক্ষিত হয়। অর্থ্যাৎ পুরুষ সকর্মক নারী অকর্মক/নিষ্ক্রিয়।
 ‘মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’ থেকে বোঝা যায় কবি ও বনলতা সেন সম্ভবত খুব ঘনিষ্ট ছিলেন না, না হলে উভয়ে পাশাপশি না বসে মুখোমুখি বসেছিলেন কেন? অর্থ্যাৎ বনলতা সেন কবির থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

 বনলতা সেন চরিত্রটি (সুন্দরী,অহংকারী,পুরুষবিদ্বেষী যিনি পুরুষকে দুদন্ড শান্তি দিয়েই ছুড়ে ফেলে দেন এবং স্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক) যা সুন্দরী নারীদের বহুগামীতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়।
 জীবনানন্দ চরিত্রটি (ভীতু,হতাশাগ্রস্থ,অতিমাত্রায় নারীপ্রেমিক যিনি নারীকেই শান্তি-স্বরূপা বলে মনে করেন,ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি তাকে কোন শান্তি দিতে পারে না) যিনি নারীর নিকট কাতর আবেদন-নিবেদনে অভ্যস্ত এবং নারীকে স্থায়ীভাবে অধিকার করতে জানেন না।
 বনলতা সেন কবিতায় ধূসর জগত,অন্ধকার বিদিশার নিশা,থাকে শুধু অন্ধকার– এসব বর্ণনা থেকে বলা যায় এটি একটি বিবর্ণ বর্ণের কবিতা।

 তাই সবশেষে বলা যায় হাজার বছর ধরে অনোন্যপায় পুরুষ যে নারীর আকাংখা করে এসেছে তাকে না পেয়ে কল্পনায় কিছু সুখ খুজে নিয়ে বাচতে চেয়েছে। একজন কবি হযত হাজার বছর নারীর সন্ধান করে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেন এর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন কিন্তু একজন প্রকৃত নারীর সন্ধান লাভের জন্য পুরুষ জাতিকে হয়তো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে বনলতা সেনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাম্য নারী হতে পারে না।।

ভিসিট: http://www.blogymate.com/blog/sfk505

Download Book:    http://noboboi.com/product/view/sulota-tumar-jonno
PunBB bbcode test
জীবনের নিঃসঙ্গ বন্ধুর পথ চলতে চলতে
আকস্মিক তার সাথে দেখা।
অজানা, অচেনা
তবু যেন কত পরিচিত,
যুগ জন্মান্তরের চেনা।
ভাবি এই বুঝি আমার ঠিকানা,
এখানেই বুঝি পথচলা শেষ।
এখানেই বুঝি ভালবাসার ছায়ায় বিশ্রাম
অবিরাম বিশ্রাম।

কিন্তু সব ভাবনা কি সত্যি হয়,
একদিন কাছে এসে ও কাছের মানুষ হারিয়ে যায়।
আবার এই আমি সেই আমি হয়ে যাই।
অসহায়,নিঃসঙ্গ,বিপন্ন।
লক্ষ্যবিহীন শুরু হয় আবার পথচলা।

যে যায় সেকি ফিরে আসে।
আসে না।
আসবে না একম ও তো বলা যায় না।
আসতে ও তো পারে।
এটি যুক্তির কথা।
বাস্তবতা এই–
তার সন্ধান আর মেলেনি।

ফিরে আসবে একথা ভেবে কল্পনায় সুখ
পাওয়া ও যেতে পারে।
বাস্তবে নয়।
তখন বুঝতে পারি, বেশ বুঝতে পারি
সে আর ফিরবে না…
অনন্তকাল প্রতীক্ষার নামই বুঝি ভালবাসা ।।

বইটির ডাউনলোড  লিঙ্ক:  http://noboboi.com/product/view/protibadi-kobita

কবি শফিকুল ইসলাম বিপ্লবী কবি। তার কাব্যের বিষয়বস্তু’ হচ্ছে সাম্যবাদী চেতনা। তার লক্ষ্য শোষণ বঞ্চনা নিপীড়ন নির্যাতনে নিষ্পেষিত মানুষের মুক্তি অণ্বেষা।

তার দুটি প্রতিবাদী কাব্যগ্রন্থ ‘দহন কালের কাব্য’ ও ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’ কাব্যগ্রন্থসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংকলনে প্রকাশিত কবিতা নিয়ে ‘কবি শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী কবিতা’ নামে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হল।
আজকে সীমাহীন শোষণ নির্যাতন নির্লজ্জ ও নির্দয়ভাবে তার মুখোশ উন্মোচন করে  প্রকাশ্যে অবাধে উদ্ধতভাবে তার  কালো থাবা বিস্তার করেছে।

প্রতিবাদ,বিবেকের আহ্বান,নৈতিক চেতনার বাণী কিছুরই ধার ধারছে না  কায়েমী স্বার্থবাদী পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা।

তাই আজ বৈষম্যরিোধী, মানবতাবাদী, প্রতিবাদী জনগোষ্ঠীকে তাদের চেতনা আরো শাণিত করতে হবে। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিই পারে একজন আদর্শবাদী, ত্যাগী বিপ্লবী মানস তৈরী করতে।

তাই আজকের বিপ্লবীকে আরো বেশী বেশী প্রতিবাদী সাহিত্য অধ্যয়ন ও অনুশীলন করতে হবে। কবির সংগ্রামী চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে পথে-প্রান্তরে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।‘কবি শফিকুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী কবিতা’ গ্রন্থটি আজকের দিনে তাই একান্ত প্রাসঙ্গিক।

PunBB bbcode test
জীবনের নিঃসঙ্গ বন্ধুর পথ চলতে চলতে
আকস্মিক তার সাথে দেখা।
অজানা, অচেনা
তবু যেন কত পরিচিত,
যুগ জন্মান্তরের চেনা।
ভাবি এই বুঝি আমার ঠিকানা,
এখানেই বুঝি পথচলা শেষ।
এখানেই বুঝি ভালবাসার ছায়ায় বিশ্রাম
অবিরাম বিশ্রাম।

কিন্তু সব ভাবনা কি সত্যি হয়,
একদিন কাছে এসে ও কাছের মানুষ হারিয়ে যায়।
আবার এই আমি সেই আমি হয়ে যাই।
অসহায়,নিঃসঙ্গ,বিপন্ন।
লক্ষ্যবিহীন শুরু হয় আবার পথচলা।

যে যায় সেকি ফিরে আসে।
আসে না।
আসবে না একম ও তো বলা যায় না।
আসতে ও তো পারে।
এটি যুক্তির কথা।
বাস্তবতা এই–
তার সন্ধান আর মেলেনি।
ফিরে আসবে একথা ভেবে কল্পনায় সুখ
পাওয়া ও যেতে পারে।
বাস্তবে নয়।

তখন বুঝতে পারি, বেশ বুঝতে পারি
সে আর ফিরবে না…
অনন্তকাল প্রতীক্ষার নামই বুঝি ভালবাসা ।।

visit:  http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

PunBB bbcode test
পর্যালোচনায়- ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী
সাবেক মহাপরিচালক,
বাংলা একাডেমী।

‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কবি শফিকুল ইসলামের  শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। তার কবিতা  আমি ইতিপূর্বে  পড়েছি । ভাষা বর্ণনা প্রাঞ্জল এবং তীব্র  নির্বাচনী। “তবুও  বৃষ্টি  আসুক” গ্রন্থে  মোট ৪১ টি কবিতা  রচিত হয়েছে। প্রথম  থেকে শেষ  পর্যন্ত এ গ্রন্থ  পাঠ  করে  পূর্বেই  বলেছি, মন অনাবিল তৃপ্তিতে ভরে যায়।

বইটির প্রথম কবিতায় মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে কবির চাওয়া বিশ্ব মানবের সার্বজনীন আকাংখা হয়ে ধরা দিয়েছে। কবি বলেছেন–
‘তারও আগে বৃষ্টি নামুক
আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক,
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা,হৃদয়ের গ্লানি…
(কবিতা:“তবুও  বৃষ্টি  আসুক”)

