Topic: মুঠোফোনে লেনদেন

http://img268.imageshack.us/img268/2979/image30594058.jpg

আল-আমিন কবির
কড়ি, ধাতব মুদ্রা, কাগুজে নোট পেছনে ফেলে ইন্টারনেটই এখন লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম। এখন হাতে-হাতে লেনদেন না করলেও চলে, ওয়েবে ঢুকে কয়েকটি নম্বর লিখে দিলেই হলো। টাকা তুলতে এখন ব্যাংক নয়, এটিএম বুথই আমাদের কাছে অনেক সহজ মনে হয়। লেনদেনের এই বিবর্তনে নতুন সংযোজন মুঠোফোনে লেনদেন বা 'মোবাইল মানি'। এ পদ্ধতিতে এখন টাকা পাঠানো যাচ্ছে, টাকা পাওয়াও যাচ্ছে অনায়াসে। প্রযুক্তির যেকোনো আশীর্বাদ পেতে বাংলাদেশের মানুষের অনেক অপেক্ষা করতে হলেও 'মোবাইল মানি' এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এ সুবিধা সীমিত পরিসরে শুরু হলেও ব্যাপক পরিসরে তা শুরু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সবার আগে 'ট্রাস্ট মোবাইল মানি'
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং অন্য হিসাবে স্থানান্তরের বিশেষ সেবা চালু করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। 'ট্রাস্ট মোবাইল মানি' নামের এ সেবার আওতায় লেনদেনের সব তথ্য এসএমএস আকারে পেয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী।
ট্রাস্ট ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের যেকোনো শাখা এবং পে-পয়েন্টে মোবাইল মানি সেবার জন্য নিবন্ধন করা যাবে। শাখা থেকে নিবন্ধন ফরম পূরণ করে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ট্রাস্ট ব্যাংক কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো হলে কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে ব্যবহারকারীর নাম্বারে এসএমএসের মাধ্যমে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা এবং পিন নাম্বার আসবে। ব্যবহারকারীকে এ পিন নাম্বারটি সংরক্ষণ করতে হবে। পরে লেনদেনের সময় এ পিন নাম্বারটির প্রয়োজন হবে। অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার পর ব্যবহারকারীরা ব্যাংকের যেকোনো শাখার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সুবিধা চালু করার পর আমরা গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ট্রাস্ট ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে গ্রাহকরা সহজেই এ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।

ডাক বিভাগেও 'মোবাইল মানি'
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সে তুলনায় ডাক বিভাগের কার্যক্রম ছিল অনেকটাই প্রযুক্তিহীন। অন্যান্য কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই অর্থ লেনদেন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার বা ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার নামের এ সেবায় দেশের ভেতরে টাকা পাঠানো যায়। আর নিজের মোবাইল ফোনটি নিয়ে পোস্ট অফিস গিয়ে যেকোনো ব্যক্তিই প্রিয়জনের পাঠানো টাকা উত্তোলন করতে পারেন সহজেই। ইতিমধ্যে দেশের সব জেলা সদরের প্রধান ডাকঘর, উপজেলা পর্যায় এবং সাব পোস্ট অফিসসহ প্রায় ৬০৬টি ডাকঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে এই মোবাইল মানি অর্ডার সেবা।
কোনো ব্যক্তি প্রিয়জনকে পাঠানোর উদ্দেশ্যে পোস্ট অফিসে টাকা জমা দিলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট মাস্টার যখন-তখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেটি ডাক বিভাগের কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠিয়ে দেবেন। এর আগে টাকা প্রেরণকারীকে তাঁর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর উল্লেখ করে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। এতে প্রাপকের নাম-ঠিকানারও উল্লেখ থাকবে। ফরম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে প্রেরকের মোবাইলে একটি এসএমএসে নিশ্চিতকরণ এবং একটি পিন নাম্বার আসবে এসএমএসের মাধ্যমে। এ পিন নাম্বারটি প্রাপককে জানিয়ে দিতে হবে। প্রাপক দেশের যেকোনো পোস্ট অফিসে গিয়ে এ পিন নাম্বারটির মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। পিন নাম্বারটি সংশ্লিষ্ট পোস্ট মাস্টার যাচাই করে অর্থ পরিশোধ করবে। প্রচলিত মানি অর্ডারের চেয়ে এ অর্থ লেনদেনব্যবস্থায় বিলও অনেক কম রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক মোবাশ্বের উর রহমান জানান, দেশে প্রচলিত মানি অর্ডারের চেয়ে মোবাইলে অর্থ লেনদেনে চার্জ অনেক কম রাখা হচ্ছে। মোবাইল মানি অর্ডারের আওতায় টাকা পাঠানোর জন্য প্রথম এক হাজার টাকা পাঠাতে ২০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি হাজার টাকার জন্য ১০ টাকা করে চার্জ দিতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রুত মানি অর্ডার এখন সময়ের চাহিদা। যে কেউ দু-তিন মিনিটের মধ্যে মোবাইল ফোনভিত্তিক টাকা পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন, যেখানে হাতে হাতে টাকা পাঠাতে সময় লাগে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিন।

