Twilight Angle: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যদি না থাকতো তাহলে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসতো। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যদোয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পরে আমাদের কাছে আলো পৌঁছে থাকে। সূর্যাস্তের পর সূর্য যত নীচে নেমে যেতে থাকে ততই অন্ধকার নেমে আসে এবং এক সময় আকাশে কোনই আলোর উপস্থিতি থাকেনা। আবার সূর্যোদয়ের অনেক পূর্ব থেকেই আকাশে আলোর রেখা দেখা যায় এবং সূর্য যত উপরে উঠতে থাকে ততই প্রভাতের আলো বেশি পড়ে এবং এক সময় সূর্য দিগন্ত রেখার উপরে উঠে আসে অর্থাৎ সূর্যোদয় হয়। দিগন্ত রেখার উপরে সূর্যদোয়ের পূর্বে আলোর বিস্তৃতি এবং সূর্যাস্তরে পর আলোর বিস্তৃতিকে ইংরেজীতে Twilight Angle বলে।

ফযর এবং ইশার ওয়াক্ত নির্ণয়ে Twilight Angle-এর মান: ফযরে এবং ইশার ওয়াক্ত-এর মান ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে দিগন্ত রেখার ঠিক কত ডিগ্রী নীচে সূর্য অবস্থান করছে। অর্থাৎ সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে সূর্র যখন দিগন্ত রেখা অতিক্রম করলো তখন ০ ডিগ্রী অতিক্রম করে নীচে যেতে থাকে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ... ১৫-১৬-১৮ এভাবে নেমে যেতে থাকে। আবার সূর্যোদয়ের সময় ২০-১৯-১৮-১৭... এভাবে উপরে উঠতে উঠতে দিগন্ত রেখায় ০ ডিগ্রী শেষ হয়।
সাধারণতঃ Twilight Angle-এর মান যত ছোট হবে তত দেরীতে ফযর এবং তাড়াতাড়ি ইশা হবে। Twilight Angle-এর মান বড় হলে তাড়াতাড়ি ফযর এবং দেরীতে ইশা হবে। নীচের ছকটি দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

http://www.sabujbanglablog.net/wp-content/uploads/2012/06/Twilight-Angle-%E0%A7%A81.png

http://www.sabujbanglablog.net/wp-content/uploads/2012/06/800px-Types-of-twilight-en21.jpg

ফযরের সময় যখন সূর্যের অবস্থা ২০তে তখন যদি সময় হয় ৫.৩০ মিনিট তখন থেকে সূর্যের প্রতি ডিগ্রী উন্নতিতে সময় বেড়ে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী ১৭তে সময় ৫.৪৫ মিনিট। তাহলে দেখা যাচ্ছে, মান ২০ ধরলে ফযরের ওয়াক্ত হবে ৫.৩০ মিনিট এবং মান ১৭ ধরলে ফযরের ওয়াক্ত হবে ৫.৪৫ মিনিট যা অনেকটা দেরীতে।
একইভাবে ইশার ক্ষেত্রে সূর্য যখন ১৭ পরিমাণ নামলো তখন সময় ৭.০০টা। এভাবে নেমে যেতে যেতে যখন ২০ পরিমাণ নামলো তখন সময় ৭.১৫ মিনিট। এক্ষেত্রে মান ১৭ ধরলে ইশার ওয়াক্ত হবে ৭.০০ টায় কিন্তু মান ২০ ধরলে ওয়াক্ত হবে ৭.১৫ মিনিটে। তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ইশার ক্ষেত্রে Twilight Angle-এর মান বাড়লে ওয়াক্ত দেরীতে হবে এবং মান কমে গেলে ইশার ওয়াক্ত তাড়াতাড়ি হবে।

ফযর ও ইশার ওয়াক্ত নির্ধারনের পৃথিবীর প্রচলিত পদ্ধতিগুলো: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ফযর এবং ইশার সময় নির্ধারণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোন কোন দেশ যেখানে ফযর এবং ইশার ক্ষেত্রে ভিন্ন মান রেখে, কখনও বা সূর্যাস্ত এবং সূর্যদোয়ের সময় থেকে নির্দিষ্ট সময় যথাক্রমে যোগ এবং বিয়োগ করে নির্ধারণ করছে। নীচের কয়েকটি দেশে ব্যবহৃত ইশা এবং ফযরের Twilight Angle-এর মান দেয়া হলো-

