Topic: ক্যামেরা সম্পর্কে জানাশোনা

http://www.imaging-resource.com/PRODS/D5100/ZURFRONT.JPG


কেউ শখ করে ছবি তোলেন। কারো জীবিকাই ছবি তোলা। ব্যবহারের কারণ যা-ই হোক না কেন, ক্যামেরা কেনার দিকে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন। কিন্তু কোনো একটা ক্যামেরা কিনে ফেললেই তো আর হলো না। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে জেনে-বুঝে কেনাটাই ভালো।

কয়েক বছর আগেও 'এক্সোপোজড ফিল্ম' ক্যামেরায় ভরে ছবি তোলা হতো। ছবি কেমন হলো, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হতো স্টুডিওর অন্ধকার ঘরে ফিল্ম 'ডেভেলপ' হয়ে বের হয়ে আসা পর্যন্ত। এখন দিন বদলেছে। বেশির ভাগ মানুষই এখন ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলে। এতে ছবি তোলা খুবই সহজ। লাইভ ভিউয়ের মাধ্যমে ছবি কেমন আসবে, তাও আগে দেখে নেওয়া যায়। রেজ্যুলেশন, পিঙ্লে, মেমোরি কার্ড, এলসিডি ডিসপ্লেসহ সুবিধার ওপর নির্ভর করে ক্যামেরা নির্বাচন করা উচিত। এসব সুবিধার ওপরই নির্ভর করছে ক্যামেরার দাম কত হবে।

চাহিদা বুঝে ক্যামেরা

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের সনি ক্যামেরা বিক্রেতা বদরুদ্দোজা মাহমুদ জানান, পেশাগত নাকি শুধু শখের বশে ছবি তুলতে চান, তার ওপরই নির্ভর করবে কোন ক্যামেরা আপনার প্রয়োজন। যদি শখের বশে হয়, তাহলে 'পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট' ক্যামেরাই যথেষ্ট। বর্তমানে যেসব মধ্যম সারির পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট পাওয়া যায় তাতে ফিঙ্ড লেন্সে ডিএসএলআরের কিছু সুবিধাও যোগ করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলো দামে বেশ সস্তা, ওজনেও বেশ হালকা। বাড়তি লেন্সের ঝামেলা নেই। তাই এটি নিয়ে সহজেই ঘুরে বেড়ানো যায়। এমনকি পকেটে পুরেও! সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তাই পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরাই উপযোগী। যাঁরা পেশাগত কাজে ক্যামেরা কিনতে চান, তাঁদের প্রয়োজন সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন ডিজিটাল ক্যামেরার। যেটাতে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক_দুই মুডেই ছবি তোলার সুযোগ থাকবে; শাটার স্পিড, অ্যাপারচার, ফোকাস_এসব থাকবে। সাধারণত ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরায় এসব সুবিধা আছে।

মেগাপিক্সেল গুরুত্বপূর্ণ নয়
ফটোগ্রাফার মেসবাহ উদ্দিন ফাহাদ জানান, মেগাপিক্সেল যত বেশি হয়, ক্যামেরায় ছবির মানও তত ভালো হয়_এমনটিই মনে করে বেশির ভাগ মানুষ। তবে মেগাপিক্সলর সঙ্গে ছবির মানের সম্পর্ক খুব একটা নেই। ক্যামেরার মেগা্পিক্সেল বেশি হওয়া মানে ওই ক্যামেরার ছবির সাইজ বেশি বড় আসবে। মাত্র পাঁচ মেগাপিক্সলর ক্যামেরায়ই ১২ বাই ১৮ ইঞ্চি মাপের ছবি প্রিন্ট নেওয়া যায়। তাই পাঁচ মেগাপিক্সলর ক্যামেরাকেই স্ট্যান্ডার্ড বলা যায়। ক্যামেরা কেনার সময় তাই মেগাপিক্সলর দিকে চোখ না দিয়ে ক্যামেরায় অন্য কী সুবিধা আছে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।

দেখে নিন আইএসও
আলো কম থাকলে, জুম করলে কিংবা হাত কাঁপা অবস্থায় ছবি তুললে তা ঝাপসা হয়ে যায়। আইএসওর গতি বেশি থাকলে এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যামেরা কেনার সময় তাই আইএসওর গতি পরখ করে নেওয়া উচিত।
আইএসওর গতি বেশি হলে কম আলোয়ও ভালো ছবি তোলা যায়। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরার শাটার স্পিডও বেশি থাকে। তাই কম আলোয়ও ছবি তুললে ঝাপসা হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
ক্যামেরার ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন আরেকটি জরুরি বিষয়। ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন থাকলে ক্যামেরা হালকা কেঁপে গেলেও ছবি ঝাপসা হয় না। তাই ক্যামেরায় ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।

