Topic: কমলগঞ্জের হামহাম জলপ্রপাত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমার গহিন অরণ্যে নয়নাভিরাম নতুন জলপ্রপাত হামহাম পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। যদিও যোগাযোগ ব্যবস্খার অভাব ও প্রচারে কমতি থাকায় জলপ্রপাতটি এখনো রয়ে গেছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।

http://i.imgur.com/gHEdZ.jpg


কুরমা হামহাম নামের ১৩০ ফুট উচ্চতার এই জলপ্রপাতটি যেন আরেক মাধবকুণ্ড। স্খানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা পানি পতনের ধ্বনিকে হামহাম বলে, তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি রেঞ্জের ৭ হাজার ৯৭০ একর আয়তনের কুরমা বনবিট এলাকার পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা বাগান। পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। এই বনবিটের প্রায় ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাতের অবস্খান। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্খা নেই। কমলগঞ্জ-কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা স্খানীয় বাস, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে পারলেও বাকি ১০ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। কুরমা চেকপোস্ট থেকে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা পল্লী বন বিভাগের কুরমা বিটের অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী। সিএনজি অটোরিকশায় তৈলংবাড়ী পর্যন্ত পৌঁছা যাবে। এভাবে যেতে হলে নামতে হবে আদমপুরে। কমলগঞ্জ-আদমপুর বাজার পর্যন্ত বাস ভাড়া ১০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০-২০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশায় পৌঁছা যায় আদিবাসী বস্তি তৈলংবাড়ী কিংবা কলাবন বস্তিতে। সেখান থেকে আরো প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে হামহাম জলপ্রপাতের।

গহিন অরণ্যে প্রবেশের আগে তৈলংবাড়ী কিংবা কলাবন এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ের ভেতর হামহাম জলপ্রপাতে যাওয়া যাবে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথে ট্রেকিং করা খুবই কষ্টের। মাঝে মধ্যে সিমেন্টের ঢালাই করার মতো দেখতে বড় বড় পাথরের খণ্ড খুবই পিছল, ডানে-বামে তাকালেই ভয় লাগবে মনে মনে। তাই ট্রেকিং করার সময় সবাইকে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে খুবই সাবধানে হাঁটতে হবে। কলাবনপাড়া থেকে হাঁটার সময় কলাগাছগুলো দেখলে মনে হবে কেউ যেন সারিবদ্ধভাবে লাগিয়ে রেখেছে এগুলো। জারুল, চিকরাশি ও কদমের সারিবদ্ধ চারাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে হাজারো প্রজাপতি ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে বহু দূরে। ডুমুর গাছের শাখা আর বেতস বনে দেখা মিলবে অগণিত চশমা বানরের। চারদিকে ও প্রাকৃতিক বাঁশবনে ভরপুর আর ডলু, মুলি, মিরতিঙ্গা, কালি ইত্যাদি অদ্ভুত নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ। পাথুরে পাহাড়ের ঝিরিপথে হেঁটে যেতে যেতে অসংখ্য পাখির সুমিষ্ট কলরব। শোনা যাবে বিপন্ন বনমানুষ, উল্লুক, গিবনসের ডাক।
কিছ ুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর ভেসে উঠবে পাহাড় থেকে ধোঁয়ার মতো ঘন কুয়াশা ওঠার অপূর্ব দৃশ্য। মনে হবে নয়নাভিরাম পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে একসময় পৌঁছা যায় হামহাম জলপ্রপাতের খুব কাছাকাছি। দূর থেকে শোনা যাবে জলপ্রপাতের শব্দ। কাছে গিয়ে দেখতে পাবেন প্রায় ১৩০ ফুট উপর থেকে জল পড়ার সেই অপূর্ব দৃশ্য। যে কারো মন ক্ষণিকের জন্য হয়ে উঠবে চঞ্চল।

ঢালু ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে উপরে ওঠা কষ্ট হলেও সহজ, কিন্তু নিচে নেমে আসা খুবই বিপজ্জনক ও কঠিন। তাই ভ্রমণকারীদের সবাইকে কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সাথে ট্রেকিং শুরু করতে হবে। প্রায় সাড়ে ৪ঘন্টা পর ফেরা যাবে কলাবনে।

ভ্রমণপিপাসু কমলগঞ্জ অথবা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যানবাহন ভাড়া করে ভোর ৬টার মধ্যেই হামহামের উদ্দেশে রওনা দিতে হবে। স্খানীয়রা বলেন, সরকার পর্যটকদের আগমনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলে এই জলপ্রপাতটি মাধবকুণ্ডকে হার মানাবে।