Topic: সময় এখন ডেঙ্গু জ্বরের

http://www.chobimohol.com/image-0604_4C300935.jpg

হরহামেশাই আমরা জ্বরে আক্রান্ত হই। তবে সে জ্বরের সামনে যদি ডেঙ্গু শব্দটি যুক্ত হয় তাহলে অনেকেই বিচলিত হয়ে পড়েন। আসলে কি তাই? বিশেষজ্ঞদের মতে, আর দশটা সাধারণ রোগের মতো ডেঙ্গু জ্বরেও ভয়ের কিছু নেই। এর সুচিকিৎসার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিরোধের সব ধরনের ব্যবস্থা। লিখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট ডা. সাকলায়েন রাসেল

ডেঙ্গু জ্বর কী
ডেঙ্গু বা ডেঙ্গি (উবহ-মর) যে নামেই ডাকি না কেন এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 'ডেঙ্গু ভাইরাস'-এর আক্রমণে এ রোগ হয় বলে এর নাম ডেঙ্গু জ্বর। এটা একটি মেয়াদি রোগ। অর্থাৎ কোনো জটিলতা দেখা না দিলে এটা আপনাআপনিই ভালো হয়ে যেতে পারে।

ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায়
এডিস মশা হচ্ছে ডেঙ্গুর বাহক। এডিস মশার ঘাড়ে চড়ে এ জ্বর এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ালে রক্তের মাধ্যমে ডেঙ্গু জীবাণু মশার শরীরে যায়, পরে সেই মশা আবার যাকে কামড়ায় তার শরীরে যায়। সেই মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে মশা, মশা থেকে পুনরায় মানুষ_এভাবে চক্রাকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণ বা ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর
নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এ জাতীয় ডেঙ্গু জ্বর জটিলতামুক্ত। অন্য সাধারণ জ্বরের মতো এ জ্বরেও দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং কখনো কখনো তা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে, মাংস ও জয়েন্টে ব্যথা হয়। মাংস এবং জয়েন্টে বা মেরুদণ্ডে এত বেশি ব্যথা থাকে যে রোগী স্বাভাবিক নড়াচড়া করতেও প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করে। জ্বরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চোখের পেছনের দিকে বেশ ব্যথা হয় এবং রোগী আলো সহ্য করতে পারে না। মাংস বা জয়েন্ট এবং চোখের ব্যথা দিয়েই অন্যান্য জ্বর থেকে ডেঙ্গু জ্বরকে আলাদা করা যায়।
এসব উপসর্গের পাশাপাশি প্রচণ্ড দুর্বলতা, অরুচি, কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রথম দফা জ্বর ভালো হওয়ার দুদিন পর রোগী আবার জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফা জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে র‌্যাশ বা লালচে দানা উঠতে পারে। কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। সব কিছু মিলিয়ে জ্বর সাধারণত সাত-আট দিন স্থায়ী হয়।

হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর
রক্তপাত সম্পর্কিত কোনো কিছু বোঝাতে মেডিক্যাল সায়েন্সে হেমোরেজিক শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতায় অনেক সময় হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে কালচে চাকা চাকা দাগ হতে পারে, দাঁতের মাঢ়ি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, চোখ লাল বর্ণ ধারণ করতে পারে এবং রক্ত বমি বা কালো পায়খানা হতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
এটা ডেঙ্গুর সর্বাপেক্ষা জটিল দশা। এ ক্ষেত্রে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি নতুন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ব্লাডপ্রেশার কমে যাওয়া, হাত-পাসহ পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া এবং একপর্যায়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বর খুব কম ক্ষেত্রেই এর জটিল দশা অর্থাৎ হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রূপান্তরিত হয়। তাই ডেঙ্গু হলেই রক্তপাত হবে_এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা। এর স্বাভাবিক পরিমাণ প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ। ডেঙ্গু জ্বরের কারণে এ প্লেটলেট কমে যেতে পারে। কখনো কখনো তা ১০ হাজারের নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ৩০ হাজারের বেশি থাকা পর্যন্ত রোগীর শরীরে সাধারণত কোনো লক্ষ্মণ প্রকাশ পায় না। তাই সন্দেহ হলে রক্তের প্লেটলেট পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

চিকিৎসা
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা সাধারণ জ্বরের মতোই। আক্রান্ত রোগীকে পৃথক বিছানায় মশারির ভেতর রাখতে হবে।
রোগী পূর্ণ বিশ্রামে থাকবে, বেশি পরিমাণে পানি খাবে, গা নরমাল পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। প্রয়োজনে জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ খেতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন বা এ জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর বা শক সিনড্রোমের উপসর্গ দেখামাত্রই রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও বলে রাখা ভালো, ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে শুধু প্লেটলেট দিতে হবে, এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

প্রতিরোধ
ডেঙ্গুবাহী মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। তাই বংশবৃদ্ধির সুযোগ নষ্ট করাই হলো প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।
যাঁরা শহরে বাস করেন তাঁরা হয়তো শখ করে টবে ফুলের চাষ করেন। দেখা যায়, টবে জমে থাকা পানি ডেঙ্গু মশাকে আকৃষ্ট করে বংশবৃদ্ধি করার জন্যই। তাই বাড়ির আশপাশে যাতে কোথাও পানি জমতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বলা হয়ে থাকে, ডেঙ্গু মশা সাধারণত দিনে কামড়ায় এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় বেশি কামড়ায়। এটা ঠিক। তবে সুযোগ পেলে যে রাতে ওভারটাইম করে না, এটা ঠিক নয়। তাই দিনে কিংবা রাতে যখনই ঘুমাবেন অবশ্যই মশারি ব্যবহার করবেন।

সূত্র : এখানে



Re: সময় এখন ডেঙ্গু জ্বরের

Thanx for good information



Re: সময় এখন ডেঙ্গু জ্বরের

একটু আগে একটা ডেঙ্গু কামরাইছে! টেন্সন এ আছি।