বাংলালিংকের 'মোবাইল রেমিটেন্স'
দেশের বাইরে থেকে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা দিতে মোবাইল রেমিটেন্স সুবিধা চালু করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক। ঢাকা ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) সঙ্গে যৌথভাবে এ সুবিধা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মোবাইল রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো মোবাইল ফোন গ্রাহকের জন্য নগদ অর্থের জিম্মাদার হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে বাংলালিংক মোবাইল ফোনের সংযোগ নেটওয়ার্কও তথ্যবিনিময় নিশ্চিত করছে।
বাংলালিংক গ্রাহকসেবা বিভাগের মুনতাসির রাজু জানান, দেশের সাড়ে ছয় শতাধিক বাংলালিংক গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন রেমিটেন্স দেওয়া হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে যিনি টাকা পাঠাতে চান, তাঁকে ঢাকা ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে একটি বিশেষ পিন নাম্বার নিতে হবে।
গ্রহীতার যদি বাংলালিংকের সংযোগ থাকে, তাহলে তাঁরা যেকোনো বাংলালিংক মোবাইল রেমিটেন্স পয়েন্টে পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিএল) অথবা ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে (ইবিএল) মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খুলতে পারবেন। বাংলালিংক গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে এ অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি বাংলালিংক মোবাইল রেমিটেন্স পয়েন্ট থেকে তোলা যাবে। চাইলে এ অ্যাকাউন্টে টাকা জমাও রাখা যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের 'আইভিআর'
মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ব্যাংকিংসংক্রান্ত ইন্টারঅ্যাকটিভ ভয়েস রেসপন্স বা আইভিআর সেবা দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স জানা, সর্বশেষ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য নেওয়া, ক্রেডিট কার্ডে অর্থ প্রেরণসহ বেশ কিছু সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ০১৮১৯-২৩০ ০০০ নাম্বারে ফোন করে যেকোনো তথ্য, পরামর্শসহ লেনদেনসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের গেস্ট সার্ভিস এঙ্িিকউটিভ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ব্যাংকের যেকোনো গ্রাহক ২৪ ঘণ্টা আমাদের এ আইভিআর সেবাটি পাচ্ছেন। নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ছাড়াও তাঁরা ব্যাংক লোন সম্পর্কেও অনেক তথ্য পাচ্ছেন।

মোবাইল ব্যাংকিং সবখানে
কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় সব ব্যাংকে চালু হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যাংকিং। ইতিমধ্যে ছয়টি ব্যাংক এ কার্যক্রম চালু করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক এনএ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। আবেদনের পর পরই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অনুমোদন দেয়। সম্প্রতি আবেদনকারীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের নাম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান জানান, কৃষক যাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকিসহ অন্যান্য সুবিধা মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পেতে পারেন, তেমন সেবা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আমাদের ব্যাংকগুলো এখনো পুরোপুরি সে সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলো সক্ষম ও দক্ষ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books


Re: মুঠোফোনে লেনদেন

সুত্র দিলেন না যে!  I don't know