Topic: গোল্ডেন বল এর যত ইতিহাস

http://www.chobimohol.com/image-6349_4C4686D3.jpg

১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে অফিশিয়ালি চালু হয় ফিফা গোল্ডেন বলের পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারই পান পুরস্কারটা। এবার সেটা পেয়েছেন ডিয়েগো ফোরলান। বয়সটা ৩১ বছর বলে পরের বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত উরুগুয়ে অধিনায়কের। গোল্ডেন বল পাওয়া অনেক ফুটবলারই কিন্তু খেলতে পারেননি পরের বিশ্বকাপ। আবার অনেকে পরের আসরেও ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। গোল্ডেন বল জেতার পর তাঁদের ক্যারিয়ারের গতিপ্রকৃতিটা কেমন হয়, সেসব নিয়েই এ আয়োজন। লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

http://www.chobimohol.com/image-1E48_4C468976.jpg


পাওলো রসি (১৯৮২)
ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ ছিলেন দুই বছর। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ফেরেন ইতালি দলে। এত দিন মাঠের বাইরে থাকা একজনকে নেওয়ায় সমালোচনাও কম হয়নি তখনকার কোচের। অথচ সেই রসি-জাদুতেই সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ইতালি। সক্রেটিস, জিকো, ফ্যালকাওদের ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে হ্যাটট্রিকের পর সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের সঙ্গে করেন ২ গোল। এরপর ফাইনালেও ১ গোল করায় জেতেন প্রথমবার চালু হওয়া দুটি পুরস্কার_গোল্ডেন বল ও অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট।
বিশ্বকাপে নতুন করে চেনানো রসি সফল ছিলেন টুর্নামেন্ট শেষেও। জুভেন্টাসের হয়ে জেতেন ইতালিয়ান লিগ, কাপ, উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ (১৯৮৪), উয়েফা সুপার কাপ (১৯৮৪) ও ইউরোপিয়ান কাপ (১৯৮৫)। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বয়স ছিল ৩১ বছর। ফর্মটাও ভালো যাচ্ছিল না। তাই বিশ্বকাপের দলে থাকলেও সুযোগ হয়নি কোনো ম্যাচে খেলার। ইতালি সেবার বিদায় নেয় দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে অবসর নেন ৪৮ ম্যাচে ২০ গোল করা এ স্ট্রাইকার।

http://www.chobimohol.com/image-D8E1_4C4687F3.jpg


ডিয়েগো ম্যারাডোনা (১৯৮৬)
'৮৬ বিশ্বকাপটা ছিল ম্যারাডোনাময়। এ ফুটবল জাদুকরের কাঁধে ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতেন তিনিই।
চোট ও বয়সের কারণে (তখন ৩০) পরের বিশ্বকাপে অবশ্য '৮৬-র সেই ফর্মে দেখা যায়নি ম্যারাডোনাকে। তার পরও আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত পেঁৗছানোর পেছনে বড় অবদান ছিল তাঁরই। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ম্যারাডোনার পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেন ক্যানিজিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনা জিতে টাইব্রেকারে। শেষ আটে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও সেমিফাইনালে ইতালির সঙ্গে ঠিকই লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ম্যারাডোনা। ফাইনালে রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে জার্মানির সঙ্গে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ খেলেছিলেন ম্যারাডোনা। গ্রিসের সঙ্গে গোলও করেছিলেন প্রথম ম্যাচটিতে। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় খেলতে পারেননি আর। তাই ফুটবলের শতাব্দী-সেরা খেলোয়াড়ের (ফিফার ইন্টারনেট ভোট) বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ হয় কলঙ্ক মাথায় নিয়ে।

http://www.chobimohol.com/image-4D3F_4C468838.jpg


সালভাতোরে সিলাচি (১৯৯০)
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র ১৬টি ম্যাচই খেলেছেন সিলাচি, যার ছয়টি আবার ১৯৯০ বিশ্বকাপে। তাতেই পেয়েছেন টুর্নামেন্ট-সেরা খেলোয়াড় আর সেরা স্কোরের সম্মান। অথচ '৯০-এ অভিষেকটা হয়েছিল বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে ৭৮ মিনিটে করা তাঁর গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় পায় ইতালি। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অবশ্য সেরা একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করেন নবম মিনিটে। এরপর একটি করে গোল করেন দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ে, কোয়ার্টার ফাইনালে আয়ারল্যান্ড, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
১৯৯১-এ নরওয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটা করে অবসর নেন টোটো ডাকনামের ইতালির এ স্ট্রাইকার। ১৯৯৪-এ প্রথম ইতালিয়ান ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান জাপানের জে লিগে।