http://www.sabujbanglablog.net/wp-content/uploads/2012/06/Twilight-Angle.png

ফযরে এবং ইশার সময় নির্ধারণে Twilight Angle ১৮ ব্যবহারের কারণ এবং যৌক্তিকতা: সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্য দিগন্ত রেখার যত নীচে নেমে যেতে থাকে ততই ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে। সূর্য কতটুকু নীচে নেমে গেল এবং সেই অনুযায়ী কতটুকু আলো বিকিরণ করলো তার উপর নির্ভর করে মহাকাশবিজ্ঞানে Twilight Angleকে তিনভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা- সিভিল, নটিক্যাল এবং এস্ট্রানমিক্যাল। সিভিল ৬, নটিক্যাল ১২, এস্ট্রোনমিক্যাল ১৮
সিভিল: উজ্জল তারাগুলো দৃশ্যমান হয় এবং সমুদ্র থেকে দিগন্ত স্পষ্ট দেখা যায়।
নটিক্যাল: সমুদ্র থেকে দিগন্ত রেখা দেখা যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং দিগন্ত রেখার সাপেক্ষে দিগন্ত রেখা থেকে উচ্চতা (Altitude) নির্ণয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না।
এস্টোনমিক্যাল: যখন সম্পূর্ণরূপে অন্ধকার নামে এবং কোন প্রকার আলোকচ্ছটার উপস্থিতি থাকে না। সূর্য যখন দিগন্ত রেখার নীচে নেমে যেতে থাকে তখন ১৮ পরিমাণ নেমে যাওয়ার পরপরই মহাকাশবিজ্ঞান মতে প্রকৃত অন্ধকার নেমে আসে অর্থাৎ এরপর কোন আলোর উপস্থিতি থাকে না। আবার সূর্য যখন উপরে উঠতে থাকে, ১৮ পরিমাণ উঠে আসা পর্যন্ত আলোর কোন রেখা দেখা যায় না অর্থাৎ ১৮ হচ্ছে মহাকাশবিজ্ঞান মতে উর্দ্ধসীমা বা Upper Limit। আধুনিক বিশ্বে ফযরের এবং ইশা ওয়াক্ত নির্ধারণে ১৮ মানকে বেশী প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মুসলিম মহাকাশবিজ্ঞানীরা বিশেষতঃ বাংলাদেশ, পকিস্তান, ভারত, ইয়েমেন এসব দেশসমূহের জন্য ১৮ মানকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
যে সকল মহাকাশবিজ্ঞানীরা ফযরের ক্ষেত্রে ১৮ মানের চেয়ে কম মান যেমন, ১৫, ১৭ ব্যবহার করেছেন তাদের যুক্তি হচ্ছে, ১৮ অবস্থানে অনেক অন্ধকার থাকে এতে প্রভাতের আলো দেখা যায় না। সেটা সম্পূর্ণ অন্ধকার। সেক্ষেত্রে ফযরের বেলায় যারা ১৯ এবং ২০ মান ব্যবহার করেন তারা শুধুমাত্র সতর্কতার জন্য করেছেন। এক্ষেত্রে আমাদের যুক্তি হচ্ছে ১৮ই হচ্ছে মহাকাশবিজ্ঞান মতে উর্দ্ধসীমা বা Upper Limit। অর্থাৎ সে পর্যন্ত কোন আলোর রেখা দেখা যায় না। তারপর থেকে প্রতি ডিগ্রী উন্নতিতে আলোর বিকিরণ বাড়তে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ডিগ্রী উন্নতিতে (অতি উচ্চ অক্ষাংশের দেশসমূহ ছাড়া) সময়ের পার্থক্য ৪ থেকে ৫ মিনিট। সেক্ষেত্রে ফযরের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্যে ১৯, ২০ মান ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই। আবার যারা ১৫, ১৬ ব্যবহার করে তারা সূর্যের সেই অবস্থানে প্রভাতের আলো দেখতে পাওয়া যায় বলেই ফযরের ওয়াক্ত নির্ধারণে সে মান ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে বিশেষতঃ রমাদ্বান শরীফ-এ সাহরীর জন্য সাবধানতামূলক কোন সময় থাকে না। এসব দিক বিবেচনা করে ফযরের জন্য ১৮ মান ব্যবহার করা হচ্ছে সবদিক থেকে উত্তম।
এবার আসা যাক ইশা প্রসঙ্গে। আমরা আগেই বর্ণনা করেছি ১৮ অবস্থানে সূর্য নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত অন্ধকার নেমে আসে। তাহলে ইশার ক্ষেত্রে ১৮র চেয়ে বেশী মান ব্যবহারের কোন যৌক্তিকতা নেই। আরব আমিরাতসহ অনেক মুসলিম দেশ ফযরের এবং ইশার সময় নির্ধারণে Twilight Angle ১৮ ব্যহার করে থাকে এবং সাহরীর সময় কয়েক মিনিট এগিয়ে উল্লেখ করে থাকে।

Twilight Angle ১৯ এবং বাংলাদেশের প্রচলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার: একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, একটি নির্দিষ্ট শহরের নামাযের সময়সূচী বিভিন্ন ডিগ্রীতে (১৫-২০) পৃথক পৃথকভাবে নির্ণয় করলে দেখা যাবে শুধুমাত্র ফযর এবং ইশার সময়েরই পার্থক্য হচ্ছে অন্যান্য ওয়াক্তের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন, যোহরের ওয়াক্তের সময় তখনই হয় যখন সূর্য স্থানীয় মধ্যরেখা অতিক্রম করে। এতে ফযর এবং ইশার Twilight Angle কত ধরা হয়েছে তার কোন প্রভাব নেই। বাংলাদেশে প্রচলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে ফযর এবং ইশার ক্ষেত্রে ঢাকার যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে তা ১৯ ধরে করা হয়েছে। কিন্তু ফযরের সময়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সাবধানতার জন্যে সুবহে সাদিকের ৫ মিনিট পূর্বেই এ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উল্লিখিত সময়ের ৫ মিনিট পর ফযরের আযান দিতে হবে। অর্থাৎ ফযরের ওয়াক্ত হবে উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে ৫ মিনিট যোগ করার পর। তাহলে যোগকৃত সময়টা নির্ধারণ হবে ১৮ মানে। সেদিক থেকে বলা চলে, প্রচলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে ফযরের Twilight Angle ধরা হয়েছে ১৮তে এবং ইশার ওয়াক্ত ১৯তে। এতক্ষণের দীর্ঘ আলোচনা থেকে বোঝা গেল, আমাদের দেশে প্রচলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে ফযর ও ইশার ওয়াক্ত নির্ণয়ে Twilight Angle-এর মান যা ধরা হয়েছে সেটা ভুল বরং ১৮ মান ধরে সঠিক ওয়াক্ত নির্ণয় করতে হবে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে যে ১২ জন ইমাম আলাইহিমুস সালাম যমীনে আগমনে সুসংবাদ রয়েছে, উনাদের মধ্য হতে ১১ ইমাম যমীনে তাশরীফ নিয়েছে। শুধু ১২তম ইমাম হিসেবে ক্বিয়ামতের পূর্বে হযরত মাহদী আলাইহিস সালাম উনার যমীনে আগমণ বাকি আছে। উক্ত ১২ জন ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ ইমাম হচ্ছেন ইমাম হযরত জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম।
ইমাম জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনি ‘মা’দের প্রতি উপদেশ মুবারক প্রদান করেন মায়েরা যেন নবজাতককে উনাদের বাম পার্শ্বে ঘুম পাড়ান।
উনার ইলমে লাদুন্নীর মাধ্যমে প্রাপ্ত এই উপদেশ মুবারক-এর অন্তর্নিহিত কারণ যথাযথভাবে কেউ সে সময় উপলব্ধি করতে পারেনি। এমনকি ইউরোপের তথাকথিত রেনেসার সময়কালীন সময়েও উনার এই উপদেশ মুবারক-এর মর্মার্থ উপলব্ধির অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু উনার এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মুবারক-এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করতে তারা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আবার নিউইয়র্কের কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবজাতকের উপর গবেষণা পরিচালিত হয়। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় যে, ‘মা’রা তাদের শিশু সন্তানকে বাম হাতে কোলে নেয়। তারা দেখতে পায় যে, যে সমস্ত শিশু সন্তান তার মায়ের বাম পার্শ্বে ঘুমায় সে সব শিশু সন্তানরা শান্তিপূর্ণভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। কিন্তু যে সব শিশু সন্তানরা তাদের মায়ের ডান পার্শ্বে ঘুমায় সে সব শিশু সন্তানরা যখন তখন ঘুম থেকে জেগে যায় এবং কান্নাকাটি করে। তাদের গবেষণায় বের হয়ে আসে যে, জন্মগ্রহনের পর যে সমস্ত শিশু সন্তান বাম পার্শ্বে ঘুমায় না তাদের কোন বিশ্রামই থাকে না।
হোলোগ্রাফী আবিষ্কারের পর জানা যায় যে, মাতৃগর্ভস্থ শিশুরা তাদের মায়ের হৃদস্পন্দন শুনতে পায়। এই বিষয়ে গর্ভস্থ ভ্রুণের প্রতিক্রিয়া বুঝার জন্য বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর উপর গবেষণা করে দেখতে পায় যে, মায়ের হৃদস্পন্দন শুনতে না পেলে গর্ভস্থ ভ্রুণ বিশ্রামহীন ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। যেহেতু মায়ের হৃদস্পন্দনের সাথে শিশুর খাদ্য পরিবহনের বিষয়টি জড়িত তাই এমনটি ঘটে থাকে। মূলত: মায়ের হৃদস্পন্দন শিশুর অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। মাতৃগর্ভস্থ শিশুদের কাছে মায়ের হৃদস্পন্দন মানে হলো তার জন্য অবিরত খাদ্যের যোগান আর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো মৃত্যু। মাতৃগর্ভস্থ শিশুরা মায়ের হৃদস্পন্দনের উপর এত বেশী নির্ভরশীল যে তারা জন্মের পরও মায়ের হৃদস্পন্দন শুনতে না পেলে বিশ্রামহীন হয়ে পড়ে। একজন নবজাতক যখন তার মায়ের বাম পার্শ্বে ঘুমায় যেখান থেকে সে তার মায়ের হৃদস্পন্দন স্পষ্টভাবে শুনতে পায় ফলে সে শান্তিপূর্ণভাবে আরামদায়ক ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ইমাম জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনি অবলীলায় বলে দিলেন অথচ মুসলমানদের তথ্য-উপাত্ত চোর, জালিয়াত, যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, মিথ্যা বিজ্ঞানী দাবীদার উনার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মুবারক-এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে সময় লেগেছে প্রায় ১১০০ বছর। তাহলে এটি সুস্পষ্ট যে মুসলমানদের তথ্য-উপাত্ত চোর, জালিয়াত, যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, মিথ্যা বিজ্ঞানী দাবীদারদের আসলে বিজ্ঞানের কোন বিষয়েই দখল নেই। বরং এই জালিয়াতগুলো মুসলমানদের তথ্য-উপাত্ত চুরি করে কিছু সরাসরি নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়েছে নতুবা মুসলমান বিজ্ঞানীদের আসল নাম বিকৃত করে প্রচার করেছে।

বি:দ্র: আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৬ষ্ঠ ইমাম হযরত ইমাম জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার আজ (১৪ রজবুল হারাম) বিছাল শরীফ-এর তারিখ।

