Topic: নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

http://www.chobimohol.com/image-E67B_4C039810.jpg

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকের ওপর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিটিআরসি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। আজ তারা যোগাযোগ করবেন। ফেসবুকের অপব্যবহার বন্ধে তাদের সহযোগিতা চাইবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যে ধরনের নির্দেশনা দেবে বিটিআরসি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সে ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি নেতিবাচক ব্যবহার হচ্ছে। এতে অনেকের সামাজিক মর্যাদাহানিও ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এসব ঘটনা হরহামেশা ঘটলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারিরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নেই মনিটরিং করার কোন ব্যবস্থা। বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম নিয়ে কাজ করছে র‌্যাব। তারা মাঝে মাঝে তাদের সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিহ্নিত করছে ওই সব অপরাধীকে। কিন্তু তাদের  পক্ষেও সব ধরনের সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িতদের নজরদারি করা সম্ভব নয়। ফেসবুকের অপব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার ফেসবুকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস বলেছেন, আপনারা দেখেছেন কিভাবে ফেসবুকের অপব্যবহার হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নামে অপরাধীরা নানা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের ইমেজ নষ্ট করছে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি সাইট এটাকে বন্ধ করা যাবে না। আপাতত তদন্তের স্বার্থে বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক চক্র ও গ্রুপ রয়েছে যারা এ সাইটটি ব্যবহার করে নানা অপকর্ম ঘটিয়েছে। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করবে। তিনি বলেন, আপাতত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ফেসবুক সাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। অন্যান্য দেশেও এর অপব্যবহার হচ্ছে। তারা এটাকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা দেখতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজনে সম্মিলিত ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে। এজন্য কোন নিয়মনীতি করতে হলে তা করতে হবে। এছাড়া বিটিআরসিকে বলা হয়েছে, যতদ্রুত সম্ভব ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। ফেসবুকের অপব্যবহার বন্ধের জন্য একটা পথ বের করতে হবে। তিনি বলেন, ফেসবুকের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নতুন কোন আইন বা নীতিমালা করার প্রয়োজন হবে না। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনেই এ ব্যাপারে বলা আছে। সেখানে শাস্তির বিধানও বলা আছে। আমরা চাইছি ওই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। যারা অপরাধ করেছে তাদের আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ কমবে। এদিকে র‌্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ফেসবুক ব্যবহার করে দেশের বিশিষ্টজনদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাদের সুনাম নষ্ট করা হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে এর প্রসার ঘটছে। সাইবার ক্রাইম বাড়ছে। এটা উদ্বেগজনক। এ কারণে র‌্যাব অনেক দিন ধরেই এ ব্যাপারে কাজ করে আসছিল। এর আগেও র‌্যাবের ওয়েবসাইট হ্যাকিং করার কারণে মিরপুর থেকে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সেটা ছিল হ্যাকিং। ফেসবুকে নানা আপত্তিকর তথ্য ছবি প্রকাশ ও সংযুক্ত করা আরেক ধরনের অপরাধ। আমরা ওই ধরনের ব্যক্তিদের ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাহবুব আলম রডিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও ক’জনকে ধরার জন্য র‌্যাব চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফেসবুকের অপব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিটিআরসি’র একজন পরিচালক বলেন, ফেসবুকের অপব্যবহার বাড়ছিল। এ চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। আমরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিগগিরই বিষয়টি জানিয়ে অপব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
যেভাবে বন্ধ করা হয় ফেসবুক সাইট: নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে ও সরকারের ইমেজ নষ্ট হওয়ায় সরকার থেকে উদ্যোগ নেয়া হয় তা বন্ধ করে দেয়ার। বিটিআরসি এসব নিয়ন্ত্রণ করে। বিটিআরসিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার। বিটিআরসি গত ২৬ শে মে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও ম্যাংগো টেলিকমকে চিঠি দেয়। সেখানে নির্দেশ দেয়া হয়, তাদের (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) আইআইজি থেকে ফেসবুকের বিশেষ কিছু লিঙ্ক বন্ধ করার। কিন্তু তারা ২৯শে মে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ করতে পারেনি। তারা তা বন্ধ না করার কারণে ২৯শে মে বিটিআরসি থেকে আবার বিটিসিএল ও ম্যাংগো টেলিকমকে চিঠি দেয় ফেসবুক সাইট পুরোপুরি বন্ধ করার। দুপুরে চিঠি পাওয়ার পর সন্ধ্যায় বিটিসিএল ও ম্যাংগো টেলিকম তাদের আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) থেকে ফেসবুকের সব লিঙ্ক বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ফেসবুকের সব লিঙ্ক বন্ধ রয়েছে।

সূত্র : এখানে