(edited by সুজন পাল 2011-06-25 21:19:29)

Topic: জ্যোৎস্নাবিহার ও কিছু স্মৃতি

আজ আমার ল্যাপটপে  জ্যোৎস্নাবিহারের ভিডিওগুলো দেখছিলাম। কিছুক্ষনের জন্য আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি রাজশাহীতে আছি। সেন্ট মার্টিনস এর সেইসব স্মৃতি আমাকে কিছুক্ষনের জন্য নিয়ে গিয়েছিল সাগরের তীরে। 

মনে পড়ে গেল আমার(শুধু আমার না, যারা গিয়েছিল, তাদের সবার) জীবনের সুন্দরতম সপ্তাহটির প্রতিটা মুহূর্তের কথা। সেই উচ্ছ্বাস, সেই আনন্দ, গলা ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও চিৎকার করে গান গাওয়া – প্রতিটা কথাই আবার মনে পড়ে গেল।

মেডিক্যাল কলেজে যারা পড়ে, তারা বোধহয় সবচেয়ে বেশি চাপ সহ্য করতে পারে ! প্রতিদিনের আইটেমের চিন্তা, টার্ম-প্রফ এ পাস-ফেল এর চিন্তা – এগুলো থেকে বের হবার সময় পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। ৫ বছরের এমবিবিএস কোর্সে ১ টাই স্টাডি-ট্যুর। ৪র্থ বর্ষ কবে আসবে, এই প্রতীক্ষাই যেন করে সবাই। আমাদের ৪৯তম এমবিবিএস এর সেই প্রতীক্ষার পালা শেষ হল সেই বহু-আরাধ্য স্টাডি-ট্যুর “জ্যোৎস্নাবিহার” এর মাধ্যমে।

যেদিন আমাদের জ্যোৎস্নাবিহারের কমিটি আমাদের প্রিয় অধ্যক্ষ হান্নান স্যার স্বাক্ষর করলেন, সেদিন থেকেই একটা গুরুদায়িত্ব পড়েছিল আমাদের কয়েকজনের কাঁধে। যারা কমিটিতে ছিলাম, সবাই সেই দায়িত্ব এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারব, এটা বোধহয় আমরা নিজেরাও জানতাম না। তবে আমাদের মনে বিশ্বাস ছিল। ৪৯ এর জন্য ভালোবাসা ছিল। নিজেদের জীবনের চাইতেও তখন বড় হয়ে উঠেছিল আমাদের ব্যাচের সম্মান। আর এই সংকল্পই আমাদের কাজটা অনেক  সহজ করে দিয়েছিল।

২৪শে জানুয়ারি, ২০১১
আমাদের জ্যোৎস্নাবিহার কমিটি সাক্ষরিত হল। আমরা জেনে গেলাম, আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় সপ্তাহটি আর বেশি দূরে নয়। কমিটি তে যারা ছিলাম, সেদিন থেকেই আমাদের কাজ শুরু করে দিলাম। সারাদিন ক্লাস বাদ দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে এখান থেকে ওখানে। ধীরে ধীরে আমরা এগিয়ে চলছিলাম আমাদের শিক্ষাসফরের দিকে।

আমরা চারু মামার ক্যান্টিনে জ্যোৎস্নাকুটির তৈরি করে আমাদের ট্যুরের অফিস হিসেবে ঘোষণা দিলাম। সারাদিনের পরিশ্রমের পর সন্ধ্যা থেকে সেখানে বসে আমরা ট্যুরের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করতাম। শুধু কি তাই? ধুম-ধারাক্কা গানের সাথে আমাদের সে কি ড্যান্স! কোন সিনেমার প্রডিউসার সেসব দেখলে এতদিনে আমাদের মধ্যে অনেকেই সিনেমায় চান্স পেয়ে যেত!