http://www.chobimohol.com/image-0424_4C4689DE.jpg


রোমারিও (১৯৯৪)
২৪ বছর পর '৯৪-এ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জেতার নায়ক ছিলেন রোমারিও। ৫ গোল করে সেবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ক্যারিয়ারে এক হাজারের বেশি গোল করা এ কিংবদন্তি। অথচ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের আগে সেরা একাদশে খেলার নিশ্চয়তা চাওয়ায় তাঁকে বাদ দিয়েছিলেন তখনকার কোচ পাহেইরা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রথমবারের মতো বলিভিয়ার সঙ্গে হারায় দাবি ওঠে তাঁকে দলে নেওয়ার। বাধ্য হয়ে পাহেইরা রোমারিওকে ডাকেন উরুগুয়ের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ২ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন মেজাজি এ স্ট্রাইকার।
'৯৪-এর পর রোনালদোর সঙ্গে তাঁর জুটির নাম দেওয়া হয়েছিল 'রো রো'। ১৯৯৭ ফিফা কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন 'রো রো' জুটির দুজনই। অস্ট্রেলিয়াও উড়ে যায় ৬-০ গোলে। তবে চোটের কারণে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি রোমারিও। ২০০২ বিশ্বকাপে তাঁর বয়স ছিল ৩৬। তখনো অসাধারণ খেলছিলেন ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। কিন্তু 'ইনডিসিপ্লিন' বলে তাঁকে আর দলে নেননি কোচ লুই ফেলিপ স্কলারি। এমনকি স্কলারি রাখেননি প্রেসিডেন্টের অনুরোধও।

http://www.chobimohol.com/image-7A25_4C468A28.jpg


রোনালদো (১৯৯৮)
১৯৯৬ ও ১৯৯৭-এ টানা দুইবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো গোল্ডেন বল জেতেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও। অবশ্য ৪ গোল করলেও সেবার সমর্থকদের মন ভরাতে পারেননি এ ব্রাজিলিয়ান। সেই অতৃপ্তি মিটে যায় ২০০২ বিশ্বকাপে। ৮ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি নিজেও জেতেন গোল্ডেন বুটের পুরস্কার। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ৩ গোল করে পরিণত হন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৫ গোল করা ফুটবলারে। আর রেকর্ড গড়েন জার্মান কিংবদন্তি ক্লিনসমানের মতো আলাদা তিনটি বিশ্বকাপে অন্তত ৩ গোল করার। তবে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর নতুন কোচ দুঙ্গা আর দলে নেননি তাঁকে।

http://www.chobimohol.com/image-A11B_4C468A96.jpg


অলিভার কান (২০০২)
প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২-এ গোল্ডেন বল জিতেছিলেন জার্মান কিংবদন্তি অলিভার কান। সেবার ফাইনালের আগে মাত্র একবারই বল জালে জড়িয়েছিল কানকে ফাঁকি দিয়ে। বিশ্বকাপের পর ২০০৪ ইউরোতে ব্যর্থ ছিলেন কান। জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে কোচ ক্লিনসমান এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে কানের বদলে খেলান জেন্স লেম্যানকে। তবে সিদ্ধান্তটা মেনে নিয়েছিলেন কান। আর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লেম্যান দুটি পেনাল্টি শট সেভ করায় প্রশংসা করেন তাঁর। পর্তুগালের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিতে মাইকেল বালাকের অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে খেলেছিলেন কান। ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নেন তিনি।

http://www.chobimohol.com/image-103F_4C468AD3.jpg


জিনেদিন জিদান (২০০৬)
২০০৪ ইউরো শেষে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন জিনেদিন জিদান। তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে ফ্রান্সের বিদায়ের শঙ্কা জাগায় কোচ রেমন্ড ডমেনেখের অনুরোধে আবারও ফেরেন জাতীয় দলে। ফ্রান্স বাছাই পর্বের বাধা টপকানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফাইনালেও পেঁৗছায় জিদানের কাঁধে চড়ে। ফাইনালের আগেই অবশ্য অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। বিদায়টা মধুর হতে পারত ফ্রান্স তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লিডটা ধরে রাখতে পারলে। কিন্তু বোন নিয়ে কটূক্তি করায় জিদান মাতেরাজ্জিকে 'ঢুঁস' দিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। জিদানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয় টুর্নামেন্ট-সেরা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতে।

গোল্ডেন বল জয়ীরা
ফুটবলার দেশ বিশ্বকাপ
পাওলো রসি ইতালি ১৯৮২
ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনা ১৯৮৬
সালভাতোরে সিলাচি ইতালি ১৯৯০
রোমারিও ব্রাজিল ১৯৯৪
রোনালদো ব্রাজিল ১৯৯৮
অলিভার কান জার্মানি ২০০২
জিনেদিন জিদান ফ্রান্স ২০০৬
ডিয়েগো ফোরলান উরুগুয়ে ২০১০

সূত্র : এখানে



Re: গোল্ডেন বল এর যত ইতিহাস

বভতথ্যগুলো জানা খুব প্রয়োজন ছিলো,তৌফিক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মোঃ সাঈদুজ্জামান উপল
http://img684.imageshack.us/img684/3410/fb1d.jpg