প্রকৃতি ,প্রেম,নারী ,মুক্তিযোদ্ধা, মা এবং  সুলতা নামের এক  নারী  তার হৃদয়  ভরে রেখেছে। তাকে  কিছুতেই  ভোলা যায় না। মা তার  কাছে  অত্যন্ত  আদরের ধন। মাকে তার বারবার  মনে পড়ে।

মনে পড়ে  সুন্দরী  সুলতাকে, যে তার হৃদয়ে  দোলা দিয়েছিল। বেচারা তার জীবন, মৃত্যুহীন মৃত্যু  । তাই  তিনি  এখন ও  সুলতাকে  খুঁজেন । যার জন্য তিনি  অনন্তকাল  প্রতীক্ষায়  আছেন।  এই  প্রিয়তমা  তার হৃদয়-মন ভরে  আছে।  নদীর জল ও  তীরের মত  এক  হয়ে  মিশে  আছে । এই  প্রেম  বড়ই  স্বর্গীয় ,বড়ই  সুন্দর । একে ভোলা যায় না। প্রকৃতি  আর  সুলতা  কখন   একাকার  হয়ে  যায়  হৃদয়ে।

কাব্য গ্রন্থটি পড়ে আমার খুব ভাল লেগেছে। বইটির ছাপা অত্যন্ত সুন্দর। ধ্রুব এষের প্রচছদ  চিত্রটি  অত্যন্ত  প্রশংসনীয়।
——————–
[গ্রন্থের নাম- ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ- ধ্রুব এষ। প্রকাশক- আগামী প্রকাশনী,৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। ফোন- ৭১১১৩৩২,৭১১০০২১। মোবাইল- ০১৮১৯২১৯০২৪।

http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201205101336660592_Protoyee_Jatra.jpg
-মুহাম্মদ শামসুল হক শামস্
কবি ও গীতিকার ।

*** কাব্যমনস্ক বিবেকী সত্তার মানুষ, সত্য সাধনায় অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহসের নির্ভীক ব্যক্তিত্ব শফিকুল ইসলামের লেখার ভান্ডারে সঞ্চিত পান্ডুলিপি থেকে ইতোমধ্যে তার বেশ কয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । আলোচিতব্য কাব্যগ্রন্থ “প্রত্যয়ী যাত্রা” তারই সাম্প্রতিক প্রয়াস । তার নিরলস প্রয়াস প্রমাণ করে যে, তার অপ্রতিরুদ্ধ্ গতি থামবার নয়, অন্যায়ের কাছে মিথ্যার কাছে আপোষ করবার মত নয়। আর তার নিরন্তর চেষ্টার মাঝে তিনি তার অনন্য কাব্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন বলেই প্রতিভাত হয় আমাদের কাছে ।

*** বাহুল্য শব্দের অলংকার, অনুপ্রাস বিবর্জিত আধুনিক সাহিত্য মুলতঃ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে বাংলাদেশ দিয়ে তার রক্তাক্ত অভিযাত্রা আরম্ভ করে । এই অভিযাত্রায় যারা কাব্য চর্চা করে খ্যাতমান তারা অনেক । তাদের মাঝে যারা বর্তমান তারা আক্ষরিক অর্থে নবীন হলেও লেখালেখির সাথে জড়িত বহুদিন ধরে । যেমন ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’র কবি শফিকুল ইসলাম ।

*** কবি শফিকুল ইসলাম শুধু কবি নন, তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার । তার কাব্য প্রতিভা আর গীতিকার সত্তার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সুরেলা ছন্দে রচিত ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’ গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষার এক অনবদ্য সৃষ্টি ।

*** কোন দেশ বা জাতির নিপীড়িত মানুষের কষ্ট কান্না বঞ্চনার চিত্র দেখে কখনো কোন বিবেকবান সচেতন মানুষ স্থির থাকতে পারেনা । প্রকৃত অর্থে যারা কবি তারা বিবেকের তাড়নায় মজলুমের সঙ্গে আরম্ভ করেন লেখার সংগ্রাম । আলোচ্য প্রত্যয়ী যাত্রা গ্রন্থে অনলবর্ষী শব্দে রচিত সর্বমোট তেত্রিশটি সাবলিল কবিতা স্থান পেয়েছে। কবিতাগুলো গীতি কবিতার আঙ্গিকে রচিত বিধায় ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’ গ্রন্থটি মুলতঃ অধিকার বঞ্চিত মেহেনতী মানুষের গীতাঞ্জলী ।

*** জীবনের যন্ত্রনায় মানুষ যখন অতিষ্ট হয়ে যায় তখন সে তার অধিকার আদায়ের ব্রতে নেমে আসে প্রকাশ্য রাজপথে । আর কবির কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে থাকে-
“আমরা এবার নেমেছি পথে
আঁখিজলে নয় বুকের শোণিতে
অনেক দুঃখে ও যন্ত্রনাতে
জয় করে নিতে বৈরী জীবনটাকে।”

সত্য দাবীর কাছে অন্যায় চিরদিন পরাজিত । এই বিশ্বাস এই প্রত্যয় যে যাত্রীর সে এ-ও জানে যে তার অভিষ্ট লক্ষ্য কি । আর তখন সে নিশ্চিত করে বলতে পারে-

“আমাদের লক্ষ্য আছে জানা
আমরা কজন ভয়ভীতি মানিনা
উদ্যত মৃত্যুকে পরোয়া করিনা-
এগিয়ে যাব দ্বিধাহীন আলোর-পথযাত্রী।”

*** ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’ গ্রন্থে বিপ্লবী আদর্শে, লক্ষ্যে ও চেতনায় রচিত ছাব্বিশটি কবিতা ভিন্ন আঙ্গিকে রচিত এক একটি জাগরনী শ্লোগান এবং বাংলা সাহিত্যের জন্যে এক অমুল্য সম্পদ । বাকী সাতটি কবিতার মাঝে ফুটে উঠেছে এ দেশের প্রান-কেন্দ্র এ দেশের রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত শহুরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষোভ আর মনস্তাপ !

যেমন ‘ঢাকার গান’ কবিতায় আছে-

“কত লোক আসে যায় এখানে
আপন আপন ভাগ্যের অণ্বেষণে
কেউ দুর্ভাগ্য নিয়ে ফিরে যায়
কারো ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা।”
আরো বঞ্চনা আরো কষ্টের চিত্র খুঁজে পাই ‘ঢাকা আমার স্বপ্নের নগরী ঢাকা’ কবিতায়-

“এখানে আলোর নীচে জমে অন্ধকার,
উঁচু প্রাসাদ ইমারতের সাথে
পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলে বস্তির সমাহার ।”

*** সমাজে বঞ্চিত শোষিত মানুষের কষ্ট আর বঞ্চনাকে উপজীব্য করে কবিতা লিখে অনেকে । কিন্তু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর সত্যকে সরাসারি বলার সাহস রেখে কবিতা লিখেছে এমন কবির সংখ্যা হাতে-গুনা। ‘প্রত্যয়ী যাত্রা’র কবি শফিকুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে একজন ব্যতিক্রম প্রতিভা। তার কাব্য প্রতিভা তার কাঙ্খিত আসন সৃষ্টি করে দেবে এই প্রত্যয় আমার আছে।

[গ্রন্থের নাম-‘প্রত্যয়ী যাত্রা’লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রকাশক- মিজান পাবলিশার্স ৩৮/৪বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০। ফোন-৯৫১২৯৪৬,৭১১১৪৩৬। মোবাইল- ০১৫৫২৩৯১৩৪১।

http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201205051336238436_of%20images.jpeg
রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস
(শ্রদ্ধেয় স্যার কবি শফিকুল ইসলামকে নিবেদিত)

একটি নক্ষত্র অস্তমিত হলে
আমরা তার প্রস্থান পানে চেয়ে রইলাম দীর্ঘ সময়
আরো কিছু আলোক রশ্মির প্রয়োজন ছিল।

একটি সাদা বক নিজস্ব ভাষায় ডেকে নিয়ে স্বজাতিদের
ফিরে গেলো নীড়ে।

আমরা যারা নক্ষত্রের অনুজ
অর্ধমৃত অন্তরাত্মা পুড়ে
ইটভাটার ভেতর ভেতর যেমন
ঘুরপাক খায় অগ্নিরাশি।

