Topic: আলো আসছে

দেশের যেকোনো স্থানের ম্যাপ পাওয়া যাবে মোবাইলে। সরকারি অফিস, ব্যাংকের এটিএম বুথসহ প্রয়োজনীয় জায়গা খুঁজে পাওয়ার নির্দেশনাও থাকবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা পড়তে পারবেন এসএমএস, উত্তরও দিতে পারবেন। বাংলাদেশি তরুণরা এমন বেশ কিছু সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। গ্রামীণফোন আর মাইক্রোসফটের আয়োজনে 'আলো আসবেই' প্রতিযোগিতায় জমা পড়েছে এসব সফটওয়্যার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আল-আমিন কবির
শুরুর কথা
দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছয় কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে মোবাইল সফটওয়্যার এবং মোবাইলভিত্তিক সেবার চাহিদা। আর তাই বাংলাদেশের তরুণ ও মেধাবী ডেভেলপারদের মাধ্যমে উদ্ভাবনী বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে মোবাইল সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতা 'আলো আসবেই'। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ১৬ জুন রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একদল প্রতিভাবান সফটওয়্যার ডেভেলপার বের হয়ে আসবে। তারা দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট ও অ্যাপ্লিকেশনের অভাব দূর করবে। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ওডভার হেশজেদাল জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় থাকায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মানুষের কাছে পেঁৗছে যাচ্ছে। এ জন্য দরকার বিভিন্ন সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা উন্নততর সেবা পাবেন।

ব্যাপক সাড়া
শুরু হওয়ার পর থেকে জমা দেওয়ার শেষদিন ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডেভেলপার প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইট িি.িধষড়ধংযনবর.পড়স.নফ-এ নিবন্ধন করেন। প্রতিযোগিতায় মজার ও প্রয়োজনীয় মোট ১৮০টি সফটওয়্যার জমা পড়ে। এ সংখ্যাকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৪ আগস্টের পরও অনেকে সফটওয়্যার জমা দেওয়ার জন্য আয়োজকদের মেইল করেছেন। তবে সময় পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলো তাঁরা গ্রহণ করতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মশালা
অধিকাংশ প্রতিযোগীই তরুণ ডেভেলপার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মোবাইল সফটওয়্যার ডেভেলপিংয়ে অভিজ্ঞ নয়। আর তাই সফটওয়্যারের মান নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। তবে তরুণ ডেভেলপারদের দক্ষ করে তুলতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বা এআইইউবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাগুলোতে সফটওয়্যার তৈরির কারিগরি বিভিন্ন দিক এবং মানোন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মাইক্রোসফট এবং গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণ দেন। মাইক্রোসফটের প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক উজায়ের খান পনি্ন বলেন, 'কর্মশালাগুলোতে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন।'

আলোচিত অ্যাপ্লিকেশন
প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনীয় এবং মজার বিভিন্ন সফটওয়্যার জমা পড়ে। 'হোয়্যারইন বিডি' নামের সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানের ম্যাপ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বেড়ানোর, ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সফটওয়্যারটির ডেভেলপার জাহিদুর রহমান জানান, ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি এর মাধ্যমে যেকোনো নিবন্ধিত গ্রামীণফোন ব্যবহারকারী মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলেও নম্বরটি কোথায় আছে তা জানা যাবে। একই সঙ্গে অফিসের কর্তা-কর্মচারীরা কখন কে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানার সুযোগ থাকবে। 'সেন্ড পিকচার টু ফোন' সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে যেকোনো হ্যান্ড সেটে ছবি পাঠাতে পারবেন। আপাতত বিনা মূল্যে পিকচার মেসেজ বা এমএমএস পাঠানো যাচ্ছে। মোবাইল মেসেজিং এনক্রিপশন সিস্টেম সফটওয়্যারটির মাধ্যমে মোবাইল থেকে 'এনক্রিপ্ট' করে এসএমএস পাঠানো যাবে। ফলে তৃতীয় কোনো পক্ষ এসএমএস পড়ার সুযোগ পাবে না। 'বাংলা ফেইসবুক স্ট্যাটাস আপডেটার' সফটওয়্যারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেইসবুকে সহজেই বাংলায় স্ট্যাটাস মেসেজ আপডেট করা যাবে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সর্বশেষ খবর মুঠোফোনেই বাংলায় পড়া যাবে 'মোবাইল পেপার' সফটওয়্যারের মাধ্যমে। যানজটের হালনাগাদ তথ্য দেবে 'এসএমএস ট্রাফিক আপডেট' সফটওয়্যারটি। ওয়েবভিত্তিক অর্থ লেনদেনের সুবিধা দেবে 'স্মার্ট চেকআউট'। প্রাথমিক শেয়ারবাজারের ফলাফল জানার সুবিধা দেবে 'আইপিও রেজাল্ট সার্চ' সফটওয়্যারটি। বিনা মূল্যে এসএমএস পাঠানো যাবে 'জিপি এসএমএস সেন্ডার'-এর মাধ্যমে। মোবাইল তথ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা দেবে 'মোবাইল কনটেন্ট সিএমএস'। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে 'ডায়াবেটিস এক্সপার্ট' সফটওয়্যারে। এগুলো ছাড়াও জমা পড়া সব সফটওয়্যার িি.িধষড়ধংযনবর.পড়স.নফ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড এবং পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা যাবে।

