Topic: মস্তিষ্কের টিউমার দেশেই চিকিৎসা: ডা. মোঃ আবু সাঈদ

শরীরের যে কোনো টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে টিউমার বলা হয়। মস্তিষ্কের টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্রেইন টিউমার বা মস্কিষ্কের টিউমার বলে। এ টিউমারগুলোকে বিনাইন ও মেলিগন্যান্ট দু'ভাগে ভাগ করা যায়। বিনাইন টিউমার অপেক্ষাকৃত ভালো। সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা করালে এটি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব। মেলিগন্যান্ট টিউমার খারাপ প্রকৃতির। এটাকেই বলে ব্রেইন বা মস্তিষ্কের ক্যান্সার।

http://i.imgur.com/7I3d4.jpg

সব ব্রেইন টিউমার খারাপ প্রকৃতির বা ক্যান্সার না হলেও অবস্থানগত কারণে এর চিকিৎসা দ্রুত ও জরুরি হয়ে পড়ে। অধিকাংশ টিউমারের উৎপত্তি মস্তিষ্কে হলেও বেশ কিছু টিউমার শরীরে অন্যত্র হতে মস্তিষ্কে দানা বাঁধে। যে কোনো বয়সের নারী-পুরুষ এ টিউমারে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি শিশু মস্তিষ্কের টিউমার নিয়েও জন্ম নিতে পারে। এ ছাড়াও কিছু কিছু টিউমার শিশু ও মেয়েদের হওয়ার প্রবণতা বেশি।
লক্ষণ : অস্বাভাবিক মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, চোখের দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া ও খিঁচুনি মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার লক্ষণ। মাথাব্যথার সঙ্গে যদি দ্রুত চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে থাকে বা বিনা কারণে কেউ যদি খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন যত আগে রোগ নির্ণয় করা যাবে চিকিৎসা করে তার ব্যবস্থা নেওয়া তত সহজ হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা : মাথাব্যথাসহ চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সবাই চোখের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। যদি ঘন ঘন চশমার পাওয়ার বাড়াতে হয় বা মাথাব্যথা না কমে তাহলে নিউরো সার্জনদের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। মস্তিষ্কের ক্যান্সার নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই বেশ ভূমিকা রাখে। তবে এমআরআই সিটিস্ক্যানের চেয়ে বেশি নির্ভুল ও নিরাপদ। এর ক্ষতিকর দিক খুব কম। বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা শহরে সিটি স্ক্যান ও বড় শহরগুলোতে এমআরআই করা যায়।
যা করবেন : ওপরের লক্ষণগুলো কারও মধ্যে দেখা দিলে মস্তিষ্কের ক্যান্সার হয়েছে এমনটি ভাবার কারণ নেই। মাথাব্যথা বা বমি অনেক কারণেই হতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। দেরি করবেন না। যেহেতু কোনো রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই টিউমার নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়, তাই অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুশ্চিন্তামুক্ত হন। যদি টিউমার ধরা পড়ে তাহলে সঠিক চিকিৎসা নিন।
দেশেই চিকিৎসা সম্ভব : ব্রেইন টিউমার বা মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তির খিঁচুনি হলে কুসংস্কারবশত তাকে জিনে ভর করেছে বা খারাপ বাতাস লেগেছে বলে মনে করা হতো। এখনও অনেক স্থানে তাই মনে করা হয়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর চলে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা, নির্যাতন। হয় কালক্ষেপণ। সঠিক রোগ নির্ণয় করতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকের কিছুই করার থাকে না। অনেকই জানেন না যে, আমাদের দেশেও এখন ব্রেইন টিউমারের আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব। আক্রান্তরা মনে করেন এত খরচ করে বাইরে চিকিৎসা করাতে আগ্রহী হন না। বরং বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরার অপেক্ষায় থাকেন। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ছাড়াও অনেক বেসরকারি হাসপাতালে ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে।
যদিও পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের জনবল ও উন্নত প্রযুক্তির স্বল্পতা আছে, তবুও কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা, অপারেশন পরবর্তী চিকিৎসা সেবা আমাদের দেশেই সম্ভব।

ডা. মোঃ আবু সাঈদ
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
নিউরো সার্জারি বিভাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল