Topic: যক্ষ্মা হলে রক্ষা আছে

২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০১১। এবারের প্রতিপাদ্য হলো : On the move against tuberculosis —যার অর্থ যক্ষ্মার বিরুদ্ধে অভিযাত্রা। বিষয়টা বাস্তবতাপূর্ণ। যক্ষ্মা শনাক্তকারী বিজ্ঞানী রবার্ট কক্-এর উদ্ভাবনীর একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনস্ট টিউবারকুলোসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজের উদ্যোগে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চকে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে পালনের প্রস্তাব করা হয়। ১৯৯৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনস্ট টিউবারকুলোসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাত্মতা ঘোষণা করে। তারপর থেকে সারা বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য পৃথিবী থেকে যক্ষ্মা নির্মূল করা। সে লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি নেয়া হয় প্রতিবছর, যার একটি প্রতিপাদ্য বিষয়ও থাকে।

যক্ষ্মা হলে রক্ষা আছে
একটা সময় ছিল বলা হতো, ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা।’ আর এখন বলা হচ্ছে, ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই, এই কথার ভিত্তি নেই।’ আসলেই তাই যক্ষ্মার কার্যকর চিকিত্সা বের হওয়ার পর থেকে প্রাচীন প্রবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। রাজরোগ বলে পরিচিত যক্ষ্মা এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। অথচ একসময় কত ভয়ঙ্করই না ছিল এই রোগের রাজা যক্ষ্মা। বর্তমানে ৬ মাস, ৯ মাস কিংবা ১২ মাস—মোটামুটি এই তিন মেয়াদের চিকিত্সা ব্যবস্থা আছে। যার যেটি প্রযোজ্য সেটি গ্রহণ করলেই যক্ষ্মা সেরে যায়। তবে চিকিত্সা করাতে হবে সময়মত এবং নিয়মিত। যক্ষ্মার চিকিত্সায় অনিয়মিত ওষুধ সেবন আরও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। অনিয়মিতভাবে যক্ষ্মার ওষুধ সেবন করলে রোগ তো সারেই না বরং যক্ষ্মার জীবাণু ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফলে প্রচলিত ওষুধে আর যক্ষ্মার জীবাণুকে নির্মূল করা সম্ভব হয় না। পরিণতি ধুঁকেধুঁকে মৃত্যু।
যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণকারী খ্যাতিমানরা
একটা সময় ছিল যক্ষ্মার চিকিত্সা ছিল না। তখন পৃথিবীর কত লাখ মানুষ যে যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণ করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণকারী খ্যাতিমানের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। লেখকদের মধ্যে ম্যাক্সিম গোর্কি, জন কিটস্, উইলিয়াম সমারসেট মম, কাফকা, লিও টলস্টয়, এডগার পোলেন পো; আঁকিয়েদের মধ্যে পল গঁগা; নেতাদের মধ্যে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, রুজভেল্ট, সিমন বোভেয়্যার, ডেজমন্ড টুটু; বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল—এদের সবার মৃত্যুর কারণ যক্ষ্মা।

অজ্ঞতার কারণে যক্ষ্মা সারছে না
যক্ষ্মা নির্মূলের ক্ষেত্রে দেশ অনুযায়ী সমস্যাও ভিন্ন। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে রোগ নির্ণয় ও ওষুধপত্রের তেমন কোনো সমস্যা নেই। অনেক আগে থেকেই এদেশে বিনামূল্যে যক্ষ্মার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে যক্ষ্মা নির্মূল হচ্ছে না। বরং প্রচলিত ওষুধে সারছে না, এমন ধরনের যক্ষ্মা ধরা পড়ছে। আমাদের দেশে যক্ষ্মা নির্মূলের একটা বড় অন্তরায় হচ্ছে যক্ষ্মা রোগ এবং এর চিকিত্সা সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা। সেইসঙ্গে অজ্ঞতাজনিত নৈতিকতার অবক্ষয়ও আছে।

আর্থিক লাভের আশায়ও যক্ষ্মা রোগী
কিন্তু যক্ষ্মার কার্যকর চিকিত্সা থাকার পরও আমাদের দেশের অনেক রোগী অজ্ঞতাবশত নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না। রোগ সেরে গেছে এমনটি ভেবে অনেকেই মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, কিংবা ওষুধ বিক্রি করে দেন আর্থিক লাভের জন্য। আবার এমনও শোনা গেছে, কেউ কেউ শুধু আর্থিক লাভের আশায় নিজেকে স্থায়ীভাবে যক্ষ্মা রোগী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে আত্মঘাতী পথ বেছে নেন। এরা নিজের যক্ষ্মার জীবাণুযুক্ত কফ অন্যের কাছে বিক্রি করেন। অনেকেই এই কফ সংগ্রহ করে তা নিজের বলে পরীক্ষা করিয়ে নিজেকে যক্ষ্মা রোগী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ তুলে সেগুলো বিক্রি করে দেন। এই বাস্তবতায় এখন রোগীর কফ পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবরেটরিতে বসেই রোগীকে কফ দিতে হয়, বাইরে থেকে আনা কফ গ্রহণ করা হয় না। আর চিকিত্সার জন্য ওষুধ খেতে হয় স্বাস্থ্যকর্মীর সামনেই। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই পদ্ধতি প্রচলন করতে বাধ্য হয়েছে। যক্ষ্মা নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যতটুকু আন্তরিক কিংবা উদ্যোগী, ঠিক ততটা আগ্রহ কিন্তু অনেক যক্ষ্মা রোগীর মধ্যেই দেখা যায় না। এর পেছনে সেই একই কারণ—অজ্ঞতা। রোগের পরিণাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকার জন্যই একজন যক্ষ্মা রোগী অজান্তে যক্ষ্মার মারাত্মক জীবাণুর বিরুদ্ধে আত্মঘাতী, অপরিণামদর্শী দুঃসাহস দেখান।

আগে সচেতন হোন
কাজেই দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকলে, কাশির সঙ্গে জ্বর, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া এবং শরীরের কোথাও কোনো গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন, কিংবা কাছের হাসপাতালে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন আপনার যক্ষ্মা হয়েছে কিনা। যক্ষ্মা যে শুধু ফুসফুসে হয় তা নয়। ফুসফুসের বাইরেও যক্ষ্মা হতে পারে। সেরকম রোগের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। যক্ষ্মা হতে পারে হাড়ে কিংবা গ্ল্যান্ডে। সেক্ষেত্রে পরিণাম ভয়াবহ। কাজেই রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

সুত্র



Re: যক্ষ্মা হলে রক্ষা আছে

কিরে ভুলে তো আমি হ্যা তে টিক মেরেছি।  at wits' end

মেডিকেল বই এর সমস্ত সংগ্রহ - এখানে দেখুন
Medical Guideline Books