চূড়ান্ত আসরের পথে
এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ফখরুল ফরহাদ জানান, ১৮০টি সফটওয়্যার থেকে প্রাথমিকভাবে ৭০টি সফটওয়্যার নির্বাচন করে সেগুলো উপস্থাপন করার জন্য ডেভেলপারদের আহ্বান জানানো হয়। এ পর্বে একজন প্রতিযোগী তাঁর অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে বর্ণনা করার জন্য ৩০ মিনিট সময় পান। এ সময় প্রতিযোগীরা ১৫ মিনিট অ্যাপ্লিকেশনের বর্ণনা এবং বাকি সময় ডেমো প্রদর্শন ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। গ্রামীণফোন এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের কার্যালয়ে গতকাল এ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিচারকরা সবশেষে সেরা ১০ থেকে ১৫টি সফটওয়্যারের তালিকা প্রকাশ করবেন। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব।

বিজয়ীদের পুরস্কার
নির্বাচিত প্রথম সফটওয়্যার নির্মাতা পাবেন পাঁচ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে দেওয়া হবে যথাক্রমে দুই লাখ ও এক লাখ টাকা। বিজয়ীরা যেসব সফটওয়্যার ডেভেলপ করবেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেগুলো ব্যবহারকারী পর্যায়ে পেঁৗছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে গ্রামীণফোন ও মাইক্রোসফট।

আরো ভালো হতে পারত
অনেক সফটওয়্যার জমা পড়লেও অধিকাংশ সফটওয়্যারের কাজই একরকম। এগুলোতে উদ্ভাবনী পরিকল্পনার অভাব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাইক্রোসফটের ইভানজেলিস্ট প্রকল্পের পরিচালক অমি আজাদ বলেন, 'আমরা প্রতিযোগিতায় যত মানসম্মত সফটওয়্যার আশা করেছিলাম, সে ধরনের সফটওয়্যার খুব কমই জমা হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরি করতে যত রকম টুলস এবং পরামর্শ দরকার ছিল আমরা সব রকম সহায়তাই দিয়েছিলাম প্রতিযোগী ডেভেলপারদের। তারা ঠিকমতো পরিকল্পনা করতে পারেনি। তাই খুব বেশি ভালো সফটওয়্যার আমরা পাইনি।'
ওয়েবে পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যারও তৈরি করে জমা দিয়েছেন অনেক প্রতিযোগী। প্রতিযোগীরা আরেকটু পরিকল্পনামাফিক এগোলে সফটওয়্যারগুলোতে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের উপকার হতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাই আরো আয়োজন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিস সভাপতি মাহবুব জামান বলেন, 'আমাদের দেশের ডেভেলপাররা সাধারণত কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পায় না। এ প্রতিযোগিতা তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা উচিত। আর মোবাইল সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অন্যান্য প্রতিযোগিতারও আয়োজন করতে হবে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।'
                            কালেরকণ্ঠ

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books


Re: আলো আসছে

মোবাইল সফ্টওয়্যার খাত টি এখনো নতুন, তাই বিদেশী বিনিয়োগ এখন এদিকে। দেশী মেধার ব্যবহার করে বিদেশী র সব সময় ই লাভবান। শুধু বাংলাদেশ ই তাদের রত্নদের চিনতে পারে না।  ~X