আমরা যে চারুকলায় পড়লে স্ট্যান্ড করতে পারতাম, তার প্রমাণ আমরা দিলাম আমাদের মেডিকেলে সাজ-সজ্জা করে। মাত্র ১২ দিন সময় পেয়েছিলাম আমরা। এর মধ্যেই আমরা শ’খানেক পোস্টার টাঙ্গিয়ে পুরো মেডিক্যালে আমাদের ট্যুরের বার্তা পৌঁছে দিলাম। শুধু কি তাই? আরএমসি এর ইতিহাসের সম্ভবত দীর্ঘতম আল্পনা করে আমরা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলাম। মনে পড়ে, সেই সব আল্পনা করতে করতে রাত ভোর হয়ে যেত। ২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে আবার ছুটতে হত অন্য কোন কাজে। সেদিন এই শক্তি আমরা কীভাবে পেয়েছিলাম? ৪৯ এর প্রতি আমাদের ভালোবাসা কতটুকু, সেদিনের পরিশ্রমেই তার প্রমাণ মেলে...

আমাদের অগ্রগামী দলের দুইজন (শামীম ও সুসেন) রওনা হয়ে গেলো দক্ষিণবঙ্গে। চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন ঘুরে ঘুরে তারা বাস, ট্রেন, জাহাজ, হোটেল – এগুলো ভাড়া করলো। তাদের পরিশ্রমের ফল হিসেবে আমরা পেলাম নির্বিঘ্ন একটা ভ্রমণ।

ট্যুরের  ২ দিন আগে আমাদের ব্যাচের মেয়েরা শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবী পরে কলেজে শো-ডাউন দিলাম। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম, আমাদের ব্যাচ রুপে-গুণে কোন অংশে কম নয়। বরং বেশিই! সেই রাতেই আমরা চারু মামার ক্যান্টিনে কমিটির পক্ষ থেকে একটা পিকনিক এর আয়োজন করলাম। সেদিনের সেই নাচ-গান কি এত সহজেই ভোলা যায়? উত্তরঃ যায় না!

ট্যুরের আগের দিন সকাল ১১টায় আমাদের জ্যোৎস্নাবিহার rally বের করলাম। কলেজের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ঘুরে, ছেলেদের হোস্টেল, মেয়েদের হোস্টেল হয়ে আমরা চারু মামার ক্যান্টিনে এসে থামলাম।

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
অবশেষে এলো সেই দিন, যার জন্য এতোটা বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। বিকালের ট্রেনে পুরো একটা কামরা জুড়ে ৯০ জনের দল যাত্রা করলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে আমরা কতো যে মজা করলাম, তা লিখতে গেলে মহাভারত রচিত হয়ে যাবে! হৈ-হুল্লোড় আর ক্যামেরার ক্লিক-ক্লিক শব্দের মধ্যে আমরা কখন যে ৬ টি ঘণ্টা পার করে দিলাম, কেউ টের পেলাম না। কমিউনিটি মেডিসিনের আমাদের প্রিয় জোহা স্যার শুরু থেকেই ছিলেন আমাদের সাথে। ঢাকা থেকে তার সাথে যোগ  দিলেন আমাদের আরেক প্রিয় মনির স্যার। সাথে ছিল উনার মেয়ে।

রাত ১১:৩০ এর ট্রেন এ আমরা ঢাকা থেকে রওনা হলাম পাহাড়-পর্বত বেষ্টিত বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পানে। সেই রাতের কথা মনে পড়লে আজও শিহরিত হই। রাতের অন্ধকার ভেদ করে ঝিক-ঝিক শব্দে ছুটে চলেছে ট্রেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছে পাশের সিটের যাত্রীর কাঁধে মাথা রেখে। অনেকেই মোবাইলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, “চট্টগ্রামের পথে আছি ৪৯ এর সাথে”... হঠাৎ করেই কিছু মেয়ে গান গাওয়া শুরু করল! আর কিসের ঘুম? সবাই জেগে উঠে এক সুরে গলা মেলালাম। এই অভিজ্ঞতা বোধহয় জীবনে একবারই আসে...।  গান গেয়ে যখন গলা বসে যাওয়ার মত অবস্থা, তখন আবার সবাই শান্ত। আবার সবাই ঘুমে।

