Topic: কালো বিড়াল আর করিম শেখ

করিম শেখ। মাঝ বয়সী একটি লোক। ভীষন বিরক্তির ভাব নিয়ে হাটছেন। মানুষ বিরক্ত হলে হনহন করে হাটে। করিম শেখও দ্রুত হাটতে চাচ্ছেন। পারছেন না। এক হাতে বাজারের ব্যাগ আরেক হাতে একটি মাছ। কিছুক্ষন আগে বৃষ্টি হয়েছিলো। রাস্তা কাদায় মাখামাখি। তার উপর আবার এক পায়ের স্যান্ডেল এর ফিতে ছিরে গিয়েছে। তিনি পা টেনেটেনে হাটছেন।

বৃষ্টি হলে তুমুল বৃষ্টি হওয়া দরকার। ঝড় তুফানের মতো। তাহলে রাস্তায় কাদা হয় না। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদা। তিনি বৃষ্টির উপর চরম ক্ষিপ্ত। গ্রাম অঞ্চলের পথ। হুট করে বৃষ্টি এসে তাকে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে রাস্তায়ও কাদার সৃষ্টি করে দিয়ে গেছে। পা টেনে টেনে হাটতে কষ্ট হচ্ছে। একবার ভাবলেন স্যান্ডেল জোড়া ফেলেই হাটা ধরবেন। কিন্তু পরক্ষনেই সিদ্বান্ত পরিবর্তন করলেন। মাত্র পনের দিন আগে আশি টাকা দিয়ে কিনেছেন। এখনো ঠিকমতো ব্যবহার করেন নি। তিনদিন মাত্র পড়েছেন। আজ নিয়ে চারদিন। চারদিনে আশি টাকা নষ্ট করবেন? এটা হয় না। হাতেও যে তুলে নিবেন তাও পারছেন না। দু’হাতই বন্ধ। গ্রামের রাস্তা, একটু রাত হলেই ছিমছাম নিরবতা নেমে আসে তার উপর আবার হয়েছে বৃষ্টি। কারও সাথে যে কথা বলতে বলতে পথ চলবেন তারও উপায় নেই। রাস্তা পুরো খালি। কোন লোকজন নেই।

শুধু মাত্র যে বৃষ্টির কারনে করিম শেখের মেজাজ খারাপ তা নয়, বাজার করে ফিরবার পথে একটি বিড়াল তার পিছু নিয়েছে। কুচ কুচে কালো বিড়াল। বারবার পায়ের আশে পাশে ঘুরঘুর করছে। পায়ে বারি লাগছে আর করিম শেখ কিছুক্ষন পর পরই হোচট খাচ্ছেন। তিনি অনেক বার বিড়াল তাড়ানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। বিড়ালকে ভয় দেখালে কিছু দূর গিয়ে দাড়িয়ে থাকে তারপর আবার পায়ের সামনে ঘুরঘুর করা শুরু করে। করিম শেখ বিড়ালের সাথে বারি খেয়ে হোচট খান।
করিম শেখ সিদ্বান্ত নিলেন এবার বিড়ালকে একটা সর্ট করবেন। ছোট বেলায় তিনি ভালোই ফুটবল খেলতে পারতেন। মাঝ মাঠ থেকে সর্ট দিয়ে গোল দিয়ে দেবার রেকর্ড বহু আছে।

করিম শেখ দাড়িয়ে পড়লেন। ঠিক মতো নিশানা করে সর্ট মারতে হবে। অনেকদিন যাবত খেলাধুলা করেন না।
বিড়াল মনে হয় তার মনের ভাব বুঝতে পেড়েছে। দূরে দাড়িয়ে তাকিয়ে আছে। করিম শেখ এক পা সমেন বাড়ালেন। বিড়াল নড়লো না। ঠিক যেখানে ছিলো সেখানেই বসে আছে। এই সুযোগ। এখন সর্ট দেবার মুখ্যম সময়। বিড়াল পায়ের সামনেই। তিনি সর্ট দেবার জন্য ডান পা পিছনে নিলেন। শরীরের পুরো শক্তি প্রয়োগ করে পা সামনে ছুড়লেন। বিড়াল এক লাফে দূরে সরে গেল। করিম শেখের ডান পা উচুতে উঠে গেল। আরেক পা পিছলে গেল। কিছুক্ষনের উন্য দু’পাই শুন্যে উঠে গেল। তিনি কিছু বুঝবার আগেই ধিরিম করে মাটিতে আছরে পরলেন।

হাত থেকে বাজারের ব্যাগ আর মাছ ছিটকে পড়লো। তিনি কোমরে ভিষন ব্যাথা পেলেন। কোন মনে দাড়ালেন। বিড়ালটা তখনো সামনেই দাড়িয়ে আছে। তবে এখন তার মুছে মাছ।
বিড়ালকে দেখে করিম শেখ চিৎকার দিয়ে উঠলেন-“দাড়া আজকে তোরে খাইছি” বলেই বিড়ালকে ধরবার জন্য দৌড় দিলেন। বিড়াল মুখে মাছ নিয়ে দৌড়াচ্ছে। করিম শেখ তার পিছু পিছু দৌড়াচ্ছেন আর বলছেন-“আজকে তোরে মাছ খাওয়াইতাছি, দাড়া ধরতে যদি পারি একবার”।
বিড়াল দৌড়াতে দৌড়াতে একটি গর্তে ঢুকে পড়লো। করিম শেখ গর্তে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। বিড়াল ধরবার জন্য। বিড়াল

