Topic: সময় দিয়ে শুরু

http://www.kalerkantho.com/admin/news_images/605/thumbnails/image_605_178178.jpg


* মানমন্দিরের ওপরভাগটা একদিক থেকে এ রকম ** এক হাজার ৯৮৩ ফুট উঁচু রয়েল মক্কা টাওয়ার *** ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামের ভেতরের একাংশ



http://www.timstub.com/news/marg2.jpg

নাবিকদের কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছিল গ্রিনউইচ মানমন্দির। পরে এটিই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারণকেন্দ্র। একে ধরা হয় পৃথিবীর শূন্য ডিগ্রি অবস্থানে। এখান থেকেই ভাগ করা হয়েছে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম। সময়ও হিসাব করা হয় এখান থেকেই। তৈরি হয়েছিল ১৬৭৫ সালের ১০ আগস্ট।

পনেরো শতকে কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন। তখন সমুদ্র ভ্রমণে নাবিকদের হাতে কি থাকত জানেন? শুধু উত্তর-দক্ষিণ দিকনির্দেশক, মানে অক্ষাংশ জানতেন তাঁরা। তবে সমুদ্রে ভ্রমণের জন্য জানা থাকা চাই দ্রাঘিমাংশটাও। দ্রাঘিমাংশের মাধ্যমে পৃথিবীর মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব-পশ্চিমে নিজের অবস্থান জেনে নেওয়া যায়। দ্রাঘিমাংশ না জানার কারণে তখন নাবিকদের বেশ বেগ পোহাতে হতো। কখনো মুখোমুখি হতে হতো ভয়ংকর পরিস্থিতির। কখনো ভ্রমণ হয়ে যেত দীর্ঘতর। দীর্ঘ ভ্রমণে খাবার ও পানির সংকট হতো। এই পূর্ব-পশ্চিম না জানার কারণে কত নাবিকের সলিলসমাধি হয়েছে তার হিসাব ছিল না।
এ সমস্যা সমাধানে ১৬৭৫ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লস লন্ডনের গ্রিনউইচে একটি মানমন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। একটা নকশা করে ফেলেন স্যার ক্রিস্টোফার রেন। কথিত আছে, মানমন্দিরটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল ৫০০ পাউন্ডেরও বেশি। তবে খরচ কমানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। ব্যবহার করা হয়েছিল পুরনো ইট। গভীর সমুদ্রে সঠিক পথ ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তৈরি হয়ে যায় মানমন্দির। প্রথম জ্যোতির্বিদ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জন ফ্ল্যামস্টিড। তখন থেকেই মোটামুটিভাবে শুরু হয়ে গিয়েছিল মানমন্দিরের কার্যক্রম। কিন্তু এর পরও সব সমস্যার সমাধান হয়নি। দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
১৭০৭ সালটা নাবিকদের জন্য দুর্যোগের বছর হয়ে উঠেছিল। সে বছর সমুদ্রে মারা পড়েছিল দুই হাজারেরও বেশি নাবিক। ফলে মানমন্দিরের কাজ আরো নির্ভরযোগ্য করার প্রয়োজন হয়। ১৭১৪ সালে গড়ে তোলা হয় একটি দক্ষ পরিচালনা কমিটি_'দ্য বোর্ড অফ লঙ্গিটিউড।' ঘোষণা করা হয়, যিনি সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি বের করতে পারবেন তিনি পাবেন ২০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার। আজকের দিনে যা ২০ লাখ পাউন্ড বা তারও বেশি। পুরস্কার ঘোষণা করলেও কোনো বিজ্ঞানী নির্ণয় পদ্ধতি বের করতে পারেননি। এক বছর, দুই বছর নয়, এক যুগও নয়, দীর্ঘ ষাট বছর পর একজন এই পুরস্কারের দাবিদার হয়েছিলেন। তবে কোনো বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ বিজ্ঞানী বা গণিতজ্ঞ নন, শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতে নিলেছিলেন কিনা ইয়র্কশায়ারের একজন সাধারণ ছুতার মিস্ত্রি_জন হ্যারিসন। সমুদ্রে অবস্থান জানার ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন আনল হ্যারিসনের এইচ ফোর। বর্তমানে মন্দির গ্যালারির প্রধান আকর্ষণ হ্যারিসনের উদ্ভাবনী এই টাইম কিপার।
এরপর পৃথিবীর দ্রাঘিমাংশ কোথা থেকে মাপা শুরু হবে, তা জানা জরুরি হয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রাইম মেরিডিয়ান, অর্থাৎ দ্রাঘিমাংশ যেখানে শূন্য, কোথা থেকে গণনা শুরু হবে। সমাধান দিলেন জ্যোতির্বিদ জর্জ বিডেল অ্যারি। ১৮৫০ সালে তৈরি করলেন একটি বৃহদাকার টেলিস্কোপ_'ট্রানজিট সার্কল'। গ্রিনউইচ মানমন্দিরের অবস্থানের দ্রাঘিমাংশ শূন্য ধরে নির্ধারণ করা হলো পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম। এর ১৫ ডিগ্রি পূর্বে যদি দুপুর ১টা হয় তবে ১৫ ডিগ্রি পশ্চিমে সকাল ১১টা বাজবে। সে হিসাবে পশ্চিমে দিকে গেলে সময় কমবে এব পূর্ব দিকে বাড়বে। গ্রিক শব্দ লেমডা দিয়ে দ্রাঘিমাংশ বোঝানো হয়। ডিগ্রি মিনিট সেকেন্ড দিয়ে এটি নির্দেশিত হয়। ঢাকার দ্রাঘিমাংশ ৯০্ন ২২' ৩০" পূর্ব। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ নির্ধারিত হয় অক্ষাংশের মাধ্যমে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গ্রিনউইচ মানমন্দিরের সময় গণনা গোটা পৃথিবীতে সাড়া ফেলেছিল। তখন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সময় গণনা হতে থাকে প্রাইম মেরিডিয়ানের ওপর ভিত্তি করে। নির্ধারণ করা হলো একটি আন্তর্জাতিক সময়। এর আগে প্রতিটি দেশ ও শহর নিজেদের আঞ্চলিক সময় মেনে চলছিল। শুধু এটাই নয়, এর আগে কখন দিনের শুরু বা শেষ, কতক্ষণে এক ঘণ্টা ধরা হবে বা হওয়া উচিত_মোট কথা কিভাবে সময় নির্ধারণ করা যায় এ নিয়ে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো সম্মেলনও হয়নি। উনিশ শতকে এসে যোগাযোগব্যবস্থারও বেশ উন্নতি হয়েছিল। রেলওয়ে যোগাযোগের বিস্তৃতির কারণেও বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সময় নিরিখ গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে পৃথিবীর সময়শূন্য স্থান যে গ্রিনউইচ মানমন্দির, তা মেনে নেওয়া হয়েছিল ১৮৮৪ সালে। সে বছর ওয়াশিংটনে হয়েছিল 'ইন্টারন্যাশনাল মেরিডিয়ান কনফারেন্স'। এতে অংশ নিয়েছিলেন ২৫ জাতির ৪১ জন প্রতিনিধি। ২২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছিল গ্রিনউইচ। জয়ের পেছনে কারণ ছিল দুটি_এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় টাইম জোন সিস্টেম হিসেবে বেছে নিয়েছিল গ্রিনউইচ। দ্বিতীয়ত, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭২ শতাংশ বাণিজ্য নির্ভরশীল ছিল গ্রিনউইচের দেওয়া সামুদ্রিক নির্দেশপত্রের ওপর। এরপর থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান হয়ে ওঠে পৃথিবীর সময়ের মূলকেন্দ্র। এখান থেকেই এক একটি নতুন দিন, বছর বা শতকের শুরু হয়।
১৯৯৭ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে অন্তর্ভুক্ত হয় এই মন্দির। ২০০৭ সালে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সংস্কার করা হয় এর।
বর্তমানে মন্দিরটি বৃটেনের 'ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়াম'-এর একটি অংশ। গ্রিনউইচ পার্কের সবচেয়ে উঁচু স্থানে অবস্থিত মন্দিরটি দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান।

ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়াম
ব্রিটিশদের সমুদ্র জয়ের নানা নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে এই মিউজিয়ামে। সমুদ্রের বিভিন্ন মানচিত্র, চিত্রপ্রদর্শনী, অফিশিয়াল পাবলিক রেকর্ডসহ বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি, জাহাজের মডেল ও পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, সময় সংরক্ষণ পদ্ধতি, ব্রিটেনের সমুদ্র ইতিহাসসহ আরো অনেক কিছু আছে। রয়েছে ১৫ শতক থেকে শুরু করে অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহশালা মেরিটাইম হিস্টোরিক্যাল রেফারেন্স লাইব্রেরি এখানে। মিউজিয়ামটি পরিচালিত হয় সরকারি তহবিলে। মানমন্দিরটি এই মিউজিয়ামের আওতায়। এখানে বিনা মূল্যে প্রবেশ করা যায়।
http://www.ukstudentlife.com/Travel/Tours/London/Greenwich/NationalMaritimeMuseum2.jpg
মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। তবে শুরু হয়েছিল ১৮২৩ সালে। 'ন্যাশনাল গ্যালারি অব নেভাল আর্টস'-এর বিষয়ভিত্তিক ৩০০ ছবি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। এরপর নেভি ইউনিভার্সিটি তৈরি করে 'নেভাল মিউজিয়াম' ও 'সোসাইটি ফর নটিক্যাল রিসার্চ'। ১৯১০ সালে গড়ে তোলা হয় 'ন্যাশনাল নেভাল অ্যান্ড নটিক্যাল মিউজিয়াম'। এসবই ১৯৩৪ সালে ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামের আওতায় চলে যায়। ১৯৩৭ সালে এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ। স্যার থ্রনহিলের ছবির গ্যালারি সম্পূর্ণ হলে সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রিয় দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠে এই মিউজিয়াম।

রয়েল মক্কা টাওয়ার
মক্কা নগরীতে এক হাজার ৯৮৩ ফুট উঁচু রয়েল মক্কা টাওয়ারে টিক টিক করে ঘুরতে শুরু করেছে বিশাল এক ঘড়ি। চারদিকে মুখ করা ঘড়িটির ব্যাস ১৫১ ফুট, যা লন্ডনের বিগ বেন ঘড়ির ছয় গুণ বড়। ঘড়ির মধ্যে ২০ লাখ এলইডি বাতিতে আরবিতে লেখা 'আল্লাহর নামে'।

http://images.hotels-world.com/2//org/320/hotelPhoto/6830_Makkah_Clock_Royal_Tower__A_Fairmont_Hotel.jpg


ঘড়ির ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে ২১ হাজার সাদা ও সবুজ বাতি, যা আজানের সময় ৩০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আলো ছড়াতে পারে। ব্যবস্থা রয়েছে আকাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত আলোক প্রক্ষেপণের জন্য ১৬ রকমের ভার্টিক্যাল বাতি। মক্কাবাসীর আশা, মক্কা হবে পৃথিবীর টাইম জোনের কেন্দ্রবিন্দু। যদিও এই ঘড়ির কারিগরি কৌশল ও অন্যান্য তথ্য এখনো অজানা।

গ্রিনউইচ পার্ক
দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের বিশাল সবুজ ভূমি গ্রিনউইচ পার্ক। এর ঠিক উঁচু অংশটিতেই অবস্থিত মানমন্দিরটি। পার্কটির ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৪২৭ সালে ষষ্ঠ হেনরির চাচা ডিউক হামফ্রে তৈরি করেন গ্রিনউইচ ক্যাসল। এর আগে পার্কটি ছিল অনুর্ভর ভূমি। পরে এটি হয়ে উঠেছিল অষ্টম হেনরির শিকারের ক্ষেত্র। ১৬৭৫ সালে দ্বিতীয় চার্লস যখন মানমন্দিরের জন্য এই স্থান নির্বাচন করেন তখন ক্যাসলটির প্রায় ভগ্নদশা। পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় আঠার শতকে। ১৮৮৮ সালে চালু হয়েছিল গ্রিনউইচ পার্ক রেলস্টেশন। পরে ১৯১৭ সালে গ্রিনউইচ এবং গ্রিনউইচ পার্ক স্টেশন দুটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

http://www.rentduringthegames.com/london-2012-olympics/pictures/listings/2431_153.jpg


গ্রিনউইচ পার্ক পাহাড়ের ওপর দুই ধাপে অবস্থিত। উত্তরে নিচু অংশে রয়েছে মিউজিয়াম, কুইন্স হাউস, হাসপাতাল এবং পেছনে টেমস নদী। হেঁটে পাহাড়ের একটু ওপরে উঠলেই বিস্তৃত সমভূমি। পাহাড়ের মাঝখানে মানমন্দির। এই পার্ক থেকে লন্ডনের চারদিকের অপরূপ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ের ওপরের দিকটায় রয়েছে একটি পুকুর। পাশেই গোলাপসহ নানা জাতের ফুলের বাগান, ক্রিকেট পিচ, টেনিস কোর্ট ও কিছু বন্য হরিণ।
২০০৬ সালে ট্যুর অব ব্রিটেন সাইকেল রেসের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় এই পার্কে। বড় খবর হলো, ২০১২ সালে সামার অলিম্পিকে ঘোড়দৌড়ের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে এখানে। এ ছাড়া একই সালে প্যারা অলিম্পিক গেমসের ঘোড়দৌড়ের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে এখানেই।

পৃথিবী যেখানে শূন্য ডিগ্রিতে

http://www.personal.psu.edu/jef243/homepage%20files/800px-Primemeridian.jpg


প্রাইম মেরিডিয়ান বা পিএম হলো শূন্য ডিগ্রির একক। একে ধরা হয় সমগ্র পৃথিবীর সময় শুরুর স্থান। সময় মাপা হয় দুপুর থেকে দুপুর পর্যন্ত। মানমন্দিরে সময় সব সময় ০ ০' ০"। প্রাইম মেরিডিয়ানের ঠিক অপর পিঠকে ধরা হয় ১৮০ ডিগ্রি। এই রেখার একপাশে পৃথিবীর পূর্ব দিক অন্যপাশে পশ্চিম দিক। ১৮৮৪ সালে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আধুনিক প্রাইম মেরিডিয়ান রেখা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘোষণা করা হয়, এই রেখা লন্ডনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রিনউইচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে গেছে। তাই এখানে শূন্য ডিগ্রি হলে অপর পিঠ ১৮০ ডিগ্রি এবং মাঝের অংশ ৯০ ডিগ্রিতে অবস্থিত। ১৮৫১ সালে স্যার জর্জ অ্যারি আধুনিক গ্রিনউইচ মেরিডিয়ান প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে ১৮৮৪ সালে পৃথিবীর গড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জাহাজ তাদের চলাচল ম্যাপ তৈরির সময় প্রাইম মেরিডিয়ান ব্যবহার করে।