আমাদের আহত শরীরে ক্ষতের প্রলেপ দিতে
কিছু কৃষ্ণ হাত এগিয়ে আসে
সম্মিলিত আলোর বর্ণচ্ছটায়
ওদের অস্তিত্ব ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যায় বাতাসে।

হাসতে হাসতেই আমরা বলি
হে নক্ষত্র মানব - আপনি ভালো থাকবেন,
অন্তত কাকদের কর্কশধ্বনি আর
শুনতে হবে না আপনাকে ।।

visit:  http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

PunBB bbcode test
'বহুদিন পর-গোলাপের চাষাবাদ'
--রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস
(বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার কবি শফিকুল ইসলামের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত পংক্তিমালা)

তোমার ভালবাসার সুরভি
বিমোহিত করেছে আমায়,আমাদের।
বহুদিন পর অনুর্বর মৃত্তিকা ভেদ করে
উঠে আসছে নতুন আলো।
এখানে এখোন গোলাপের চাষাবাদ অবিরত
আশাহত পথিকের সামনে কে যেন দাড়িয়ে আছে
টর্চ হাতে।

আমরা তাকে এতটা চিনি না-
যারা চিনেছে তারা বলেছে শব্দভূক।
নাক্ষত্রিক রোদে শোভন অন্ধকার ভেদ করে
অসীম সাগরে সে এক নাবিক।

তোমাকে ভালবাসা যায়
খুব কাছের মনে হয় তোমাকে,
এসো তবে আজ হল্লা করি।
আউডার আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসছে রমণীরা
সুলতার হাত ধরে,
তার সম্মানে আড্ডা হবে আজ॥

কবির জীবন ও কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ-
http://www.facebook.com/sfk505

PunBB bbcode test
‘বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন!!! কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় । তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।

তারই রচিত ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে বহুল আলোচিত বলেই এর ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন থেকে কবিতাটি একইভাবে পাঠ করা হচ্ছে। বেশীরভাগ পাঠক কবিতাটি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা নিয়ে কবিতাটি পাঠ করছেন। যার ফলে কবিতাটি তার বহুমাত্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ’বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন নীচে তুলে ধরলামঃ

বনলতা সেন কি নারী না পুরুষ কবিতটিতে তা স্পষ্ট নয়।”অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” এবং “পাখীর নীড়ের মত চোখ” নারী/পুরুষ যে কারো থাকতে পারে। বরং দীঘল কেশ,কাজল-টানা চোখ এর কথা উল্লেখ থাকলে বনলতা সেন যে আসলেই একজন নারী তা নিশ্চিত হওয়া যেত।
পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন রমণীয় পোষাক যেমন, শাড়ীর আচল, স্তন-আবরণী উড়না/উত্তরীয় এসবের বর্ণনা নাই। এছাড়া কোনরকম প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?

পাখীর নীড় বলতে আমরা দেখি, কুড়িয়ে আনা খড়কুটোর নিশ্চল নিষ্প্রাণ বিবর্ণ স্তূপ।কাজেই পাখীর নীড়ের মত চোখ বলতে চোখে-ছানিপড়া ভাবলেশহীন বৃদ্ধার চোখের কথাই মনে আসে।

 বনলতা সেনের প্রতি কবির প্রেম কি একতরফা? বনলতা কি শুধুই সৌন্দর্যময়ী না প্রেমময়ী?
 জীবনানন্দের প্রতি বনলতা সেনের প্রকৃতই প্রেম নাকি একজন চরম হতাশাগ্রস্থ পুরুষের প্রতি সহানুভূতি?
 শুধু চুল,মুখ ও চোখের বর্ণনা নারী দেহের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট কিনা ? নারী দেহের আকর্ষণীয় প্রত্যঙ্গ যেমন, বিল্ব স্তন, পদ্মযোনী, গুরু নিতম্ব এসব বর্ণনার অনুপস্থিতি কি তার নারী-সৌন্দর্যের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় না?
 কবি বনলতা সেনকে কেন অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন? [ ডঃ আকবর আলী, প্রাক্তন উপদেষ্টা,তত্ত্বাবধায়ক সরকার টিভি চ্যানেলে একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন]

 বনলতা কি বিবাহিতা না কুমারী? কবির সাথে এই সম্পর্ক কি পরকীয়া?
 কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন বনলতা সেন, এই শান্তি কি শুধুই মানসিক নাকি মনোদৈহিক?
 নাটোরের বনলতা সেন কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন,তবে কবি আর কোথায় শান্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন?
 নাটোরের বনলতা সেন এর সাথে কবির কি নাটোরেই দেখা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও…
 কবি যে সময়ের নাটোরের বনলতা সেন এর কথা বলেছেন সে সময়ে নাটোরে সেন বংশীয়া সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমণী বসবাস করতেন বলে জানা যায় না।

 “বনলতা সেন” কবিতা জুড়ে একজন পর্যটকের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে নাকি একজন প্রেমিকের উচ্ছাস প্রাধান্য পেয়েছে?
 কবি কি শুধুই ভ্রমণ-ক্লান্ত ছিলেন নাকি দেহে-মনে অতৃপ্ত ছিলেন?
 বনলতার সাথে কবির এই মিলন দুটি অসমবয়সী নর-নারীর মিলন কিনা,কারণ দীর্ঘ পথচলার শেষে কবি বনলতা সেনের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই কি অসমবয়সী কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েই বনলতা সেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন?
 কবি কি শেষ পর্যন্ত একজন প্রত্যাখাত পুরুষ ? জীবনানন্দ ছিলেন দাশ বংশীয় আর বনলতা ছিলেন সেন বংশীয়া- এ জন্যই কি বননলতা অসবর্ণ সম্পর্কে সম্মত হননি।

 কবিকে বনলতা সেনের তির্যক প্র্রশ্ন– এতদিন কোথায় ছিলেন’? বনলতা সেন কি কবিকে সন্দেহ করতেন? মনে হয় অন্ধকারে সাক্ষাৎ করতে আসায় বনলতা সেন কবির উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন।
 বনলতা সেন কবিকে খুব বেশী ভালবাসতেন বলে মনে হয় না। কারণ কবি এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে ও কেমন ছিলেন জানতে চাওয়া হয়নি। কাজেই দীর্ঘ অদর্শনের পর নায়ক-নায়িকার আবেগময় সাক্ষাৎ এখানে অনুপস্থিত।
 বনলতা সেন কি কবিকে অনাগ্রহের সাথে বরণ করেছিলেন ,না হয় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে সাদর অভ্যর্থনার বর্ণনা কবিতাটিতে অনুপস্থিত কেন?

 “অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” সার্বজনীন উপমা কিনা? [সোনালী চুল ইংরেজদের প্রিয় এবং সরল মুখশ্রী অনেকের পছন্দ]
 “অন্ধকার বিদিশার নিশা” দ্বারা নিষ্প্রদীপ বিদিশা নগরীকে বুঝায় না। কাজেই ঘন-কালো চুলের উপমা হিসেবে এটা সঠিক নয়।
 অন্ধকারে বনলতার সাথে সাক্ষাৎ করে বনলতার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অবলোকন করা সম্ভব কিনা?
 পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?
 অন্ধকারে কবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও বনলতা কেন প্রদীপ জ্বালেননি ? অন্ধকারের সাক্ষাৎ পর্বটি প্রচলিত নৈতিকতা-বিরোধী কিনা?

