Topic: ধর্ষণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশে আইন প্রয়োগের কঠোরতা সত্বেও দেশটি অভ্যন্তরীণ অপরাধ হ্রাস করার ক্ষেত্রে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফেডারেল আইনে ধর্ষণের শাস্তি জরিমানা থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। ২০০৮ সালে ফেডারেল কোর্টের একটি রায় অনুযায়ী ধর্ষিত যদি ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যুবরণ না করে এবং ধর্ষকের যদি তার শিকারকে হত্যার উদ্দেশ্য না থেকে থাকে তাহলে ধর্ষণের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে কোন অঙ্গরাজ্যের আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারবে না।

http://img193.imageshack.us/img193/4854/woman20with20hand20over.png

ধর্ষণ বিষয়ক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে প্রতি মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে ১.৩ জন মহিলা ধর্ষিত হয়, যা ঘন্টায় ৭৪ জন, দিনে ১,৮৭২ জন, মাসে ৫৬,১৬০ জন এবং বছরে ৬,৮৩,২৮০ জন। যেসব দেশ ধর্ষণের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে থাকে সেই দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের হার সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের ধর্ষণ হার জার্মানির চেয়ে চার গুণ অধিক, ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৩ গুণ এবং জাপানের চেয়ে ২০ গুণ অধিক। পরিসংখ্যানে আরো জানা যায় যে প্রতি তিনজন আমেরিকান মহিলার মধ্যে একজন জীবনে অন্তত একবার যৌন হয়রাণীর শিকার হয়েছেন। স্বামী কর্তৃক ধর্ষিত মহিলা প্রতি সাতজনে একজন। যুক্তরাষ্ট্রে ৮৩ শতাংশ ধর্ষিতের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে। কলেজে পাঠরতা প্রতি চার জন ছাত্রীর মধ্যে একজন ধর্ষিত হয়ে থাকে অথবা ধর্ষকের কবলে পড়ে কোনমতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। পুরুষ ছাত্রদের বেলায় জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে প্রতি ১২ জনের একজন এমন যৌন আচরণ করেছে আইনের সংজ্ঞায় যাকে ধর্ষণ বলে গন্য করা যায়। এছাড়া ৮৪ শতাংশ পুরুষ ছাত্র যারা এধরণের আচরণ করেছে, যা কিছুতেই ধর্ষণের মধ্যে পড়তে পারে না। ৭৫ শতাংশ ছাত্র এবং ৫৫ শতাংশ ছাত্রী, যারা ধর্ষণে জড়িত ছিল তারা মদ পান করেছে বা অন্য ধরণের নেশা দ্রব্য সেবন করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, মাত্র ১৬ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মার্কিন পুলিশের কাছে নথিভুক্ত ধর্ষণের ঘটনা ২০০৮ সালে ছিল ৯০ হাজার এবং সে বছর ২৫ শতাংশ অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অফ জাস্টিস স্ট্যাটিসটিকসের ১৯৯৯ সালের এক জরিপ অনুসারে সেদেশে ধর্ষিতের ৯১ শতাংশ মহিলা এবং ৯ শতাংশ পুরুষ। তবে ধর্ষকের ৯৯ শতাংশই পুরুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহিলাদের দ্বারা পুরুষের উপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে চলেছে।

ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণ হচ্ছে: “১. কোন ব্যক্তি যদি যে কোন বয়সের অপর কোন ব্যক্তির সাথে বলপূর্বক যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, ২. যৌনকর্মে লিপ্ত হয়ে কোন ব্যক্তির দৈহিক ক্ষতি সাধন করে, ৩. হত্যা, গুরুতর দৈহিক ক্ষতিসাধন বা অপহরণের ভীতি দেখিয়ে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, ৪. যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে অপর ব্যক্তিকে অচেতন করে, অথবা ৫. বলপূর্বক বা বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে অপর ব্যক্তির অজ্ঞাতে বা বিনা অনুমতিতে মাদক সেবন করায় যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার মতো ঘটনা।”

মার্কিন মহিলাদের মধ্যে কতো শতাংশ জীবদ্দশায় অন্তত একবার ধর্ষণের শিকার হয় তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এই হার যে কিছুতেই ১৫ থেকে ২০ শতাংশের নিচে নয় সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান একমত। ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইনেস্ট ওম্যান সার্ভে এই হার দেখিয়েছিল ১৭.৬ শতাংশ। ২০০৭ সালে ন্যাশনাল স্টাডি ফর দি ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস অন রেপ এই হার দেখিয়েছে ১৮ শতাংশ।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নেশাদ্রব্য, বিশেষ করে মদের প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে ৪৭ শতাংশ ধর্ষণের ক্ষেত্রে ধর্ষক ও ধর্ষিত উভয়েই মদ পান করেছে এবং ধর্ষিতকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জোর করে মদ্য পান করানো হয়েছে। সতের শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষক এবং সাত শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষিত নেশাগ্রস্ত থাকে। সর্বমোট ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে নেশা দ্রব্য সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরো দেখা গেছে যে দুই তৃতীয়াংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কারো না কারো বাড়িতে। ৩০.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে ধর্ষকের বাড়িতে, ২৬.৬ শতাংশ ঘটেছে ধর্ষিতের বাড়িতে এবং ১০.১ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এমন বাড়িতে যেখানে উভয়ে অংশীদার হিসেবে বসবাস করেছে। এছাড়া ৭.২ শতাংশ ধর্ষণ ঘটে থাকে পার্টিতে, ৭.২ শতাংশ যানবাহনে, ৩.৬ শতাংশ বাইরে এবং ২.২ শতাংশ বারে।

