Topic: ৫ লাখ টাকায় ভিওআইপি লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার

অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ঠেকাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সপ্তাহেই এর অনুমোদন দিতে দরখাস্ত আহ্বান করতে যাচ্ছে। ভিওআইপির আবেদন করতে হলে ৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে তা সংগ্রহ করতে হবে আর এর লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এছাড়াও বার্ষিক ফি দিতে হবে ৫ লাখ টাকা। বৈধ পথে ক্ষুদ্র অপারেটর পর্যায়ে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনাল খুলে দেয়ার জন্যই ভিওআইপি সার্ভিসেস প্রোভাইডার (ভিএসপি) নামে লাইসেন্স নীতিমালার আওতায় বিটিআরসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার গাইডলাইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে।

http://i.imgur.com/VIL1n.jpg

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন বৈধ পথে সাড়ে চার কোটি মিনিটের টেলিফোন কল আসে। আরও সমসংখ্যক কল অবৈধ পথে আসে। এই সংখ্যক কলকে বৈধ পথে আনতেই গত বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভিএসপি নীতিমালার খসড়া করেছিল বিটিআরসি। পরে আরও বেশকিছু দিন সেটি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পড়ে ছিল। একপর্যায়ে আবারও নীতিমালার কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনায় আসে। এসব প্রক্রিয়ার কারণেই বিলম্ব হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ এর ডিসেম্বরে এ লাইসেন্স উš§ুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। বর্তমানে এক মিনিটের আন্তর্জাতিক কল বৈধ পথে দেশে এলে তিন সেন্ট বা দুই টাকা ত্রিশ পয়সা দেশে আসে। এই পয়সার ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পায় আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ)। ১৫ শতাংশ পায় আন্তর্জাতিক আন্তঃসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)। ২০ শতাংশ পায় শেষ পর্যন্ত ফোনকলটি যেখানে গিয়ে পৌঁছায় সেই অপারেটর। আর বাকি ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় বিটিআরসি বা সরকার। গত ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ভিএসপি নীতিমালা পাঠানো হয়েছিল। এ খাতের আগের সব নীতিমালা যেহেতু প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তাই এটিও সেখানেই পাঠানো হয়েছিল। এদিকে এরই মধ্যে কমিশন ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে গেটওয়ে লাইসেন্স দিয়েছে। অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে এর আগে সরকার তিন হাজার ভিএসপি লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে গেটওয়ে লাইসেন্স দেয়া হয়। দেশের ব্যবসার ক্ষেত্রের তুলনায় এই সংখ্যাকে অতিরিক্ত আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুমোদিত গাইডলাইন বিটিআরসির কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে বছরে ৬০ মিলিয়ন কল আসে। এর মধ্যে ৫০ মিলিয়ন কল বৈধ। বাকিটা অবৈধ। এ কারণে সরকার বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন খুব শিগগিরই ভিওআইপি লাইসেন্সের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করতে পত্রিকা-টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।