 “ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল”–’রোদের রঙ’ এর জায়গায় ‘রোদের গন্ধ’ লেখার মত ভুল তথ্য কি একজন কবির কাছ থেকে আদৌ প্রত্যাশিত ? কবি কি বর্ণান্ধ ছিলেন?
 তাছাড়া কবির চিন্তাধারায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। হাজার বছর পথ হাটার কথা বলে পরক্ষণেই জলপথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরের বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হয় কবি চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
 মালয় সাগরের আদৌ কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব আছে কিনা? এখানে কবির ভৌগলিক জ্ঞানের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

 কবির ভৌগলিক বর্ণনা প্রাচীন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সীমিত — তাহলে এই বর্ণনা কিভাবে সকল দেশ কালের পুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে? এটি এশিয়াবাসী হতাশাগ্রস্থ পুরুষের নারীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
 বনলতা সেন কবিতায় সাগর,সবুজ ঘাসের দ্বীপ,হালভাঙা নাবিক,নদীর উল্লেখ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজে দীর্ঘদিন নারীসঙ্গবর্জিত নাবিকদের কথা মনে আসে। এটি স্থলভাগের পুরুষের স্বগতোক্তি কখনো নয়। সার্বজনীন পুরুষ এখানে অনুপস্থিত।
 কবি মাত্র্র হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেটেছেন– এ দ্বারা কবি হাজার বছরের পুরুষের কথাই বলেছেন,বক্তব্যটি সর্বকালের পুরুষকে ধারণ করেনি।
 কবিতাটিতে আদিম যুগের শিকারী ও শিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরুষ শিকারী তার নারী শিকারকে খুজে বেড়ায়। এখানে ও নারী পুরুষের অসম আচরণ পরিলক্ষিত হয়। অর্থ্যাৎ পুরুষ সকর্মক নারী অকর্মক/নিষ্ক্রিয়।
 ‘মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’ থেকে বোঝা যায় কবি ও বনলতা সেন সম্ভবত খুব ঘনিষ্ট ছিলেন না, না হলে উভয়ে পাশাপশি না বসে মুখোমুখি বসেছিলেন কেন? অর্থ্যাৎ বনলতা সেন কবির থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

 বনলতা সেন চরিত্রটি (সুন্দরী,অহংকারী,পুরুষবিদ্বেষী যিনি পুরুষকে দুদন্ড শান্তি দিয়েই ছুড়ে ফেলে দেন এবং স্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক) যা সুন্দরী নারীদের বহুগামীতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়।
 জীবনানন্দ চরিত্রটি (ভীতু,হতাশাগ্রস্থ,অতিমাত্রায় নারীপ্রেমিক যিনি নারীকেই শান্তি-স্বরূপা বলে মনে করেন,ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি তাকে কোন শান্তি দিতে পারে না) যিনি নারীর নিকট কাতর আবেদন-নিবেদনে অভ্যস্ত এবং নারীকে স্থায়ীভাবে অধিকার করতে জানেন না।
 বনলতা সেন কবিতায় ধূসর জগত,অন্ধকার বিদিশার নিশা,থাকে শুধু অন্ধকার– এসব বর্ণনা থেকে বলা যায় এটি একটি বিবর্ণ বর্ণের কবিতা।

 তাই সবশেষে বলা যায় হাজার বছর ধরে অনোন্যপায় পুরুষ যে নারীর আকাংখা করে এসেছে তাকে না পেয়ে কল্পনায় কিছু সুখ খুজে নিয়ে বাচতে চেয়েছে। একজন কবি হযত হাজার বছর নারীর সন্ধান করে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেন এর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন কিন্তু একজন প্রকৃত নারীর সন্ধান লাভের জন্য পুরুষ জাতিকে হয়তো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে বনলতা সেনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাম্য নারী হতে পারে না।।

————————————–
আরো জানতে ভিজিট করুন …

PunBB bbcode test
রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস

যখন সপ্তর্ষিমন্ডলের দিকে তাকাই
মনে হয় সেখানেও তুমি -
সগর্বে হাটছ সুলতার হাত ধরে
দ্রাঘিমার আরো উপরে-

যে হাত ছুঁয়েছে সুলতার মুখ - গ্রীবা
সে হাত স্পর্শ করেছে হিমাদ্রী।

দিনে দিনে তোমার র্কীতিস্তম্ভ
জমে উঠেছে অন্তহীন বিস্ময় নিয়ে
জ্যোতিষ্কের কক্ষপথে - তুমি অমর পথের যাত্রী।

এক সবুজ আঁচল রমণী হাটে
কবিতার পাতায় পাতায়
টর্চ হাতে - কষ্টের রাতে...

হে কবি তুমি আর সুলতা যখন
বসো পাশাপাশি মুখোমুখি
অবাক তাকিয়ে রয়
একপাশে হিমাদ্রী - অন্যপাশে সপ্তর্ষি ।।

http://blog.bdnews24.com/wp-content/uploads/2011/03/Meg_Bhanga_Ruddur1.jpg
গ্রন্থ পর্যালোচনাঃ “মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর”
–মহিবুর রহিম

“মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর” একটি আধুনিক ধারার সঙ্গীত সংকলন। এগুলোকে গীতধর্মী কবিতা ও বলা যায়। তবে স্বার্থক সঙ্গীতের জন্যে কাব্যগুণের শর্ত তো খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। গ্রন্থটির লেখক বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার শফিকুল ইসলাম মূলত একজন কবি। কবিতা নিয়েই সাহিত্য জগতে তার পদযাত্রা।”এই ঘর এই লোকালয়”, “একটি আকাশ ও অনেক বৃষ্টি”, “শ্রাবণ দিনের কাব্য”, “তবু ও বৃষ্টি আসুক”, 'দহন কালের কাব্য' প্রভৃতি কাব্য গ্রন্থে তার স্বতন্ত্র কাব্য প্রবণতা বিশেষভাবে বিবেচনার দাবী রাখে। আর একজন কবির রচিত সঙ্গীত গ্রন্থে ভাব ও সুরের মিশেলে আমরা পেয়ে যাচ্ছি সংবেদনশীল হৃদয়ানুভূতিকে। শফিকুল ইসলামের কাব্য চর্চ্চার মূল বিষয় ও হৃদয় চর্চ্চা। তিনি বিষয়কে হৃদয় রসে জারিত করে প্রকাশে প্রাণান্ত হয়েছেন। এজন্যই তার এ সঙ্গীত গ্রন্থে ও বিষয়ের মুক্তি ঘটেছে বিশেষভাবেই।

“তোমার হাসি দোলা দিয়ে যাক বন্ধু অধরের কোণে
আমার আখীজল ঢাকা থাক বন্ধু গোপনে।
তোমায় সুখী দেখলে
আমি সব দুঃখ যাই ভুলে
স্বপ্ন শুধু ছড়িয়ে থাক ও দুটি নয়নে”।

মানব হৃদয়ের চিরন্তন প্রেম-বিরহ,অনুরাগ-বিরাগ, আশা-হতাশাসব কিছুকে লেখক গভীর দরদে স্থান দিয়েছেন তার লেখায়। প্রেম সৃষ্টিরএকটি অন্যতম নিয়ামক। প্রেম হৃদয়কে বিচিত্র অনুভূতির মুখোমুখি করে।কখনো বিপুল দুঃখ যাতনায় হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে এবং সমৃদ্ধ করে। তাইপ্রেমিক হৃদয়ের আর্তিগুলো হয় নিখাদ মনের স্বচছ সুন্দর প্রকাশ। শফিকুলইসলামের লেখায় চমৎকার সব অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ ঘটেছে।

“এক পশলা বৃষ্টিতে হয়ে যায় শরতের আকাশ নির্মল
শত বর্ষায় ও কি ফুরাবেনা আমার আখিজল ?
হঠাৎ আসা দমকা হাওয়ায়
প্রদীপশিখা নিমেষে নিভে যায়
শত দীর্ঘশ্বাসে ও নিভে না আমার বুকের অনল।”

বাংলা গানের এক আধুনিক রূপকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সাথে কবিতা ও গান নিয়ে কথা বলার কিছু সুযোগ আমার হয়েছিল। আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার রচিত গানে যে কাব্যধর্মীতার প্রবর্তন করেছিলেন, এই প্রবণতাকে তিনি বাংলা গানের নতুন মুক্তির সন্ধান বলে মনে করতেন।আমার কাছে তার এই ধারণা খুবই যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে। শফিকুল ইসলামের লেখায় এই কাব্যধর্মীতার সমন্বয় আমাকে আশাণ্বিত করেছে।

