Topic: মহিলাদের বিশেষ সমস্যা

http://www.chobimohol.com/image-D3B2_4C3021C2.jpg

[box]মহিলাদের বিশেষ সমস্যা
অধ্যাপিকা ডা. সুলতানা জাহান

একটি নারীদেহ সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি ফিমেল বা মেয়েলি হরমোন দ্বারা আবর্তিত ও পরিচালিত হয়। জীবনের প্রারম্ভে এক পর্যায়ে নারীদেহ যৌবনের সম্ভারে ভরে ওঠে এবং সাধারণত তের বা চৌদ্দ বছর বয়সে একটি মেয়ে যৌবনের সমাহারে সজ্জিত হয়। তারপর দীর্ঘ ত্রিশ বা চল্লিশ বছর আনুমানিক পঁয়তাল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত চলে যৌবনের এই কার্যক্রম। এরপর আসে অন্য একটি অধ্যায় এবং ফিমেল হরমোনগুলো তাদের ফাংশন বা কাজ আস্তে আস্তে বìধ করে দেয়, কারণ ততদিনে তারা রিক্ত প্রায়। এ পর্যায়ে মাসিক ঋতুচক্র বìধ হয়ে যায়। এই অবস্খাকে বলা হয় মেনোপজ।

ক্লাইমেকটারিক কী?
মেনোপজের সময় ডিম্বকোষের কাজ বìধ হয়ে যায়। এর ফলে ডিম ফাটে না বা ওভুলেশন হয় না। মাসিক ঋতুচক্র বìধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু দৈহিক পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন-শরীরে কিছু বাড়তি মেদ জমে স্তনের আকার ক্রমান্বয়ে ছোট হয় এবং হজমের ব্যাঘাত হয়। রাতে ঘুমের ব্যাঘাত হয় কখনো। অনেকের মাথার চুল পড়ে যায়। আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা আছে, মাসিক ঋতুচক্র বìধ হওয়ার আগে তা পরিমাণে বৃদ্ধি পায় অথবা মাসে তিন-চারবার হয় বা অনিয়মিতভাবে হয়। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মেনোপজের আগে মাসিক ঋতুস্রাবের পরিমাণ স্বল্প হয় এবং মাসিক ঋতুস্রাবের স্খায়িত্বকালও কমে আসে। মেনোপজের আগে মাসিক ঋতুস্রাব বেড়ে গেলে বা অনিয়মিতভাবে হলে বুঝতে হবে কোনো অর্গানিক কাজ বা ক্ষতিকর কারণ আছে। যেমন জরায়ুতে বা ইউটেরাসে কোনো টিউমার থাকতে পারে। এমন কি তা জরায়ুর গ্রীবাদেশ বা সারভিক্সে ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণও হতে পারে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন।

শারীরিক পরিবর্তন :
মেনোপজ হয় পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সে। এ সময়ে শরীরে বাড়তি মেদ জমে যাওয়া এবং হজমের ব্যাঘাত হওয়া, মাথার চুল পড়ে যাওয়া ও ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া খুব স্বাভাবিক।
মানসিক পরিবর্তন : এ সময় মাসিক ঋতুস্রাব বìধ হয়ে যওয়ায় অনেক মহিলাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ তাদের ধারণা মাসিক হওয়া মানে শরীরের বদ রক্ত যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া। কাজেই এই মাসিক ঋতুচক্র বìধ হওয়া মানে বদ রক্ত শরীরে জমে গিয়ে নানা প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া, যেমন : মাথা ধরা, চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া, ঘুম কম হওয়া, পেট মোটা হওয়া ইত্যাদি। এতে এইসব উপসর্গের কোনোটিই মাসিক ঋতুচক্রের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বয়স হলে শরীর মুটিয়ে যায় এবং সেই সাথে পেটেও চর্বি জমে আর চোখের জ্যোতি প্রত্যেকেরই চল্লিশ বছর বয়স হলে কমতে শুরু করে এটা প্রাকৃতিক নিয়ম।