শেফার্ড ক্লক
মানমন্দিরের বাইরের পাহাড়ের দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে শেফার্ড গেট ক্লক। আধুনিক ইলেকট্রনিক ঘড়ির প্রাথমিক অবস্থার উদাহরণ এই ঘড়ি। মূল ভবনের ভেতরে রাখা একটি মাস্টার ঘড়ির সাহায্যে এই ঘড়িটি চালানো হয়। একে দাসঘড়িও বলা হয়। ১৮৫২ সালে মূল ঘড়ি এবং সহায়ক ঘড়ি একসঙ্গে চলার পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন চার্লস শেফার্ড। তবে তিনি এটির ডিজাইন করেছিলেন ১৮৪৯ সালে। প্রাথমিক অবস্থায় ঘড়ির দাম ৪০ পাউন্ড এবং সহায়ক ঘড়িগুলোর দাম ৯ পাউন্ডের মধ্যে রাখার কথা জানালেও তা সম্ভব হয়নি। শেষ অবধি মূল ঘড়ির দাম দাঁড়ায় ৭০ পাউন্ডে। গ্রিনিচ মানমন্দিরে স্থাপিত এই ঘড়িটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এখন যে ঘড়িটি রয়েছে, তা এর আধুনিক সংস্করণ। সম্ভবত প্রথম ঘড়িটির মাধ্যমেই গ্রিনউইচ মান সময় সাধারণের দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

http://www.ukstudentlife.com/Travel/Tours/London/Greenwich/ShepherdGateClock.jpg


নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঘড়ি ব্যবহারের এই ধারণা প্রথম দেন রাজকীয় জ্যোর্তিবিদ জর্জ বিডেল অ্যারি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় নির্ধারণ থেকে একটি প্রকৃত সময় নির্ধারণের ধারণা থেকেই তিনি এ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেন। প্রস্তাব করেন যে আদর্শ সময় নির্ধারণ করবে গ্রিনউইচ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র।
ইলেকট্রনিক সিগনালের মাধ্যমে মূল ঘড়ি থেকে অন্য ঘড়িতে সময় পার করে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় শুধু ইংল্যান্ডই নয়, তার কলোনি দেশগুলোতেও সময় নির্ধারণ শুরু হয়। আর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার সঠিক সময় নির্ধারণ করা হয় ১৮৫২ সালে।

আন্তর্জাতিক সময়

http://www.interex.fr/commun/images/atlas/decalage-horaire/dh_3.gif


জিএমটি বা গ্রিনউইচ মিন টাইম। আবার কখনো বলা হয় গ্রিনউইচ মেরিডিয়ান টাইম। এই হিসাব থেকেই বিশ্বের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। গ্রিনউইচ শহরের সঙ্গে সূর্যের অবস্থান মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের সময় হিসাব হয়। ১৮৮৪ সাল থেকে গ্রিনউইচ মানমন্দিরের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় প্রমাণসময়। স্থানীয় সময় নির্ধারণ শুরু হয় গ্রিনউইচ মেরিডিয়ান বা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসাবের মাধ্যমে। মিন টাইম বা আন্তর্জাতিক সময়কে জুলু টাইমও বলা হয়। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার দুই পাশের দেশগুলোর মধ্যে জিএমটির মাধ্যমে সময় নির্ণয় করা হলে দেখা যায়, তারিখ রেখার একপাশে দিন আর অন্যপাশে রাত।

নতুন মান সময় ইউটিসি

http://publib.boulder.ibm.com/infocenter/iseries/v5r3/topic/rzati/rzati503.gif


কম্পিউটার, অনলাইনসহ বেশ কিছু মাধ্যমে এখন মান সময় হিসেবে ধরা হয় কোর্ডিনেটেড ইউনিভার্সেল টাইম বা ইউটিসিকে। এটি নির্ধারিত হয়ে থাকে 'ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক টাইম'-এর ওপর ভিত্তি করে, যা প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ওপর নির্ভর করে। ইউনিভার্সেল টাইম ও গ্রিনউইচ টাইম থেকে আলাদা ইউটিসি। আগে আলাদাভাবে ইংরেজিতে সিইউটি এবং ফরাসিতে টিইউসি বলা হলেও পরে দুটিকে এক করে ইউটিসি নির্ধারণ করা হয়।

সুত্রঃ কালেরকন্ঠ

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books


Re: সময় দিয়ে শুরু

dr.shamim wrote:

ইউনিভার্সেল টাইম ও গ্রিনউইচ টাইম থেকে আলাদা ইউটিসি।

কিন্তু অমিত আগে GMT + 6 দিতাম আর এখন UTC + 6 দেই। একি তো! কাহিনী কী?   at wits' end