আমরা সবাই হাসপাতালের X-ray বিভাগের সাথে পরিচিত। রঞ্জন রশ্মি সাধারণভাবে অজানা রশ্মি X-ray নামেই বেশি পরিচিত। এর হাক্বীকত কি? এত বর্ণ থাকতে X কেন ব্যবহার করা হলো? কেন বীজগণিত কিংবা পদার্থবিজ্ঞানে অজানা কোন মান হলেই তাকে X ধরা হয়? কেন অন্য ইংরেজি বর্ণ নয়? এর পিছনে কারণ রয়েছে। এর উত্তর বিশ্লেষণ করার জন্য খুব বেশি মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। যে কোন ইংরেজি ডিকশনারি খুললেই দেখা যাবে যে, Christmas শব্দটিকে বিধর্মীরা X-mas লিখে থাকে। অর্থাৎ তারা X বর্ণ দ্বারা তাদের প্রভু যিশুকে বুঝিয়ে থাকে। এর আরেকটি প্রমাণ হলো ডাক্তারী প্রেসক্রিপশনে Rx লিখা। তারা Rx দ্বারা “Referred To Jesus Christ” অর্থাৎ “প্রভু যিশুর সমীপে সোপর্দ করা হলো” বুঝিয়ে থাকে। অথচ হাজার হাজার মুসলিম ডাক্তারা তাদের প্রেসক্রিপশনে Rx লিখে যাচ্ছে; তারা ঘুর্ণাক্ষরেও জানে না যে, কিভাবে দিনের পর দিন কুফরীমূলক বক্তব্য লিখছে।
একইভাবে সাধারণ মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পড়াশোনার মধ্যে নিজের অজান্তেই X তথা Christ অর্থাৎ যিশুকে স্মরণ করছে। নাঊযুবিল্লাহ! এই একই হাক্বীক্বত তাদের খেলাধুলায়ও দেখা যায়। X অক্ষরটি দ্বারা রোমান সংখ্যায় ১০কে বুঝানো হয়ে থাকে। তাই ফুটবল খেলায় সবচেয়ে ভাল খেলোয়াড়ের জার্সি নম্বর হয় ১০ অর্থাৎ সেই X তথা Christ।
একইভাবে তারা যখন ঘড়ির বিজ্ঞাপন করে থাকে তখন তারা ঘড়িতে সময় হিসেবে ১০টা ১০ মিনিট দেখিয়ে থাকে। এখানেও তারা ১০কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ হিসেবে তারা বলে থাকে ১০টা ১০ মিনিট দ্বারা v (victory) sign বুঝানো হয়।


http://remodelista.com/img/sub/uimg/janet/12-2010/muji-aluminum-clock.jpg


কিন্তু ১১টা ৫ মিনিট দ্বারা তো আরো সুন্দর v-sign দেখানো যায়। তাহলে সেটা দেখানো হয় না কেন?


http://ibytemedia.com/wp-content/uploads/2012/03/Modern-Clock-Clip-Art.png


আসলে এভাবে তারা কৌশলে তাদের প্রভু যিশুকে স্মরণ করে থাকে। এখান থেকে আমাদের নছিহত হাছিল করা উচিত। তারা নাহক্ব হওয়ার পরও তাদের রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মনে রাখতে চায়। অথচ আফসুসের সাথে বলতে হয়, আমরা মুসলমানরা ইহুদী-নাছারাদের ষড়যন্ত্রে সৃষ্ট শব্দ unlucky Therteen(13) হরহামেশাই বলে থাকি। আমরা জানিও না যে, এর মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনাকে অসম্মান করা হয় (নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক) এবং সে উদ্দেশ্যেই ইহুদী-খ্রিস্টানরা তা প্রচলন করেছে।
কারণ ইংরেজিতে MUHAMMAD (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম) লিখতে ১৩তম অক্ষর M ব্যবহৃত হয়। ইহুদী-নাছারারা হিংসা ও বিদ্বেষবশত ১৩কে unlucky13 বলে থাকে। তাই সমস্ত মুসলমানদের উচিত যিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনারও রসূল, এমনকি সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও রসূল অর্থাৎ যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার যথাযথ তাযীম-তাকরীম করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ইহুদী-নাছরাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র হতে হিফাযত করুন। আমিন!

মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ্ পাক, উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উলীল আমর উনাদের অনুসরণ করো।” (সূরা নিসা: ৫৯)”

মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকে সরাসরি অনুসরণ করেছেন, সাইয়্যিদুল মুরসারীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং অন্যান্য সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি পেয়েছেন ও অনুসরণ করেছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সরাসরি পেয়েছেন ও অনুসরণ করেছেন হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি তায়ালা আলাইহিম উনারা। আবার হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি তায়ালা আলাইহিম উনাদেরকে সরাসরি পেয়েছেন ও অনুসরণ করেছেন হযরত তাবে তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি তায়ালা আলাইহিম উনারা। এভাবে পরবর্তী সময়ে মুসলমানগণ যুগে যুগে ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি তায়ালা আলাইহিম উনাদের অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সময়কাল হতে উলীল আমর উনাদের অনুসরণ শুরু হয়েছে।

আবার হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه فيما اعلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله عز وجل يبعث لهذه الامة على رأس كل مائة سنة من يجددلها دينها

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে হাবীবীর জন্যে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে একজন ব্যক্তিকে (মুজাদ্দিদ উনাকে) প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের দ্বীন তথা আক্বীদা ও আমলের তাজদীদ বা সংস্কার করবেন।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ) 

পক্ষান্তরে অন্য হাদীছ শরীফ-এ এসেছে,

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থ: “হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে,

عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছো, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দাও।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, ৮৮০পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ২১০ পৃষ্ঠা)

হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে,

عن ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون.

অর্থ: “হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।” (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ২০১ পৃষ্ঠা)

এভাবে আরো অনেক হাদীছ শরীফ-এ প্রাণীর ছবির বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। তাহলে উলীল আমর উনাদের অনুসরণ বাদ দিয়ে হারাম প্রাণীর ছবির মাধ্যমে নামাযসহ ইসলামের অন্যান্য আমল কি করে হতে পারে?

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা আল্লাহ পাক-এর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না।” (সূরা লুকমান ১৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু বিষয় দ্বারা। সেগুলো হচ্ছে- ভয়-ভীতি, ক্ষুধা দ্বারা এবং মাল, জান ও খাদ্যশস্যের ক্ষতি দ্বারা। তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে।” (সূরা বাক্বারা ১৫৫)
অত্র আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে বলা হয়েছে যে, রোগ মূলত আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এসে থাকে। রোগ বা অসুস্থতা দানের কয়েকটি হিকমত রয়েছে। যথা:
১. যারা নেককার বান্দা, উনাদেরকে রোগাক্রান্ত করা হয় উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য।
২. যারা মু’মিন-মুসলমান কিন্তু ফাসিক বা গুনাহগার, তাদেরকে অসুখ দেয়া হয় তাদের গুনাহ-খতা ক্ষমা করে পবিত্র করার জন্য।
৩. আর যারা মুনাফিক, কাফির, মুশরিক ও কঠিন অত্যাচারী তাদেরকে রোগগ্রস্ত করা হয় শাস্তিস্বরূপ।

ইসলামে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলতে কোনো রোগ নেই। ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ আছে বলে বিশ্বাস করা কুফরী। কেননা তা সরাসরি হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করার নামান্তর।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই, তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দ্বারা বৃষ্টি বা কোনো কিছু হওয়া বা না হওয়াও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭১ ও মিরকাত শরীফ)

আমাদের দেশে কিছু ব্যক্তি বিশেষ আছে এবং অজ্ঞ ডাক্তারও রয়েছে যারা বলে যে, পিতার হার্টের প্রেসার, ডায়াবেটিস, হাঁপানি ইত্যাদি রোগ থাকলে সন্তানেরও ওই রোগ হয়। যা সুস্পষ্ট কুফরী আক্বীদা। কারণ ইসলামে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোনো রোগ নেই। যে কোনো ব্যক্তির হতে পারে। এতে পিতা-মাতার থাকা না থাকা শর্ত না।
আবার, দেশী-বিদেশী কতিপয় ডাক্তার যে বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, নিপাহ ভাইরাস ইত্যাদি রোগকে ছোঁয়াচে আখ্যায়িত করে থাকে। আসলে তাদের অজ্ঞতার কারণেই তা করে থাকে। এজন্য ডাক্তারীসহ যে কোন হুনুরী জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করার পূর্বশর্ত হলো প্রথমে ফরয পরিমাণ দ্বীনি ইলম অর্জন করা।

হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, ‘প্রত্যেক রোগের আকৃতি আছে। যখন কোনো রোগ এলাকায় নাযিল করা হয়, তখন যে ব্যক্তিকে স্পর্শ করে শুধু ওই ব্যক্তিরই সেই রোগ হবে। অন্য কারো হবে না।”
যেমন ডাক্তার সারা জীবন অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা করে কিন্তু ওই রোগীর রোগ ডাক্তারের হয় না। অতএব, প্রমাণিত হল যে, ছোঁয়াচে, বংশগত রোগ বলতে কোন রোগ নেই। বংশগত রোগ কিংবা ছোঁয়াচে রোগ আছে বিশ্বাস করা ইসলামের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট করা কুফরী।

যেহেতু কোন রোগই সংক্রামক নয়। কাজেই রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে মনে করা কুফরী-শিরকীর অন্তর্ভুক্ত।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন? যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেল। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে হলো?” অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৬৫)

স্মর্তব্য যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে অদ্যাবধি ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত কোন ইলম সূচিভুক্ত না থাকার কারণে অনেক সময় কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্পূর্ণ কুফরী শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা হতে বিরত থাকা ফরয।

আমাদের মুসলমানদের প্রতিদিনের নামাযের সময়সূচি তৈরি হয় সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। সূর্যের অবস্থানের সাথে প্রতিটি দেশের স্থানীয় সময় নির্ভরশীল। আর প্রতিটি দেশের স্থানীয় সময় নির্ধারিত হয়েছে গ্রীনিচের সময়কে আদর্শ সময় ধরে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় যখন দুপুর ১২টা তখন লণ্ডনে স্থানীয় সকাল ৬টা। অর্থাৎ GMT সময়ের সাথে ৬ ঘন্টা যোগ করে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
সূর্য যখন কোন স্থানের ঠিক মাথার উপরে আসে তখন মধ্যাহ্ন হয়, একে বলে Sun Time। পরের দিন সূর্য যখন আবার মাথার উপর আসবে তখন আবার মধ্যাহ্ন হবে। কিন্তু  ঘড়ি অনুযায়ী অর্থাৎ Clock Time অনুযায়ী একই সময়ে মধ্যাহ্ন হয় না। এই সূর্য সময় এবং ঘড়ি সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য হয় তাসি’ (ফেব্রুয়ারি) মাসে ১৪ মিনিটের মত তখন ঘড়ির সময়ের চেয়ে সূর্য সময় ১৪ মিনিট পিছিয়ে থাকে। আবার সাদিস মাসে (নভেম্বরে) সময়ের পার্থক্য হয় সর্বোচ্চ ১৬ মিনিট; তখন সূর্য সময় ঘড়ির সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এ সকল অসুবিধা দূর করার জন্যে এখন Atomic Clock ব্যবহার করা হয়।  এই Atomic Clock-এর সময় অনুযায়ী তৈরি হয়েছে UTC (Co-ordinated Universal Time)। ফলে ১৩৩৯ শামসী সনের ৩রা সামিন (১৯৭২ ঈসায়ী সনের ১লা জানুয়ারি) থেকে GMT-এর পরিবর্তে UTC ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করায় তার সাপেক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় সময় GMT-এর পরিবর্তে UTC হলেও সময় অঞ্চলগুলোর বিভক্তি পূর্বের মতই রয়ে গেছে।
কিন্তু কোন মুসলমান কি কখনো ভেবে দেখেছে কেন গ্রীনিচ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করা হয়েছে? মূলত: কোন বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক স্থান বলে গ্রীনিচ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করা হয়নি বরং এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক কারণ। এক সময় ব্রিটিশরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিল বলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গ্রীনিচ থেকে সময় নির্ধারণের বিষয়টি পৃথিবীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে। অথচ গ্রীনিচের পূর্বেও ব্রাসেলস, কোপেনহেগেন, আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, মাদ্রিদ, প্যারিস এ সকল এলাকাও প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফ্রান্স বহুদিন যাবৎ গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং প্যারিসকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরেই গণনা করতো। পরবর্তীতে গ্রীনিচকে মেনে নিয়ে GMT ব্যবহার শুরু করলেও পরবর্তীতে আবার সে চলে যায় CET (Central European Time)-এ ।
পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন স্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে আমি পৃথিবীর কেন্দ্রে আছি তার দাবি একদিক থেকে সত্য। কেননা, সেই স্থানের ডানদিক থেকে যে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে সে তার অবস্থানে আসতে পারবে একইভাবে বামদিক থেকে ঠিক সে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে। সুতরাং পৃথিবীর যে কোন স্থানের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে কল্পনা করা যায়।
কেউ যদি পৃথিবীর কোন একটি স্থানে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করে নেয় এবং সেই কল্পিত রেখার দু’পাশে পা প্রশস্ত করে দিয়ে ভাবে তার একটি পা পূর্ব গোলার্ধে এবং অন্য পা পশ্চিম গোলার্ধে তবে তার এ ধারণাটিও সত্য। যদিও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। কেননা, সে স্থানের কোন ধর্মীয়, ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। সুতরাং পৃথিবীর এমন একটি স্থানের উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা স্থির করা উচিত, যে স্থানটির ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব আছে। আর তা হচ্ছে কা’বা শরীফ। কা’বা শরীফ এমন একটি স্থান যে স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম। যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম। যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছে পরিচিত এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচিত।
সুতরাং পৃথিবীর কোন স্থানের উপর দিয়ে যদি প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করতে হয়, পৃথিবীর কোন স্থানের সময়কে প্রমাণ সময় ধরে যদি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করতে হয়, তবে সেই স্থান হওয়া উচিত পবিত্র কা’বা শরীফ।
কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যে ঘর মানব জাতির জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা তো ঐ ঘর যা মক্কা শরীফে অবস্থিত। উহা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক। (সূরা আলে ইমরান-৯৬)
সুতরাং কা’বা শরীফ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম স্থান। প্রশ্ন হতে পারে ইহুদী, খ্রিস্টানরা কেন মুসলমানদের বিষয়টি মেনে নিবে। প্রকৃতপক্ষে ইহুদী খ্রিস্টানরাও কা’বা শরীফ-এর অবস্থান, মান-মর্যাদা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানের সময় মহা প্লাবনের পর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি এই পবিত্র কা’বা শরীফ-এর পুনঃনির্মাণ করেন। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার দুই সন্তান হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাদেরকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি নবী আলাইহিমাস সালাম হিসেবে কবুল করেন। হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার বংশধরদের মধ্য থেকে তাশরীফ নেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনার বংশধরদের মধ্য থেকে তাশরীফ নেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং পরে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনারা। সুতরাং ইহুদী এবং খ্রিস্টানসহ সকল আহলে কিতাবের কাছেই কা’বা শরীফ-এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
সকল বর্ণের, সকল গোত্রের, সকল জাতির আদি পিতা হচ্ছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি। যিনি প্রথম মানুষ এবং নবী। উনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর ইতিহাসের চেয়ে পুরনো কোন ইতিহাস নেই বা থাকতে পারে না। যদি কোন কারণে কোন স্থানকে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে নির্বাচন করা হয়, তবে প্রথম গুরুত্ব পাবে বাইতুল্লাহ শরীফ বা কা’বা শরীফ; যার চেয়ে ঐতিহাসিক কোন স্থান এই যমীনে নেই।
দ্বিতীয়ত: হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “কা’বা শরীফ ছিল পানির উপর একটি ছোট পাহাড় এবং তার নিচ দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়।”
অর্থাৎ কা’বা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম যমীন যা বিশাল সাগরের মাঝে সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই পবিত্র স্থানের চতুর্পার্শ্বে তা বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং প্রথমে একটি বিশাল মহাদেশের সৃষ্টি হয়। সে কারণে মক্কা শরীফকে বলা হয় “উম্মুল কুরা”। বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশ আছে সেগুলো মূলতঃ একটি মহাদেশ আকারে ছিল; যাকে বলা হয় Mother Continent বা Pangaea। পরবর্তীতে এগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে শুরু করে এবং সরতে সরতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।
হাদীছ শরীফ এবং বিজ্ঞানের মাধ্যমেও এটি স্পষ্ট যে, এই পৃথিবীর বিস্তৃতিও ঘটেছে কা’বা শরীফ থেকে। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি এই কা’বা শরীফকে প্রথম সৃষ্টি করে মানব জাতির পথ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারণ করলেন। কুরআন মজীদ প্রথম নাযিল হয় এই কা’বা শরীফকে ধারণকারী মক্কা শরীফ-এ। মক্কা শরীফ-এ প্রথম ইসলামের প্রচার শুরু হয় এবং প্রথম ইসলাম কবুলকারী হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও মক্কা শরীফ-এর অধিবাসী। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ইসলাম পূর্বে-পশ্চিমে, উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। এই কা’বা শরীফ থেকেই পৃথিবীর যমীন বিস্তার লাভ করেছে; তাহলে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) কেন এই কা’বা শরীফ থেকেই চতুর্পার্শ্বে নির্ধারিত হবে না? বরং এটাই সত্য যে, কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) নির্ধারণ করলে তা কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট অনুসরণ করা হবে। তখন এর মধ্যে থাকবে রহমত, বরকত ও সাকিনা। সুতরাং মুসলমানদের উচিত কা’বা শরীফ-এর সময় সাপেক্ষে পৃথিবীর সকল দেশের বা সকল অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করে কা’বা শরীফ-এর প্রতি পরিপূর্ণ আদব প্রকাশ করা।
তৃতীয়ত: পবিত্র কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার অবস্থান হয় সুবিধাজনক স্থানে। গ্রীনিচের উপরে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা অযৌক্তিক এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাও আঁকাবাঁকা।
গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করায় আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হচ্ছে ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখার সংযোগস্থলে। এই তারিখ রেখার পশ্চিমে রয়েছে উত্তর গোলার্ধে রাশিয়া এবং দক্ষিণ গোলার্ধে নিউজিল্যান্ড। এই তারিখ রেখা সরাসরি উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে যেতে পারেনি। যখনই জনবসতিপূর্ণ এলাকার উপরে এসেছে তখনি ঠেলে দেয়া হয়েছে পানির দিকে। ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখা বিচ্যুত সময় রেখার অংশগুলো হলো বেরিং প্রণালী, এলিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমাংশ, ফিজির পূর্বাংশ ইত্যাদি।
বর্তমান অবস্থানে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা থাকায় যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে তার কিছু নমুনা দেয়া যেতে পারে।
ফিজি ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পশ্চিমে আর টোঙ্গা, সেমওয়া ১৮০ ডিগ্রি পূর্বে। আর কিরিবাতি দ্বীপকে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখা দ্বি-ভাগ করেছে। কিন্তু ফিজি, টোঙ্গা এবং কিরিবাতি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পশ্চিমে অবস্থান নিয়েছে আর সেমওয়া অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পূর্বে। টোঙ্গা এবং সেমওয়ার সময় একই থাকলেও ১ দিনের পার্থক্য রয়েছে। আবার ফিজি এবং টোঙ্গা কাছাকাছি হলেও ফিজির সময় টোঙ্গার সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা পিছিয়ে। আবার সেমওয়ার চেয়ে অনেক পূর্বে হাওয়াই দ্বীপের অবস্থান হলেও সময়ের পার্থক্য মাত্র ১ ঘণ্টা। এছাড়া ১৩৬২ শামসী (১৯৯৫ ঈসায়ী) সনের পূর্ব পর্যন্ত কিরিবাতি দ্বীপে তারিখ নিয়ে ছিল গরমিল। একই দ্বীপে দুইটি তারিখ প্রচলিত ছিল। কিরিবাতির পশ্চিমাংশ সবসময় পূর্বাংশ থেকে এক দিন এগিয়ে থাকতো। সপ্তাহের মাত্র ৪ দিন দুই অংশের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজ কর্ম সম্পাদন হতো। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য ১৩৬২ শামসী সনের ৩রা সামিন (১৯৯৫ ঈসায়ী সনের পহেলা জানুয়ারিতে) কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট টিবুরোর টিটো আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে কিরিবাতির পূর্বে সরিয়ে নেবার ঘোষণা দেয়।