ধর্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে এ যাবত যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের অভিযোগগুলো ছিল পুরুষ কর্তৃক নারীকে ধর্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে বিস্ময়করভাবে পুরুষ কর্তৃক পুরুষকে ধর্ষণ, এমনকি নারী কর্তৃক পুরুষকে ধর্ষণের ঘটনাও পুলিশের নথিভুক্ত হচ্ছে। তবে মহিলা কর্তৃক মহিলাকে ধর্ষণের কোন ঘটনা অভিযোগ হিসেবে পুলিশের কাছে আসেনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে মহিলাদেরকেও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা যতো ঘটে, তার সবই অভিযোগ হিসেবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আসে না। ২০০৭ সালে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ১৮ শতাংশ জবরদস্তিমূলক ধর্ষণের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে জনসাধারণের মধ্যে জরিপ চালিয়ে। কলেজে পড়–য়া মেয়েদের মধ্যে এই হার দেখানো হয়েছে ১৬ শতাংশ, অথচ কলেজ পড়–য়া বা ওই বয়সের মেয়েরাই বেশি ধর্ষিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে অধিকাংশ ধর্ষণ সংঘটিত হয় অজ্ঞাত পরিচয় লোকদের দ্বারা। কিন্তু বাস্তবে পরিচিত লোকদের দ্বারাই অধিক সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জরিপে দেখা গেছে। মার্কিন ব্যুরো অফ জাস্টিস এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান বা সাবেক বন্ধুর দ্বারা ধর্ষিতের হার ২৬ শতাংশ, আতœীয়ের দ্বারা ৭ শতাংশ, পরিচিত লোকের দ্বারা ৩৮ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ২৬ শতাংশ। অপরদিকে বিশিয়ার্স, ক্লিনটন-শেরড ও ম্যাকঅসলান পরিচালিত জরিপে ৬১.১ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বর্তমান বা সাবেক ঘনিষ্ট বন্ধু দ্বারা, ৩৭.৯ শতাংশ পরিচিত লোকদের দ্বারা এবং মাত্র ২ শতাংশ অপরিচিত লোকদেও দ্বারা। দু’টি জরিপেই উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতি ১০টি ধর্ষণের ঘটনার চারটিই ঘটে ধর্ষিতের নিজ বাড়িতে।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের একটি দলিল ‘ক্রিমিনাল ভিকটিমাইজেশন ইন দি ইউনাইটেড স্টেটস’ অনুসারে ২০০৫ সালে ১,৯১,৬৭০ টি ধর্ষণ বা যৌন উৎপীড়নের ঘটনা পুলিশের কাছে অভিযোগ হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সব ধরণের সরকারী পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করে জাতিগত ভিত্তিতে, তাও শুধুমাত্র বিভাজন করা হয় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের ভিত্তিতে। সে হিসাবে ২০০৬ সালে ১,৯৪,২৭০ জন শ্বেতাঙ্গ ও ১৭,৯২০ জন কৃষ্ণাঙ্গ ধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার হয়। অবশ্য সরকারি রিপোর্টে কিছু কিছু ধর্ষণের ঘটনাকে বাদ দেয়া হয়। যেমন এফবিআই এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মহিলাদেরকে জবরদস্তিমূলক ধর্ষণ ছাড়া অন্য ধরণের ধর্ষণকে হিসাবে ধরা হয় না। কারণ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা কখনো অভিযোগ আকারে নথিভুক্ত হয় না, এমনকি অনেক ঘটনা জবরদস্তিমূলক হওয়া সত্বেও অভিযোগ করা হয় না। এছাড়া অনেক ধর্ষণের ঘটনা স্বয়ং পুলিশও গুরুতরভাবে গ্রহণ করে না, যার ফলে এ বিষয়ক মামলা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে।

মার্কিন সমাজবিদরা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা হ্রাস পাচ্ছিল, কিন্তু ইন্টারনেট পর্ণোগ্রাফির বিস্তারে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন বিকৃতির মতো ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ভিকটিমাইজেশন সার্ভে অনুযায়ী ১৯৮০ সালে ১২ বছর এবং এর উপর বয়সীদের উপর ধর্ষণের ঘটনা প্রতি হাজারে ২.৪ থেকে হ্রাস পেয়ে ০.৪ এ নেমে এসেছে, অর্থ্যাৎ হ্রাসের হার ৮৫ শতাংশ। কিন্তু অন্যান্য সরকারি জরিপে, বিশেষ করে ‘****ুয়াল ভিকটিমাইজেশন অফ কলেজ ওম্যান’ উপরোক্ত জরিপের সমালোচনা করেছে এই বলে যে উক্ত জরিপে শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলোকেই আমলে নেয়া হয়েছে যেগুলোকে ধর্ষিতরা অপরাধ বলে গন্য করেছে। কিন্তু ধর্ষণের শিকার হয়েছে প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি সংখ্যক মহিলা।

ভাষ্যকার : আগামী বছরে সরকারকে একদিকে যেমন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, অন্যদিকে মুখোমুখি হতে হবে বৈরী বিশ্ব পরিস্থিতির।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারের গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি, আসন্ন বাজেট, এডিপির বাস্তবায়ন, জাতীয় অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে যে মূল্যায়ন উপস্থাপন করেছে, তা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। চলতি অর্থবছরে জিডিপির ৬.৬৬ শতাংশ.

সুত্র

Shout Me Crunch আমার ব্যক্তিগত টেক ওয়েবসাইট।


Re: ধর্ষণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

আবার এরাই নাকি মানবতাবাদী? angry

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg


Re: ধর্ষণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

এটাই সভ্যতা। আর ওরা নাকি সবচেয়ে বেশি সভ্য।  surprise

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books