Topic: কমে যাচ্ছে স্মার্টফোনের দাম

অ্যাপল ২০০৭ সালে আইফোনের মাধ্যমে স্মার্টফোনের বাজার চালু করেছিল৷ এই আইফোন বাজারে আসার পর থেকেই হু হু করে বিক্রি হতে থাকে স্মার্টফোনটি৷ ২০০৯ সালে একবার অর্থ মন্দায় পড়ার পর আরও কঠিন সময় পার করছে এখন৷ এবারও সেই অর্থ মন্দা বড় কারণ আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্মার্টফোন বাজার দখল৷ আর এসব কারণেই ব্যাপক চাহিদার স্মার্টফোনগুলোর দাম কমতে চলেছে৷

http://i1132.photobucket.com/albums/m566/sawontheboss4/sciphone-n12-android-phone2.jpg

সম্প্রতি অ্যাপলের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন থেকেই বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে কোন পর্যায়ে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি৷ এ প্রান্তিকে অ্যাপলের বিপুল পরিমাণ মুনাফা হলেও আগের প্রান্তিকের চেয়ে কমেছে৷ ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশার চেয়ে একটু কম মুনাফা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির৷ এর কারণ হিসেবে নতুন আইফোন না আসা ও ইউরোপের ঋণসংকটকেও দায়ী করা হচ্ছে৷ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হাডসন স্কয়ার রিসার্চেরবিশ্লেষকদানিয়েল আর্নেস্ট বলেন, অর্থনীতির মন্দা সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে৷ এমনকি অ্যাপলও এর ব্যতিক্রম নয়৷ গত অর্থ মন্দার সময় এটি ব্যতিক্রম ছিল, কিন্তু এবার এ প্রতিষ্ঠানও অর্থ মন্দার কবলে পড়েছে৷ তিনি বলেন, অর্থ মন্দার কারণে লোকজন এখন আগের মতো দ্রুত স্মার্টফোন পরিবর্তন করছেন না৷ আগে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত প্রতি ১৮-২৪ মাসের মধ্যে তা আপগ্রেড করতেন৷ অর্থ মন্দার পর এ সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪-২৮ মাস৷ এ বিষয়ে গার্টনারের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি বলেন, তাদের স্মার্টফোন আপগ্রেড করার কোন কারণও নেই৷ কারণ আপগ্রেড করেও খুব বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না৷
বিশ্লেষকরা জানান, অ্যাপলের আইফোন ও স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনের দাম চীনা স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় চীনা কোম্পানিগুলো দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে৷ এ ছাড়া এলজি, এইচটিসি, নকিয়া, আরআইএম স্মার্টফোনের বাজার ধরার জন্য দাম কমাচ্ছে৷ সবকিছু মিলিয়ে স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনাই বেশি৷ সিসিএস ইনসাইটের বিশ্লেষক জিওফ বলেন, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনগুলো ব্যবহার করেন উচ্চবিত্তরা৷ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দাম কমানোর মাধ্যমে বাজার ধরতে চাইছে৷ গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী সেলফোন বিক্রি হবে ১৯০ কোটি৷ এর মধ্যে ৩৫ শতাংশই হবে স্মার্টফোন৷ বর্তমানে বিশ্বের ২০-২৫ শতাংশ লোকের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ ৫০-৫৫ শতাংশ৷
স্ট্যাটেজি অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সার্বিকভাবে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় মাত্র ৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বিনু৷ সে সময় ২০০৮-এর চেয়ে স্মার্টফোন বিক্রি মাত্র ১৬ শতাংশ বেশি ছিল৷ এর কারণও রয়েছে৷ ওই সময় স্মার্টফোন খুব একটা পরিচিতি পায়নি, সবার তেমন ধারণাও ছিল না৷ অ্যাপল অথবা গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্মার্টফোনগুলো তখন শৈশবকাল অতিক্রম করছিল৷ স্ট্যাটেজি অ্যানালিটিকস আরও জানিয়েছে, চলতি বছর স্মার্টফোন বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বাড়বে৷ অথচ ২০১০-এর তুলনায় ২০১১তে এর পরিমাণ বেড়েছিল ৬৮ শতাংশ৷ এ ছাড়া ২০১২-এর তুলনায় ২০১৩তে এর পরিমাণ ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে৷ স্মার্টফোনের বিক্রি কমার পাশাপাশি এ ডিভাইসগুলোর দামও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা৷ তাদের ভাষায়, বিশ্ব অর্থনীতি আরও খারাপের দিকে গেলেও স্মার্টফোনের বাজার উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদার কারণে বাড়ত৷ কিন্তু হুয়াউয়ে ও জেডটিইর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনের কারণে এ বাজারে দামে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে৷ এ বিষয়ে স্ট্যাটেজি অ্যানালিটিকসের গবেষক নেইল মসটন বলেন, আমাদের হিসাব অনুযায়ী আগামী বছর স্মার্টফোন বিক্রি থেকে আসা গড় আয়ের পরিমাণ এ বছরের চেয়ে কমবে৷ অর্থনীতি যদি এখনকার মতো অথবা আরও খারাপভাবে চলে তাহলে গ্রাহকরা কম দামের স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকবেন৷

সুত্র : যুগান্তর



Re: কমে যাচ্ছে স্মার্টফোনের দাম

দাম কমলে একটা কিনতাম ।  big grin  big grin

http://signatures.mylivesignature.com/54490/195/2C1D5ECC2B5514D8ABEEFA8F0D34B59B.png
http://feeds.feedburner.com/medinfo24/FcZw.4.gif