http://www.sci.uidaho.edu/scripter/geog100/lect/01-foundations-of-geography/1-15-int-date-line.jpg


কিন্তু কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা বা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা যাবে আলাস্কা এবং কানাডার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে (বর্তমান ১৪১ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর)। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে নিচে নেমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধে চলে যাবে। সম্পূর্ণ তারিখ রেখাটি যাবে পানির উপর দিয়ে ফলে স্থলভাগের ডানে ও বামে তারিখ রেখা সরিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন পড়বে না।


http://muslimcalendar.files.wordpress.com/2010/07/world_map_with_comparison.jpg


http://reformer1500.files.wordpress.com/2012/04/date-panel.jpg%3Fw%3D690&imgrefurl=http://reformer1500.wordpress.com/page/6/&usg=__Ae15p2-XLFBGBTbbx_FLKHqNjq8=&h=724&w=580&sz=117&hl=bn&start=1&zoom=1&tbnid=b_QZmLjCocduaM:&tbnh=167&tbnw=134&ei=tevKT7fUKoTqrAf_rqW3Dg&prev=/search%3Fq%3Darctic%2Bocean%26hl%3Dbn%26sa%3DX%26biw%3D1280%26bih%3D586%26tbs%3Dsimg:CAQSYxphCxCo1NgEGgAMCxCwjKcIGjwKOggBEhT8BYAG_1gX9BdIGhAOPA50BsAGeARog21qLefjUOlaHyriVu_1hbWoO35SILJJy524hkyqiGCjoMCxCOrv4IGgoKCAgBEgShgAJaDA%26tbm%3Disch&itbs=1&iact=rc&dur=274&sig=109609351208343790210&page=1&ved=1t:429,r:0,s:0,i:46&tx=76&ty=58


