Topic: স্তনে চাকা হওয়া মানেই ভয়ংকর কিছু নয়।

http://www.chobimohol.com/image-D497_4CA8E088.jpg

স্তন ফুলে যাওয়া সমস্যাক্রান্ত রোগিণীদের প্রথম জিজ্ঞাসাই থাকে, এটি স্তন ক্যান্সার কি না? স্তন ফুলে যাওয়াকে অনেকেই স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করে থাকে। সব টিউমারই ক্যান্সার নয়। প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২০ ভাগ স্তন টিউমার পরবর্তী সময়ে স্তন ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
সাধারণত স্তন টিউমারের মধ্যে অল্প ঝুঁকিপূর্ণ চাকা বা পিণ্ডকে ফাইব্রোএডিনোমা বলে, যা কম বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণত মসৃণ, গোলাকার এবং ব্যথাহীন হয়ে থাকে। ত্বকের সঙ্গে আটকে থাকে না বিধায় এটি ত্বকের নিচে নাড়াচাড়া করানো যায়। অনেক সময় স্তনে চাকা বা পিণ্ডের উপস্থিতি একাধিকও হতে পারে। ধীরে ধীরে এর আকার বাড়ে এবং পূর্ণাঙ্গ হতে থাকে। গর্ভকালে ফাইব্রোএডিনোমার আকৃতি বাড়তে পারে, তবে সন্তান প্রসবের পর আগের আকৃতিতে ফিরে আসে। সাধারণত সার্জারি বা শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে ফাইব্রোএডিনোমার চিকিৎসা করা হয়।
কম মাত্রার জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করে লঘু এই অপারেশনে স্তনে সৃষ্ট চাকা বা পিণ্ড এমনভাবে কেটে ফেলা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে আগেকার ক্ষতচিহ্ন একেবারেই বোঝা না যায়।
ফাইব্রোএডিনোমার ক্ষেত্রে অনেক সময় একাধিক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই রোগীর মধ্যে নিয়মিত ব্যবধানে এটি বারবার সংঘটিত হওয়ার দুশ্চিন্তা কাজ করতে পারে, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।
অনেক সময় মেয়েদের হরমোন মাত্রার অস্বাভাবিকতার কারণেও ব্রেস্ট লাম্প বা স্তনে ক্ষুদ্র পিণ্ড দেখা দিতে পারে, যাকে ফাইব্রোএডিনোসিস বলে। এসব ক্ষেত্রে পিণ্ডের সংখ্যা সাধারণত একাধিক হয়ে থাকে এবং আকৃতিও বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে উভয় স্তন আক্রান্ত হয়। পিণ্ডের আকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন-চার সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ সময় স্তনে একটুতেই ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথা বেশি অনুভূত হয় ঋতুস্রাবকালীন বা তার কাছাকাছি সময়। ব্যথা ধীরে ধীরে বাহু বা পশ্চাদভাগে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ রোগীই সার্জনের শরণাপন্ন হন ব্যথার কারণে। এ সময় স্তনের নিপল দিয়ে আঠালো ফ্লুইড বা রসও বের হতে পারে।
ফাইব্রোএডিনোসিস রোগ সাধারণত প্রজনন বয়সে হয়ে থাকে। এটি নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, প্রথমবার গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের পর এ রোগ সাধারণত আর দেখা যায় না। এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা স্বল্পমাত্রার ব্যথানাশক সেবনের মাধ্যমে উপশম পেতে পারেন।
রোগের মাত্রা তীব্র হলে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ব্যথাময় সিস্ট বা পিণ্ড অপারেশন করা হয়।
স্তনে লাম্প বা চাকা সৃষ্টি হওয়ার কারণ ও ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে নারীদের সচেতন থাকা উচিত। কারণগুলোর মধ্যে বয়স, সময়ের আগে বা পরে ঋতুস্রাব, বিলম্বিত গর্ভধারণ, অস্বাভাবিক মোটা শরীর, হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি উল্লেখযোগ্য।
৬৬ ভাগ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর বয়স ৫০ বছরের ঊধর্ে্ব এবং প্রায় ৮০ ভাগের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর। কোনো নারীর নিকটাত্মীয়, যেমন মা বা বোন যদি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, তবে তার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে চার গুণ বেড়ে যায়।
দ্রুত শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সারের কার্যকর চিকিৎসা সহজ হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগিণী নিজেই স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে। তাই স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণে রোগিণী কর্তৃক নিজের স্তনের পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক:- অধ্যাপক ডা. আনিসুর রহমান
কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট
জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি বিভাগ
অ্যাপোলো হসপিটালস, ঢাকা।

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg


Re: স্তনে চাকা হওয়া মানেই ভয়ংকর কিছু নয়।

ফাইব্রো এডেনমা একটা benign কন্ডিশন। অনেকেই বেশি ভয় পেয়ে যায়, জানানোর জন্য ধন্যবাদ।



Re: স্তনে চাকা হওয়া মানেই ভয়ংকর কিছু নয়।

sawontheboss4 wrote:

ফাইব্রো এডেনমা একটা benign কন্ডিশন। অনেকেই বেশি ভয় পেয়ে যায়, জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

অবশ্য ভয় পাওয়ার কারণও আছে,স্তন ক্যান্সারে সম্পুর্ন স্তনই সার্জারী করা হয় অনেক সময়।

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg