Topic: দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রাখল আর্জেন্টিনা

http://www.chobimohol.com/image-4E96_4C025671.jpg
জোহানেসবার্গের ওআর টাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশটাও পুরোদস্তুর যেন ‘আর্জেন্টাইন’ হয়ে ওঠে! পুরো আকাশের আসমানি রংটা আর্জেন্টিনার জার্সির রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে গেল। বিমানবন্দরে সামান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাইরে অপেক্ষমাণ বাসে চড়ে বসে আর্জেন্টিনা দল। বাসে ওঠার আগে বাইরে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন ম্যারাডোনা। উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘হ্যালো দক্ষিণ আফ্রিকা, আমি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালোবাসি!’ অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা অবশ্য তড়িঘড়ি করে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন ম্যারাডোনাকে। কিন্তু সেই প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে ম্যারাডোনা ও তার পুরো দল বাসে উঠে প্রিটোরিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রাখা আর্জেন্টিনার এই দলের মধ্যে স্ট্রাইকার লিওনেল মেসির ছবিটা একটু আলাদা ফ্রেমে বন্দি করতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন ফটোসাংবাদিকরা।
—প্লিজ মেসি, একটু হাসি, একটু হাত তুলে এদিকে তাকাও’—ফটোসাংবাদিকদের এই অনুরোধ যেন মেসির কানেই গেল না। সাদা রংয়ের বেসবলের টুপি পরা মেসি খানিকক্ষণ অবাক চোখে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোহিত ছিলেন। এই প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছেন মেসি। সম্ভবত তাই সবকিছু খানিকটা তার কাছে অপরিচিত ঠেকছিল!
জোহানেসবার্গের রাস্তার দু’ধারে আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা নাড়িয়ে ম্যারাডোনার দলকে স্বাগত জানান সমর্থকরা। বাসের ভেতর থেকে পর্দা সরিয়ে ম্যারাডোনা তাদের অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়েন। সামনে-পেছনে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার টিম বাস জোহানেসবার্গের হোটেলে এসে পৌঁছায়। এই টিম হোটেলে থাকার জন্য আরামদায়ক কেমন ব্যবস্থা চাই—তার একটা তালিকা ম্যারাডোনা আগেই আয়োজকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেই চাহিদাপত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে—ম্যারাডোনার নতুন ধরনের দামি কমোডের দাবি। আয়োজকরা সেই দাবি মেনে নিয়ে আর্জেন্টাইন কোচের জন্য ৪৫০ ডলার মূল্যের নতুন ধরনের কমোড তার হোটেল কক্ষে স্থাপন করেছেন।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে বুয়েন্স আয়ার্সে হাজারো সমর্থক শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় দলের বাসের চারদিকে আকাশি রংয়ের ছোট ছোট কাপড়ের টুকরো উড়িয়ে দলকে শুভকামনা জানান ভক্ত-সমর্থকরা। কোচ ম্যারাডোনার ওপর আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের আস্থা যে ফিরে এসেছে সেটাও স্লোগানে স্লোগানে জানিয়ে দেন ভক্তরা।
সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একক কৃতিত্বে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ডিয়াগো ম্যারাডোনা। এর আগে ১৯৭৮ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। কোচ ম্যারাডোনার হাত ধরে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনায় ফিরে আসছে—এই বিশ্বাস এখন দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলপাগল দেশটির আনাচ-কানাচজুড়ে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে বুয়েন্স আয়ার্সের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে ছুটে আসা ঘৌড় প্রশিক্ষক মার্টিন বার্টেইনা বললেন, ‘আমরা সবাই এখন ডিয়াগোর সঙ্গে আছি। যদিও কয়েকমাস আগে আমরা তার বিরুদ্ধে ছিলাম। তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই—আর্জেন্টাইনরা এমনই! আজ হয়তো তোমাকে ভালোবাসছি। কিন্তু পরদিন হয়তো বাসব না। তবে যতো যাই হোক—ম্যারাডোনা আসলে আমাদের জন্য বিশেষ কিছু।’
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় হচ্ছে মুলত দুজনকে ঘিরে। প্রথমজন কোচ ম্যারাডোনা। দ্বিতীয়জন: স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা স্বপ্ন দেখছে এই দুজনের রসায়ন তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেবে। স্ট্রাইকার হিসেবে মেসির যোগ্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কোচ হিসেবে ম্যারাডোনাকে যে এখনো অনেকে পাসমার্ক দিতে রাজি নন। কারণ আর কিছু নয়—বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফলাফল। বাছাই পর্বে টানা হারে আর্জেন্টিনা প্রায় খাদের কিনারায় চলে এসেছিল। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে কিনা—সেই সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বাছাই পর্বের শেষ রাউন্ডে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র এবং পেরুর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শেষরক্ষা হয় আর্জেন্টিনার। প্লেঅফ খেলার জটিলতা থেকে রেহাই পায় তারা। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়।
আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আরেকটি সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ক্লাব দলের হয়ে দুর্দান্ত খেলা লিওনেল মেসি এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তেমন প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। জাতীয় দলে তার বোঝাপড়াটা ঠিক হয়ে উঠেনি এখনো। ম্যারাডোনা এখন তার কাছ থেকে আসল খেলাটা আদায় করতে পারবেন কিনা—এই প্রশ্নের উপরই নির্ভরই করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

সূত্র : এখানে