Topic: যক্ষা নিরাময়ে নতুন ঔষধ : বছরে ২০ লাখ মানুষের দেহে বাসা বাঁধে যক্ষ্মা

http://www.chobimohol.com/image-829F_4BE914E0.jpg

টিবি বা যক্ষ্মা রোগ এখনও বেশকিছু দেশে মৃত্যুর একটা বড় কারণ। এমন ধরনের যক্ষ্মা রোগও আছে যেগুলো ওষুধপত্রের ক্রিয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ফলে এ রোগ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।
এই হুমকির মাঝেই বিজ্ঞানীরা জানালেন, তারা একটি ওষুধ বের করেছেন যা কিনা টিবি সংক্রামক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই তা নিরাময় করতে সক্ষম হবে।
এই ওষুধ যদি পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয় তাহলে ৫০ বছরের মধ্যে তা হবে যক্ষ্মা রোগ মোকাবিলায় অত্যন্ত বড় রকমের এক সাফল্য।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাকটেরিয়া বিশেষজ্ঞ নিক ওয়েস্ট জানিয়েছেন, সিডনি শহরের সেন্টেনারি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের বের করা এই ওষুধ সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারবে বলে তারা মনে করেন। তিনি বলেন, একটি প্রোটিন নিয়ে আমরা পরীক্ষা করেছি যা যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। আর এই প্রোটিনকে বাধা দেয়ার উপযুক্ত একটি ওষুধ বের করার ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা সফল হয়েছি। এই ওষুধের কার্যকরিতার পূর্ণ ছবিখানা আগামী মাসগুলোতে খুঁজে বের করাটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।
বিজ্ঞানী নিক ওয়েস্ট আরো বলেন, ইতিহাসে এই প্রথম সংক্রামক নয় বা সুপ্ত টিবি রোগের চিকিত্সা করা সম্ভব হবে। প্রতি বছর যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণে বিশ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই মৃত্যু সম্ভবত ঠেকাতে পারবে নতুন ওষুধ। অস্ট্রেলিয়ার এই বিজ্ঞানী জানান, যক্ষ্মা রোগ রুখতে আমরা যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকি তা সুপ্ত টিবির বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। যখন রোগটা সচল হয়ে পড়ে তখনই শুধু তা প্রয়োগ করা যেতে পারে। সমস্যাটা হলো সুপ্ত টিবিধারী প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হবে এবং তার সংক্রমণ ঘটবে।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সেন্টেনারি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, পরীক্ষা কাজ পুরোপুরি সফল হলে এই ওষুধই হবে ১৯৬২ সালের পর টিবির প্রথম নতুন চিকিত্সা। পরিসংখ্যান বলে যে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা অর্থাত্ দুশো কোটি মানুষের দেহে টিবি রোগ সংক্রমিত। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে খুবই দ্রুত। ওষুধ প্রতিরোধক যক্ষ্মার কেস প্রায় অর্ধেক ঘটছে ভারত আর চীনে, জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও।
ভারতে জনস্বাস্থ্যের জন্য যক্ষ্মা অত্যন্ত বড় রকমের এক সমস্যা। সারা দুনিয়ায় যক্ষ্মা কেসের এক-পঞ্চমাংশই ঘটছে ভারতে। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষের দেহে বাসা বাঁধছে টিবি রোগ। তিন লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতি বছর টিবি রোগে। ফলে যক্ষ্মা রোগ মোকাবিলায় চালু রয়েছে নানা কৌশল। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ভারত প্রয়োগ করে চলেছে ডাইরেক্টলি অবসার্ভড ট্রিটমেন্ট বা ডটস। এতে কিছু সুফলও ফলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশক্রমে ভারতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সংশোধন ঘটিয়ে ডটস চিকিত্সার প্রসার ঘটানো হয়েছে।

বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝেই এ রোগের প্রকোপ বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা নতুন যে ওষুধ বের করার কথা জানিয়েছেন, তার পূর্ণ কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোও লাভবান হবে সন্দেহ নেই।

সূত্র : এখানে



Re: যক্ষা নিরাময়ে নতুন ঔষধ : বছরে ২০ লাখ মানুষের দেহে বাসা বাঁধে যক্ষ্মা

দারুন খবর।শেয়ার করার জন্য তৌফিক ভাইকে ধন্যবাদ।  :cloud9:

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg


Re: যক্ষা নিরাময়ে নতুন ঔষধ : বছরে ২০ লাখ মানুষের দেহে বাসা বাঁধে যক্ষ্মা

দারুন শেয়ারিং শাওন  :cloud9:
"যার হয় যক্ষা, তার নাই রক্ষা" - এই কথার ভিত্তি তো অনেক আগে থেকেই নাই।
এখন এটা তো আর ১০টা সাধারণ রোগের মত হয়ে গেল।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে~ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়,একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম...http://www.rongmohol.com/uploads/1805_adda_logo_4.gif

গনযোগাযোগ সচিবঃ ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।