Topic: ২৮ এ মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস : মা থাকুক নিরাপদে

http://www.chobimohol.com/image-0642_4BFE2FBA.jpg
২৮ মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। মা ও শিশুমৃত্যু রোধ এবং তাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার পাশাপাশি এসব সমস্যা প্রতিরোধ করার প্রত্যয়ে ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু হয়েছিল ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালন, যার মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ মাতৃত্বকে নারীর অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমিয়ে আনা। নিরাপদ মাতৃত্বকে নিশ্চিত করতে ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন শুরু হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো একজন মাকে নিরাপদে তার সন্তান পৃথিবীতে ভুমিষ্ঠ করানোর ব্যবস্থা নিশ্চত করা। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি যে এটা এখোনো স্লোগানই রয়ে গেছে এদেশের জন্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ ‘মা’। একজন নারীর পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে। বংশানুক্রম ধারা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব প্রকৃতিগতভাবেই বর্তেছে নারীর ওপর মাতৃত্বের মধ্য দিয়ে। এই মাতৃত্ব কতটুকু নিরাপদ? তা যদি শতভাগ নিরাপদ হতো মা ও শিশুর জন্য, তাহলে হয়তো নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের সূচনা হতো না, আলোচনা হতো না, কর্মসূচির প্রয়োজন হতো না সচেতনতা বাড়ানোর জন্য।

এ ২৫ বছরে দেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু আমাদের মাতৃত্ব কি একটুও নিরাপদ হয়েছে? পরিসংখ্যান বলছে না। এক হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ১২ হাজার নারীর মৃত্যু হয় প্রসবকালীন জটিলতার কারনে। এখনো এদেশে ৮৫% এরও বেশী প্রসব হয় অদক্ষ দাইয়ের হাতে যাতে মায়ের মৃত্যঝুকি বেড়ে যায় বহুগুন। বিশেষ করে গ্রামে এ ঝুকি বহুগুন। শহরে কিছু নামী হাতপাতালে হয়তো নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চত করা হয়েছে কিন্তু সেজন্য অর্থও গুনতে হয় প্রচুর।নারীর অধিকারের বিষয়টি আরও ব্যাপক। অন্যান্য সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকারের পাশাপাশি তাঁর অধিকার রয়েছে নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণের।
যেমন-একজন নারী কত দিন কোন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন বা আদৌ ব্যবহার করবেন কি না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর। নারী আদৌ সন্তান নেবেন কি না বা কবে নেবেন, কজন নেবেন সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তিনি সংরক্ষণ করেন।

কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ নারীই এখনো উপরিউক্ত কোনো অধিকারই ভোগ করতে পারেন না। তাঁরা স্বামী বা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শাশুড়ির ইচ্ছা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন। তাই এখনো আমাদের মেয়েরা অপরিকল্পিত গর্ভধারণ করে অনিরাপদ গর্ভপাতের শিকার হচ্ছে। অপরিণত বয়সে বিয়ে, সন্তান ধারণ এবং বাড়িতে দাইয়ের হাতে ডেলিভারি করতে গিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে অথবা জীবনব্যাপী সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। হারাচ্ছে সন্তানটিকেও।

একটি পরিসংখ্যানমতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২১ কোটি নারী গর্ভবতী হয় এবং দুই কোটিরও বেশি নারী গর্ভজনিত স্বাস্থ্য-সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে আবার আশি লাখের জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়। অত্যন্ত গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে জটিলতায় ভোগার আশঙ্কা অপেক্ষাকৃত ধনীদের তুলনায় প্রায় ৩০০ গুণ বেশি।
দেখা গেছে যে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভোগা গরিব দেশের মাতৃমৃত্যুর হার বছরের পর বছর প্রায় একই রকম থেকে যায়। ১৯৯০ সালের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের অবস্থাকে মূল ভিত্তি ধরে নিয়ে পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন- গর্ভকালীন সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি হলো, শুধু একবার সেবা নিয়েছে এমন গর্ভবতীর সংখ্যা শতকরা ৬০ ভাগ হলেও চারবার সেবা নিয়েছে এমন গর্ভবতীর সংখ্যা মাত্র ২১ ভাগ।

প্রথম আলোর ব্লগের লেখক মাহমুদ লিখেছেন : এখানে

খুব ছোটরেলার কথা। আমি বেড়াতে গেলাম আমার নানাবাড়ি বরিশালের বলহার। ঠিক সে সময়ই আমার ছোটখালার বাচ্চা হলো গ্রামের এক দাইয়ের হাতে। বাচ্চাটা হবার পরই খালাম্মার সমস্যা শুরু হয়। তিনি চিতকার করে কান্না করতে থকেন। সেই গ্রাম্য দাই কি একটা টোটকা দাওয়াই দিয়ে বিদায় হলেন। কোন ডাক্তারের ব্যাবস্থা করা হয়নি, হয়তো ডাক্তার তখন ছিলোও না কাছাকাছি। খালাম্মা কান্না করলেন পুরোটা দিন। আমার খালার কপাল ভালো তাই মৃত্যর হাত খেকে ফিরে আসতে পেরেছেন। এটা আজ থেকে প্রায় ২৫ বছরে আগের ঘটনা।

১৯৯০ সালে এর হার ছিল শতকরা ৫ এবং ২০১৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা শতকরা ৬০ ভাগ। প্রসব-পরবর্তী সেবার হার এখনো শতকরা ২২ ভাগ। বেশির ভাগ মাতৃমৃত্যুই ঘটে প্রসব-পরবর্তী সময়ে। বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী আছে শতকরা ৫৭ ভাগ, যা উন্নীত করতে হবে শতকরা ৭১ ভাগে। জন্মহার ২·৭ থেকে কমিয়ে ২-এ আনতে হবে। মাতৃমৃত্যু প্রতি এক লাখে ১৯৯০ সালে ছিল ৫৭৪ জন, ২০০৬ সালের পরিসংখ্যানমতে ৩২০ জন, আর ২০১৫ সালে লক্ষ্যমাত্রা ১৪৩ জন, অর্থাৎ তিন-চতুর্থাংশ কমাতে হবে। (সূত্রঃ 16: BBS (SURS) 17 : BBS (MIIS)।

আমরা সব সময়ই বলি ‘করতে হবে’ কিন্তু করে দেখাতে পারি না। নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসে আমাদের চাওয়া প্রত্যেক নারীর জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হোক এবং এটি হয়ে উঠুক আনন্দময় এক অভিজ্ঞতা। আর এভাবেই সংরক্ষিত হোক নারীর অধিকার। আসুন, এটা আমরা বাস্তবায়ন করে দেখাই।

লেখাটির সূত্র  এখানএখান থেকে নেয়া

মোট কথা মাতৃত্ব হোক নিরাপদ, মাতৃত্ব হোক আন্দময়।

Shout Me Crunch আমার ব্যক্তিগত টেক ওয়েবসাইট।