“আমি অন্ধকার আকাশের তারা, আধারের মাঝে জ্বলি একা একা
আমার গোপন কান্না রাতের গহন আধারে থাকে ঢাকা।
নয়নে আমার কত যে ছিল আশার স্বপন
আজ স্বপ্ন আমার ভেঙ্গেছে,ভেঙ্গেছে মন
অশ্রুভেজা আজ এ দুটি আখি কাজল আকা”।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে জনপ্রিয় বাংলা আধুনিক গানের যে সব বৈশিষ্ট্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় শফিকুল ইসলাম সেই আধুনিক গানের ধারাতেই নিজেকে যুক্ত করতে চেয়েছেন। এ ধারার গানগুলো বিশেষত মননধর্মী। নিসর্গ আশ্রয়ী ক্যানভাসে সুখদুঃখ,বিরহ-বেদনা মূর্ত করে তোলা হয় এসব গানে । উপমা আর চিত্রকল্পে একটি হৃদয়স্পর্শী অনুভূতির ও সন্নিবেশ ঘটে।

“প্রহরের পর প্রহর কেটে যায় আমি একা জেগে থাকি
তারা-ভরা আকাশের পানে মেলে স্তব্ধ নির্বাক দুটি আখি।
কখনো হঠাৎ আসা পবনে
দোলা লাগে ঝাউবনে
কি যে ঝড় বয়ে যায় আমার প্রাণে-
গন্ধশেষ দগ্ধ ধূপের মত আমি একা পড়ে থাকি।

কিংবা

“এই মন হয় রঙিন তোমার কাছে এসে
কথাগুলো গান হয় তোমাকে ভালবেসে।
এই নয়নে যখন রাখো দুনয়ন
এই কাধে হাত রাখো যখন
মন হারায় কোন স্বপনের অজানা দেশে।”

কিংবা

“যতবার ভাবি আর পিছু ডাকব না
দুচোখের জল আর কিছুতে মানেনা মানা।
জানি পিছু ফিরে তাকাবার
নেইতো আজ অবসর তোমার
নয়ন ফেরানো যায় যদি মন তো আর ফেরে না”।

গানের চূড়ান্ত মুক্তি হতে পারে যথার্থ সুরারোপে।”মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর” গ্রন্থের শতাধিক গানের যথার্থ সুরারোপ গানগুলো মননশীল ধারার শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। শফিকুল ইসলাম নীরবে নিভৃতে যে শিল্পবোধ গড়ে তুলেছেন গ্রন্থটি পাঠ করে তার অনায়াসে উপলব্ধি করা যায়।”মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর” গ্রন্থের লেখাগুলোকে লিরিক কবিতা হিসাবে ও বিবেচনা করা যায়। তবে যে ভাবেই বিবেচনা করিনা কেন শফিকুল ইসলামের বেদনাহত হৃদয়ের সংরক্ত শিল্প নির্যাসই এখানে “মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর” হয়ে ধরা দেয়।
৪৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। চমৎকার প্রচ্ছদ করেছে মাশুক হেলাল। গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি।

[গ্রন্থের নাম-"মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর" লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ- মাশুক হেলাল। প্রকাশক- আগামী প্রকাশনী ৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। ফোন-৭১১১৩৩২,৭১১০০২১। মোবাইল- ০১৮১৯২১৯০২৪।]

কবির কাব্যগ্রন্থ পড়তে ভিজিট করুনঃ–
http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

PunBB bbcode test
তবুও বৃষ্টি আসুক...

বহুদিন পর আজ
বাতাসে বৃষ্টির আভাস
সোঁদা মাটির অমৃত গন্ধ-
এখনই বুঝি বৃষ্টি আসবে
সবারই মনে উদ্বেগ-
তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।
তবু আমার মনে নেই বৃষ্টি ভেজার উদ্বেগ
আমার চলায় নেই কোনো লক্ষণীয় ব্যস্ততা।

দীর্ঘ নিদাঘের পর
আকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির সম্ভাবনা
অলক্ষ্য আনন্দ ছড়ায় আমার তপ্ত মনে -
আর আমি উন্মুখ হয়ে থাকি
বৃষ্টির প্রতীক্ষায় -
এখনই বৃষ্টি নামুক
বহুদিন পর আজ বৃষ্টি আসুক।

দীর্ঘ পথে না থাকে না থাকুক বর্ষাতি -
বৃষ্টির জলে যদি ভিজে যায় আমার সর্বাঙ্গ
পরিধেয় পোশাক-আশাক-
তবুও বৃষ্টি আসুক -
সমস্ত আকাশ জুড়ে বৃষ্টি নামুক
বৃষ্টি নামুক মাঠ-প্রান্তর ডুবিয়ে।
সে অমিতব্যয়ী বৃষ্টিজলের বন্যাধারায়
তলিয়ে যায় যদি আমার ভিটেমাটি
তলিয়ে যাই যদি আমি
ক্ষতি নেই।

তবুও বৃষ্টি নামুক
ইথিওপিয়ায়, সুদানে
খরা কবলিত, দুর্ভিক্ষ-পীড়িত
দুর্ভাগ্য জর্জরিত আফ্রিকায়-
সবুজ ফসল সম্ভারে ছেয়ে যাক
আফ্রিকার উদার বিরান প্রান্তর।

তার ও আগে বৃষ্টি নামুক
আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক,
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি।

মানুষের জন্য মানুষের মমতা
ঝর্ণাধারা হয়ে যাক
বৃষ্টির সাথে মিলেমিশে -
সব পিপাসার্ত প্রাণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বয়ে যাক অনন্ত ধারাজল হয়ে।

বহুদিন পর আজ
অজস্র ধারায় অঝোরে বৃষ্টি নামুক
আজ আমাদের ধূলি ধূসরিত
মলিন হৃদয়ের মাঠ-প্রান্তর জুড়ে ॥

PunBB bbcode test
[শোষণ বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রাম চলছে,চলবে।কখনো প্রকাশ্যে কখনো অলক্ষ্যে।কখনো তীব্র কখনো মন্থর গতিতে। থেমে গেলে চলবে না।এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে বিপ্লবীর মৃত্যু আছে, বিপ্লবের মৃত্যু নেই। মানুষের মুক্তির অন্তর্নিহিত আকাংখা বিপ্লবকে চিরজীবি করে রাখবে। ]

সম্মুখে বাধা আছে, পথ বন্ধুর
তবু জানি যেতে হবে বহুদূর...॥

পায়ে ফুটুক যতই কাটা
থামলে চলবেনা এ পথ হাটা
সীমিত সময়,পথ অনেক দূর...॥

চলতে পথে শত কুমন্ত্রণা
হাসিমুখে সয়ে যত যন্ত্রণা
করতে হবে মোকাবিলা শত্রুর॥

সত্যের পথ কুসুমিত নয়
জেনেই বিপ্লবীর চলতে হয়
বিপ্লবী মন পরোয়া করেনা মৃত্যুর॥

[গ্রন্থের নাম-”দহন কালের কাব্য”লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ-আসলাম। প্রকাশক- মিজান পাবলিশার্স ৩৮/৪বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০। ফোন-৯৫১২৯৪৬,৭১১১৪৩৬। মোবাইল- ০১৫৫২৩৯১৩৪১।
visit: http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

http://blog.bdnews24.com/wp-content/uploads/2011/03/SHAFIQ-Journalist2-300x237.jpg
‘উদভ্রান্ত যুগের শুদ্ধতম কবি শফিকুল ইসলাম’
–নিজাম ইসলাম।

তারুণ্যের প্রতীক কবি শফিকুল ইসলাম। তার কাব্যচর্চার বিষয়বস্তু প্রেম ও দ্রোহ। কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি অনেক গান ও রচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার। ১০-ই ফেব্রুয়ারী সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণকারী কবি শফিকুল ইসলাম প্রাক্তন মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এডিসি ও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব। তিনি অর্থর্নীতি, ইসলামিক ষ্টাডিজ ও সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর। প্রশাসনের ব্যস্ততম ও দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে ও তার এই নিরন্তর কাব্য সাধনা আমাদের যুগপৎ অনুপ্রাণিত ও বিস্মিত করে।