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
ঘুম ভাঙল ভোরের আলোয় পাহাড়ের হাতছানিতে। আবছা আলোয় আমরা দেখতে পেলাম চট্টগ্রামের ঐতিহ্য সেইসব পাহাড়ের সারি। মনে হল, আমার জন্ম সার্থক। যে দেশে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, আমি সেই বাংলাদেশের সন্তান।

ট্রেন থামলে আমরা স্টেশন থেকে বের হয়ে মিনি বাসে করে গিয়ে উঠলাম রিজেন্ট পার্ক হোটেলে। সেদিন আবার হরতাল ছিল। তাই কোন ঝুঁকি না নিয়ে আমরা সেইদিন বিকেল পর্যন্ত হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। হরতাল পাতলা হলে আমরা সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে বাসে করে রওনা হলাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। অন্ধকারে সমুদ্রের “স” চোখে পড়লেও বাকিটা  অদৃশ্যই থেকে গেল।
ওখানে একটা রেস্তরায় চা-নাস্তা করে আমরা গেলাম বায়জিদ বোস্তামির মাজারে। সেখানে পুকুরের মধ্যে ইয়া বড় বড় কচ্ছপ দেখে ভালোই লাগল!

তারপর আবার হোটেলে ফেরা, ক্লান্তি নিয়ে একেক রুমে ছোট ছোট জটলা করে বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা দেয়া – সেসব স্মৃতি ভুলতে মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে! মাঝে মাঝে মনে হত, ছেলে-মেয়ে আলাদা হোস্টেল না বানিয়ে একটা হোস্টেল বানালেই বোধহয় ভাল করত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হায়!! কতটা আনন্দ পেলে এরকম উদ্ভট চিন্তা মাথায় আসে!!

ঘুমানোর আগেই সবাইকে বলে দেওয়া হত, পরের দিন কয়টায় উঠতে হবে। জীবনে অনেকবার এরকম শুনতে হয়েছে বাবা-মা’র কাছে, “তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়, কাল পরীক্ষা, ৬ টায় উঠতে হবে”। তখন বিরক্ত হতাম এই কথা শুনে। কিন্তু ট্যুরের সময় ভোরে ঘুম ভাঙলেই মনটা আনন্দে ভরে যেত। কারণ ছিল  নতুনের সন্ধানে বের হবার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।

   
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
আচ্ছা, আমরা জলজ প্রাণী হলে কেমন হত? সারাদিন পানির মধ্যে কাটাতে হত! রাঙ্গামাটির বিখ্যাত কাপ্তাই লেক এ আমরা এরকম একটা সুযোগ পেলাম। সারাদিন লঞ্চে করে ঘুরলাম কাপ্তাই এর বুকে। দুপুরের খাবার হিসেবে নেয়া হয়েছিল বিরিয়ানি। সারাদিন পানির উপর আশেপাশের ছোট ছোট টিলা দেখতে দেখতে সবার জোরেশোরে খিদা লেগে গিয়েছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা নামলাম শুভলং পাহাড়ে। সরু রাস্তা বেয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে পৌঁছে গেলাম পাহাড়ের ধারে। ওরে বাবা! পাহাড় এত উঁচু হয়! অনেকে তো ভয়ই পেয়ে গেল! অনেকে আবার অতিসাহসী হিসেবে আখ্যায়িত হবার বাসনায় পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে গেল অনেকটা উঁচুতে। সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে অশোক আর হাসান রেকর্ড করল! ঝর্নায় পানি না থাকলেও ছবি তুলতে তো আর বাধা নেই! সবাই ফটাফট ছবি তুলতে লাগল।

শুভলং এর পর আমরা পেদা টিং টিং দেখলাম(যদিও নামলাম না কেউই)। তারপর গেলাম রাঙ্গামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত ব্রিজে। সেখানে কিছুক্ষন থাকার পর আবার চট্টগ্রামের পানে যাত্রা করলাম আমরা।

৪৫ সিটের ২ টা বাসে আমরা আসা যাওয়া করতাম। বাসের পেছনের অংশ ছিল মিউজিক হ্যাভেন! আমরা যত গায়ক-গায়িকা ছিলাম, বসতাম পেছনে। গাড়ি চলা শুরু হলেই আমাদের গানও শুরু হয়ে যেত। কত রকমের যে গান গাইতাম! প্যারোডি ছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম...

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
এদিন ছিল আমাদের বান্দরবন ভ্রমণ। ভোর বেলা রওনা হয়ে আমরা বান্দরবনে গিয়ে প্রথমে দেখলাম বিখ্যাত স্বর্ণমন্দির। অত উঁচুতে মন্দির বানানোর চিন্তা যে কার মাথায় এসেছিল, তা ভাবতে ভাবতে আর ব্যাথাযুক্ত পা নিয়ে আস্তে আস্তে সবাই উঠলাম স্বর্ণমন্দিরে। সেখানে সবাই মিলে কিছু গ্রুপ ছবি তুললাম আমরা।

স্বর্ণমন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ শেষ হলে আমরা মেঘলা পার্কে গেলাম। পাহাড়ের বুকে হাঁটাহাঁটি করতে করতে একবার মনে হয়েছিল, আর ফিরে যাবো না রাজশাহীতে! পাহাড়ি তেঁতুলের স্বাদ এখনও জিভে লেগে আছে...

বান্দরবনের একটা জিনিসের কথা না বললেই নয়। তা হল, রাস্তা! ওরে বাবা! সে কি বান্দরবনের রাস্তা, নাকি স্বর্গে যাবার রাস্তা, এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করার প্রয়োজন  আছে! খাড়া পাহাড়ে উঠতে হবে বাসে করে। তাও আবার সোজা রাস্তা না। সাপ ও বোধহয় এত আঁকাবাঁকা পথে চলে না! একবার বাসের নিয়ন্ত্রণ হারালে আমাদের লাশগুলোও খুঁজে পাওয়া যেত কি না সন্দেহ। কারণ, রাস্তার এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে গভীর খাদ, বন্য গাছ-গাছালি দিয়ে ভরা। বাসের ড্রাইভাররা ছিল এসব রাস্তায় অভিজ্ঞ। তাই তাদের হাতে আমরা আমাদের জীবন সঁপে দিয়ে ওই পথে পা বাড়িয়েছিলাম।

সন্ধ্যা হতে আর বেশি দেরি নেই, এই সময় আমরা পৌঁছলাম ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে। বাঘ, হাতী, কুমির, বানর আরও অনেক জীবজন্তু দেখে আমরা সন্ধ্যার পর রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাতে উঠলাম কক্সবাজারের ডায়মণ্ড প্যালেস হোটেলে। রাতেই অনেকে লাবনী পয়েন্ট এ সমুদ্র দেখতে গেল।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
পরদিন সকাল টা ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। আমরা স্থানীয় রেস্তরাঁয় নাস্তা  করে দল বেঁধে গেলাম লাবনী পয়েন্টে। সমুদ্রে নামলাম। সমুদ্র আমাদের বরণ করতে তার বিশাল বিশাল ঢেউমালা নিয়ে এসে ভিজিয়ে দিল। তারপর আর আমাদের পায় কে? একটানা ৩ ঘণ্টা পানিতে কাটালাম! হাতে হাত ধরে বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ৪৯ এর বন্ধুরা শপথ নিলাম, “এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে, যেখানেই থাকি মোরা – কাছে কিবা দূরে”।

সেদিন বিকালে সবাই বার্মিজ মার্কেটে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সবই নতুন লাগে, কোনটা  রেখে কোনটা নিই! রাতের আঁধার নেমে এল। আমরা সেন্ট মার্টিনস এ যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমাতে গেলাম।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
এদিন ভোর ৬ টায় রওনা হলাম টেকনাফের পানে। সেখানে নাস্তা করে জাহাজে উঠলাম। নাফ নদীর বুক চিঁড়ে আমরা এগিয়ে চললাম। কিছুদূর যাবার পর আমরা বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করলাম। জাহাজের বিজনেস ক্লাস ভাড়া করা ছিল আমাদের জন্য। কিন্তু সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অনেকেই বাইরে এসে সারাটা সময় কাটিয়ে দিল।