অপটিক্যাল জুম

দূরের বস্তুকে কাছ থেকে দেখার জন্য ক্যামেরায় জুম ব্যবহার করা হয়। দূরের ছবি তোলার জন্য জুম তাই গুরুত্বপূর্ণ। আলোকচিত্রী রাসেল আহমেদ জানান, ক্যামেরায় সাধারণত দুটি জুম থাকে। একটি ডিজিটাল, আরেকটি অপটিক্যাল জুম। অপটিক্যাল জুমই দূরের বিষয়কে ক্যামেরায় কাছে দেখায়। কমপক্ষে ৮ এঙ্ জুম আছে এমন ক্যামেরা কেনা ভালো।

ম্যানুয়াল কন্ট্রোল
ফটোগ্রাফার শ্রাবণ রেজা জানান, এসএলআর ক্যামেরায় ম্যানুয়াল কন্ট্রোল থাকে। এতে শাটার স্পিড (সেন্সরে কতক্ষণ ধরে আলো পড়বে), অ্যাপারচার (সেন্সরে কী পরিমাণ আলো পড়বে), আইএসও স্পিড (সেন্সরের সংবেদনশীলতা), ফোকাস_এসব নিজের মতো বদলানো যায়। পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরায় এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঠিক হয়।

কেমন হবে ফোকাস?
ফিঙ্ফোকাস ক্যামেরা সস্তা, তবে খারাপ নয়। এগুলোর ফোকাস করার ক্ষমতা স্থির বলে কিছু সীমাবদ্ধতা চলে আসে। অন্যদিকে অটো ফোকাস ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাস করে। জুম লেন্স আছে এমন ক্যামেরায় অটো ফোকাস থাকাটা জরুরি। কিনলে অটো ফোকাসসহ কেনা উচিত।

বাজারদর
দেশের বাজারে 'পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট' ৬ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে কেনা যাবে। যাঁরা একটু দূর থেকে ছবি তুলতে চান, তাঁদের জন্য সুপার জুমিং আছে এমন ক্যামেরাই কেনা উচিত। দেশের বাজারে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকায় এ ধরনের ক্যামেরা পাওয়া যায়। পেশাদারির জন্য যাঁরা ক্যামেরা কিনতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা। এসএলআর ক্যামেরার দাম সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা।

দেখে নিন রিভিউ
ক্যামেরা কেনার আগে ইন্টারনেট থেকে রিভিউ দেখে নিন। একসঙ্গে দু-তিনটি ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট ক্যামেরার রিভিউ দেখলে ক্যামেরার কোয়ালিটি সম্পর্কে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। এখানে পেয়ে যাবেন ব্যবহারকারীদের মন্তব্যও। www.dpreview.com, www.reviews.cnet.com/digital-cameras, www.whatdigitalcamera.com,
www.trustedreviews.com,   www.cameralabs.com, www.pcmag.com/reviews/digital-cameras,
www.digitalcamerainfo.com সাইটগুলো ক্যামেরা রিভিউয়ের জন্য বেশ নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট।

ক্যামেরা কিনবেন কোথা থেকেঃ

আমাদের দেশে শুধু ক্যামেরার জন্য আলাদা কোনো বাজার গড়ে ওঠেনি। তবে কম্পিউটার মার্কেটগুলোতে সাধারণত ক্যামেরা পাওয়া যায়।বাংলাদেশে 'ক্যানন' ক্যামেরার পরিবেশক জেএএন অ্যাসোসিয়েটস। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে তাদের শোরুম রয়েছে। ক্যানন ক্যামেরার খোঁজখবর এখান থেকেই পাওয়া যাবে। প্যানাসনিকের পরিবেশক এসিআই লিমিটেড। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে তাদের একটি শোরুম আছে। সনি ক্যামেরার পরিবেশক Ranks ইলেকট্রনিক্স। ক্যামেরার খোঁজ পেতে সনির শোরুমে যেতে হবে। এ ছাড়া আইডিবি ভবনের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অনেক দোকানে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের ক্যামেরাই পাওয়া যাবে। ক্যামেরার জন্য সুনাম আছে এমন কয়েকটি দোকান বসুন্ধরা সিটিতেও রয়েছে। এ মার্কেটের লেভেল ৬-এ রয়েছে সনি ব্রাভিয়া স্টোর। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম, এলিফ্যান্ট রোড ও স্টেডিয়াম মার্কেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্যামেরা পাওয়া যায়।
এছাড়া রায়ান'স থেকে নিতে পারেন অন্যান্য দোকানের চেয়ে কমে পাবেন। ক্লিকবিডি থেকেও নিতে পারেন ।

সুত্রঃ কালেরকন্ঠ

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books