Topic: ঢাকা মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার আগেই আন্দোলন!

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে (ডিএমসিএইচ) মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার বিরোধিতায় নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির নার্স ও কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে তাঁরা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে, এমন কোনো নির্দেশনা তিনি পাননি। তার পরও কর্মচারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের নামে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটাতে দেওয়া হবে না।
হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা মনে করছেন, ডিএমসিএইচকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলে গরিব রোগী ভর্তির সুবিধা কমে যাবে। তাঁরা বিনা মূল্যে ওষুধও পাবেন না। এ কারণে তাঁরা চান না ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হোক। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এসব দাবি আদায়ের নামে কর্মচারীরা বহির্বিভাগ অচল করে দেন। ওই দিন চিকিৎসা না পেয়ে অনেক নারী ও শিশু ফিরে যান।
কর্মচারীরা জানান, ডিএমসিএইচকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব রোববারের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি কালো ব্যাজ ধারণ, ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারি বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা করে বিক্ষোভ করবেন নার্স ও কর্মচারীরা।
কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাবিনা শারমীন প্রথম আলোকে বলেন, এক হাজার ৭০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন গড়ে প্রতিদিন তিন হাজার রোগী থাকেন। ডিএমসিএইচকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলে নির্ধারিত শয্যার বেশি রোগী ভর্তি করা হবে না। আবার রোগীকে ১০ টাকার বদলে ৩০ টাকায় টিকিট কিনতে হবে।
সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আবদুল খালেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হলেই প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্তশাসিত হবে। কথায় কথায় কর্মচারীদের চাকরি হারাতে হবে। সরকারি কর্মচারী বলে তাঁদের এখানে থাকতেও দেবে না কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মচারীদের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় হলেও প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। পিজি হাসপাতালকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার আগে কর্মচারীরা এভাবে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁরা ভুল বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মচারীকে বদলিও হতে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর ঢাকা মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক বায়েজীদ খুরশীদ রিয়াজের সই করা চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই ট্রাস্ট ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্রঃ প্রথম আলো