৩ ঘণ্টার যাত্রা শেষে আমরা তীর পেলাম। সেই তীরের নাম সেন্ট মার্টিনস। একেকজনের ব্যাগ এত ভারি ছিল যে সেগুলো টানার জন্য ২ জন লাগত! সেইসব ব্যাগ নামিয়ে আমরা ভ্যানযোগে গিয়ে পৌঁছলাম সেন্ট মার্টিনস এর অবকাশ হোটেলে। দুপুরের খাওয়া হলে সবাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে সৈকতে গেলাম। সূর্যাস্তের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করে আমরা যার যার রুমে চলে গেলাম।

ওই রাতে আমরা বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছিলাম। ঝলসানো মুরগি, সাথে গোল গোল রুটি! পেট ভরে খেলাম সবাই। তারপর ক্যাম্প ফায়ারের মত আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে সবাই গোল হয়ে দাঁড়ালাম। মিউজিক শুরু হতেই সে কি নাচ আমাদের! ঋত্বিক রৌশন ফেল! জটিল মজা করলাম রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত।  তারপর ঘুমাতে গেলাম, অনেকে তখন আবার সমুদ্র দেখতে গেল!

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
পরদিন উঠেই সূর্যোদয় দেখলাম। অনেকে ছেরাদ্বীপ এ গেল। এভাবেই আমাদের ট্যুরের শেষ দিন টা কেটে গেল। বিকাল ৩ টায় ফিরতি জাহাজে আমরা সেন্ট মার্টিনসকে বাই বাই জানিয়ে ঢাকার অভিমুখে যাত্রা করলাম। সন্ধায় পৌঁছলাম টেকনাফ, রাত ১০ টায় কক্সবাজার, তারপর সারারাত বাস জার্নি করে ভোরে চট্টগ্রাম। একটানা জার্নি। ক্লান্তিকর। তবে আমাদের সেজন্য কোন খারাপ লাগে নি। খারাপ লেগেছে এই ভেবে, এভাবে আর কোনদিন হয়ত একসাথে সব ৪৯ মিলে কোথাও যাওয়া হবে না। বার বার মনে হয়েছে, ইস! আরও কয়েকটা দিন যদি এভাবে বেড়াতে পারতাম!

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
সকালের ট্রেনে আমরা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসলাম। দুপুরবেলা ট্রেন কমলাপুর স্টেশন এ থামল। আমাদের “জ্যোৎস্নাবিহার” ও থেমে গেল। রেখে গেল কিছু আনন্দময় স্মৃতি। যে স্মৃতি আঁকড়ে ধরে এখন প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠি, মেডিক্যাল যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে সারাদিন কাটাই, রাতে আবার সেই স্মৃতি মনে করে ঘুমাতে যাই।

আমার বন্ধুদের আমি কতটা ভালবাসি, তা হয়ত আমি কোনদিন বোঝাতে পারব না। জ্যোৎস্নাবিহারের সময়টায় আমাদের আত্মার বন্ধন আরও জোরদার হয়েছে, এটা আমরা সবাই মানি। জীবনের চাকা গতিশীল। আজ আমরা একসাথে আছি, কাল হয়ত থাকব না। কিন্তু যে যেখানেই থাকি, এই একটি ট্যুর আমাদের সারাজীবন একত্রিত করে রাখবে, আমি বিশ্বাস করি......



Re: জ্যোৎস্নাবিহার ও কিছু স্মৃতি

এটার জন্য তোমাকে রেপু দিতেই হবে! মনে করিয়ে দিলে সেই স্বপ্নের দিনগুলো!



Re: জ্যোৎস্নাবিহার ও কিছু স্মৃতি

sawontheboss4 wrote:

এটার জন্য তোমাকে রেপু দিতেই হবে! মনে করিয়ে দিলে সেই স্বপ্নের দিনগুলো!

সেইসব দিন প্রতিদিনই মনে পড়ে...
রেপুর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।