কবি শফিকুল ইসলাম একজন সার্থক কবি। সার্থক কবির সকল লক্ষণই তার কাব্য সৃষ্টিতে বর্তমান।যাহা যথার্থ কবিতা, দিব্য কল্পনা যাহাকে জন্ম দিয়াছে, অকৃত্রিম ছন্দ সৌন্দর্য তাহাকে বাহিরে ভূষিত করে এবং ভাবের গভীরতা তাহাকে অন্তরে পরিপূর্ণ করিয়া থাকে। তাহার আনন্দ কল্যাণকে আবাহন করে এবং সৌন্দর্যে তাহা জগতের নিত্যসুন্দর অনির্বচনীয় শব্দার্থসমূহের সমতুল হয়। সাধারণভাবে সংক্ষেপে সংকেত স্বরূপে বলা যাইতে পারে যে, কবিতা অনির্বচনীয় সঙ্গীতের যত সদৃশ এবং যে কবিতায় পাঠক মানবজীবনের প্রসারতা যত অধিক অনুভব করেন তাহা তত শ্রেষ্ঠ। যিনি কথার সাহায্যে একটি সুন্দর চিত্র অঙ্কিত করেন তিনি কবি; কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যিনি শুধু চিত্রাঙ্কনে পরিতুষ্ট না হইয়া তাঁহার ছন্দের মর্মে মর্মে সঙ্গীতের অপূর্ব অপরূপ ঝঙ্কার গুলি আনিতে পারেন। যিনি জীবনের একটি সামান্যতম সত্যকে পরিস্ফুট ও সুন্দর করিয়া তুলিতে পারেন তিনি কবি, কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যাঁহার কবিতায় সমগ্র জীবনের সুগম্ভীর বিজয়গীতি শ্রুত হয়। যিনি সত্য ও ছন্দের সাহায্যে পাঠকের মনে আনন্দ সৃজন করেন তিনি কবি, কিন্তু উচ্চতর কবি তিনি, যাঁহার আনন্দ এত স্বাভাবিক ও যথেষ্ট যে পাঠক কণামাত্র আস্বাদন করিয়া বুঝিতে পারেন, আমি আগন্তুক মাত্র, আমার অপেক্ষা কবির নয়ন অশ্রুতে অধিক সমাকীর্ণ। আমার অপেক্ষা কবির হাস্য আনন্দে অধিক উদ্ভাসিত।

উচ্চতর কবির এই সমস্ত লক্ষণই আমরা কবি শফিকুল ইসলামের যথেচ্ছ দৃকপাত দেখিতে পাই। আমরা প্রসঙ্গক্রমে কবি শফিকুল ইসলামের যে সমস্ত পদ ও শ্লোক উদ্ধৃত করি তাহাতেই প্রমাণ করে, কবির কাব্য ছন্দের ঝঙ্কারে কি অপূর্ব সুললিত- তাহা যেন সঙ্গীতের আবেশে আপনা-আপনি গলিয়া পড়িতেছে। তাহা রসে মাধুর্যে অনির্বচনীয়।

কিন্তু আমরা যে কবির জন্য উচ্চতম কবির সিংহাসন দাবি করিতেছি, যে কোন লক্ষণে নির্ভর করিয়া? আমাদের মনে হয় উচ্চতম কবি তিনি,- যাহাঁর কাব্য অতিমাত্র ব্যাপক, যাহা নিজে শান্তং শিবম্‌ অদ্বৈতম্‌। যাহার শিক্ষা- নাল্পে সুখমস্তি, যো বৈ ভূমা তৎ সুখম্‌। যাহা বিশ্বপ্রকৃতি ও বিশ্ব মানবের সহিত একাত্ম, যাহার মধ্যে জগতের নাড়ীস্পন্দন স্পন্দন স্পষ্ট অনুভূত হয়, যাহা সামান্যতা পরিহার করিয়া ভূমানন্দের অন্তরঙ্গ আত্মীয়রূপে প্রকাশিত হইয়া উঠে, যাহা মানবের মনকে আমিত্ব পরিহার করিয়া বিশ্বের দিকে প্রসারিত করিয়া দেয়, যাহা বিশ্বের ভিতর দিয়া মানব-মনকে বিশ্বেশ্বরের চরনপদ্মের অভিমুখীন করে।

বিখ্যাত ফরাশী সমালোচক স্যাঁৎ বিউবও প্রকারান্তরে এই কথাই বলিয়াছেন যে, ঈশ্বর, প্রকৃতি, প্রতিভা, কলাচাতুর্য, প্রেম ও মানবজীবন – প্রধানত এই ছয়টি শ্রেষ্ঠ কবিতার মূল উপাদান।বিশ্বকাব্যের অনাদি কবির লীলায় আমরা দেখিতে পাই ইথারীয়েলEthereal-কে টেনজিবল Tangible- এর মধ্যে, Spiritস্পিরিট-কে Matterম্যাটার- এর মধ্যে, অসীমকে সীমার মধ্যে ধরিয়া প্রকাশ করা। শ্রেষ্ঠ কবির গীতি কবিতাতেই সম্ভবপর। তাহাতে মানব-মনের সকল কালের ও সকল অবস্থার চিত্র পরিস্ফুট করিয়া তোলা যায়। কবি শফিকুল ইসলামের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়।
http://blog.bdnews24.com/wp-content/uploads/2011/03/AWARD-300x225.jpg
[ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার কবি শফিকুল ইসলামের হাতে(ছবিতে সর্ববামে) নজরুল স্বর্ণপদক তুলে দিচ্ছেন সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার ডঃ এ এস এম মেশকাত উদ্দিন]

কবি শফিকুল ইসলামের হাতে প্রকৃতির সকল বৈচিত্র সমাহৃত হইয়া কবির হাতে নূতন রূপে রূপায়িত হইয়া উঠিয়াছে। তুণাঙ্কুর ধুলিকণা শিশিরকণাটি পর্যন্ত নব নব শ্রী ও সম্পদ লাভ করিয়াছে। কবি পাঠকের মনেও সৃজনী-মাধুরীর প্রত্যাশা করিয়া তাঁহার সৃষ্টিকে ব্যঞ্জনাময়ী করিয়াছেন- ছবির আদ্‌রা আঁকিয়া কবি পাঠককে দিয়াছেন তাহার নিজের মনের রং দিয়া ভরিবার জন্য।কবি কবিতাকে নব নব রূপ দান করিয়াছেন। তিনি নিজের সৃষ্টিকে নিজেই অতিক্রম করিয়া নূতন রূপসৃষ্টি করিয়াছেন। কবি নব নব ছন্দ আবিস্কার করিয়াছেন। তাঁহার বাগবৈভবে ও প্রকাশ ভঙ্গিমায় কবি মানসের যে একটি অভিনব রূপ তিনি প্রকাশ করিয়াছেন তাহা বিস্ময়কর।

কবি শফিকুল ইসলাম তার কাব্যগ্রন্থ “তবুও বৃষ্টি আসুক” থেকে শুরু করে “মেঘ ভাঙা রোদ্দুর “শ্রাবণ দিনের কাব্য “দহন কালের কাব্য “প্রত্যয়ী যাত্রা ও “একটি আকাশ ও অনেক বৃষ্টি” সহ আরো কিছু কাব্যগ্রন্থে জগতবাসীর সৌভাগ্যক্রমে কবি প্রিয়ার কাঁকনস্পর্শে হাজার গীতে কবির কল্পনাটি ফাটিয়া পড়িয়াছে, নয়ন-খড়গে প্রেমের প্রলাপের বন্ধন ছিন্ন হইয়া গিয়াছে। এই প্রেম সমস্ত বিশ্বপ্রকৃতি ও বিশ্বমানবকে বুকে করিয়া ভূমার দিকে পরম আনন্দে বহন করিয়া লইয়া গিয়াছে।

http://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/1e160089689835532686eb7b7f7d0d5a.jpghttp://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/7e5545599bb4aec435d7c4e5330f463b.jpghttp://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/3979f3b8f7003d121a8a554cd227e878.jpghttp://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/ce1e022848d6e456ac3a96e357ef50fa.jpg http://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/dafc2efa7790f2384c88d695bb3b72d6.jpg