সুতরাং কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা সহজেই সম্ভব এবং যুক্তিসঙ্গত। তখন আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাসহ সকল বিষয়ের সহজ সমাধান পাওয়া যাবে। মহান আল্লাহ পাক তিনিতো পূর্বেই ইরশাদ করেছেন “কা’বা শরীফ মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক।”
এছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা কাফির, মুনাফিকদের অনুসরণ করোনা অর্থাৎ ইহুদী, মুশরিক ও নাছারা এবং মুনাফিকদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করো না।”
আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি তাদেরই দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।”
কাজেই মুসলমানদের জন্য সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করা কস্মিনকালেও শরীয়তসম্মত হবে না। সুতরাং গ্রীনিচের পরিবর্তে প্রথম যমীন কা’বা শরীফ যা ইহুদী-নাছারাসহ সকলেরই রসূল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনারও ক্বিবলা তা থেকে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমস্ত স্থানের সময় নির্ধারণ করা উচিত। সুতরাং পৃথিবীর সোয়া ৩০০ কোটি মুসলমানের এ বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার হওয়া উচিত।
মুসলমানদেরকে ইহুদী, মুশরিক ও নাছারাদের GMT-র অনুসরণ থেকে বাঁচাতে এই অনবদ্য তাজদীদ (সংস্কার) যিনি করেছেন তিনি হচ্ছেন বর্তমান পনেরশত হিজরী শতকের যিনি ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি।


http://2.bp.blogspot.com/_SZ4t8fF367Q/TJejdAVIDfI/AAAAAAAAA28/BotH8NNN0v8/s1600/Mohan+Tajdeed+K.M.T+%5BConverted%5D.jpg


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে মুহম্মদীর জন্যে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে একজন ব্যক্তিকে (মুজাদ্দিদ উনাকে) প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের দ্বীন তথা আক্বীদা ও আমলের তাজদীদ বা সংস্কার করবেন।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত মুজাদ্দিদ উনাদের আগমণের ধারাবাহিকতায় বর্তমান পনেরশত হিজরী শতকের যিনি মুজাদ্দিদ তিনি হচ্ছেন, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি।
অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি তার যামানার ইমামকে চিনলো না সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুর ন্যায় মৃত্যুবরণ করলো।” (মুসলিম শরীফ, আক্বঈদে নাসায়ী)
আর যামানার ইমাম তথা ওলীআল্লাহ উনাদের বিরোধিতা প্রসঙ্গে হাদীছে কুদসী শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন ওলীআল্লাহ উনার সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে স্বয়ং আমি (আল্লাহ পাক) তার সঙ্গে জিহাদ ঘোষণা করি।” (বুখারী শরীফ)
এছাড়া ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, “সাবধান! নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাক উনার ওলী উনাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তা-পেরেশানীও নেই।” (সূরা ইউনূছ: আয়াত শরীফ ৬২)
সুতরাং আমরা যেন সকলে যামানার ইমাম উনাকে চিনতে পারি এবং উনার হাতে বাইয়াত হয়ে সমাজে প্রচলিত যাবতীয় বদ ও কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা ও শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল সমুহ হতে তওবা করে, ছহীহ্ আক্বীদা ও সুন্নতের আমল সমূহে অভ্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মারিফাত হাছিল করতে পারি এবং নাযাত লাভ করতে পারি, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সেই তাওফীক দান করেন। (আমীন)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেকী ও পরহেযগারীতে সহায়তা করো। গুনাহ ও নাফরমানীতে সহায়তা করো না।’

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘ছবি আঁকনেওয়ালা ও আঁকানেওয়ালা, তুলনেওয়ালা ও তোলানেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামী।’

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি হচ্ছে। ছবি ছাড়া সহজেই বিশ্বমানের কার্যকরী শরীয়তসম্মত পাসপোর্ট তৈরি করা সম্ভব। মুসলিম শাসকগণের উচিত ছবি পরিহার করে ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্বলিত পাসপোর্ট তৈরি এবং তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে প্রচলনে সহায়তা করা।
কাফিররা কল্যাণকর সকল কিছুই গ্রহণ করেছে, করছে মুসলমানগণদের কাছ থেকে। কিন্তু তারা মুসলমানগণের গৌরবমাখা বিষয়গুলো পরিকল্পিতভাবে চুপিয়ে রাখে।
মুসলমান খলীফাগণ পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। এমনকি এই ভারত উপমহাদেশেও প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশারদ ছিলেন একজন মুসলিম। বর্তমানে এই নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- অপরাধ সনাক্ত করার ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্টের কোনো বিকল্প নেই। দিন দিন ছবির ব্যবহারের উপর একটি নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। ছবি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা, ছবি প্রতিস্থাপন করা এসব একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণতি হয়েছে।

http://www.odec.ca/projects/2004/mcgo4s0/public_html/t5/fingerprint_patterns.gif


ছবির ব্যবহারে কোনো উপকার থাকলেও তা পরিহার করতে হবে যেহেতু সকল প্রকার ছবি তোলা, আঁকা, রাখা শরীয়তে হারাম। সুতরাং ৯৭ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এই বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশে ছবি ব্যতীত শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত পাসপোর্টের ব্যবহার চালু হওয়া আশু প্রয়োজন।