পেলেন না কিন্তু মাছ পেলেন। মাছ বাহির করবার জন্য তিনি গর্তের ভিতর থেকে হাত বের করবার চেষ্টা করলেন। বিড়ালটা মনে হয় মাছ এর অপর প্রান্ত কামড়ে ধরে আছে। করিম শেখ তার দিকে টানছেন আর বিড়াল তার নিজের দিকে। করিম শেখ মনে মনে পন করলেন মাছ যেভাবেই হোক ছিনেয়ে আনবেনই। বিড়ালের শরিরেও কম শক্তি না। এতো শক্তি বিড়ালের আসলো কোথা থেকে। তিনি শরিরের সমস্ত শক্তিতে মাছ নিজের দিকে টানলেন। হঠ্যাৎ করে বিড়ালটা মাছের অপর সাইট ছেড়ে দিলো, তিনি মাছ সহকারে কিছুদূর ছিটকে পরলেন।
করিম শেখ আবারো কোমরে ব্যাথা পেলেন। উঠে দাড়ারেন। এবার বাসায় যাওয়া দরকার। বিড়ালের পিছে দৌড়তে দৌড়তে জোতা জোড়াও হারিয়েছেন। তিনি চারপাশে তাকালেন। সবকিছু কেমন অচেনা অচেনা মনে হচ্ছে। গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে ফেলেছেন মনে হয়। চারিদেকে বড় বড় গাছ।
তিনি চারদিকে ভালো করে খেয়াল করছেন। গর্তের দিকে তাকালেন। তাকিয়েই তার হাত থেকে মাছ পরে গেল। ভয়ে বুক শুকিয়ে আসলো। হায় খোদা………তিনি এখন যেখানে দাড়িয়ে আছে তা সম্পূর্নটাই একটা কবরস্থান। আর এতোক্ষন যেখানে তিনি হাত ঢুকিয়ে মাছ নিয়ে টানাটানি করছিলেন তা কোন গর্ত নয়, এটা একটা ভাংগা কবর।
করিম শেখ ভিষন ভয় পেয়ে কাপতে কাপতে বাড়িতে ফিরলেন।

রাতে কাপুনি দিয়ে করিম শেখের জ্বর আসলো। তিনি জ্বরের ঘোরেই স্বপ্ন দেখলেন- একটা কালো বিড়াল তাতে বলছে, “করিম শেখ মাছ খাবা, মাছ নিবা না”।

করিম শেখ এর ঘুম ভেঙ্গে গেল। জ্বর এর পরিমান বাড়ছে, দু’চোখ ঘুরে জড়িয়ে আসছে কিন্তু তিনি ঘুমাতে চাচ্ছেন না। ঘুমালেই কালো বিড়ালটা এসে হাজির হয়।

বি:দ্র: বরাবরের মতো স্বরনশক্তি বহাল রাখতে আমার হালখাতা এলোমেলো এবং পরিচালকের কিছু দায়িত্বের জন্য আড্ডার আসরে পোষ্টানো হয়েছিলো।

http://img51.imageshack.us/img51/2053/adda1.png
এলোমেলো আকাশে উড়িয়েছো শাড়ির আচল,
হঠ্যাৎ যেন মেখে দিয়েছো, ঐ দু'চোখে ভালোবাসার কাজল!

আমাকে পাবেন এলোমেলো-তে!!!


Re: কালো বিড়াল আর করিম শেখ

ভালোই লাগলো,আমরা অবশ্য জানি পলাশ ভাইয়ের গল্পের ভান্ডার ইনফিনিটিভের কাছাকাছি। সুতরাং আরও সুন্দর সুন্দর ছোট গল্পের আশায় থাকলাম।  :applause:

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg


Re: কালো বিড়াল আর করিম শেখ

কেমন জানি শেষ হইয়াও হইল না শেষ মনে হল, শেষ করে দিন, অতৃপ্ত এক চাওয়া থেকেই যাচ্ছে, যদিও এই বৈশিষ্টই ছোট গল্পের প্রধান আকর্ষণ।  :cloud9:



Re: কালো বিড়াল আর করিম শেখ

লাশের (আগে একটা "প" বসিয়ে পড়ুন) গল্পটা পড়ে অনেক দিন আগের পড়া
আমার অত্যান্ত প্রিয় একজন কবির লেখা কবিতার কথা মনে পড়ে গেল;
[মাঝে একটু বলে নিইঃ যদিও আমার এডমিনের "কালো বিড়াল আর করিম শেখ" শিরোনামে লেখাটা গল্পটাও  :cloud9: ]
এখন ঐ লেখাটাও খুঁজে বের করে তা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করা হলো;
http://www.rongmohol.com/uploads/1625_9029_100898749932137_100000360385210_22519_4844743_n.jpg

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে~ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়,একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম...http://www.rongmohol.com/uploads/1805_adda_logo_4.gif

গনযোগাযোগ সচিবঃ ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।