সকল স্রষ্টার সৃজনীপ্রতিভা যে ভাবে ক্রমবিকাশ লাভ করে কবি শফিকুল ইসলাম প্রতিভার বিকাশও সেই ভাবেই হইয়াছে। প্রথম যৌবনে অন্তর্গূঢ় প্রতিভার বিকাশ-বেদনা তাঁহাকে আকুল করিয়াছে– তখন কুঁড়ির ভিতর কেঁদেছে গন্ধ আকুল হয়ে, তখন ‘কস্তুরীমৃগসম’ কবি আপন গন্ধে পাগল হইয়া বনে বনে ফিরিয়াছেন। প্রথম জীবনের রচনায় এই আকুলতার বাণী, আশার বাণী, উৎকন্ঠা, উচ্চাকাঙ্খা, সংকল্প, ক্ষনিক নৈরাশ্যে আত্মসাধনা, মহাসাগরের ডাক, বাধা বিঘ্নের সহিত সংগ্রাম ইত্যাদির কথা আছে।

বাস্তবিক কবি শফিকুল ইসলামের সমস্ত রচনার মধ্যে এই সীমাকে উত্তীর্ণ হইয়া অগ্রসর হইয়া চলিবার একটি আগ্রহ ও ব্যগ্র তাগাদা স্পষ্টই অনুভব করা যায়। যাহা লব্ধ তাহাতে সন্তুষ্ট থাকিয়া তৃপ্তি নাই, অনায়ত্তকে আয়ত্ত করিতে হইবে, অজ্ঞাতকে জানিতে হইবে, অদৃষ্টকে দেখিতে হইবে- ইহাই কবি শফিকুল ইসলামের কথা।

সাধারণ কবিদের মত তিনি ভাববিলাসিতায় ভেসে যাননি। ভাবের গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকে অবলুপ্ত করে দেননি। প্রকৃত কবির মত তার কবিতায় কাব্যিক মেসেজ অনায়াসে উপলব্ধি করা যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে কি সে মেসেজ? তার কাব্যসৃষ্টিতে সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার নিগূঢ় দর্শন অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মত প্রবহমান। তার ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় কবি বলেছেনঃ-

“তারও আগে বৃষ্টি নামুক আমাদের বিবেকের মরুভূমিতে,
সেখানে মানবতা ফুল হয়ে ফুটুক-
আর পরিশুদ্ধ হোক ধরা, হৃদয়ের গ্লানি…”
(কবিতাঃ ‘তবুও বৃষ্টি আসুক’)

পংক্তিগুলো পাঠ করে নিজের অজান্তে আমি চমকে উঠি। এতো মানবতাহীন এই হিংস্র পৃথিবীতে বিশ্ব মানবের অব্যক্ত আকাংখা যা কবির লেখনীতে প্রোজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এতো শুধু কবির কথা নয়, এতো একজন মহামানবের উদ্দীপ্ত আহ্বান। তার কবিতা পাঠে আমি অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন একজন মহামানবের পদধ্বনি শুনতে পাই। যিনি যুগ মানবের অন্তরের অপ্রকাশিত আকাংখা উপলব্ধি করতে পারেন অনায়াসে আপন অন্তরের দর্পনে। তাই তিনি বিশ্ব মানবের কবি। বিশ্বমানবতার কবি।

বৈদিক যুগে ইতরার পুত্র মহীদাস যেমন তূর্যকন্ঠে আহ্বান করিয়াছেন- চরৈবেতি, চরৈবেতি- চলো, চলো– শফিকুল ইসলামও তেমনি করিয়া ক্রমাগত সীমা অতিক্রম করিয়া সকল বাধা উত্তীর্ণ হইয়া সুদূরের পিয়াসী হইয়া চলার বাণী ঘোষণা করিয়াছেন।

ফুল যখন ফুটিয়া উঠে, তখন মনে হয় ফুলই যেন গাছের একমাত্র লক্ষ্য, যেন সে বন-লক্ষ্মীর সাধনার চরম ধন। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে সে ফল ফলাইবার একটা উপলক্ষ মাত্র। খন্ডের মধ্যে সময়ের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না। বর্তমান হইতেছে ক্ষুদ্র খন্ড ক্ষুদ্র-ভূত ও ভবিষ্যতের মধ্যে হাইফেন মাত্র। একাকী তাহার মধ্যে কোন তাৎপর্য নাই। কিন্তু সমগ্র জীবন জীবন-অতীত বর্তমান ভবিষ্যত মিলাইয়া যে সমগ্র জীবন তাহার মধ্যে তাৎপর্য পাওয়া যায়। অনাদি কাল হইতে বিচিত্র বিস্মৃতি অবস্থার মধ্য দিয়া জীবনদেবতা কবিকে এই বর্তমান অবস্থায় উপনীত করিয়াছেন। কবি কাজ করিয়া যান, কিন্তু সেই কাজের মধ্যে খন্ড-পরস্পরার মধ্যে তিনি কোনো তাৎপর্য খুজিয়া পান না। কেবল তাঁহার অন্তর্যামী, যিনি তাঁহার ভূত ভবিষ্যত ও জন্ম-জন্মান্তর মিলাইয়া তাঁহাকে চালনা করিতেছেন, তিনিই তাঁহার সমগ্র জীবনের স্বার্থকতা বুঝিতে পারেন।

জীবনদেবতা জীবনের ক্ষুদ্র স্বার্থ হইতে কখনো কখনো জীবনকে অন্য দিকে লইয়া যান, তখন লোকে ভাবে যে তাহার জীবন বুঝি ব্যর্থ হইয়া গেল, কিন্তু জীবনদেবতাই আবার সেই জীবনকে স্বার্থকতার মধ্যে ফিরাইয়া লইয়া আসেন, সমস্ত বিফলতার মধ্য দিয়া তিনি চরমের দিকে লইয়া যান। কবি তখন নিজের মিলন ও বিরহের মধ্যে বিশ্বের মিলন ও বিরহ দেখিতে পান, তিনি জীবন দেবতার প্রেম দিয়া তাঁহার বিশ্ব প্রেমের রাগিণীর সাধনা করেন। যখন তিনি নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজিয়া পাইবেন, তখন জীবন দেবতার সহিত তাঁহার সম্পূর্ণ মিলন ঘটিবে– তাঁহাদের মধ্যে কোনো বিভিন্নতা থাকিবে না, তখন কবি নিজের মধ্যেই জীবনের সুন্দরকে খুঁজে পাইবেন, তাঁহাকে আর অন্যত্র খুঁজিতে হইবে না। কারণ পূর্ণ সার্থকতা লাভ হইলে অন্বেষণের বিরাম হইবে এবং অন্বেষণ-বিরতির অর্থ-ই পূর্ণ সার্থকতা লাভ। কবি শফিকুল ইসলামের বেলায় ও এর প্রত্যেকটা কথাই যথার্থ।
—————————————————————————-
ভিজিট করুনঃ–
http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201202231330019077_women-1971.jpg
স্বাধীনতার গান
(মুক্তিয়ুদ্ধকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া কবিতাটি স্মৃতি থেকে লেখা)

কবিতায় আর গানে বহুবার
স্বদেশকে নিয়ে কাব্য করা হল সার
বুকের রক্তে লিখবো এবার স্বাধীন বাংলাদেশ ॥

যুগে যুগে কত হায়েনারা হানা দিয়ে এখানে
ফিরে গেছে তারা ব্যর্থ হয়ে
উদ্ধত প্রতিরোধের মুখে মুক্ত রেখেছি স্বদেশ ॥

যখন উদ্ধত অন্যায় অবিচার
স্বদেশের প্রিয় মাটিতে করেছে বাহু বিস্তার
ভালবাসার অহংকারে মোকাবিলা করেছি আপ্রাণ॥

আমাদের চেতনায় চেতনায় এখন
সেই দুঃসাহসের দৃপ্ত প্রতিফলন
আমরা পথে নেমেছি যখন, কে রুখবে এ অগ্রাভিযান ॥

