Topic: জীবন্ত রাসায়নিক কৃত্রিম সেল আবিষ্কার

http://s1.postimage.org/UvlzJ.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এবার রাসায়নিক পদার্থের তৈরি জীবন্ত কোষ গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। দু’একজন এ সেল আবিষ্কারের সমালোচনা করেছেন। তবে অন্যরা এ আবিষ্কারকে মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। গবেষকরা বলছেন, তারা ব্যাকটেরিয়ার বংশানুক্রমিক সফটওয়্যার তৈরি করেছেন এবং পরে একটি সেলে এটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পর দেখা গেছে, গবেষণাগারে তৈরি সেলটি এর পূর্বপুরুষের ডিএনএ বৈশিষ্ট্য বহন এবং একই ধরনের আচরণ করে। গতকাল বিবিসি এ খবর দেয়।গবেষকরা বলছেন, ব্যাকটেরিয়ার এ কৃত্রিম সেলটি ওষুধ তৈরি ও জ্বালানি উত্পাদনে ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহার করা যাবে গ্রিন হাউস গ্যাস শুষে নিতেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, রাসায়নিক কৃত্রিম ডিএনএ পূর্ণাঙ্গ সেলে রূপান্তরের ঘটনা এটাই প্রথম। মেরিল্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য জে ক্রেইগ ভেনচার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা রাসায়নিক কৃত্রিম সেল আবিষ্কারের সাফল্য অর্জন করেন। এ গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন ড. ক্রেইগ ভেনচার। তারা এর আগে ব্যাকটেরিয়ার কৃত্রিম রাসায়নিক জেনম আবিষ্কার করেন। পরে এ জেনম অন্যটিতে প্রতিস্থাপন করা হয়। তারা এখন সিনথেটিক সেল আবিষ্কার করতে দুটি পদ্ধতি একত্রে ব্যবহার করছেন। যদিও এর জেনমটিও সিনথেটিক বা রাসায়নিক। ড. ভেনচার এখন নতুন একটি সফটওয়্যার আবিষ্কার করছেন। জেনমে ব্যবহার করা হয়েছে জেনেটিক কোড ও পদ্ধতি। ব্যবহার করা হয়েছে রাসায়নিক যন্ত্রও। ড. ভেনচার বিবিসিকে বলেন, তারা রাসায়নিক ক্রোমোজম সংগ্রহ এবং এটি গ্রহণ করে এমন সেলে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ সফটওয়্যারটিই সেল আবিষ্কার করবে।ড. ভেনচার বলেন, একটি রাসায়নিক কৃত্রিম ডিএনএ’র কোনো পূর্ণাঙ্গ সেল নিয়ন্ত্রণের ঘটনা এটাই প্রথম। ড. ভেনচার ও তার সহকর্মীদের ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার বেশ উপকারে আসবে। ভেনচার বলেন, এর ফলে শিল্পবিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ সেল পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক কার্বন-ডাই অক্সাইড শুষে নিলে এবং তৈলাক্ত বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার করা হলে আমরা বেশ উপকৃত হব। ড. ভেনচার ও তার সহকর্মীরা এরই মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল ও জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে আলাপ শুরু করেছেন। ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোজম উন্নত করার ব্যাপারে কথা বলছেন। এই ব্যাকটেরিয়াই উপকারী জ্বালানি ও নতুন টিকা তৈরি করতে ব্যবহার করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জেনেওয়ারের গবেষক ড. হেলেন ওলায়েস ড. ভেনচারের এই আবিষ্কারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসায়নিক কৃত্রিম এ ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। এটা পরিবেশে যা উপকার করবে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, এগুলো পরিবেশ পরিষ্কার করতে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু এগুলোই উল্টো পরিবেশ দূষণ করবে। তিনি বলেন, আমরা জানি না, এগুলো ঠিক কীভাবে পরিবেশে বিচরণ করবে। কি হবে এদের আচরণ। তিনি বলেন, ড. ভেনচার সৃষ্টিকর্তা নন, মানুষ। তিনি টাকা উপার্জনের জন্য এ আবিষ্কার করেছেন।

সূত্রঃ আমার দেশ