মানসিক বিপর্যয় :
অনেক মহিলাই মেনোপজকে মন থেকে মেনে নিতে পারে না। কারণ তাদের বìধমূল ধারণা জীবনের সব কিছুই শেষ হয়ে গেল, এভাবে বাঁচার কোনো অর্থ নেই। কথাটা ঠিক না। মেনোপজ মানে জীবনের এক অধ্যায় থেকে আরেক অধ্যায়ে পদার্পণ। এই নতুন অধ্যায়টি অবাঞ্ছিত নয়। একান্তভাবে প্রয়োজনীয় ও বাঞ্ছিত। সংসারে এমন একটি মহিলার মতামতের প্রয়োজন খুবই বেশি। আর স্বামীর কাছেও যার দাম অনেক বেড়ে যায় কারণ কোনো সুচিন্তিত মতামত দিতে সে খুবই সক্ষম।
মেনোপজ হলে স্বামী সহবাসে সম্ভব কি না? এই চিন্তাধারাতে অনেক মহিলাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের আশঙ্কা নিতান্তই বাতুলতা মাত্র। কারণ এই বয়সে প্রতিটি মহিলাই সন্তান-সন্ততি নিয়ে সুখে থাকেন। সুতরাং এই বয়সে সন্তান গর্ভে আসার বিব্রতকর চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ায় সে খুব আনন্দের সাথে স্বামী সহবাসে মিলিত হতে পারে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে।
কিছু কিছু অসুখ-বিসুখ : বয়স চল্লিশ হলে স্বাভাবিকভাবে একজন মহিলার ব্লাড প্রেসার বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে এবং বাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্খায় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করা উচিত। যেহেতু সে মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন সেহেতু এই পরিবর্তন তাকে মেনে নেয়ার জন্য মানসিকভাবে আশ্বস্ত করতে পারে। সব সময় তার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল থাকা উচিত।
চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি? মেনোপজ একটি প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক নিয়ম এটা খুব ভালো করে রোগিনীকে বুঝতে হবে। কারণ এটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে না পারার জন্যই অনেকের মধ্যে কিছু কিছু সমস্যা তৈরি হতে দেখা যায়। দেখা গেছে রোগীকে মানসিকভাবে ঠিকমতো আশ্বস্ত করতে পারলে শতকরা প্রায় পঁচাত্তরজন রোগিনী সম্পূর্ণ সুস্খ হয়ে যায়। বাকি পঁচিশজনের সামান্য চিকিৎসা যেমন দুশ্চিন্তামুক্ত করার জন্য ট্রাংকুলাইজার ও ঘুমের জন্য সিডেটিড দিতে হয়। ফিমেল হরমোনে কি দেয়া উচিত? ফিমেল হরমোন দেয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে। তবে কিছু কিছু সিলেকটিভ ক্ষেত্রে স্বল্পমাত্রায় অল্প দিনের জন্য ইসট্রোজেন দেয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে এই ইসট্রোজেন খাওয়াও বìধ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে জরায়ুর ক্যান্সারের মতো সাঙ্ঘাতিক ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে মেনোপজ একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক অবস্খা। এটা নিয়ে অহেতুক চিন্তাভাবনা করা, দুশ্চিন্তা করা একেবারেই উচিত না।
লেখক :
সাবেক চেয়ারম্যান এবং প্রধান (গাইনি অ্যান্ড অবস), বঙ্গবìধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন : ৮১১৬১৭৩[/box]

বিষয়টি অনেকেই জানেন না, মহিলার মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন, এ ক্ষেত্রে জ্ঞান দান করে তাদের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা সম্ভব।       

সূত্র : এখানে



Re: মহিলাদের বিশেষ সমস্যা

sawontheboss4 wrote:

বিষয়টি অনেকেই জানেন না, মহিলার মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন, এ ক্ষেত্রে জ্ঞান দান করে তাদের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা সম্ভব।

আসলেই তা-ই !
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে~ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়,একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম...http://www.rongmohol.com/uploads/1805_adda_logo_4.gif

গনযোগাযোগ সচিবঃ ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।