জনতার বাধ ভাঙা জোযারে
কাপন জাগাবো কাযেমী ¯স্বার্থের প্রাচীন প্রাচীরে
শোষকের ভিত নড়ে উঠবে এবার ॥

শোষকের হাতে যারা হয়ে বঞ্চিত
মিথ্যে ভাগ্যকে দায়ী করছে প্রতি নিয়ত
তাদেরকে প্রকৃত শত্রু চিনিয়ে দেবো এবার ॥

ঘুমিয়ে আছে যারা তাদের ঘুম ভাঙবো এবার
মানুষের হাতে ফিরেয়ে দেবো হৃত অধিকার-
মুক্ত করবো প্রিয় স্বদেশ আমার বাংলাদেশ ॥

PunBB bbcode test
সবকিছু ঠিকই চলছে আগের মত,
কেবল তোমার বিহনে
কিছুই আমার চলছে না আগের মত ॥

সেই সুর সেই গান আজ ও আছে
তবু কোথায় যেন ছন্দ পতন হয়েছে-
কেউ বুঝবে না তোমায় হারিয়ে
এক জীবনে আমার ক্ষতি হয়ে গেলো কত ॥

তোমায় হারানোর ক্ষতি বিশাল এমন
বিশ্বটা এনে দিলে ও হবে না সে ক্ষতিপূরণ-
আজ আমার বেচে থাকাটাই হল দায়
এক জীবনে ছোট এই বুকে বেদনা নিয়ে এত ॥

http://www.prothom-aloblog.com/images/view/220/120/false///img/uploads/6f1d027e5014dc8c1d4b8fdc1c0967b6.jpg
স্বাধীনতার গান
(মুক্তিয়ুদ্ধকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া কবিতাটি স্মৃতি থেকে লেখা)

কবিতায় আর গানে বহুবার
¯¯স্বদেশকেk‡K নিয়ে কাব্য করা হল সার
বুকের রক্তে লিখবো এবার ¯স্বাধীন বাংলাদেশ ॥

যুগে যুগে কত হায়েনারা হানা দিয়ে এখানে
ফিরে গেছে তারা ব্যর্থ হয়ে
উদ্ধত প্রতিরোধের মুখে মুক্ত রেখেছি ¯স্বদেশ ॥

যখন উদ্ধত অন্যায় অবিচার
¯স্বদেশের‡ki প্রিয় মাটিতে করেছে বাহু বিস্তার
ভালবাসার অহংকারে মোকাবিলা করেছি আপ্রাণ॥

আমাদের চেতনায় চেতনায় এখন
সেই দুঃসাহসের দৃপ্ত প্রতিফলন
আমরা পথে নেমেছি যখন, কে রুখবে এ অগ্রাভিযান ॥

জনতার বাধ ভাঙা জোযারে
কাপন জাগাবো কাযেমী ¯স্বার্থের প্রাচীন প্রাচীরে
শোষকের ভিত নড়ে উঠবে এবার ॥

শোষকের হাতে যারা হয়ে বঞ্চিত
মিথ্যে ভাগ্যকে দায়ী করছে প্রতি নিয়ত
তাদেরকে প্রকৃত শত্রু চিনিয়ে দেবো এবার ॥

ঘুমিয়ে আছে যারা তাদের ঘুম ভাঙবো এবার
মানুষের হাতে ফিরেয়ে দেবো হৃত অধিকার-
মুক্ত করবো প্রিয় স্বদেশ আমার বাংলাদেশ ॥

visit: http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

http://www.prothom-aloblog.com/img/uploads/1f90209dfecda0904593e88436e7f369.jpeg
ভালবেসে যদি দুঃখ পাই
তবুও জীবনে একবার ভালবাসব-
হৃদয়ের পরশ দিয়ে একটি হৃদয় জাগাবো ॥

আমায় দুঃখ দিয়ে কেউ পেতে চাইলে সুখ
তারে ও আমি করবো না বিমুখ,
কাটার আঘাত সয়েও
অন্তত একটি ফুল আমি ফুটাবো ॥

এ হৃদয় নিঃস্ব করে বিশ্ব যদি কেউ চায়
তার হাতে তুলে দেব বিশ্বটা অবলীলায়,
নিজেরে পুড়ায়ে হলে ও
একটি দীপ আমি জ্বালাবো ॥

[গ্রন্থের নাম-"মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর" লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ- মাশুক হেলাল। প্রকাশক- আগামী প্রকাশনী ৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। ফোন-৭১১১৩৩২,৭১১০০২১। মোবাইল- ০১৮১৯২১৯০২৪।]
[কবি শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।]

http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201202141329225186_teardroping.jpg
আজ ভাবি এত মন্দ আমি ছিলাম না
যতটুকু মন্দ ভেবেছ
মন্দ বলে বলে যতটুকু মন্দ আমায় বানিয়েছ ॥

কখনও তুমি সরল অন্তরে
নাওনি আমায় আপন করে
আমার ভালটুকু তাই দেখনি দোষটুকু ধরেছ ॥

আমার ভালোবাসা আমার প্রীতি
অনুরাগ আর অনুভূতি
সকলই তুমি তাই সন্দেহের চোখে দেখেছ ॥

[কবি শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।]

http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201201311327985799_Protoyee%20Zatra.jpg
[সারাবিশ্বে প্রকাশ্যে কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে যারা আজ ও জনতার মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন, সেইসব অমিত আশাবাদী অসমসাহসী সংগ্রামী মানুষদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত]

সম্মুখে বাধা আছে, পথ বন্ধুর
তবু জানি যেতে হবে বহুদূর...॥

পায়ে ফুটুক যতই কাটা
থামলে চলবেনা এ পথ হাটা
সীমিত সময়,পথ অনেক দূর...॥

চলতে পথে শত কুমন্ত্রণা
হাসিমুখে সয়ে যত যন্ত্রণা
করতে হবে মোকাবিলা শত্রুর॥

সত্যের পথ কুসুমিত নয়
জেনেই বিপ্লবীর চলতে হয়
বিপ্লবী মন পরোয়া করেনা মৃত্যুর॥

[গ্রন্থের নাম-”দহন কালের কাব্য”লেখক- শফিকুল ইসলাম। প্রচ্ছদ-আসলাম। প্রকাশক- মিজান পাবলিশার্স ৩৮/৪বাংলাবাজার,ঢাকা-১১০০। ফোন-৯৫১২৯৪৬,৭১১১৪৩৬। মোবাইল- ০১৫৫২৩৯১৩৪১।
[কবি শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।]
কাব্যগ্রন্থটি পড়তে ভিজিট করুনঃ-
http://www.prothom-aloblog.com/blog/sfk808

http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/sfk505201112311325309870_3D%20Bangladesh.jpg
[ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় বাঙালী বুর্জোয়া কবি জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিতর্কিত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত পুরনো জাতীয় সঙ্গীত পেছনে ফেলে আজ নতুন সুরে নতুন জাতীয় সঙ্গীত রচনা করতে হবে। তবেই ঘুমন্ত জাতির মধ্যে স্বদেশ প্রেমের চেতনা সঞ্চার হবে...]

ও আমার বাংলা মা
জন্মেই তোকে আমি প্রথম দেখেছি
একান্ত মনে তাই তো আমি তোকে ভালবেসেছি॥

তোর মাঠে মা সোনা ফলে
যোগায় অন্ন ক্ষুধার,
তোর জল পান করে মা
পেয়েছি স্বাদ সুধার-
তোর কোলে মা হেসে খেলে
দিনে দিনে বেড়ে উঠেছি॥

তুই যে মা আমার
তাকিয়ে দেখি মুগ্ধ চোখে,
তোর' পরে আঘাত এলে
শত গুণ হয়ে বাজে আমার বুকে।

তোর তরে যদি মাগো দিতে পারি প্রাণ
নিজেরে আমি মনে করবো ভাগ্যবান।
তোর বুকে জন্ম নিয়ে
মাগো আমি ধন্য হয়েছি॥

[কবি শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।]
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিতর্কিত ভূমিকা সম্পর্কে আরো জানুন:
http://shoily.com/?p=2177